শ্রম
সাতক্ষীরায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, খুলনার বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কালেক্টরেট চত্বর হতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, খুলনার শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ এহসানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম টুটুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি. এম. মনিরুজ্জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক সিরাজ সরদার, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সহসভাপতি শেখ মিলন হোসেন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা হাফিজুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের যৌথ উদ্যোগে দেবহাটা উপজেলার ৫৯ জন শিশুকে শিশুশ্রম থেকে উদ্ধার করে স্কুলে পাঠানো হয়েছে, যে কারণে দেবহাটা উপজেলাকে মডেল শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করার উদ্যোগ চলছে। বক্তারা আরও বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, অভিভাবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করে শিশুদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬
“শিশু শ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| কারিতাস বাংলাদেশ, দিনাজপুর অঞ্চলের লাইট প্রকল্প এ কর্মসূচির আয়োজন করে| নবীগঞ্জহাইস্কুল, প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়| র্যালিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কারিতাস বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন| র্যালি শেষে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়| আলোচনা সভায় নবীনগন&জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ এস এম দবিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রহিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আতিয়ার রহমান, রঘুনাথপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ শাহিনুর আলম, নবীনগন&জ হাই স্কুলের সরকারি শিক্ষক মোঃ নূর ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম আজাদ| আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন “শিশু শ্রম একটি সামাজিক ব্যাধি| শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে| একটি শিশুও যেন অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে|” শিশু শ্রম শিশুদের সাভাবিক শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে| টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জন এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনের জন্য শিশু শ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা জরুরি| এ লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমšি^ত উদ্যোগ প্রয়োজন| এ সময় কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার বাবলু মুরমু বলেন, “প্রত্যেক শিশুরই নিরাপদ ˆশশব, মানসম্মত শিক্ষা ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে| শিশু শ্রম শুধু একটি শিশুর বর্তমানকেই নয়, তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে| তাই শিশু শ্রম প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সকল সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্প শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে|” অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্পের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন| অংশগ্রহণকারীরা শিশু শ্রমমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন| অনুষ্ঠানের শেষে শিশুদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়| শিশু শ্রম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন|