প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-09-28 17:12:57

হোমনায় ট্রিপল মার্ডারের তদন্তে নতুন মোড়, ৮ মাস পর ডিবি হেফাজতে ৪ স্বজন।


হোমনা প্রতিনিধি কুমিল্লার হোমনায় বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দীর্ঘ আট মাস পর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে একই পরিবারের তিনজনসহ চার স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার মনিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মনিপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে শহীদুল্লাহ, তার দুই ছেলে সাঈদ ও তামজিদ এবং নিহত জুনায়েদের মা ও সাত্তারের স্ত্রী। তারা সবাই নিহতদের স্বজন বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী (৩২), তার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং ভাতিজা জুবায়ের (৫)কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্তে নামে। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল মনিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে হেফাজতে নেয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। চারজনকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস পর চার স্বজনকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। তবে তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও আদালতের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত হেফাজতে থাকা কাউকেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।