বিশ্ববিদ্যালয়
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন ও শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র্যালি বের করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। র্যালি শেষে আনন্দমুখর পরিবেশে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসন উদ্দিন শেখর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। প্রথমবারের মতো ডিনস কমপ্লেক্স চালু করেছি। সেই সাথে গবেষণাগার সমৃদ্ধিকরণ ও মেডিকেল সেন্টার সংস্কার করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। আরো ৪৭ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আরো ১২০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহায়তা কামনা করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অপরিসীম চেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের অবদানকে আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি। আমি প্রত্যাশা করছি, একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে তৈরি হবে। সেজন্য আমাদের সকলকে বিভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন মানবিকী অনুষদের ডিন সুকান্ত বিশ্বাস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, কৃষি অনুষদের ডিন ড. জিলহাস আহমেদ জুয়েল ও রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে আলোকসজ্জা করা হয়।
গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গবেষণা সপ্তাহ–২০২৬ '
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় নতুন গতি আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টার আয়োজন করতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী 'গবেষণা সপ্তাহ ২০২৬'। আগামী ২৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলা, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠু ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো — এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আয়োজনটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ও রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। তাঁর প্রত্যাশা, 'রিসার্চ উইক ২০২৬' বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণমাত্রার গবেষণাসহায়ক প্রতিষ্ঠায় পরিণত করার পথে মাইলফলক হয়ে উঠবে। পাঁচদিনের এই আয়োজনে থাকছে একাধিক কর্মশালা ও সেমিনার। SPSS, Stata, NVivo এবং পাইথনভিত্তিক মেশিন লার্নিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের সহযোগিতায়। এর বাইরে বিদেশি বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, একাডেমিক ও গবেষণা রাইটিং, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার কৌশল এবং গবেষণায় AI-এর প্রয়োগ নিয়েও আলাদা সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তরুণ গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে রাখা হয়েছে 'রিসার্চ আইডিয়া কম্পিটিশন' এবং একটি অনলাইন সেশন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা অর্থায়নে ৯৫৩টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছে এবং সেসব গবেষণার ফলাফল দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ২৪ জুন রাত ৯টা থেকে চালু হওয়া গুগল ফর্মে নিবন্ধন করতে হবে। অফলাইন সেমিনারে আসন মাত্র ৮০টি, তাই প্রথমে আসলে আগে সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই।