বুড়িচংয়ে গভীর রাতে জানালা দিয়ে বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন
জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গভীর রাতে ঘরের জানালা খুলে এক বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত নারী বর্তমানে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের পাঁচোড়া পূর্বপাড়ায়। আহত নারীর নাম মোসাঃ জাহানারা বেগম (৬৫)। তিনি ওই এলাকার মোঃ আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
এ ঘটনায় জাহানারা বেগমের ছেলে মোঃ রমজান হোসেন (৩০) বুড়িচং থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান (৬০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী রমজান হোসেন ব্যবসার কারণে স্ত্রীকে নিয়ে কুমিল্লা শহরে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে তার মা-বাবা বসবাস করেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গালাগাল, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা তার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সুযোগ খুঁজছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে জাহানারা বেগম নিজ বাড়ির নিচতলার শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো দা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ সময় মিজানুর রহমান তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে জাহানারা বেগমের মাথায় উপর্যুপরি কোপ দেন। এতে তার মাথায় গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
জাহানারা বেগমের চিৎকারে ঘরে থাকা তার নাতনি মোসাঃ আদিলা (৬) ও মরিয়ম (৯) ঘুম থেকে জেগে ওঠে। পরে মরিয়ম তার খালা পারুল আক্তারকে ফোন করে বিষয়টি জানায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে রমজান হোসেন, তার বোন পারুল আক্তার ও ভাই মোঃ সোহেল রাতেই কুমিল্লা শহর থেকে বাড়িতে আসেন এবং আহত জাহানারা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী আরও দাবি করেন, ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।