প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-10-05 22:01:06

বরুড়ায় দেবরের লাঠির আঘাতে ভাবি-ভাতিজা রক্তাক্ত মাথা ফাটিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ছেলেকেও পেটানোর দাবি


আবু ইউছুফ রাবেত : কুমিল্লার বরুড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে দেবর ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে ভাবি ও ভাতিজাকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ফাতেমা বেগম (৩৮)-এর মাথা ফেটে গুরুতর জখম এবং সামনের দুটি দাঁত পড়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসে হামলার শিকার হয়েছেন তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান (১৯)-ও। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে বরুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—বরুড়া উপজেলার ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও (ফুসকার বাড়ি) গ্রামের তাফাজ্জল হোসেন (৫০), নকির হোসেন (২০) ও নাজমা বেগম (৪৫)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াগাঁও গ্রামের একটি বসতঘরের সামনে পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ফাতেমা বেগম ও তাফাজ্জল হোসেন একই বাড়ির বাসিন্দা ও পরস্পর আত্মীয়। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ফাতেমা বেগম ও তাঁর অসুস্থ স্বামীকে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার দিন তাফাজ্জল হোসেন গালাগাল শুরু করলে ফাতেমা বেগম প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাফাজ্জল হোসেন শক্ত লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে ঘুষি মেরে সামনের দুটি দাঁত ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর নকির হোসেন ফাতেমা বেগমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। মায়ের আর্তচিৎকার শুনে ছেলে আব্দুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় নাজমা বেগমও লাঠি হাতে মারধরের জন্য এগিয়ে আসেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করেন। তাঁদের বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় রেফার করা হয়। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বরুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।