জলাবদ্ধতা
ঝিনাইদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধন
ঝিনাইদহ শহরের সায়াদাতিয়া সড়কসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জলাবদ্ধতা নিরসন, সরকারি খাল পুনরুদ্ধার, খাল খনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সায়াদাতিয়া সড়ক, সিদ্দিকিয়া সড়ক, বদরউদ্দিন সড়ক, গণি মাস্তান সড়ক, উপশহর এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরবাড়ি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর পৌরবাসী কোটি কোটি টাকা পৌরকর পরিশোধ করলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বর্ষা মৌসুমে ড্রেন পরিষ্কারের পর কাদা সড়কে ফেলে রাখায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় কবরস্থানসহ শহরের বিভিন্ন এলাকাও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয় বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা দ্রুত সরকারি খাল পুনরুদ্ধার, খাল খনন, বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌরসভা ঘেরাও করা হবে বলে ঘোষণা দেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার, সহ-সভাপতি আবদুল ছবুর হোসেন, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুদ্দিন মুন্না, প্রচার সম্পাদক আল মিরাজ, সহ-প্রচার সম্পাদক ইনজামুল হক, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক আসাদ মণ্ডল এবং সাংবাদিক সুরুজ বাঙালী। এছাড়াও সংগঠনের সদস্য সোহাগসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী নারীরা মানববন্ধনে অংশ নেন।
মান্দায় পানি বন্দি ২০০ পবিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রশাসন
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণে পানি বন্দি হয়ে পড়েন ২০০ পরিবার।উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ গ্রামের এ বান্দি হন ওই পরিবার গুলো। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। জলাবদ্ধতার মধ্যে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ ও উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানিতে আশ্রয়ণ পল্লিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও নারীরা। পল্লির বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’ আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি। স্থানীয় দু’একজন নেতা ছাড়া আর কেউ খোঁজখবর করতে আসেনি।’ এ অবস্থায় আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, ‘এটি বন্যা নয়; হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
পৌরসভার ৬ নাম্বর ওয়ার্ডে ৬০০ পানিবন্দি পরিবার'র মাঝে চাল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতারের উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাউল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুর হক মেম্বার, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ইব্রাহিম সওদাগর, মোঃ বশির আহমদ, মোঃ জহুর মিয়া, মোঃ সেলিম, মো. হারুন, মো. মামুন, জহির সওদাগর, মো. ওসমান, পৌরসভা ছাত্রদল নেতা বাপ্পি, মো. রহিমসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। তারা জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
ভারী বর্ষণে মহালছড়িতে দেয়াল চাপায় বৃদ্ধা আশঙ্কাজনক, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী"
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগে পড়েছে। এরই মধ্যে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুরুতর আহত এক বৃদ্ধাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা হালিমা বেগম (৬৫) নিজ ঘরে বৃষ্টির মধ্যে রান্নার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কাঁচা মাটির ঘরের একটি দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়ালের পাশে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আহত হালিমা বেগমকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সংকটময় মুহূর্তে খবর পেয়ে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে দ্রুত তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে আহত নারীর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা। এদিকে, টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টানা বর্ষণে পানিবন্দি বোয়ালখালীবাসির পাশে দাঁড়ালেন এমপি এরশাদ উল্লাহ
গত চারদিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া জেলার বোয়ালখালী উপজেলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিনি উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেন। ভারী বর্ষণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও সড়ক, আবার কোথাও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুর্গত এলাকায় যান এমপি এরশাদ উল্লাহ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এমপি এরশাদ উল্লাহ বলেন, টানা বর্ষণে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মস্থলে যেতে না পারায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুর্যোগের এই সময়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে একটি সেতুর অংশ ধসে পড়ায় সড়কের একপাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অপর পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানির প্রবল স্রোতে একটি সেতুর অংশ ধসে পড়ে। গত দুই দিনের টানা বর্ষণে রাউজান পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাবুয়া খালের ভাঙন রোধে সম্প্রতি জিও ব্যাগ ও ব্লক স্থাপন করা হলেও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে তা কার্যকর হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খালটি প্রশস্ত করার পর পানির প্রবাহ ও স্রোতের বেগ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার অধিকাংশ সড়ক প্রায় যানবাহনশূন্য ছিল। পানির তীব্র স্রোতের কারণে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলার আরও অনেক গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। পরিস্থিতির খবর পেয়ে রাউজান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে মদুনাঘাট সড়কের ভাঙনের বিষয়টি অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর উদ্যোগে বিভাগের প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করেন। রাউজান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফিরোজ আহমদ বলেন, “আমাদের অভিভাবক গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। ভাঙন কবলিত সড়ক ও সেতু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ চলছে।” উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে মানুষের পাশে থাকবেন। সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন তরুণ সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ হাসান বাহাদুর। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইউএনও'র উদ্যোগে দূর হল পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধতা; স্বস্তিতে দু'শতাধিক পরিবার
গত রবিবার থেকে অবিরাম ভারি বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। এই অতি বৃষ্টিতে পৌর এলাকার পশ্চিম গোমদন্ডী ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের প্রায় ২শত পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার খবর আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুকের কাছে। পানিবন্দি মানুষের খবর জানতে পেয়ে আজ (৮ জুলাই বুধবার) বিকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে যোগদেন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার উদ্যোগে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে এমন দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লূত হন তারা। ভুক্তভোগীরা জানান, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হাজিরপুল এলাকায় সড়কের কালভার্ট ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এসময় ভুক্তভোগীরা বাধা দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু তখন এর কোন সমাধান হয়নি। ফলে গত ক'দিনের টানা বৃষ্টির কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমের মত জলাবদ্ধ হয়ে ৮/১০ বাড়ির প্রায় ২শত পরিবার জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন। উপজেলা প্রশাসন এমন উদ্যোগে সাধুবাদ জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আশা করি কালভার্ট পুরোটা পরিস্কার করে দিলে মানুষ আরো বেশি এর সুফল পাবে। এতে এলাকাবাসী স্থায়ীভাবে পানিবন্দি হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি সে স্থানে যাই। দ্রুততার সঙ্গে মানুষের এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তিনি আরো বলেন, যারা খাল ও কালভার্ট ভরাট করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে অবিলম্বে তা নিজ উদ্যোগে অপসারণ না করলে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এ সময় পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।