চুরি
বোয়ালখালীতে আবারও বসত বাড়িতে ঘটল চুরি ঘটনা; খোয়া গেল নগদ অর্থ আর স্বর্ণালংকার
মাত্র একদিনের ব্যবধানে উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নে আবারও ঘটল চুরির ঘটনা। এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে সংগঠিত হল বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা। এতে করে একদিকে যেমন বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা, অন্যদিকে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে আকুবদণ্ডী গ্রামের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের আব্দুল জলিল চৌধুরী বাড়ির সাবেক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা সাইফুল চৌধুরীর বসত ঘরে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, গৃহকর্তা সাইফুল চৌধুরী তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে যান। চিকিৎসা শেষে গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় তাঁদের ছেলে সায়েম চৌধুরী বাবা-মাকে নগরীতে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরদিন সকালে বাড়িতে ফিরে তারা দেখতে পান, বাড়ির মূল দরজা বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতর থেকে লক করা রয়েছে। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ছেলে সায়েম চৌধুরী জানান, দুর্বৃত্তরা আলমারি ভেঙে নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখে যায় চোরের দল। ঘটনার খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, 'ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নোবিপ্রবির আবাসিক হলে দিন-দুপুরে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি আবাসিক কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে হলের ৩২০ নম্বর কক্ষে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সকালে কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হল প্রশাসন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুত চোরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তারা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজতাবা ফয়সাল নাঈম বলেন, “আজ সকাল ৭টা ৪০ থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে রুম থেকে আমার ল্যাপটপ ও রুমমেটের ফোন চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন ক্যামেরায় দেখা যায়, চোর সকাল ৭টা থেকেই হলের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখে এরপর তৃতীয় তলায় আমাদের রুমে ঢোকে। মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা একজন বহিরাগত ব্যক্তি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে হলে ঘুরে বেড়িয়েছে, অথচ কোনো নিরাপত্তা ছিল না। গেটে আনসার সদস্য ছিল না, সিসিটিভি ক্যামেরাও পর্যাপ্ত নয়।” তিনি আরও বলেন, “গত ৯টি সেমিস্টারের সব একাডেমিক ডকুমেন্ট, চলমান প্রজেক্ট ও গবেষণার বিভিন্ন ফাইল, ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, দুটি ম্যাগাজিনের সম্পাদিত লেখা, অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও রেকর্ড ছিল ল্যাপটপে, যার অনেক কিছুরই কোনো ব্যাকআপ নেই। ল্যাপটপ উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এগুলোর কোনোটিই ফিরে পাওয়া যাবে না। প্রশাসনের কী সীমাবদ্ধতা আছে, তা নিয়ে কথা বলছি না। ল্যাপটপের সঙ্গে এক মাস আগে কেনা একটি অফিসিয়াল ফোনও চুরি হয়েছে। তাই চাইলে ফোন ও ল্যাপটপ—দুটিই উদ্ধার করা সম্ভব। আশা করছি প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।” ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আনসার সদস্যরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না বললেই চলে। দিনের আলোতেই হল থেকে চুরির ঘটনা ঘটে, অথচ নিরাপত্তাকর্মীদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না।” এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, “চুরির ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করেছি। তদন্তের সুবিধার্থে তাদের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছি। প্রক্টর মহোদয় আশা করি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।” এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।