চৌদ্দগ্রামে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়, বগৈর কলেজে পাশ করেনি কেউ

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ এএম

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

 

নিয়মিত পড়ালেখা না করে টিকটক ও ফেসবুকে বেশি সময় দেয়ায় এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১১টি কলেজের শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষায় ২ হাজার ৪৭২ জন অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৭০৩জন। পাশের হার ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষিত ও সচেতন মহল। 

জানা গেছে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চৌদ্দগ্রামের এগারটি কলেজেই ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। বিপর্যয়ের মধ্যেই ঘোষিত ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মিয়াবাজার কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে, বগৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের কোন শিক্ষার্থীই পাশ করেনি। উপজেলার আরেক কলেজ চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ থেকে কোন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেনি। ১১টি কলেজের মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছ। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম সরকারী কলেজে ৩ জন, গুনবতী ডিগ্রী কলেজে ১ জন, কাশিনগর ডিগ্রী কলেজে ১জন ও মিয়াবাজার ডিগ্রী কলেজে ২ জন। উপজেলা সদরের চৌদ্দগ্রাম সরকারী কলেজও ফলাফল বিপর্যয়ের অংশীদার হয়েছে। সরকারী এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৫৪জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও কৃতকার্য হয় মাত্র ১৮৩জন পরিক্ষার্থী। ঘোষিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার মাত্র ২৪.২৭ শতাংশ। আলহাজ্ব নূর মিয়া কলেজে পাশের হার মাত্র ৩১.১৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩৯৫জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২৩জন। চিওড়া সরকারী কলেজও রয়েছে ফলাফল বিপর্যয়ের তালিকায়। কলেজটি থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় ১৯৬জন অংশগ্রহণ করেন এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৭জন শিক্ষার্থী। পাশের হার মাত্র ২৯%। মুন্সীরহাট প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে ২৬৫জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৭জন। পাশের হার ২১.৫১%। গুনবতী ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৬২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫২জন। পাশের হার ৩২.১০%। বিজয়করা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৬ জন। পাশের হার ১৫.৭৯%। ধর্মপুর নাজিম আলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫জন। পাশের হার ১৫.১৫%। চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ থেকে ২৮ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৫ জন। পাশের হার ১৭.৮৬ শতাংশ। 

বগৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে একজনও পাশ করেনি। এদিকে সামগ্রিক পাশের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করে টিকটক ও ফেসবুকে ব্যস্ত থাকায় পড়ালেখায় সময় কম দিয়েছে। এজন্য এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যত মেধাশুন্য জনশক্তি তৈরি হবে। এজন্য সরকারের উচিত, বিপর্যয় ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। 

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল করিম বলেন, ঘোষিত ফলাফলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১১ কলেজের শিক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফল করেছে। আমি এ উপজেলায় মাত্রই কয়েকদিন আগে যোগদান করি। বিপর্যয়ের কারণ বের করে আগামীতে ফলাফল ভালো করার বিষয়ে কাজ করবো।