‘বরুড়া ক্রাইম নিউজ’ ও ‘অধিকার টিভি’ নামে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্ত দাবি।
জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ভুয়া ফেসবুক পেজে সাংবাদিক-গণ্যমান্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
কুমিল্লার বরুড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও গণ্যমান্য নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ‘বরুড়া ক্রাইম নিউজ’ ও ‘অধিকার টিভি’ নাম ব্যবহার করে পরিচালিত এসব পেজে যাচাই-বাছাই ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ কিংবা নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই মনগড়া সংবাদ তৈরি করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কখনো সংবাদে সাংবাদিকদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কখনো প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য সংবাদ পরিবেশন নয়; বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হেয় করা, সম্মানহানি ঘটানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। ভুয়া পেজের আড়ালে থেকে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, একটি ফেসবুক পেজ খুলে নামের সঙ্গে ‘নিউজ’, ‘টিভি’ কিংবা ‘ক্রাইম নিউজ’ শব্দ যুক্ত করলেই সেটি সংবাদমাধ্যম হয়ে যায় না। সাংবাদিকতার নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহনন কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতার অংশ হতে পারে না। এতে শুধু একজন ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন হয় না, প্রকৃত সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, সংবাদ প্রকাশের ন্যূনতম নীতিমালা অনুসরণ না করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দেওয়া হলে তার দায় কে নেবে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি মিথ্যা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরে সেটি মুছে ফেললেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত সুনাম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন।
এ কারণে ‘বরুড়া ক্রাইম নিউজ’ ও ‘অধিকার টিভি’ নাম ব্যবহারকারী ফেসবুক পেজগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, কারা এসব কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছে এবং কী উদ্দেশ্যে তা করা হচ্ছে—তা দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পেজগুলোর অ্যাডমিন ও পরিচালনাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে হেনস্তা করার সুযোগ দেওয়া হলে তা শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায় নয়, পুরো গণমাধ্যমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই ভুয়া পরিচয়, মিথ্যা সংবাদ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।