স্কুল
বিদ্যালয় কতৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে বিদ্যালয় চলাকালীন পানিতে ডুবে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাযায়, পশ্চিম সকদী গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেনের ৫ ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী নোমেরা পানিতে ডুবে মারা যায়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২৬) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নোমেরা প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে ক্লাস করার জন্য আসে ।এদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে পাশে থাকা ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে সে চলে যায়। নদীর তীরে খেলা করতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে গিয়ে ডুবে যায়। কিন্তু মৃত্যুর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কোন খোঁজ খবর নেই। পরে এলাকার মুনসুর নামে এক ব্যক্তি শিক্ষার্থীর মরদেহ ডাকাতিয়া নদীর শাখা নদীতে ভেসে উঠতে দেখে ডাক চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর আড়াই শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সূত্র জানায়, সামান্য একটু জায়গার উপরে মেধাবিকাশ কিন্ডারগার্টেন পরিত্যক্ত একটি ইটভাটার পাশে নির্মাণ করা হয়।সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানিতে ডুবে যায়। বিদ্যালয়ের নেই কোন শৃঙ্খলা ও পরিবেশ। মনগড়া করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির চারপাশ ঝোপঝাড়ে বরে আছে। এখানে শিক্ষার পরিবেশ নেই। প্রতিদিন বিদ্যালয় চলাকালীন ও হাপেনার সময়ে ছাত্র ছাত্রীরা নদীর তীরে খেলা ধূলা করতে চলে যায়।কিন্তু শিক্ষকরা সেদিকে খেয়াল রাখেননি। যদি খেয়াল রাখতেন তা হলে নোমেরার মতো একটি নিষ্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে যেতো না।অপর এক সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি সচেতন হতো তাহলে শিশু শিক্ষার্থীরা নদীর তীরে গিয়ে খেলা ধূলা করতো না।এমনকি পাশে সিআইপি সড়ক,শিশুরা সিআইপি সড়কে চলে যায়।কিন্তু এ কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে একটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। সেই কিন্ডারগার্টেন ও সুন্দর পরিবেশে চলে আসছে। এব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বলেন, বিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতা, দায়িত্ব অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সচেতন না হওয়ার কারণে নোমেরা পানিতে ডুবে মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতাই দায়ি।বিদ্যালয় কতৃপক্ষের এমন উদাসীনতা থাকলে তাহলে ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে এই বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো ভালো। বিদ্যালয়ে নেই কোন পরিবেশ। শিশু নোমেরার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এব্যাপারে ইউপি সদস্য মুনসুর খান বলেন , খবর পেয়ে স্কুলের কাছে এসে দেখি লাশ ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে শুয়ে রেখেছে।পরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি।ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু দুঃখ জনক। এব্যাপারে, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম বলেন, পানিতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে কোন কিছু জানান না। আপনার নিকট থেকে এখন জেনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা আমার জানা নেই। কেজি স্কুল আমাদের দেখার দায়িত্ব না।ওটা তারা নিজেরাই দেখেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, উল্লেখ্য, নোমেরা তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। তার বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাশিয়ালি গ্রামে।
মহৎ প্রাণের মানুষ, শিক্ষানুরাগী জগদীশ চন্দ্র মজুমদার (ঝড়ু সাধু)
"শিক্ষা আলোর বর্তিকা, আর সেই আলো সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছু মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন। এমনই এক মহৎ প্রাণ, বীর সৈনিক ও চিকিৎসাসেবী ব্যক্তিত্ব—জগদীশ চন্দ্র মজুমদার।" জগদীশ চন্দ্র মজুমদার ছিলেন একাধারে একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক, মানবসেবী নিরাময়ক এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষানুরাগী। সমাজ সংস্কার, জনকল্যাণ এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর অনন্য অবদান আজও ধামরাই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছে। তিনি ১৯১৩ সালে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার অন্তর্গত 'সীতি' গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন (ডাকঘর: বাড়িগাও)। পিতা: হর চন্দ্র মজুমদার মাতা: সখী সুন্দরী দ্যাস্যা, সহধর্মিণী: মিষ্ঠরানী মজুমদার সন্তান: উপনিত্য মজুমদার, গৌরাঙ্গ মজুমদার ও রামপ্রসাদ মজুমদার এলাকা ও দূর-দূরান্তে তিনি অত্যন্ত ভক্তিভরে 'ঝড়ু সাধু' হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি এক কঠিন আদর্শিক ও নৈতিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে হতে পারে—এই গভীর মানবিক উপলব্ধি থেকে তিনি সৈনিকের সুনিশ্চিত ক্যারিয়ার ত্যাগ করে ইস্তফা দেন এবং নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এই সিদ্ধান্তটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে তিনি অনুধাবন করেন—একটি উন্নত, বিবেকবান ও সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কোমলমতি শিশুদের আলোর দিশারী করতে ১৯৪২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'সীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'। বিদ্যালয়ের স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির জন্য তিনি নিজের ৩৫ শতাংশ জমি নিঃশ্বার্থভাবে দান করে মহানুভবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর এই ত্যাগের ফলেই আজ হাজারো শিশু শিক্ষার আলো পাচ্ছে এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। পরবর্তী জীবনে তিনি সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হন। সন্ন্যাসী জীবনে তিনি কেবল ধ্যানে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং ভেষজ ও আধ্যাত্মিক উপায়ে দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। একজন 'সাধু' বা সেবক হিসেবে মানুষের রোগমুক্তি ও সেবাতেই তিনি পরম আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন। শিক্ষার প্রতি অনুরাগী: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিজ স্বার্থ ভুলে শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। মহানুভবতা ও ত্যাগের স্মারক হিসেবে বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করে ধামরাইয়ে সমাজসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছেন। মানবসেবায় নিবেদিত চিকিৎসাসেবা ও এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জীবনাবসান ও অমর স্মৃতিতে দীর্ঘ ৯১ বছরের এক মহিমাম্বিত ও নিবেদিত জীবন অতিবাহিত করার পর ২০০৪ সালে এই অনন্য ব্যক্তিত্ব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে জড়িয়ে আছে তাঁর স্বপ্ন ও স্মৃতি। আজ বিদ্যালয়টি যে শত শত আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে চলেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে এই মহান দানবীরের অবদান। জগদীশ চন্দ্র মজুমদার (ঝড়ু সাধু) তাঁর কর্ম ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্য ও শত শত মানুষের হৃদয়ে। আমরা এই মহৎ প্রাণের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
আলীকদমে অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়া বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সাক্লানপাড়ায় অতিবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ম্রো সম্প্রদায়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থীর একমাত্র এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালু করতে ইতিমধ্যে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম সাক্লানপাড়ার বাঁশ ও স্থানীয় উপকরণে তৈরি বিদ্যালয়টি পুরোপুরি ধসে পড়ে। ফলে এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষকদের মাধ্যমে জানতে পেরে তা প্রশাসনের নজরে আনেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ জানান, ম্রো সম্প্রদায় দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের শিক্ষা গ্রহণ এমনিতেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল। তথ্য পাওয়ার পরপরই উপজেলা সদর থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দুর্গম ঝিরিপথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে বৈঠক করে পুনর্নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেন। আগের স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছুটা নিরাপদ স্থানে নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এতে ‘ট্রাইবাল মোটিফ’ রাখার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার জন্য আলাদা জায়গাও রাখা হচ্ছে। এছাড়া নতুন স্কুলে বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার ও বোর্ডসহ সব প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা হবে। স্কুলটির পুনর্নির্মাণে দ্রুত অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিআর বরাদ্দের আওতায় ৮ টন চাল দেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ১০ বান্ডেল (৩৪ মিমি) কালার টিন সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে আগের চেয়ে আরও উন্নত পরিবেশে ম্রো শিশুদের পাঠদান পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেল যাতায়াতের নৌকা
বর্ষায় হাওর পাড়ের বিদ্যালয় গুলোতে যাতায়াতের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ও সহজে বিদ্যালয়ের পৌঁছাতে সুনামগঞ্জে ১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৌকা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। গত সোমবার দুপুরে জেলার মধ্যনগর উপজেলার কাচারী ঘাটে ১৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেয়া হয়। এসময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন,উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াৎ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবুল বাশার, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি রমা রঞ্জন সরকার, খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমসহ নৌকাপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার বরাদ্দে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের উদ্যোগ ও সংসদ সদস্যের দেয়া বরাদ্দের অর্থে উপজেলার খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমকে সভাপতি করে একটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে ১৬টি নৌকা নির্মাণ করে বলরামপুর, দুগনই, সাতুর,গলইখালী, বীরসিংহপাড়া, চাপাইতি, শালীয়ানী, জামালপুর, কামাউড়া, খালিশাকান্দা, ইটাউরি, মাছুয়াকান্দা, দৌলতপুর, দোয়াদুর রহমান, মো. আলীপুর আটাইশা মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নৌকা গুলো দেয়া হয়। মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান,বর্ষায় মৌসুমে উপজেলার ৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৌকা দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। ১৬টি নৌকা দেওয়ায় ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে অভিভাবকদের মধ্যে। সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,হাওর বেষ্টিত আমার নির্বাচন এলাকা। বর্ষায় মৌসুমে সড়ক পানিতে ডুবে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সকল সকল স্তরের মানুষজন।নৌকা না থাকায় হাওরাঞ্চলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত কমে যায়। তাই বর্ষার মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত ভাড়াতে ও শিক্ষার প্রসারের জন্যেই নৌকা বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। যেসব বিদ্যালয়ে নৌকার প্রয়োজন সে গুলোতে প্রর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।
কালীগঞ্জে দুর্নীতির দায়ে গোপালপুর হাইস্কুলর প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন
রবিবার(৫ জুলাই) ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমাহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তার দ্রুত অপসারণ এবং শাস্তির দাবিতে আজ সকাল ৯টায় বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। বার বার সাসপেন্ড, তবুও বহাল তবিয়তে! মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। ইতিপূর্বে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হলেও প্রতিবারই ‘উপরিমহল’ ও প্রভাবশালী চক্রকে ম্যানেজ করে স্বপদে ফিরে আসেন। চেয়ারে ফিরেই তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও দুর্নীতি ও অনিয়মে মগ্ন হন, যা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। চিত্তরঞ্জনের এই লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ঐতিহ্যবাহী গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান: "এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের অধীনে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ এখন ঘরের কাছের স্কুল বাদ দিয়ে দূরবর্তী কালীগঞ্জ ও কোলাবাজার ইউনাইটেড হাইস্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাচ্ছেন।" ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা মানববন্ধন থেকে ফুসে ওঠা জনতা ও অভিভাবকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে অপসারণ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ভাঙা শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা করতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।