মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তিতে আইনগত অংশ থাকার দাবি করেও সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত হাজী সেকান্দার ভূঁইয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান মো. জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া ও তাঁর ছেলে সোহাগ ভূঁইয়া।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার অভিযোগ, তাঁর বাবা মৃত হাজী সেকান্দার ভূঁইয়া প্রায় ১১ একর ২৮ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি রেখে গেছেন। ওই সম্পত্তিতে ওয়ারিশ হিসেবে তাঁর আইনগত অংশ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির একটি অংশ নুরুল আমিন ভূঁইয়ার দখলে থাকায় তিনি তাঁর প্রাপ্য অংশ ভোগদখল করতে পারছেন না।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বলেন, ওয়ারিশ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য অংশ বুঝে পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। ফলে পৈত্রিক সম্পত্তিতে মালিকানা দাবি থাকা সত্ত্বেও তিনি বাস্তবে সম্পত্তির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাঁর অংশ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে। নিজ অংশের সম্পত্তি বুঝে পেলে তাঁর আর্থিক ও চিকিৎসাজনিত সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার আরও অভিযোগ, নুরুল আমিন ভূঁইয়া তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন এবং ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিজের অংশ দাবি করায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জানান, কিছুদিন আগে নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছ থেকে ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন রামপাল এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন। পরে নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও তাঁর চার বোন ওই জমি আবুল হোসেনের নামে দলিল করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার অভিযোগ, পরবর্তীতে আবুল হোসেন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে ৪৭ লাখ টাকা উল্লেখ করে একটি নাদাবি দলিলে স্বাক্ষর নেন। তিনি দাবি করেন, ওই দলিল তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিতে তাঁর ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জানান।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার দাবি অনুযায়ী তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে বাবার নাম মৃত হাজী সেকান্দার ভূঁইয়া উল্লেখ রয়েছে। তবে নুরুল আমিন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীর ভূঁইয়াকে তাঁর ভাই হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া নামে কাউকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাঁর ওয়ারিশানা অংশ নির্ধারণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ওয়ারিশানা, দলিলের বৈধতা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, খতিয়ান, নামজারি, ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য সরকারি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এসব নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-09-21 21:01:48
ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তির দাবি, ভোগদখল না পাওয়ার অভিযোগ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার
মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তিতে আইনগত অংশ থাকার দাবি করেও সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত হাজী সেকান্দার ভূঁইয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান মো. জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া ও তাঁর ছেলে সোহাগ ভূঁইয়া।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার অভিযোগ, তাঁর বাবা মৃত হাজী সেকান্দার ভূঁইয়া প্রায় ১১ একর ২৮ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি রেখে গেছেন। ওই সম্পত্তিতে ওয়ারিশ হিসেবে তাঁর আইনগত অংশ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির একটি অংশ নুরুল আমিন ভূঁইয়ার দখলে থাকায় তিনি তাঁর প্রাপ্য অংশ ভোগদখল করতে পারছেন না।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বলেন, ওয়ারিশ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য অংশ বুঝে পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। ফলে পৈত্রিক সম্পত্তিতে মালিকানা দাবি থাকা সত্ত্বেও তিনি বাস্তবে সম্পত্তির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাঁর অংশ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে। নিজ অংশের সম্পত্তি বুঝে পেলে তাঁর আর্থিক ও চিকিৎসাজনিত সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার আরও অভিযোগ, নুরুল আমিন ভূঁইয়া তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন এবং ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিজের অংশ দাবি করায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জানান, কিছুদিন আগে নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছ থেকে ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন রামপাল এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন। পরে নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও তাঁর চার বোন ওই জমি আবুল হোসেনের নামে দলিল করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার অভিযোগ, পরবর্তীতে আবুল হোসেন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে ৪৭ লাখ টাকা উল্লেখ করে একটি নাদাবি দলিলে স্বাক্ষর নেন। তিনি দাবি করেন, ওই দলিল তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিতে তাঁর ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া জানান।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার দাবি অনুযায়ী তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে বাবার নাম মৃত হাজী সেকান্দার ভূঁইয়া উল্লেখ রয়েছে। তবে নুরুল আমিন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীর ভূঁইয়াকে তাঁর ভাই হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া নামে কাউকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাঁর ওয়ারিশানা অংশ নির্ধারণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ওয়ারিশানা, দলিলের বৈধতা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, খতিয়ান, নামজারি, ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য সরকারি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এসব নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।