বাংলাদেশ বার্তা টুডে
জলমগ্ন মহালছড়িতে স্বস্তির ছোঁয়া: বন্যার্তদের পাশে এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার প্রতিনিধি
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। কাজুকো ভূঁইয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সহযোগিতায় এবং মাল্টি সার্ভ ইন্টারন্যাশনাল (এমএসআই)-এর ব্যবস্থাপনায় রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দিনের শুরুতে খাগড়াছড়ির গোলাবাড়ি এলাকায় উপস্থিত থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন ২৯৮ নং আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। একই সময়ে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মহালছড়ি উপজেলায় উপস্থিত থেকে ১০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আব্দুল ছাত্তার, যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ শরিফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ নুরুল ইসলাম, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল,শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্ট লাঘবে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ায় উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি এবং খাগড়ছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভাই এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশ্বনাথে ‘প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’র পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরণ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভূরকী, ইশবপুর, হামজাপুর, মিরপুর ও একানিধা গ্রামের রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের সামাজিক সংগঠন ‘প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’র পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরন করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) বাদ জোহর স্হানীয় ভূরকী হাবিবিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা হলরুমে লামাকাজী ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ১১০ টি প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মাঝে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভূরকী হাবিবিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার বড় হুজুর আলহাজ্জ হাফিজ আব্দুশ শহীদ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্জ মাওলানা শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মো. নোমান। প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. দিলোয়ার হুসাইনের সভাপতিত্বে সংগঠনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত
আল্লাহর পরিচয় ও কর্তৃত্ব: কুরআনের আলোকে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ব্যাখ্যা
আল্লাহর পরিচয় ও কর্তৃত্ব: কুরআনের আলোকে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ব্যাখ্যা নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহ কে? এই প্রশ্ন মানবজাতির চিরন্তন অনুসন্ধান। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের আলোকে তুলে ধরেছেন মহান আল্লাহর পরিচয়, কর্তৃত্ব ও মানুষের প্রতি তার নির্দেশনার প্রকৃত রূপ। কুরআনের সূরা ইউনুসের তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বিশ্বজগতের শাসনকর্তা হিসেবে সমাসীন আছেন। তিনি বলেন, সৃষ্টির পর আল্লাহ কোনোভাবেই নিস্ক্রিয় নন বরং তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রতিটি ঘটনার গতিপথ। মানবজাতি অনেক সময় ভুলভাবে মনে করে, এই বিশাল জগত যেন এমনি করেই চলছে, কেউ যেন নিয়ন্ত্রণ করছে না। অথচ কুরআন স্পষ্টভাবে বলছে, প্রতিটি ঘটনাই আল্লাহর হুকুম ও অনুমতিক্রমে সংঘটিত হয়। শুধু সৃষ্টি করাই নয়, আল্লাহ এই বিশ্বজগতের প্রতিপালক, শাসক ও পরিচালক। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তেমনভাবেই এই জগত চালান এবং এই শাসন ব্যবস্থার একজনই মালিক। আল্লাহর এই রুবুবিয়াত বা সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা মানেই তারই ইবাদত করা আবশ্যক। ইবাদতের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো দাসত্ব, আনুগত্য এবং প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধা। আরও ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসাই মুমিনের শক্তি ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসাই মুমিনের শক্তি এই ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চলাই তার প্রকৃত রূপ। একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর নির্দেশই চূড়ান্ত এবং তার বাইরে অন্য কোনো কর্তৃত্ব স্বীকৃত নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মানুষ নিজেকে আল্লাহর দাস হিসেবে গড়ে তোলে। আল্লাহর এই পরিচয় জানার পর মানুষের উচিত একমাত্র তাঁর কাছেই মাথা নত করা, তারই আইন ও বিধান অনুযায়ী জীবন গঠন করা এবং অন্য কোনো শাসক বা প্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ না করা। ইবাদতের এই তিনটি স্তরই আল্লাহর একক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি বহন করে। কুরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর আলো। এই আলোর ব্যাখ্যায় তিনি এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছেন যা নিঃসন্দেহে মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রভূত্ব ও করুণা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করে। এটি এমন এক আলো, যা সবদিক থেকে পরিপূর্ণ ও শুদ্ধ, যা আল্লাহ যাকে চান তারই অন্তরে প্রবেশ করান। সবশেষে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী দোয়া করেন, মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তার হুকুম মেনে চলার তাওফিক দান করেন এবং তারই নির্দেশনায় জীবন পরিচালনার শক্তি দান করেন। আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
জকিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর প্রস্তুতি: ধর্মীয় নেতৃত্ব, সামাজিক আস্থা ও রাজনীতিতে নতুন মাত্রা
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, আধ্যাত্মিক সমাজসেবক এবং সালিশি ব্যক্তিত্ব সর্বজন শ্রদ্ধেয় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জকিগঞ্জের রাজনীতিতে তিনি নিজেকে একজন সামাজিক ঐক্য ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, সামাজিক উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি ভূমিকা পালন করে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। একজন লেখক ও কলামিস্ট হিসেবেও তিনি সমাজ, নৈতিকতা, শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে আসছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর দীর্ঘ সামাজিক ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিলেটস্থ দুধরচক ঐক্য সংগঠন স্বত্বাধিকারী, ড্রিম ড্রেস সিদ্দিক প্লাজা, (দ্বিতীয় তলা) মেজরটিলা, ইসলামপুর, সিলেট। ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সিলেট বিভাগ। ভাইস প্রেসিডেন্ট, কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটার্স ওয়ার্ল্ড, সিলেট বিভাগ। স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা, ঢাকা। স্পেশাল রিপোর্টার, দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ, সিলেট। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ, ২৪নং ওয়ার্ড, সিলেট মহানগর। সাবেক ইমাম ও খতীব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব, তৈয়ব কামাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ- সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক, তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট। সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট। উপদেষ্টা, হাবিবিয়া ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশান, জকিগঞ্জ, সিলেট। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা উপজেলা নির্বাচনের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে- জকিগঞ্জে এবার কি ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হতে যাচ্ছে? স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তাহলে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামাজিক নেতৃত্ব বনাম প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে।
সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাই গড়বে মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা একটি মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, “শিশু-কিশোররা যদি পড়ালেখার পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তবে তারা মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। এর মাধ্যমেই তারা দেশপ্রেমিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।” রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার আরও শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও আবৃত্তিকার তৈরি হবেন, যারা দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন। জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল জানান, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা আসাদুল হাবিব দুলুর এই পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে এক নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল আমিন সরকার, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন এবং জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত পটভূমি: ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ লালমনিরহাটের বড়বাড়ী অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে ছাগল শিকার করল বিশাল কুমির
সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে ছাগল শিকার করল বিশাল কুমির
গঙ্গাচড়ায় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে প্রতীকী গায়েবানা জানাজার ঘোষণা, আপাতত স্থগিত
পূর্বঘোষিত প্রতীকী গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি স্থগিত রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। রোববার দুপুরে উপজেলার জিরো পয়েন্টে ‘গঙ্গাচড়া উপজেলার সচেতন ছাত্রজনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গঙ্গাচড়া উপজেলা সংগঠক মোহাইমিনুল ইসলাম আহাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদল নেতা মমিনুল ইসলাম বাবু, বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা, জাতীয় ছাত্রশক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আরমান, ছাত্র প্রতিনিধি মিসবাহ-উল ইসলাম ফাহিম, মুহাইমিনুল ইসলাম আহাদ ও ছাত্রনেতা শাহজালাল শ্রাবণ। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি রাতের ঘুমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, বিদ্যুৎ এখন মানুষের মৌলিক চাহিদার অংশ হলেও গঙ্গাচড়ার মানুষ নিয়মিত এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সমাবেশে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পূর্বঘোষিত প্রতীকী গায়েবানা জানাজাসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কারণে আপাতত গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি স্থগিত রেখে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিস্তার ভাঙনে বিপর্যস্ত নোহালী, তিন দাবিতে স্মারকলিপি
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নদীভাঙন রোধ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং মুমূর্ষ রোগীদের পারাপারের জন্য একটি স্পিডবোটের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে তারা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও একই দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যায় ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে গঙ্গাচড়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। পাশাপাশি হাটবাজারে যাতায়াত এবং রোগী পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাচারিপাড়া, ব্রিফ বাজার, চর বাগডোহারাসহ মিনারবাজার থেকে চরনোহালী হয়ে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বেড়িবাঁধের দুই পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে পাউবোর ফেলা জিওব্যাগ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেও দাবি করা হয়। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং মুমূর্ষ রোগীদের জন্য একটি স্পিডবোট বরাদ্দের দাবি জানান এলাকাবাসী। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, স্মারকলিপির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে একটি স্পিডবোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রসূতি, গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং পরীক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত মূল ভূখণ্ডে আনা-নেওয়া করা যায়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বারহাট্টা উপজেলা ছাত্রদলের বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত
নেত্রকোনা বারহাট্টা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদল কর্তৃক বারহাট্টা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের জোবায়েদ হোসেনকে সভাপতি ও শাকিব তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদনের পর আনন্দ মিছিল ও বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বারহাট্টা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্কাছ আলী, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মানিক আজাদ, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম, মনিরুজ্জামান লালু,আলতাবুর রহমান হানিফ, যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন তালুকদার, বারহাট্টা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামাল আজাদ বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মনু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল খায়ের তালুকদার,, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল কাদির খান, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক জিয়াউল হক জিয়া, ছাত্রদলের আহবায়ক তরিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাজরুল ইসলাম, বারহাট্টা সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান মুন্নাসহ আরো অনেকে। আনন্দ মিছিল শেষে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জেলা ছাত্রদল কর্তৃক ঘোষিত কমিটির মাধ্যমে বারহাট্টা সরকারি কলেজ ছাত্রদল আরও সুসংগঠিত হবে এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান হবে। এসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বোয়ালখালীতে আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বহদ্দারপাড়া এলাকার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়কের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শওকত আলম। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন কাজের সূচনা করেন বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি আবু আকতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হীদুল্লাহ চৌধুরী, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপি নেতা ও কাস্তুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক মো. লোকমান, বিএনপি নেতা বশির আহমদ, মো. সেলিম, যুবদল নেতা একরামুল হক জিকু, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী। বক্তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. শওকত আলম, বোয়ালখালী পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতিমা এবং হাজি আবু আকতারের আন্তরিক সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, সড়কটির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে অনিয়ম দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ক্ষোভ
গাইবান্ধা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি, ওষুধ সংকট ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের নাজুক অবস্থা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসাথে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এবং গাইবান্ধায় ১০১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। আজ দুপুর কোনো প্রটোকল ছাড়াই তিনি হাসপাতালটিতে যান। এ সময় তিনি জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ওষুধ ভাণ্ডার ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসা সেবায় দুর্ভোগের কথা শোনেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিভিন্ন রোগী শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। রোগীদের অভিযোগ শোনার পর মন্ত্রী বলেন, "জনগণের সেবার জন্য এই হাসপাতাল। এখানে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।" পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, গাইবান্ধার চিকিৎসা সেবা আরও সহজ করতে সরকার উপজেলা পর্যায়ে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে সদর হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।" এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন মাননীয় এমপি আব্দুল করিম, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান সহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন ও কঠোর নির্দেশে রোগী ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
শিশুর সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই: মহালছড়িতে সপ্তাহব্যাপী সচেতনতার সূচনা
"মায়ের দুধই শিশুর সর্বোত্তম পুষ্টি"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (০২ আগস্ট) সকাল ১১টায় মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিটি কর্নারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। সভায় মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ধনিষ্ঠা চাকমা, এসআই মোঃ আব্দুল আওয়াল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এডিন চাকমা এবং মহালছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছানোয়ার হোসেন। বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুর দুই বছর বয়স বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। এই কর্মসূচি ১ আগষ্ট থেকে ৭ আগষ্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে
রাঙ্গুনিয়ায় ইমাম আ'লা হযরত ১০৮তম ওরশ ও পুরষ্কার বিতরনী সভা অনুষ্ঠিত
ইমাম আ' লা হযরত আহমদ রেজা খান বেরলভীর ১০৮তম ওরশ ও পুরস্কার বিতরনী সভা ইমাম আ'লা হযরত রিসার্চ ফোরাম রাঙ্গুনিয়ার ব্যবস্থাপনায় অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতী মুজিবুর রহমান নেজামীর সভাপতিত্বে ০১ আগস্ট (শনিবার) বিকাল ৫টায় চন্দ্রঘোনা খানকায়ে কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার সিনিয়র আরবী প্রভাষক আল্লামা হাফেজ আনিসুজ্জামান আল কাদেরী, উদ্ধোধক ছিলেন আ'লা হযরত রিসার্চ ফোরাম রাঙ্গুনিয়ার আহবায়ক মাওলানা সালাহ উদ্দিন নেজামী। শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলোয়াত করেন হাফেজ আরিফুল ইসলাম, নাত পরিবেশন করেন মাওলানা হাফেজ জামাল উদ্দিন, এতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা হাফেজ সুলতান মাহমুদ, আশরাফ উদ্দিন সরোয়ার, মাওলানা শওকত হোসেন রেজভী, মাওলানা আশরাফুজ্জামান আল কাদেরী, সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন আল্লামা হাফেজ আনিসুজ্জামান আল কাদেরী, প্রফেসর মো জসিম উদ্দিন, মো শামসুল আলম কন্ট্রাক্টর, মাওলানা ইলিয়াছ আহমদ নঈমী, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, জামাল উদ্দিন, লোকমান হোসেন, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নেজামী। কালামে রেজা পাঠ করেন মাওলানা শায়ের হারুনুর রশিদ আল কাদেরী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারন সম্পাদক নূরুল আবছার চৌধুরী, মাওলানা আবদুস সাত্তার আল কাদেরী, ব্যাংকার মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা ইদ্রিস নইমী, মাওলানা ক্বারী সাইফুল ইসলাম কাদেরী, মাওলানা হাফেজ মামুনুর রশিদ, মাওলানা মো: হারুনুর রশিদ, মাওলানা লোকমান হোসাইন, মাওলানা হাফেজ জামাল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম মুন্না, মোজাম্মেল হক রেজা কাদেরী, হাজী সোলায়মান সওদাগর, শফিকুল ইসলাম হিরু, সাইফুল ইসলাম সাকিবী প্রমুখ।
বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদ'র ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন: নেতৃত্বে স্বপন- মুক্তি- বিপ্লব
ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা সদরের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার সাবেক সভাপতি স্বপন শীল। শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী (মুক্তি'র) সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার সদস্য সচিব সরোজ চৌধুরী, ঐক্য পরিষদ কধুরখীল শাখার সভাপতি পার্থ সারথী চৌধুরী, প্রসুন কুমার লালা, বিষ্ণুপদ শীল, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা বিপ্লব দাশ বাবু, ঐক্য পরিষদ বোয়ালখালী পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক বিষু ঘোষ, বাগীশিক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রানু মজুমদার, যুব ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার প্রচার সম্পাদক বিকাশ নাথ, বাগীশিক বোয়ালখালী উপজেলার হিসাব ও নিরীক্ষক বিষয়ক সম্পাদক সুজন দত্ত, সত্যজিৎ সরকার পিন্টু, সাংবাদিক ও সংগঠক বিপ্লব জলদাশ, লিটন চৌধুরী, রাজীব মল্লিক, প্রভাত শীল, সজল নাথ, সাধন শীল, সুব্রত চক্রবর্তী, নিলয় চৌধুরী, দুলাল নাথ, জয় দাশ, পিন্টু মল্লিক, জিকু শীল, পুলক নাথ, রুপন দেবনাথ, বাবুল শীল ও টিটু নন্দী। বক্তারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পার্থ সারথী চৌধুরী। রানু মজুমদার'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার সাবেক সভাপতি স্বপন শীল। দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে স্বপন শীলকে সভাপতি, শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী (মুক্তি)কে সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা বিপ্লব দাশ বাবুকে অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বোয়ালখালী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২৬ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ সাতক্ষীরার আয়োজনে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে ও ফেস্টুন উড়িয়ে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম, সামাজিক বন বিভাগ যশোর এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল, জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল খায়ের, সামাজিক বনায়ন জোন সাতক্ষীরার সহকারী বোন সংরক্ষক প্রিয়াঙ্কা হালদার, একুশে টিভি সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সামাজিক বনায়ন জোন সাতক্ষীরা প্রাপ্ত কর্মকর্তা জিএম মারুফ বিল্লাহ, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ আবুল হোসেন প্রমূখ। মেলার উদ্বোধন পূর্বে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন হতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে দশ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন অতিথিবৃন্দ।এ সময় জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।