বন্যা
মহালছড়ির দুর্গম জনপদে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে ঘরে পৌঁছালো জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জেলার মহালছড়ি উপজেলা সদর ও মাইসছড়ি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন:"বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কেউ যেন খাদ্যসংকটে না ভোগে,সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।" ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এম এন আবছার, সাধারণ সম্পাদক,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপি।প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ।কংজাফ্র মারমা, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।মোঃ মাহবুব আলম সবুজ, সভাপতি, জেলা যুবদল।মোঃ আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপি। বন্যায় সবকিছু হারিয়ে বিপর্যস্ত পরিবারগুলো এই সংকটময় মুহূর্তে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা পেয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার অন্যান্য দুর্গম এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
পৌরসভার ৬ নাম্বর ওয়ার্ডে ৬০০ পানিবন্দি পরিবার'র মাঝে চাল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতারের উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাউল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুর হক মেম্বার, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ইব্রাহিম সওদাগর, মোঃ বশির আহমদ, মোঃ জহুর মিয়া, মোঃ সেলিম, মো. হারুন, মো. মামুন, জহির সওদাগর, মো. ওসমান, পৌরসভা ছাত্রদল নেতা বাপ্পি, মো. রহিমসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। তারা জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
ভারী বর্ষণে মহালছড়িতে দেয়াল চাপায় বৃদ্ধা আশঙ্কাজনক, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী"
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগে পড়েছে। এরই মধ্যে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুরুতর আহত এক বৃদ্ধাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা হালিমা বেগম (৬৫) নিজ ঘরে বৃষ্টির মধ্যে রান্নার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কাঁচা মাটির ঘরের একটি দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়ালের পাশে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আহত হালিমা বেগমকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সংকটময় মুহূর্তে খবর পেয়ে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে দ্রুত তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে আহত নারীর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা। এদিকে, টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টানা বর্ষণে পানিবন্দি বোয়ালখালীবাসির পাশে দাঁড়ালেন এমপি এরশাদ উল্লাহ
গত চারদিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া জেলার বোয়ালখালী উপজেলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিনি উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেন। ভারী বর্ষণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও সড়ক, আবার কোথাও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুর্গত এলাকায় যান এমপি এরশাদ উল্লাহ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এমপি এরশাদ উল্লাহ বলেন, টানা বর্ষণে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মস্থলে যেতে না পারায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুর্যোগের এই সময়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।