বিদ্যুৎ গেলেই মুমূর্ষু রোগীর দুর্ভোগ, রিসিপশনে চলে ফ্যান! বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
আবু ইউছুফ রাবেতঃ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন মুমূর্ষু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। প্রচণ্ড গরমে রোগীদের কক্ষে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা না থাকলেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের রিসিপশন এলাকায় ফ্যান চলতে দেখা যাওয়ায় জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলে মুমূর্ষু রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ফ্যান চালানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে রিসিপশন এলাকায় ফ্যান সচল রাখার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যদি সীমিত থাকে, তাহলে তার প্রথম অগ্রাধিকার কি মুমূর্ষু রোগী, নাকি প্রশাসনিক ও রিসিপশন এলাকা?
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়; গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসাসেবারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় বাতাসের ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল রাখা এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের দাবি, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় কোন কোন ওয়ার্ডে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থা কতক্ষণ চালু থাকে এবং কোন ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বণ্টন করা হয়—এসব বিষয় প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন।
তাদের প্রশ্ন, “মুমূর্ষু রোগী যখন গরমে কষ্ট পাচ্ছেন, তখন একই হাসপাতালের রিসিপশনে ফ্যান কীভাবে চলে?”
এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, জেনারেটর ব্যবহারের নীতিমালা এবং রোগীদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের অগ্রাধিকার নিয়ে কার্যকর তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের দুর্ভোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা।