বাংলাদেশ বার্তা টুডে
তুহিন হত্যার এক বছর: দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও মামলার রায় না হওয়ায় দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে হত্যায় জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি, একই সঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার দাবি করেন। বক্তারা আরও বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বরিশালে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোম এর শুভ উদ্বোধন
বরিশাল নগরীর রুপাতলীতে গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের বিপরীতে পার্শে উদ্বোধন করা হয়েছে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় ফিতা কাটা, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার(NSDA) অনুমোদিত একটি সাস্থ্যকোর্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । কোর্স গুলোহলো: নার্সিং কেয়ার, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার, কেয়ারগিভিং, English for Work, Entrepreneurship development. অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা সভাপতি ও বরিশাল বাণী’র সম্পাদক মোঃ মামুন-অর-রশিদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ কাওছার মোল্লা, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের ইনচার্জ ডা. সৈয়দ মাসুদ আলম, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অটিজম সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিধি অরিন এবং রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোমের নির্বাহী পরিচালক ইসরাত জাহান ইতি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্নধার ডা. আল আমীন (শাওন)। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নার্সিং কেয়ার বিষয়ে শর্ট কোর্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগী অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে নার্সিং কেয়ার কোর্স সম্পন্নকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষিত নার্সিং কেয়ার কর্মীদের মাধ্যমে রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানুষের সেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোমের উত্তরোত্তর উন্নতি, সাফল্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ: হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক ও নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং তৎসংলগ্ন রামগঙ্গা এলাকা এখন অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই বনাঞ্চলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এলেও কিছু অসচেতন পর্যটকের বেপরোয়া আচরণের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দর্শনার্থী, বনভোজনকারী (পিকনিক) ও আড্ডাবাজদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সমাগম বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লেট, গ্লাস ও উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ। নির্দিষ্ট স্থান বা ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণীর দর্শনার্থী বনের গাছপালা ও চা বাগানের ভেতরেই এসব পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে চলে যাচ্ছেন। পরিবেশবিদদের মতে, বনের ভেতরের এই প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিত্যক্ত খাবারের প্লেট বনের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। একইসাথে বন্যপ্রাণী এসব প্লাস্টিক বা খাবারের বর্জ্য মুখে দিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, যা চুনারুঘাটের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়াবহ বার্তা বহন করে। স্থানটি পরিদর্শনে আসা সচেতন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ এবং এই অনন্য সুন্দর বন রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে এসে উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলার এই মানসিকতা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।" পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার জন্য জরিমানা নির্ধারণ এবং কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সেই সাথে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট করা থেকে সবাই বিরত থাকুন এবং সাতছড়ি-রামগঙ্গার অমূল্য সৌন্দর্য রক্ষায় দায়বদ্ধতার পরিচয় দিন।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নলেয়া নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর মিলল যুবকের ম/র/দেহ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের তরফজাহান গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস আলী (৪৫)-এর মরদেহ নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শুক্রবার ৭ আগস্ট ইদিলপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মরাঘাটি এলাকায় নলেয়া নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট দুপুরে ইউনুস আলী জাল নিয়ে নলেয়া নদীতে মাছ ধরতে যান। এরপর বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার সকালে নলেয়া নদী থেকে ইউনুস আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা:৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত
ফরিদপুর শহরের টেপাখোলায় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এ এক কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি দায়িত্বে চরম অবহেলা, উদাসীনতা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়কসহ ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে পুরো প্রতিবেদনটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— সহকারী পরিচালক ও শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার, আয়া শামসুন্নাহার আক্তার এবং আয়া তানিয়া তাজরীন। তদন্ত কমিটির এক সদস্যের তথ্য অনুযায়ী, শিশু পরিবারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিবাসী কিশোরীদের একটি অংশ নিয়মিত অনুমতি ছাড়াই একা বা দলবদ্ধভাবে বাইরে যেত এবং গভীর রাতে ফিরে এলেও কর্তৃপক্ষ তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এ ছাড়া কিশোরীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাধিকবার অবহিত করার পরও তত্ত্বাবধায়ক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরী প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝতে বা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তদন্ত কমিটি সীমাহীন গাফিলতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরীটি অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। মায়ের মৃত্যুর পর সৎমায়ের সংসারে বেড়ে ওঠায় তার মধ্যে সহানুভূতি ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যা তাকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দরজি ব্যবসায়ীর বিকৃত মানসিকতাকেও ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই কিশোরীটির ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরদিন ৬ জুলাই তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে ৭ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন সহকারী কমিশনার জান্নাতুল সুলতানা। অন্য সদস্যরা ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন এবং চিকিৎসা কর্মকর্তা নূপুর পাল। তদন্ত শেষে কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে একজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ, নিবাসীদের মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানে আগত দর্শনার্থী ও অন্যান্য ব্যক্তির তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
১৩ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি ৫০০০ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জাতীয়করণের বাইরে থাকা (৫০০০) টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার জন শিক্ষক দীর্ঘদিন দরে বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করলেও এখনো তারা সরকারি স্বীকৃতি ও চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষকদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর তারা আশা করেছিলেন তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে (৫০০০) টি বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ বিষয়ে একটি চিঠি জারি হয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি কনসালটেশন কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে (৫০০০) বেসরকারি প্রাথমিক জাতীয়করণ করার জন্য ১১ টি জেলা ১১ টি উপজেলা যাচাই যাচাই করে পাই (৫০০০) বিদ্যালয় উপদেষ্টা, সচিব, উপসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাক্ষরিত করেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। গত ১৩ বছর ধরে তারা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য কেউ টিউশনি করেন, কেউ অটোরিকশা চালান, আবার কেউ রাতের বেলা নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারছেন না এবং অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসব বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু উপবৃত্তি ও সরকারি আর্থিক সহায়তা না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এ সময়ের মধ্যে অনেক শিক্ষক বিনা বেতনে মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে অবসরে গেছেন এবং অনেকেই বয়সসীমা অতিক্রম করায় অন্য কোনো চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না। শিক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার জন শিক্ষককে সরকারের মোট খরচ হতে পারে ৪০ কোটি টাকা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে। শিক্ষকরা আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন। তাই একই সময়ে জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৫০০০ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তারা। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, এই ৫০০০ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় এসব বিদ্যালয় বৈষম্যের শিকার হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার জন শিক্ষক ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব শিক্ষককে জাতীয়করণের মাধ্যমে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও মানসম্মত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তেঁতুলিয়ায় অভিযানে ৫০ হাজার টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস
তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় | ৬ আগস্ট ২০২৬ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলার ভজনপুর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা মৎস্য দপ্তর, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতা ছিল। অভিযান চলাকালে বাজার ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালগুলো জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো ভজনপুর ডিগ্রি কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, জেলে, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা বলেন, কারেন্ট জালের সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা, ডিম ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি, মজুত, পরিবহন ও ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। কর্মকর্তারা জেলে ও মৎস্যজীবীদের আইন মেনে বৈধ জাল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, বিক্রি বা মজুতের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
কোরআনের পাখি নুরুল মোস্তফা আরিয়ানের জন্য দোয়ার আবেদন
আলহামদুলিল্লাহ। উনছিপ্রাং মুহিউস সুন্নাহ পুরাতন মাদ্রাসার কৃতী শিক্ষার্থী নুরুল মোস্তফা আরিয়ান সফলভাবে পবিত্র কোরআন মাজিদের হিফজ সম্পন্ন করে একজন হাফেজে কোরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার আবহ বিরাজ করছে। শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী নুরুল মোস্তফা আরিয়ান আন্তরিক প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনায় অল্প বয়সেই পবিত্র কোরআন হিফজের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের নয়, মাদ্রাসা ও সমগ্র এলাকার জন্যও গর্বের বিষয়। মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, একজন হাফেজে কোরআন সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নুরুল মোস্তফা আরিয়ান ভবিষ্যতে কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন এবং দ্বীনের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এ উপলক্ষে তাঁর পরিবার সকলের কাছে আন্তরিক দোয়া কামনা করেছেন। তারা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন নুরুল মোস্তফা আরিয়ানকে কোরআনের আলোয় জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করেন, দ্বীনের সেবায় কবুল করেন, উত্তম চরিত্র, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোচ্চ সফলতা নসিব করেন। সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ—এই কোরআনের পাখি নুরুল মোস্তফা আরিয়ানের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কোরআনের খেদমতে আজীবন নিয়োজিত রাখুন এবং তাঁর জীবনকে নূরে ভরপুর করে দিন। আমিন।
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও অবরুদ্ধ
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেনকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। চূড়ান্ত ফলাফলে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এ সময় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা প্রকাশিত ফলাফল অবিলম্বে বাতিল, পুনরায় নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই এবং নতুন করে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান। বিক্ষোভকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিয়োগপ্রত্যাশীরা ইউএনওর কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁরা ইউএনওকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন। একই সঙ্গে নিয়োগে কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। এ বিষয়ে জানতে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনা প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত হায়াত প্রধান (বাবু) বলেন, “সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের নিয়োগে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত ফলাফল বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও জানান, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধানের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিষয়টি সুরাহার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমপি মহোদয় ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। যেভাবেই হোক এই প্রহসনের ফলাফল বাতিল করে নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য ও মেধার ভিত্তিতে প্রর্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
রুমায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ
বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রুমা উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সহায়তা সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি অক্সিজেন সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতন্য রাজবংশী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সংগঠক মাহফুজুর রহমান সৈকত, সাংবাদিক রমজান আলীসহ রুমা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে জেলা প্রশাসনের এই ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক সহায়তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্র কি শুধু ইতিহাস নিয়েই বাঁচবে, নাকি ভবিষ্যৎও নির্মাণ করবে?
একটি জাতি শুধু ইতিহাসকে বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে না; তাকে ভবিষ্যৎও নির্মাণ করতে হয়। ইতিহাস আমাদের পরিচয় দেয়, আত্মপরিচয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে শেখায়। কিন্তু কোনো জাতি যদি প্রতিদিন শুধু অতীত নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তবে একসময় সে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। ইতিহাস সম্মানের, কিন্তু উন্নয়ন নির্মিত হয় বর্তমানের সঠিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর। চীনের শেনজেন আজ বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি নগরী। অথচ মাত্র চার দশক আগে এটি ছিল একটি ছোট জেলেপাড়া। দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে আজ প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শিল্পে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। সিঙ্গাপুরের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল না; কিন্তু সুশাসন, দক্ষ নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে—উন্নয়নের জন্য সম্পদের চেয়ে সঠিক নীতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশগুলো ইতিহাস ভুলে যায়নি। কিন্তু তারা ইতিহাসকে ভবিষ্যতের পথে বাধা হতে দেয়নি। তারা অতীতকে স্মরণ করেছে, আর ভবিষ্যৎকে নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশও একদিন এমন স্বপ্ন দেখেছিল। আজও সেই স্বপ্ন বেঁচে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমাদের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কী? আমরা কি বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, নাকি এখনো রাজনৈতিক বিভাজন, স্লোগান, মিছিল এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছি? রাষ্ট্রের শক্তি তার বক্তৃতায় নয়; তার প্রতিষ্ঠানে। একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতি বোঝা যায় আদালতের স্বাধীনতায়, প্রশাসনের জবাবদিহিতে, নাগরিক সেবার মানে, শিক্ষার গুণগত উন্নতিতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। যদি জুলাইয়ের ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়ে থাকেন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন—যেমন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—তাহলে নাগরিক হিসেবে একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক: এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে কী অগ্রগতি হয়েছে? দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া কোথায় দাঁড়িয়ে? এমন বড় ঘটনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার। একইভাবে, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে গবেষণাভিত্তিক কাজেরও গুরুত্ব রয়েছে। একটি ডকুমেন্টারি শুধু কিছু ভিডিওচিত্রের সমষ্টি নয়। এর জন্য প্রয়োজন তথ্য যাচাই, নথিপত্র, বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতা এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ। ইতিহাসের দলিল তৈরির দায়িত্ব হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাকে দীর্ঘদিন ভাবায়—দেশে এত মিটিং-মিছিলের প্রকৃত অর্জন কী? গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও দেখতে হবে, সেই কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবন, কর্মঘণ্টা ও অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে। যদি একটি কর্মসূচির ফলে মানুষের দুর্ভোগই বেশি বাড়ে, তবে তার কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত। গণতন্ত্রে প্রশ্ন করা যেমন অধিকার, তেমনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও দায়িত্ব। ব্যক্তিগতভাবে আমি বরাবরই দলীয় ছাত্র রাজনীতির সমালোচক। এটি একটি নীতিগত অবস্থান, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে। শিক্ষার্থীদের সময়, মেধা ও শক্তি ব্যয় হওয়া উচিত গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, সাহিত্য এবং দক্ষতা অর্জনে। রাজনৈতিক সচেতনতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ যেন এমন হয়, যেখানে মতের ভিন্নতা সহিংসতার নয়, যুক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। রাষ্ট্রকে বুঝতে চাইলে সংসদের দিকে তাকানোর পাশাপাশি রাস্তায়ও তাকাতে হয়। সেই রাস্তায় দেখা যায়—একজন রিকশাচালক সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করছেন। তিনি হয়তো দেশের জিডিপি, বৈদেশিক ঋণ বা ব্যাংকিং খাতের জটিল পরিসংখ্যান জানেন না। কিন্তু তিনি জানেন, আজ কাজ না করলে আজ তাঁর পরিবারের খাবার জুটবে না। উন্নয়নের সব পরিকল্পনার কেন্দ্রে এই মানুষটির জীবনমান থাকা উচিত। আমিও একজন সাধারণ নাগরিক। আমার অভিজ্ঞতাও খুব আলাদা নয়। গত দুই মাস ধরে আমার বাসায় গ্যাসের সংযোগ নেই। তবুও নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের চুলায় রান্না করায় বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে গেছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত অসুবিধা নয়; এটি একটি বড় প্রশ্নের প্রতীক—নাগরিক সেবার মান কতটা কার্যকর? একটি আধুনিক রাষ্ট্রের সফলতা কেবল বড় প্রকল্পে নয়; বরং একজন সাধারণ নাগরিক সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, সেটিতেও। নেতৃত্বের বিষয়েও কিছু কথা বলা জরুরি। নেতৃত্ব কেবল একটি পদ নয়; এটি একটি দায়িত্ব। ইতিহাসে যেসব নেতা মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারা সংকটের সময় মানুষের পাশে থেকেছেন। আবার ইতিহাস এটাও দেখিয়েছে, কোনো নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থা, সময় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করে। তাই ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ। একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা খুব বড় নয়। আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে একজন কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন, একজন শ্রমিক সম্মানজনক মজুরি পাবেন, একজন শিক্ষার্থী নিরাপদ ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশে পড়াশোনা করবেন, একজন উদ্যোক্তা হয়রানির শিকার হবেন না, একজন রোগী ন্যায্য চিকিৎসা পাবেন এবং একজন সাধারণ নাগরিক সেবা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়বেন না। পরিবর্তন শুধু সরকার পরিবর্তনের নাম নয়। পরিবর্তন মানে নাগরিকের জীবন সহজ হওয়া। পরিবর্তন মানে দুর্নীতি কমা, সেবার মান বাড়া, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা। শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কেমন বাংলাদেশ গড়তে চাই? একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিদিন অতীতের দ্বন্দ্বই আলোচনার বিষয় হবে, নাকি এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে আগামী প্রজন্ম বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা, শিল্প, সাহিত্য ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে? আমার বিশ্বাস, এই দেশের মানুষ বিলাসিতা চায় না। তারা চায় ন্যায্য সেবা, আইনের সমান প্রয়োগ, সুশাসন, জবাবদিহি, কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার স্লোগানে নয়, তার প্রতিষ্ঠানে। একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি তার অতীতের গৌরবে নয়, তার ভবিষ্যৎ নির্মাণের সক্ষমতায়। ইতিহাস আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে, কিন্তু আগামী প্রজন্ম আমাদের বিচার করবে—আমরা তাদের জন্য কেমন রাষ্ট্র রেখে গেলাম। মোঃ মনির হোসেন গ্রন্থাগারিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক
আটোয়ারীতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে সন্ধ্যায় চুরি, ৫ ভরি স্বর্ণ ও ৬ লাখ টাকা লুট
আটোয়ারী | ৬ আগস্ট ২০২৬ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বড়দাপ গ্রামের ঘোষপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৬ লাখেরও বেশি টাকা লুট হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির মালিক মানিক মদক ওই সময় ফকিরগঞ্জ বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এদিকে তার স্ত্রী বাড়িতে তালা লাগিয়ে ছেলেকে আনতে পুরাতন বাড়িতে যান। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের আলমারি ও ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে সেখানে রাখা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। রাতে বাড়িতে ফিরে দরজা-তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ৬ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এ ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আটোয়ারী থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
শ্রীপুরে নিজস্ব অর্থায়নে সড়ক সংস্কার,প্রশংসায় ভাসছেন মেম্বার মনিরুজ্জামান মানিক
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের একটি জরাজীর্ণ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মানিক। (৬ আগস্ট)বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালীয়া বাজারের প্রায় ৪০০ ফুট উত্তরে মুরগি বাজার অভিমুখী এবং দক্ষিণে প্রায় ৩০০ ফুট শিশু পল্লী রোডের সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী,পোশাক কারখানার শ্রমিক,রিকশা-ভ্যানচালকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাত।স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মানিক নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৭০০ ফুট সড়কে ইট ও বালুর সংমিশ্রণে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন।এতে সড়কটি বর্তমানে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পোশাক কারখানার শ্রমিক আসমা আক্তার বলেন অল্প একটু রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল থাকায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।মেম্বার মনিরুজ্জামান মানিক নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন।এজন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। আরেক শ্রমিক সেলিম মিয়া বলেন,আগে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানির কারণে চলাচল করা কঠিন হয়ে যেত,এখন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যাচ্ছে।এজন্য মানিক ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। সাইটালীয়া বাজারের ব্যবসায়ী হারুন মিয়া,ইসমাইল ও ড্রাইভার শহীদ বলেন,বাজারের এই অংশে সারাবছরই কাদা-পানি জমে থাকত।এতে ক্রেতাদের যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।সড়কটি সংস্কার হওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ সরকার বলেন,অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদা জমে থাকত। বাজারে আসা-যাওয়ার সময় কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যেত।এখন রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় সহজে চলাচল করা যাচ্ছে।এ উদ্যোগের জন্য ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মানিক প্রশংসার দাবিদার। ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, এলাকাবাসীর কষ্ট দেখে নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছি।ভবিষ্যতেও ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কাজ করে যেতে চাই।এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।স্থানীয়দের ভাষ্য,দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মানিকের এই উদ্যোগ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনসেবার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বোয়ালখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে সিএনজির ধাক্কা : নারীসহ আহত ৫
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে দাঁড়িয়ে থাকা লবণবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার রায়খালী পুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতরা হলেন—পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর এলাকার মো. আজিজুল হকের ছেলে মো. সায়েম (২৫), পশ্চিম শাকপুরা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাদল দাশের স্ত্রী রত্না দাশ (৪২), মানিক দাশের স্ত্রী রুনা দাশ (৩০), অজিত দাশের মেয়ে পম্পি দাশ (১৫) এবং কৃষ্ণ দাশের মেয়ে বৃষ্টি দাশ (১৮)। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মো. সায়েম, রত্না দাশ ও রুনা দাশকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পম্পি দাশ ও বৃষ্টি দাশকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টার দিকে বোয়ালখালী রায়খালী এলাকায় আরাকান সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লবণবাহী ট্রাকটিকে সিএনজি অটোরিকশাটি ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে ১০ এলাকা প্লাবিত, চলাচলে দুর্ভোগ
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যায় দহগ্রাম ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে এই আকস্মিক বন্যার দেখা দেয়। বন্যায় ইউনিয়নের অনন্ত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি আবারও কমতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যা থেকে দুই থেকে তিন ফুট পানি বাড়ে। তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি মহকুমার ধাপড়া, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি এলাকা হয়ে বাংলাদেশের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশ জুড়ে প্রবাহিত। তিস্তার পানিতে এই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এসব এলাকার প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের খেত বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাওয়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় দহগ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকার সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই দিকের সংযোগ-সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় এলাকা থেকে আঙ্গরপোতা ও পাটগ্রাম যাওয়ার আঞ্চলিক পাকা সড়কটির প্রায় ২০ ফুট এলাকা ভেঙে প্রায় ১০ ফুট গর্ত হয়েছে। এতে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়া এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দহগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সকালে এসে দেখি সড়ক ভেঙে গেছে। এ রাস্তা ঠিক না করলে চলাচল করা সম্ভব না। ভাঙা সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয় আছে। অনেক পরিবার সমস্যায় পড়েছে।’ লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের (ফ্লাশ ফ্লাড) স্রোতে দহগ্রামের এই সড়ক ভেঙে যায়। আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি, কাজ করছি। আজ-কালের মধ্যে সড়কটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।’ পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ‘বন্যায় সড়ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা শুনে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা মেরামত করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’