চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে বুধবার গভীর রাতে আবুল কালাম মোহাম্মদ মুরাদ প্রকাশ এ কে এম মুরাদ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত মুরাদ পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ এর বড় ছেলে। বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ব্যবসায়ীর রহস্যজনক এ মৃত্যুর বিষয়টি0 নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত অনুমান ১২টায় ব্যবসায়ীক কাজকর্ম শেষে মুরাদ উপজেলা চিওড়া কাজীর বাজারস্থ তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আসেন। অফিসটি দোতলায় হলেও সাটার খোলা থাকায় এবং অফিস কক্ষে বৈদ্যুতিক বাতি জ¦লন্ত অবস্থায় থাকায় রাত অনুমান দেড়টায় বাজারের দায়িত্ব পালনরত নৈশপ্রহরীরা সেখানে মুরাদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমার নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবারের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সন্ধায় চিওড়া এলাকায় মরহুমের প্রথম জানাযা এবং রাত নয়টায় নিজ গ্রাম উত্তর মাহিনীতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রাতের আঁধারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘঠিত এ মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সহ পরিবারের কেউই এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে রাজী নন। তারা এ মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলাবলি করছেন, বিবাহিত জীবনে মুরাদের দুজন স্ত্রী ছিল। দুই সংসারেই সন্তানদিও ছিল। পারিবারিক কলহের কারণে চাপ সইতে না পেরে গলায় রশি বেঁধে নিজ অফিসের ফ্যানের সাথে ঝুলে মুরাদ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে একটি শর্ট প্যান্ট ও গায়ে একটি স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ধোঁয়াশা কাটাতে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা সহ সন্দেহভাজন সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে চিওড়া বাজারের নৈশপ্রহরীরা জানান, রাত ১২টায় ব্যবসায়ী মুরাদকে দেখেছি নিজ অফিসে ঢুকতে। এ সময় তিনি অফিসের নিচের মূলফটকে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন। এক-দেড় ঘন্টা পরে স্থানীয় সিএনজি চালক শাহাদাতের মাধ্যমে জানতে পেরে উঁকি দিয়ে মুরাদের নিজ অফিসে তার লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তারা।
নিহতের বাবা পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ মৃত্যুকে ঘিরে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং ব্যাপক রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ সময় তিনি মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন। রহস্য উদঘাটন করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আমরা বেশ উদগ্রীব। আশা করছি, পুলিশ এ মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমা জানান, বুধবার রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে মুরাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তাস্তর করা হয়েছে। জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ সহ বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, ‘সংবাদ পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ রয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করছে বলে শুনেছি। তবে, কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে তা গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।’
প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-09-04 11:20:20
চৌদ্দগ্রামে ওয়াইফাই ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা, থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে বুধবার গভীর রাতে আবুল কালাম মোহাম্মদ মুরাদ প্রকাশ এ কে এম মুরাদ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত মুরাদ পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ এর বড় ছেলে। বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ব্যবসায়ীর রহস্যজনক এ মৃত্যুর বিষয়টি0 নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত অনুমান ১২টায় ব্যবসায়ীক কাজকর্ম শেষে মুরাদ উপজেলা চিওড়া কাজীর বাজারস্থ তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আসেন। অফিসটি দোতলায় হলেও সাটার খোলা থাকায় এবং অফিস কক্ষে বৈদ্যুতিক বাতি জ¦লন্ত অবস্থায় থাকায় রাত অনুমান দেড়টায় বাজারের দায়িত্ব পালনরত নৈশপ্রহরীরা সেখানে মুরাদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমার নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবারের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সন্ধায় চিওড়া এলাকায় মরহুমের প্রথম জানাযা এবং রাত নয়টায় নিজ গ্রাম উত্তর মাহিনীতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রাতের আঁধারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘঠিত এ মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সহ পরিবারের কেউই এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে রাজী নন। তারা এ মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলাবলি করছেন, বিবাহিত জীবনে মুরাদের দুজন স্ত্রী ছিল। দুই সংসারেই সন্তানদিও ছিল। পারিবারিক কলহের কারণে চাপ সইতে না পেরে গলায় রশি বেঁধে নিজ অফিসের ফ্যানের সাথে ঝুলে মুরাদ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে একটি শর্ট প্যান্ট ও গায়ে একটি স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ধোঁয়াশা কাটাতে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা সহ সন্দেহভাজন সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে চিওড়া বাজারের নৈশপ্রহরীরা জানান, রাত ১২টায় ব্যবসায়ী মুরাদকে দেখেছি নিজ অফিসে ঢুকতে। এ সময় তিনি অফিসের নিচের মূলফটকে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন। এক-দেড় ঘন্টা পরে স্থানীয় সিএনজি চালক শাহাদাতের মাধ্যমে জানতে পেরে উঁকি দিয়ে মুরাদের নিজ অফিসে তার লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তারা।
নিহতের বাবা পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ মৃত্যুকে ঘিরে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং ব্যাপক রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ সময় তিনি মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন। রহস্য উদঘাটন করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আমরা বেশ উদগ্রীব। আশা করছি, পুলিশ এ মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমা জানান, বুধবার রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে মুরাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তাস্তর করা হয়েছে। জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ সহ বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, ‘সংবাদ পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ রয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করছে বলে শুনেছি। তবে, কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে তা গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।’