প্রিন্ট এর তারিখঃ 2026-09-30 17:53:24

২৫ বছর ধরে মেধার সন্ধানে মুকুন্দপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, ৩১ অক্টোবর মেধাবৃত্তি পরীক্ষা


রুবেল হোসেন একটি ছোট্ট উদ্যোগ কখনো কখনো হয়ে ওঠে প্রজন্ম গড়ার দীর্ঘ প্রত্যয়। কুমিল্লার বরুড়ার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম যেন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে ২৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছেন বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ২০০১ সালে শুরু হওয়া সেই পথচলার ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬। মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকাল ৯টায় মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নাম আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা।৮০ শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তির সুযোগ আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৮০টি বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০টি ট্যালেন্টপুল, ১০টি সাধারণ এবং ২০টি করে স্কুলভিত্তিক বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।৫০ নম্বরের পরীক্ষায় মেধার মূল্যায়ন মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মিনিট। এর মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১৫, গণিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান তথা সামাজিক বিজ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, একটি সুস্থ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।মেধার পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের আয়োজনে। মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এতে বালক ও বালিকারা দেশাত্মবোধক গান ও গজল পরিবেশনের সুযোগ পাবে। আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম পাঠানো যাবে। তালিকায় শিক্ষার্থীর নামের পাশাপাশি পিতা-মাতার নাম উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের তালিকা সত্যায়িত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ২৫ বছরের প্রত্যয় মেধা খুঁজে বের করা মুকুন্দপুরের বাসিন্দা তাজিরুল ইসলাম বলেন, মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এর মূল উদ্দেশ্য বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ জোগানো। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে দেওয়া নয়, কোনো কারণে যারা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার পথে, তাদেরও আবার শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনতে উৎসাহিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মেধাবী ও যোগ্য প্রজন্ম গড়ে উঠলে তার সুফল শুধু একটি পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিসরেও। তাজিরুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের মেধা অন্বেষণমূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন প্রতিযোগিতা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি করে। মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের এবারের আয়োজনের মূল প্রত্যয়—‘মেধার বিকাশে উৎসাহ, শিক্ষার উন্নয়নে অঙ্গীকার।’ ২৫ বছর আগে যে উদ্যোগের বীজ রোপিত হয়েছিল, সময়ের স্রোতে তা এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কাছে একটি প্রত্যাশিত মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার আলোয় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার সেই অভিযাত্রায় ৩১ অক্টোবরের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা হয়ে উঠছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।