জামায়াত
গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা
অন্তরঙ্গ ভিডিও কাণ্ডে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ হয়েছে। নৈতিক স্খলন ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে শাস্তির দাবিও করেছেন বিক্ষুব্ধরা। বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়। তবে এতে বক্তব্য দেন বিএনপির নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এর আগে পৌর সদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক পরিদ দক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, গত ১৩ জুলাই ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে। পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। মহান জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। মহান জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন ১৭ জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকালে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের আহ্বানও জানান তারা। সমাবেশে অ্যাডভোকেট আশেক এলাহি মুন্না বলেন, চাকরির প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণের সমান অপরাধ। গাজী নজরুলের এই ঘটনা জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে। সংসদের পবিত্রতা রক্ষা ও শিশু সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করে অবিলম্বে এমপি গাজী নজরুলকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কার করা উচিত। সেই সঙ্গে আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে। গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ১৭ জুন বিয়ের কথা বললেও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে কাবিন তৈরির ঘটনা তাঁর জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে। এছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে আমিরেৎ জামায়েত ডাক্তার শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
বৃহত্তর চট্টগ্রামকে 'দুর্গত এলাকা' ঘোষণা, জরুরি পুনর্বাসন, কৃষিঋণ মওকুফের দাবি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৃহত্তর চট্টগ্রামকে 'দুর্গত এলাকা' (Disaster Zone) ঘোষণা করে জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরুর জোর দাবি জানিয়েছেন। আজ সোমবার (২০ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এ সব দাবি জানান। তিনি বলেন, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস, বন্যা, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের লাখো মানুষ চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে, কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ঋণ সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। নজরুল ইসলাম সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণের আহ্বান জানান: ১. সাধারণ বরাদ্দের বাইরে বিশেষ তহবিল গঠন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নগদ অর্থ, জিআর চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ। ২. ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও পুনর্বাসন তহবিল বরাদ্দ দিতে হবে। পাহাড়ধস, নদীভাঙন ও বন্যায় বিধ্বস্ত কাঁচা ও মাটির ঘর পুনর্নির্মাণে জরুরি সহায়তা। ৩. ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসনের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্য দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র (কিল্লা) নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। ৪. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেওয়া কৃষিঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত ও প্রয়োজন সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করা। ৫. দুর্গত এলাকার মানুষের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ও অন্যান্য স্থানীয় কর মওকুফ অথবা পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে। ৬. কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পুনরায় চালুর জন্য বিনাসুদে বিশেষ প্রণোদনা ঋণের ব্যবস্থা করা। ৭. ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ ও কাজ শুরু করতে হবে। ৮. ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কারে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। ৯. দুর্গত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুলভ মূল্যে সরবরাহের জন্য ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের আওতা বৃদ্ধি করা। ১০. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর বাজার মনিটরিং ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। ১১. জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন তহবিল সংগ্রহ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ১২. জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতা দিতে হবে। এসব কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে সম্পৃক্ত করে দলীয় সংকীর্ণতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে। বিবৃতিতে নজরুল ইসলাম আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। তাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজেও দুর্গত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে বৃহত্তর চট্টগ্রামকে 'দুর্গত এলাকা' ঘোষণা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন। বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে সেই দাবিই আজ আরও বেশি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী হয়ে উঠেছে।
পলাশবাড়ীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ১৩
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে মীমাংসিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের দুই ভাগ্নে কাকন ও নিরন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিনকে মারধর করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, ৪ নম্বর বরিশাল ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মিল্লাত সরকার মিলন, পলাশবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহীন, সাধারণ সম্পাদক তাবিজ, জবা, ডাবলু, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা বাস্তবায়ন পরিষদের গাইবান্ধা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান মনা, জাকিরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষের পর রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁর পিতা আবুল আলা মওদুদ এবং জামায়াতের কর্মী মিজান আহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে আশরাফুল ইসলাম, মিল্লাত সরকার মিলন ও শামিম রেজা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে উভয় পক্ষের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত তৎপরতা চালাচ্ছে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারী আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের বিশাল সাইকেল র্যালী
বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশাল সাইকেল র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাতটায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালীতে শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র্যালীটি শহরের পোস্ট অফিস মোড়, নারকেলতলা মোড়, খুলনা রোড মোড়, সার্কিট হাউজ মোড় এবং বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সরকারি কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। র্যালী চলাকালে শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে নানা সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নুরুন্নবীর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি আল মামুন, অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক আফজাল হোসেন, মিডিয়া সম্পাদক মাসুদ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শিবিরের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও সমর্থকরা। র্যালী শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি মাওলানা রুহুল আমিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকের ভয়াবহতা বর্তমানে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষাক্ত থাবা বসিয়েছে। মাদকের করাল গ্রাসে পরিবারে অশান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তরুণদের মাঝে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান এবং ইসলামের শাশ্বত আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজকে আরও বেশি গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের মরণনেশা ও এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই আজকের এই সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। মাদকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থান সবসময় আপসহীন ও পরিষ্কার। আগামী দিনেও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ আজ
নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। সকালে রাজধানীর আবু সায়ীদ কনভেনশন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটটির যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারকে পাঁচ দফা মানার আহ্বান জামায়াতসহ আট দলের, না মানলে ঢাকায় ‘ভিন্ন চিত্রের’ হুঁশিয়ারি
আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানীতে আট দলের ঘোষিত সমাবেশের আগে পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “তার আগে দাবি না মানলে ওই দিন ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতে পারে।”