প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-09-17 18:55:56

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন: তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে মাঠের বিকল্প নেই


আবু ইউছুফ রাবেতঃ দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের চাপে খেলার মাঠের পরিসর সংকুচিত হওয়ার বাস্তবতায় মাঠ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন স্থানে খেলাধুলার মাঠের সুরক্ষা ও উন্নয়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকের আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যমান খেলার মাঠ সংরক্ষণ, উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি মাঠগুলো যাতে যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো কাজে অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের বিকল্প নেই। মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করা হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।” মন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বিদ্যমান মাঠগুলো রক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাঠ সংরক্ষণেও কার্যকর পরিকল্পনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মাঠের সুরক্ষা, উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। বিদ্যমান মাঠগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নগরায়ণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অনেক এলাকায় খেলার মাঠের সংখ্যা ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে আসছে। ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগও সীমিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মাঠ সংরক্ষণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা গেলে মাঠ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির পথও আরও সুগম হবে। খেলার মাঠ রক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মাঠ থাকবে, খেলাধুলা থাকবে—এমন একটি সুস্থ ও কর্মমুখী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।