প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-10-24 12:19:29

বরুড়ার চৌওরীতে দর্জি মোবারক হোসেনের গলাকাটা লাশের সন্ধান: পাশে বিষের বোতল ও চুরি, ঘটনাস্থলে ওসি সহ পুলিশ


রুবেল হোসেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের চৌওরী গ্রামে ঘটে গেছে এক রহস্যজনক ওগলাকাটা ঘটনা। স্থানীয় ফকির সাহেবের বাড়ি এলাকা থেকে পেশায় দর্জি ও প্রবীণ মুসুল্লি মোবারক হোসেন (৮০)-এর রক্তাক্ত গলাকাটা মরদেহের সন্ধান। খবর পেয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)নাজমুল হক-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত জব্দ করেছে। লাশের ঠিক পাশ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে একটি রক্তমাখা ছুরি এবং একটি বিষের বোতল। নিহত মোবারক হোসেন চৌওরী গ্রামের মরহুম জালাল উদ্দিনের পুত্র। অত্যন্ত নম্র ও নিয়মিত নামাজি ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, নিহত মোবারক হোসেন পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। এলাকায় তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতা বা কোনো বিষয়ে বিরোধ ছিল না বললেই চলে। একজন পরোপকারী ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের এমন নির্মম পরিণতিতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও প্রবাসে স্বজনরা পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোবারক হোসেন দুই ছেলের জনক। তাঁর বড় ছেলে শহিদ দেশেই থাকেন এবং ছোট ছেলে তাফাজ্জল প্রবাসে কর্মরত আছেন। এছাড়া মৃত মোবারক হোসেনের দুই ভাই রয়েছে; তাঁর ছোট ভাই মফিজ উদ্দিন সৌদি প্রবাসী। ছোট ভাইয়ের পরিবার ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং তাঁর কন্যা পেশায় একজন চিকিৎসক (ডাক্তার)। ঘটনাস্থলে বরুড়া থানা পুলিশ ও উদ্ধার হওয়া আলামত স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌওরী ফকির সাহেবের বাড়ির কাছে মোবারক হোসেনের গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বরুড়া থানা পুলিশের ওসি-র নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার মূল কারণ উন্মোচন ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, নিরীহ এই প্রবীণ মানুষের রহস্যজনক মৃত্যুতে চৌওরী গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘাতকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।