স্বামী স্ত্রী
চুয়াডাঙ্গায় শ্বশুর বাড়িতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কু/পি/য়ে জখম, স্বামী আটক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রাতুলকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত স্ত্রী মোছাম্মৎ রোজিনা খাতুন (১৮) বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জীবননগর উপজেলার বালিয়ারহুদা ইউনিয়নের ষষ্ঠীতলা গ্রামে। আহত রোজিনা খাতুন উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ষষ্ঠীতলা গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে গড়াইটুপি গ্রামের বাসিন্দা রাতুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী। নির্যাতনের কারণে প্রায় দুই মাস আগে রোজিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন। স্বজনরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রাতুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আপ্যায়ন করে রাতে বাড়িতেই থাকার ব্যবস্থা করেন। গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাতুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত রোজিনার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। রোজিনার চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাতুলকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত রোজিনাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রোজিনার মা রেশমা খাতুন বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। শনিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।” জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিব জানান, ভোর ৫টার দিকে আহত রোজিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর আঘাতের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এ বিষয়ে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক সোলয়মান শেখ বলেন, “অভিযুক্ত রাতুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে আহত রোজিনার সঙ্গে কথা বলেছে। এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহেশপুরে তালাকপ্রাপ্তা রিনা ফিরলেন স্বামীর সংসারে
মধ্যযুগীয় বর্বরতার অবসান ঘটিয়ে মহেশপুরে যমজ কন্যা জন্ম দেওয়ায় তালাকপ্রাপ্তা সেই রিনা ওসির হস্তক্ষেপে ফিরলেন স্বামীর সংসারে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া যেন হয়েছিল এক মহাপাপ! আর এই ‘অপরাধে’ ঝিনাইদহের মহেশপুরে দেড় মাসের দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানসহ রিনা খাতুন নামের এক ভাগ্যবিড়ম্বিত গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার মতো এক মধ্যযুগীয় ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল। তবে সব অন্ধকার ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সেই আলোচিত যমজ কন্যার মা সংসারের টানে আবার স্বামীর ঘরে ফিরেছেন। আজীবন একসাথে থাকার নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন এই দম্পতি। আর এই ভাঙতে যাওয়া সংসারকে জোড়া লাগাতে এবং নিষ্পাপ দুটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে অনন্য ও মানবিক ভূমিকা পালন করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কাজিরবের ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে রিনা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিনগুলো সুখের হলেও বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর। গর্ভধারণের ছয় মাস পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে যখন জানা যায় গর্ভের সন্তান দুটিই ‘কন্যা’, ঠিক তখন থেকেই রিনার ওপর নেমে আসে অন্ধকার। স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা কন্যাসন্তানের খবর মেনে নিতে না পেরে রিনার ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় রিনা, এবং সেখানেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও পাষণ্ড পিতা বা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেনি। উল্টো রিনাকে ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পাঠানো হয় এবং সন্তানদের বিক্রি করে কাবিনের টাকা শোধ করার মতো চরম ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু মিয়াসহ মাতব্বররা দুই দফায় সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করলেও রাকিবুল তা তোয়াক্কা করেনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিষয়টি মহেশপুর থানা পুলিশের নজরে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত রূপ নেয় ইতিবাচকতায়। নিষ্পাপ দুটি শিশু যেন পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং একটি পরিবার যেন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়, সেজন্য মহেশপুরে দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান অত্যন্ত বিচক্ষণ ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন। ওসির অত্যন্ত আন্তরিক ও আইনিCounseling-এর পর স্বামী রাকিবুল নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং কন্যাসন্তানদের প্রতি নিজের দায়িত্ব অনুধাবন করেন। শত ক্ষোভ ভুলে যমজ সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং ওসির আন্তরিক মধ্যস্থতায় রিনা খাতুনও তার স্বামীকে ক্ষমা করে দেন। মায়ের কোলে সন্তান, মুখে হাসি অবশেষে মহেশপুর থানার ওসির টেবিলেই দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটে। মায়ের কোলে ফিরে আসে তার কলিজার টুকরো দুই সন্তান, আর স্বামী ফিরে পান তার স্ত্রীকে। নতুন করে সংসার সাজানোর এবং আজীবন একসাথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে তারা থানা থেকে বিদায় নেন। একটি চরম অমানবিক ও বর্বর ঘটনার এমন সুন্দর, মানবিক ও স্বস্তিদায়ক সমাপ্তি ঘটায় ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।