প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-09-19 13:34:34

দড়ানীপাড়ার মাটিতে রক্তের দাগ, হারিয়ে গেলেন মনজুরুল আলম তুতু ও প্রিয় শিক্ষক খালেদা আক্তার বেবি


আরিফুল ইসলাম পাঠান  কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবু মিয়ার বিরুদ্ধে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহতরা হলেন—দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার ওরফে বেবি এবং তাঁর ভাইয়ের ছেলে মনজুরুল আলম ওরফে তুতু, বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের বয়সে কিছুটা পার্থক্য পাওয়া গেছে। খালেদা আক্তার বেবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু মিয়া পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।  ‘বেবি আক্তার ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর’ এলাকাবাসী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বেবি আক্তার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী পুলিশ ইন্সপেক্টর আনিছুর রহমান বলেন, “তিনি আমার জীবনের সেরা শিক্ষক। তিনি ছাত্র ছাত্রীদের নিজের ছেলে মেয়ের মতো করে মানুষ করতেন।” অন্যদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মনজুরুল আলম তুতুও ছিলেন ভালো মনের মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আবুর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ঘটনার পর দড়ানীপাড়া এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুন প্রজন্মের আইডল, হুমায়ুন সরকার জানান, তাদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় জনগণ, কেউ কেউ অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। তবে মামলার তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে ।