কুমিল্লায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলা,
জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
বায়েজিদ হোসাইন
কুমিল্লার চান্দিনার এতবারপুরে এলাকার উশৃঙ্খল ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন অপকর্ম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় এক বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্ত্রাসীদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার জেরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।
গত ১৯ আগস্ট বিকেলে এতবারপুর উত্তর বাজার এলাকার এরশাদের সমিলের সামনে ঘটে এই ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত দুর্বৃত্ত শিপন, জাহিদ, সুজন, তানিম, হৃদয়, সাজ্জাদ, শরীফ, ইয়াছিন ও আব্দুল আলীমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন সংগঠিত হয়ে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো দা-ছেনি, হকি স্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে এক হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়।হামলায় বাদী রুহুল আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে শিপন ধারালো ছেনি দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাম হাতের কবজির ওপর মারাত্মক কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। একইভাবে জাহিদ লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তাঁর বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়। অন্যান্য সন্ত্রাসীরা হকি স্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে পিঠে ও পায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর নীলা ফোলা জখম করে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এলে অন্যান্যদের ওপরও একইভাবে হামলা চালানো হয়।মারধরের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীদের সাথে থাকা নগদ টাকা ও দামী মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে গেলে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে মামলা-মোকদ্দমা না করার হুমকি দেয়। এমনকি প্রতিবাদ করলে পরিবারসহ সবাইকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।ঘটনার পর রক্তাক্ত ও গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বানিয়াচংয়ের জামাল মেম্বার এবং এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পৃথক বক্তব্যে এ বর্বর হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে হামলার সাথে জড়িত অভিযুক্ত সকল সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানান।
এলাকাবাসীও এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।