বকশীগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামের আশায় কৃষক

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১ এএম

আবু তাহের, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং কৃষকদের পরিচর্যার ফলে এবার পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বাজারদর আরও কিছুটা বাড়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

 

উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ চলমান রয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি থাকলেও বাজারদর নিয়ে রয়েছে কিছুটা উদ্বেগ।

 

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, “এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তেমন ছিল না। তবে সার, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।”

 

বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, “পাট চাষে পরিশ্রম অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম আরও কিছুটা বাড়লে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে।”

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।”

 

বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা ন্যায্য লাভ পাবেন।

 

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।