প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-10-17 02:07:25

হোমনায় কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙনের ঝুঁকিতে জমি, হুমকিতে মালিকরা!


হোমনা প্রতিনিধি: কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে কৃষিজমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে আশপাশের কৃষিজমিতে ভাঙন ও ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে মারধর ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামের নাসির উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে রিজন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি পত্তন নিয়ে সেখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর করে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে আশপাশের কৃষিজমির মাটি ধসে পড়ছে এবং জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামের কৃষিজমির মালিক মো. বাবুল মিয়া, নার্গিস বেগম, নাজমা বেগম ও আয়েশা বেগম প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন আগে রিজন চৌধুরী, সোহেল ও বরি চৌধুরী ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামের জসিম উদ্দিনের জমি থেকে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধ করে দেয় বলে জানান তাঁরা। তবে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গভীর করে বালু উত্তোলনের কারণে তাঁদের কৃষিজমির মাটি ধসে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জমির সীমানা ভেঙে পড়াসহ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাঁরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁরা আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় তহসিল অফিসে অবহিত করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ, কৃষিজমি রক্ষা এবং হুমকির ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “কিছুদিন আগে এসিল্যান্ড স্যার এসে মাটি উত্তোলন বন্ধ করেছেন। পুনরায় উত্তোলনের বিষয়টি আমি অবগত নই। এসিল্যান্ড স্যারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বদলিজনিত কারণে ছুটিতে থাকায় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন মুঠোফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একদিকে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে আশপাশের জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।