ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কাজল কুপ্রস্তাব দেননি: শিবানী দে

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

রুবেল হোসেন

বরুড়া প্রতিনিধি :

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৬ নং চিতড্ডা ইউনিয়নের শিবানী দে-কে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কাজল কুপ্রস্তাব দেননি বলে দাবি করেছেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় শিবানী দে বলেন, কাজলের সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে শান্তকে নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে আলোচনা ও সামাজিক সালিসি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দও ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এলাকায় উপস্থিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে।

 তাপস এর প্রশ্নের জবাবে শিবানী দে বলেন, কাজল তাঁকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কোনো কুপ্রস্তাব দেননি।

তাপস দত্ত তাকে নির্ভয়ে সত্য ঘটনা প্রকাশ করার আহ্বান জানান। এ সময় শিবা দে তাঁর বক্তব্যে কাজলের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেন।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজু বলেন, এলাকায় বিভিন্ন সময়ে শেবা দে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সমাজপতিদের অনুরোধে তিনি একাধিকবার সালিসি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

মোস্তফা কামাল রাজু সাবেক মেম্বার জানান, ৫ আগস্টের পর এলাকার বিভিন্ন বিরোধ ও সালিসি কার্যক্রমে তাঁকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। শিবানী দে ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে কাজলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন বা নারীঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ অতীতে তাঁর জানা ছিল না বলে দাবি করেন সাবেক এই জনপ্রতিনিধি। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল রাজু এবং স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যে শিবানী দে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। এর মধ্যে চুরি, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও স্থানীয় পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি তালিকা থানায় দেওয়া হয়েছে বলে রাজু দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে হিন্দু শিবানী দে এই নারী মুসলিম পরিচয়ে আদালতে গিয়ে একটি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ধর্মীয় পরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক আলোচনায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমাজের প্রতিনিধিরা সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন বা বিরূপ মনোভাব না রেখে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে।

আলোচনায় উপস্থিত এক প্রতিনিধি বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এসেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য হলো, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানো।

তিনি সাংবাদিকদেরও নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো পক্ষকে বাঁচানো কিংবা কাউকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা না করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিবানীদে-এর বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও অন্য পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ। ফলে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব পক্ষের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সত্য ঘটনা উদ্‌ঘাটনের মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।