কৃষক
দেবীগঞ্জে জমি বিরোধে কৃষকের দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্টের অভিযোগ
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়), ১৭ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের প্রায় দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ায় জমিতে থাকা প্রায় ৬০ মণ ধান নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফজিলা খাতুন ও তার পরিবার বিরোধপূর্ণ ওই জমি চাষাবাদ করে আসছিলেন। সম্প্রতি জমির দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। ভুক্তভোগী জুয়েল রানার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে এবং এর জেরে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জমিতে ধান আবাদ করলেও ধান কাটার সময় পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে আদালত উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ধান কেটে বিক্রির অর্থ প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রাখার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ পুলিশের কাছে পৌঁছানোর পরও তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। শ্রমিক নিয়োগ ও ধান কাটার ব্যয় নিয়ে জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে মাঠে থাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও আদালতের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হতো। তারা আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। ভুক্তভোগী জুয়েল রানা বলেন, তার পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বন্যার পানি নেমে গেলেও রয়ে গেছে ক্ষতচিহ্ন,উর্বর কৃষিজমিতে বালুর স্তর
লালমনিরহাটে বন্যার পানি নেমে গেছে দু'দিন আগেই। কিন্তু নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এখনো পড়ে আছে পুরু বালুর স্তর। কোথাও ছয়-সাত ইঞ্চি, কোথাও এক থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বালু জমে উর্বর কৃষিজমি ঢেকে ফেলেছে। ফলে আমনসহ মৌসুমি ফসল আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত বালু অপসারণ করা না গেলে এসব জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকতে পারে। কৃষকরা বলছেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে বালুর অভিশাপে পড়েছেন তারা। জমিতে বালুর স্তর জমে থাকায় চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ এক বিঘা জমি থেকে বালু সরাতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, যা অধিকাংশ কৃষকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। এতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ! বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীতীরবর্তী কালমাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বারের রয়েছে আট বিঘা আবাদি জমি। এবারের বন্যায় এর মধ্যে দুই বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি সরে গেলে তিনি দেখেন, ওই দুই বিঘা জমির ওপর প্রায় এক ফুট পুরু বালুর স্তর জমে রয়েছে। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, জমির ওপর থেকে বালু না সরালে কোনো ফসলই ঠিকমতো হবে না। কিন্তু এত টাকা দিয়ে বালু সরানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। হয়তো আবার বড় বন্যা হলে কিছু বালু সরে যাবে। নদীর পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু এসে জমিতে পড়ে থাকে। বালুময় জমিতে কোনো ফসল ভালো হয় না। এতে আমরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ি। একই গ্রামের কৃষক আনছার আলীর দশ বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা এখন বালুর নিচে চাপা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের বন্যা হলে হয়তো কিছু বালু সরে যাবে। তা না হলে কয়েক বছর জমি অনাবাদি রাখতে হবে। এক বিঘা জমির বালু সরাতে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকা কোথায় পাব ? কালীগঞ্জের ভোটমারী ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু এসে জমিতে পড়ে আছে। আমার ৮ বিঘা জমি পানির নিচে ছিল। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে এখন বালুর স্তর জমেছে। শুধু আমার নয়, প্রায় সব কৃষকের জমির একই অবস্থা। একই এলাকার কৃষক ওসমান গনি বলেন, দুই বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এই জমিতে এখন পলি পড়ে আছে। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করি। কিছুদিন আগে একবার বন্যায় ডুবে গিয়ে আমার ৩ বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছিল। চারা ক্রয় করে দ্বিতীয় দফায় রোপন করেছিলাম। সেটাও এক সপ্তাহের ব্যবধানের বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হলো। এখন চারা কেনার টাকাও নেই। চারা রোপন না করলে পরিবার খাবে কি? আমরা কিভাবে বাঁচবো জানি না। কৃষি কর্মকর্তার বলছেন, সাধারণ বন্যায় নদীর পানির সঙ্গে উর্বর পলি জমে ভেসে আসে, যা জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। কিন্তু নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বা প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করলে সেখানে পলির চেয়ে মোটা বালুর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে উর্বর মাটির ওপর পুরু বালুর স্তর জমে কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। তিনি কৃষকদের উঁচু জমিতে রাখা আমনের বলান ক্ষেত থেকে চারা তুলে পুনরায় রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র সহ বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বালুর স্তর জমে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী বন্যায় কিছু জমি থেকে বালু স্বাভাবিকভাবেই সরে যায়। তবে অনেক জমিতে বছরের পর বছর বালু রয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়। কৃষকদের দাবি, শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করলেই হবে না। দ্রুত বালু অপসারণে সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা না দিলে নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে এমনটাই জানান।
কালিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উন্নতমানের বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল তিনটায় উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এই বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে উন্নতমানের বীজ ও রাসায়নিক সার তুলে দেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুফতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসীম উদ্দীন এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মানবিকা শীল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি চর্চার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান। উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার উপকারভোগী কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ
পরিবেশ রক্ষা ও কৃষকের সমৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ উপলক্ষে ৪০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ৫টি করে ফলজ গাছের চারা (আম, লিচু, বেল, কাঁঠাল ও লেবু) এবং ৫০ কেজি করে ভার্মি কম্পোস্ট সার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুব আলম রনি এবং সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আখতারুজ্জামান মিয়া। একটি গাছ, একটি প্রাণ—আসুন সবাই বেশি করে গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
উপকূলীয় কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল ব্রি ধান ও কৃষি উপকরণ বিতরণ
উপকূলীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'লিডার্স'-এর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে জলবায়ু সহনশীল ব্রি ধান-১০৩ ও ব্রি ধান-৮৭-এর বীজ, বিভিন্ন ধরনের সবজি বীজ এবং জৈব সার বিতরণ করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উপকরণ কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম শফিউল আলমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নাজমুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিজুর রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বুলকালাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্যামল কুমার, সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কমলা রানী এবং সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা মোছা. শামীম ও সি এম এম আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সনাতন পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জলবায়ু সহনশীল ও লবণ সহিষ্ণু ধানের জাত সম্প্রসারণ অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। ব্রি ধান-১০৩ ও ব্রি ধান-৮৭ উপকূলের কৃষকদের অধিক ফলন নিশ্চিত করতে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও চাষাবাদ টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি সবজি বীজ ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকেরা একদিকে যেমন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় উদ্বুদ্ধ হবেন। লিডার্সের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এই উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বোরো মৌসুমেও সংস্থাটির উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে লবণ সহিষ্ণু ব্রি ধান-৯৯ ও ব্রি ধান-৬৭-এর বীজ বিতরণ করা হয়েছিল। সেই মৌসুমে কৃষকরা সন্তোষজনক ও লাভজনক ফলন পাওয়ায়, এবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমন মৌসুমে ব্রি ধান-১০৩ ও ব্রি ধান-৮৭-এর বীজসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হলো। স্থানীয় কৃষকেরা লিডার্সের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষির সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।