প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিটের সচেতনতায় সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রথমেই বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য আমার প্রাণঢালা স্নেহ, ভালোবাসা এবং দোয়া রইল। শোনাে শিক্ষার্থীরা, এই দেশটা তো আমাদেরই। এই দেশে আমরা যারা বাস করি দলমতের ঊর্ধে উঠে আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সকলে বাংলাদেশী অর্থাৎ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু শুধুমাত্র দেশের মালিকানা দাবি করলেই তো হবে না, আমাদের সকলকে তো এই দেশটাকে ভালবাসতে হবে। আর এই ভালোবাসার প্রতিফলন তো হবে আমাদের ভালো কাজের মধ্য দিয়ে। আমাদের মধ্যে তো দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। চলো, তাহলে  আজ থেকেই আমরা বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীরা ছোট্ট একটা ভাল কাজ শুরু করি। যে কাজটি করলে আমাদের অর্থনীতিতে ও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর এই কাজে তোমাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগাবে তোমাদের অভিভাবকগণ এবং তোমাদের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকগণ। তোমাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে এমনকি ভালো কাজ যে ভালো কাজটা করলে দেশের অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এবার শোন, কাজটি হচ্ছে আমরা যদি প্রতিদিন আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে প্রাত্যহিক সমাবেশ হয় তখন কম করে হলে ও ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় আমরা সেখানে ব্যয় করি। তখন আমাদের প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা থাকে। সেই সময় যদি আমরা সমাবেশে আসার সময় লাইট এবং ফ্যানের সুইচ গুলি বন্ধ করে আসি তাহলে দশ মিনিট সময়ে প্রতিদিন আমরা কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারি  হিসাবটা একটা অংকের মাধ্যমে তোমাদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছি। 

BANBEIS ( ব্যানবেইস) Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics- যার বাংলা প্রতিরূপ হল বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক সরকারি এবং বেসরকারি ( এমপিও- নন-এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সর্বমোট প্রায় 90,110 টি। ( এখানে মাদরাসা এবং কলেজ এর হিসাব টা আনা হয়নি কারণ মাদরাসা এবং কলেজগুলোতে নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশ হয় কি না আমি নিশ্চিত নই)

 এবার চলো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এর হিসাবটা একটু বুঝি।

প্রতিদিন বিদ্যুৎ এর চাহিদা 18,000 MW

এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন  15,000 MW

তাহলে প্রতিদিন এর বিদ্যুৎ ঘাটতি 3,000 MW.

 যদিও  প্রতিটি  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসংখ্য সিলিং ফ্যান এবং অসংখ্য এলইডি বাল্ব ব্যবহৃত হয়, একটা আনুমানিক গড় হিসাব দিয়ে আমি অঙ্কটা বুঝিয়ে দিচ্ছি। 

ধরে নিলাম প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 30 টি সিলিং ফ্যান -75W এবং 20 টি এলইডি বাল্ব- 40W হলে, প্রতি ১ ঘন্টায় লোড হচ্ছে (30×75)+(20×40)W =3050W=3.05 KW। 

অর্থাৎ প্রতি 10 মিনিটে লোড হচ্ছে (3.05×10÷60) KW

=0.508 KW

যদি আমরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ১০ মিনিট ফ্যান এবং লাইটের সুইচ বন্ধ রাখি, তাহলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদিনে ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে  0.508 KW। 

1 টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 

একদিনে  বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় 0.508 KW

90,110 টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ( 90,110×0.508) KW

=45775.88 KW

অর্থাৎ, 45.77 MW

তাহলে চলো শিক্ষার্থীরা, আমরা সকলে মিলে প্রতিদিন এ ভালো কাজটি করার মধ্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করি। 

অর্থাৎ,আমরা একটু  সচেতন হলেই প্রতিদিন  45.77 MW বা 45775.88 KW সাশ্রয় করতে পারি।

লেখক: মোঃ আব্দুজ জাহের 

বি এস এস (সম্মান) এম এস এস, অর্থনীতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি),

ভরাসার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়িচং, কুমিল্লা 

সাবেক আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, (ব্রাক উগান্ডা, ইস্ট আফ্রিকা) 

সাবেক সহকারী কর্মকর্তা ( আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কোম্পানীগঞ্জ শাখা, সিলেট)