বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্ত ও সোলার প্যানেল বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রমের আওতায় আজ সোমবার (০৩ আগষ্ট) ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের অধিনস্ত ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের দুর্গম বাকলাইপাড়া ও প্রাতাপারা এলাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য পুকুর প্রস্তুতকরণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রুই, সরপুটি, তেলাপিয়া ও নাইলোটিকা প্রজাতির মাছ। পাশাপাশি মাছ চাষের সফলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মাছের খাদ্য (ফিড) ও প্রয়োজনীয় সরন্জামাদি বিতরণ করা হয়। এছাড়াও একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাইনোয়ামপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি প্রদানের মাধ্যমে সোরবিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় পারাবাসীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি শিক্ষা, যোগাযোগ ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, বাকলাইপারা সাবজোন কমান্ডার, স্হানীয় পাড়াসমূহের কারবারি, ধর্মজাযক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাকলাইপারা সাবজোন কমান্ডার বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, দুর্গম এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আজকের এই উদ্দ্যোগ স্থানীয় জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে। স্থানীয় পাড়াবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে।
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৪ মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর বাজারে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চার মাংস ব্যবসায়ীকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওনা নাহিদ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বাজারের বিভিন্ন মাংসের দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং নিম্নমানের ও মাননিয়ন্ত্রণবিহীন মাংস বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত একজন ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা এবং অপর তিন ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। অভিযান চলাকালে অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রসিকিউশন উপস্থাপন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জিন্নু রাইন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওনা নাহিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালীগঞ্জ-ঢাকা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিঃ (কে,টি,এল) বাস সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন। সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার দেওপাড়া ফেরীঘাটের কে টি এল কাউন্টার সংলগ্ন কেটিএল সার্ভিসের চেয়ারম্যন সাদ্দাম মোড়লের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল ইসলাম। উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ লুৎফুর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদি মোরসালিন, উপজেলা সমাজ সেবা আফরোজা বেগম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, ফরিদ আহমেদ মৃধা, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, পৌর বিএনপির আহবায়ক সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিআরটিসি বাস কর্তৃপক্ষ জানান, দেওপাড়া ফেরীঘাট হতে ৩০টি বাস প্রতিদিন গুলিস্থান পর্যন্ত চলাচল করবে। কে টি এল বাস সার্ভিসের ভাড়া ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এলাকাবাসীরা জানান, অনেক দিন পর কালীগঞ্জ বাসীর জন্য আরো একটি ভালো কাজ হলো এবং বর্তমান সাংসদ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর ঢাকার সাথে কালীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়েছে। পূর্বে কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের বাস চলাচল করলেও বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর আজ দুপুরে কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটে পূর্বের ঐতিহ্য নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেন।
শরনখোলায় কোস্ট গার্ডের আয়োজনে চিকিৎসা সেবা,ঔষধ সামগ্রী বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটের শরনখোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (০৩ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় (৩ আগস্ট) সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টা হতে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার ব্যবস্থাপনায় বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন রায়েন্দা সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। উক্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন-এ ২৫৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
সোনারগাঁও পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। লোডশেডিংয়ের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং কৃষি অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ঘন ঘন ও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ফলে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যবসাকে ব্যাহত করছে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়া বিদ্যুতের এই চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় পল্লি বিদ্যুৎ অফিস কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর থাবা পড়েছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে। সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় সকল কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। সোনারগাঁ পৌরসভার দিঘিরপাড় গ্রামের চাকরিজীবী আব্দুল বাতেন শিবলী বলেন, পৌরসভার মতো এলাকায় মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘরে থাকাই দায়, প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়। ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে আমরা এক নরকবাসের মধ্যে আছি। দিনের বেলায় অফিস বা কাজকর্মে গিয়েও শান্তি নেই, আর বাসায় ফিরলে লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পৌরসভায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়, মাদ্রাসায় জেনারেটর থাকলেও তাতে অতিরিক্ত ডিজেলের ব্যবহার হচ্ছে বিধায় যেকোনো সময় তা আর ব্যবহারের যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন হয় তা কর্তৃপক্ষ বহন করতে পারবেনা বিধায় আমাদেরকে বিদ্যুতের এহেন উঠা নামার কুফল বহন করতে হবে। পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আ: মালেক বলেন, গরমে আমরা অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ একবার চলে গেলে আর আসার নামই নেয় না। এক বিঘা জমিতে শখ করে সবজি চাষ করেছিলাম, কিন্তু সময়ের মাপে সেচ দিতে না পেরে চোখের সামনে ফসল শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক চান মিয়া বলেন, অটোরিকশার সামান্য আয়েই আমার কোনোমতে সংসার চলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো গাড়ি চার্জই দিতে পারছি না। গ্যারেজে বসে থাকতে থাকতে দিনে আয় নেমেছে তলানিতে। বউ-বাচ্চাকে দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়ানোই আজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, সামনেই এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু এমনও দিন যায়, পুরো রাতে এক ফোঁটাও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘেমে নেয়ে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা তো দূরের কথা, টেবিলে বই নিয়ে টিকে থাকাই দায়। অতিব দুঃখের সহিত জানাতে হচ্ছে যে, এই সংবাদ লিখার সময় বিদ্যুতের উঠা নামা নামক লুকোচুরির কবলে পড়তে হয়েছিলো। পরিসংখ্যানে দেখা যায় এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে ২ ঘন্টার জন্য উধাও হয়ে যায়। আজ সকাল থেকে এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিলো প্রায় ৫ ঘন্টা। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সোনারগাঁ জোনাল অফিস) এর উপমহাব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি এখন একটি জাতীয় সমস্যা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে, আমাদের চাহিদা ১৪৫ মেগাওয়াট থাকলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট কাটবে না। আশা করা যায়, শিগগির এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
মঠবাড়িয়ায় ইজিবাইকের তীব্র যানজটে নাভিশ্বাস পৌরবাসীর
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পৌরবাসী। পর্যাপ্ত ট্রাফিক জ্ঞানের অভাব, অনিয়ম এবং বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন হাজার হাজার বাহনে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ফলে পুরো শহরে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমানে চলচলকারী বাহনগুলোর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়কসহ দক্ষিণবন্দর মাছ বাজার, সদর রোড, পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে, মন্দির রোড ও টাওয়ার রোড এলাকায় দিনভর যানজট লেগেই থাকে। সরেজমিনে দেয়া গেছে, পৌরসভার বাইরের ১১টি ইউনিয়ন থেকেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ইজিবাইক নিয়ে কিশোর ও অদক্ষ চালক পৌরশহরে প্রবেশ করে। বেপরোয়া গতি এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ বাহন চলাচল করছে। তাই প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জিংয়ের কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সামিয়া রহমান বলেন, সকালে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ইজিবাইকের জটলায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে টেকসই পরিকল্পনার জোর দাবি জানাই। অপর বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জানান, প্রশাসনকে সকল প্রভাব মুক্ত হয়ে দ্রুত অবৈধ বাহন চিহ্নিত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ আতাউর রাব্বী জানান, ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এখন জাতীয় সমস্যা। মঠবাড়িয়ায় চলাচলরত যানবাহনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতনের পরামর্শ অনুযায়ী যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, "জনবহুল মঠবাড়িয়ায় যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিকল্প পথ না থাকায় দূরপাল্লার বাস শহরের মাঝখান দিয়ে চলে, যা যানজট বাড়িয়ে দেয়। তবে ইজিবাইক চালিয়ে বহু মানুষের সংসার চলে। তাই চালকদের রুটি-রুজির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শহরকে যানজটমুক্ত করতে কার্যকর ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।"
পঞ্চগড়ে বন্যায় সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন কাশেমপুর, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশেমপুর গ্রামের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে। ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার পর ওই পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত জেলা সদরে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের পাশে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার পানির চাপে সড়কটির ওই অংশ ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, কাশেমপুর গ্রামের মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র সড়ক। দ্রুত সংস্কার করা না হলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে গড়িনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো বরাদ্দ না থাকায় সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা যুবদল নেতার
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় দুধ দিয়ে গোসল করে এবং মায়ের মাথায় হাত রেখে তওবা করে বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মাহবুব আলম। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি এ ঘোষণা দেন। মাহবুব আলম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাহবুব আলম জানান, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের কঠিন সময়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাভোগ এবং পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এতে তিনি চরমভাবে হতাশ হয়ে রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজ দলের লোকজনের কারণেই হতাশ হতে হয়েছে। তাই মায়ের সামনে তওবা করে এক মণ দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে চিরতরে বিএনপির রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না; পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই সময় কাটাতে চান। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাহবুব আলমের অভিযোগ ও বহিষ্কারের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি বা যুবদলের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধে প্রাণীদের মধ্যে স্বস্তি, বেড়েছে বিচরণ ক্ষেত্র
প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় প্রাণিকূলের ও মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন হয়। মানুষের কোলাহল না থাকায় বন্যপ্রাণীরা শান্তিতে ঘুরে বেড়াতে পারে এবং তাদের নিরাপদ বিচরণ ক্ষেত্র অনেক বেড়ে যায়। সুন্দরবনের প্রজনন মৌসুম ও নিষেধাজ্ঞাপ্রতি বছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সাধারণ প্রবেশ ও পাস-পারমিট দেওয়া বন্ধ থাকে।এই সময়ে বাঘ, হরিণ, পাখি, ও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী কোনো রকম মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে।বনের নদী ও খালগুলোতে মাছেরা নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে, যা জলজ প্রাণীর বংশবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও পাহারা জোরদার করা হয়, যাতে অবৈধ শিকার বা কোলাহল বনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় দুই মাস বনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার পর সুফল মিলেছে। গত জুলাইয়ে বনের পাঁচটি এলাকায় ৮টি বাঘের দেখা মিলেছে। হরিণও হাঁটতে দেখা গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা দুই মাস বনে সব ধরনের বনজীবী ও পর্যটকের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র বেড়েছে। ২০২৪ সালে করা বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ বলছে, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে ১২৫টি। আগের বছর ২০২৩ সালে বন বিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ আছে বলে উল্লেখ করা হয়। সুন্দরবনে হরিণের দেখা মিললেও বাঘ সচরাচর দেখা যায় না। এক মাসে এত বাঘ দেখতে পেয়ে বনকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই মাস ‘বনে প্রবেশ বন্ধ’ এবং আষাঢ়-শ্রাবণের পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। উজানের নদনদী থেকে আসা বৃষ্টির পানিতে দূর হয়েছে বনের নদী ও খালের লবণাক্ততা। এমন নিস্তব্ধ ও রঙিন পরিবেশে স্বস্তি ফিরেছে বাঘ, হরিণসহ প্রাণিকুলে। স্বাভাবিক বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। যা ধরা পড়ছে বনরক্ষী ও বনে স্থাপিত বিভিন্ন ক্যামেরায়। গত জুলাইয়ে অন্তত পাঁচটি বাঘকে বনের বিভিন্ন স্থানে হেঁটে বেড়াতে বা নদীতে সাঁতরে পার হতে দেখেছেন বনকর্মীরা। এর মধ্যে ১৫ জুলাই বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে সুন্দরবন রেঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বাঘকে নদী পার হতে দেখেন টহল টিমে থাকা বনকর্মীরা। এর ৯ দিন পরে গত ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ে একটি বাঘকে হাঁটতে দেখা যায়। ২৬ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্টের পাশে সাঁতার কেটে নদী পার হতে দেখা যায় আরেকটি বাঘ। এরই মধ্যে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি আন্ধারমানিক ও হাড়বাড়িয়া এলাকায় বনের মধ্যে ক্যামেরা সংযোজন করেছে বন বিভাগ। হরিণ শিকারির ফাঁদে পড়ে অসুস্থ বাঘিনিকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তার গতিবিধি নজরে আনতেই এই প্রচেষ্টা। গত ১৩ জুলাই ক্যামেরা স্থাপনের পর ১৪ ও ২৪ জুলাই সেখানে তিনটি বাঘ দেখা গেছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, জুন থেকে আগস্ট– এই তিন মাস সুন্দরবনের নদী-খালের মাছের প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়া এই সময় বন্যপ্রাণীদেরও প্রজনন মৌসুম। তিন মাস বনে প্রবেশ বন্ধ রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হয়। ২০২১ সালের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ বন্ধ থাকে। এবারও বন্ধ রয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনের যে স্থানে হরিণ বেশি থাকবে, সেখানে বাঘও থাকবে। গত এক বছরে বনে ফুট ট্রেইল (হেঁটে বন পাহারার ব্যবস্থা) বাড়ানোয় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মালা ফাঁদই উদ্ধার হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ফুট। হরিণের চলাচল বাড়ায় বাঘের বিচরণও বেড়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন বন বন্ধ থাকায় এর বাহ্যিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বনকে বিশ্রাম দিতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় সুন্দরবন বন্ধ রাখা অব্যাহত রাখতে হবে। করোনা অতিমারির উদাহরণ টেনে এই প্রাণী বিশেষজ্ঞ বলেন, ওই সময় সুন্দরবনসহ সারাবিশ্বেই বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ও বিচরণ বেড়ে গিয়েছিল। এজন্য বর্ষাকালসহ নির্দিষ্ট কয়েক মাস বনে মানুষের প্রবেশ বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়।
নদীতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াসের: অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে
বাগেরহাটের শরণখোলায় থানা পুলিশের এক সাহসিক ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ইলিয়াস তালুকদার (৪৩)। তার বসতঘর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়েছে দা, চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র। রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা বাজারের ওয়াপদা কলোনি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস ওই এলাকার মৃত হাসেম তালুকদারের ছেলে। দীর্ঘদিনের এই ত্রাস ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে শরণখোলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ইলিয়াসের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধূর্ত ইলিয়াস কৌশলে ওয়াপদা কলোনির বাউন্ডারি ওয়াল টপকে পার্শ্ববর্তী নদীর পানিতে ডুব দিয়ে আত্মগোপন করেন। তবে পুলিশের কড়া নজরদারি ও নিখুঁত তল্লাশির মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে নদী থেকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ইলিয়াস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তার অধীনে ৪ থেকে ৫ জনের একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট দিনরাত ইয়াবার কারবার চালাত। এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন। ওয়াপদা কলোনির বাসিন্দা কুলসুম বেগম স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন: "ইলিয়াস এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কারবার করত। মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনার কারণে ভয়ে আমরা স্বাভাবিকভাবে ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। এই গ্রেপ্তারে আমরা এখন ঝুঁকিমুক্ত অনুভব করছি।" ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বাগেরহাটর প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে তদবির বাণিজ্য, গ্রেফতার ১
বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম ও পদবি জাল সাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ তদবির বাণিজ্যের অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান টুকু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোংলা থানা পুলিশ তাকে উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ও পদবি সংবলিত একটি সিল ও স্ট্যাম্প প্যাড জব্দ করা হয়েছে। মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার মো. কামরুজ্জামান টুকু উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। মোংলা থানা পুলিশ জানায়, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র অবৈধ তদবির বাণিজ্য করছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু নামে পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্রটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে টুকু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান টুকুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে মন্ত্রীর নাম ও পদবি সংবলিত একটি সিল ও স্ট্যাম্পেট জব্দ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিমন্ত্রীর পরিচয় ও পদবি কাজে লাগিয়ে অবৈধ তদবির বাণিজ্য করে আসছিল সে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হরিপুরে জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তা রাবিশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন ইউএনও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ফালডাঙ্গী গ্রামে যাওয়ার জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তাটি হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চন্দন কর রাবিশ (ইটের খোয়া) দিয়ে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য উপযোগী করে দিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে ফালডাঙ্গী চৌরাস্তা থেকে গ্রাম পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় গ্রামের যুবসমাজ স্বেচ্ছায় শ্রমদিয়ে রাস্তাটি মেরামত করে। ঠাকুরগাঁওয়ের ফালডাঙ্গী গ্রামের কৃষক বেলাল উদ্দিন ও দৌলত বলেন, দীর্ঘদিন গ্রামের এই কাঁচা রাস্তাটি বেহাল দশা হয়ে পড়েছিল। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকতো এবং পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যেত। এতে রাস্তায় চলাচল করা যেতনা। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক করিমুল হক বলেন, এটি আমার গ্রামের বাড়ির রাস্তা, বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এটি পাকা করণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চন্দন কর বলেন, বর্ষাতে রাস্তায় বড় বড় গর্ত হওয়ায় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বৃদ্ধ ও মানুষের পথ চলাচলের খুব কষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় যুবসমাজের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই রাস্তায় রাবিশ দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নের গতিপথে বিকেন্দ্রীকরণের অপরিহার্যতা
রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রমকে কার্যকর, জনবান্ধব ও টেকসই করতে প্রশাসনিক কাঠামোর আধুনিকায়ন ও সংস্কার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি। নাগরিকদের জন্য প্রদেয় জনসেবার মান উন্নয়ন, সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা—এসব লক্ষ্য অর্জনে একটি দক্ষ ও বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো মূলত কেন্দ্রনির্ভর, যা কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে প্রণীত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কিংবা স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সবই কেন্দ্রীয়ভাবে গৃহীত হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়ন—সবকিছুই মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটি অতিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, যেখানে স্থানীয় বাস্তবতা, বৈচিত্র্য ও চাহিদার যথাযথ প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। অতিকেন্দ্রীকরণের এই প্রবণতা কেবল উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ও কার্যকারিতাকেই ব্যাহত করছে না; বরং এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের ক্ষেত্রেও অন্তরায় সৃষ্টি করছে। স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে যাদের প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয়ের অপচয় এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে জনগণের বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তাই উন্নয়নকে গণমুখী ও বাস্তবমুখী করতে হলে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে নীতিগত বক্তব্য, প্রস্তাব এবং আংশিক উদ্যোগ দেখা গেলেও কার্যকর ও টেকসই কোনো কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮০-এর দশকে উপজেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণের একটি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ প্রবণতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা পায়নি। ফলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার বদলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরশীল ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবতা হলো, একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। বিকেন্দ্রীকরণ মানে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সেবাদানের ক্ষেত্রে বাস্তব ক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রদান করা হয়। একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়বে, অন্যদিকে জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট প্রণয়ন, কর আহরণ এবং তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাদের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না করা হলে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালা ও দিকনির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কার্যকর তদারকি কাঠামো। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিকাশ ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান। এসব অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো কমিশন গঠন বা আনুষ্ঠানিকতা সৃষ্টির চেয়ে অধিক জরুরি হলো—বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকর প্রয়োগ। নীতিগত প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তর করতে পারলেই কেবল বিকেন্দ্রীকরণের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। অবশেষে বলা যায়, উন্নয়নকে যদি সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং জনগণমুখী করতে হয়, তবে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ আর কোনো বিকল্পহীন ধারণা নয়—এটি এখন অপরিহার্য বাস্তবতা। কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, ক্ষমতার সুষম বণ্টন এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই কেবল একটি শক্তিশালী ও জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়—নতুন সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে কতটা আন্তরিকতা প্রদর্শন করে। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
বোদায় রাস্তা কেটে দেওয়ার অভিযোগ ১০ পরিবারের দুর্ভোগ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান শাহীন আলম
বোদা (পঞ্চগড়): পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১ নম্বর সাকোয়া ইউনিয়নের নয়াদিঘী এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১০টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মো. শাহীন আলম, গ্রাম—নয়াদিঘী, ইউনিয়ন—সাকোয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড, বোদা, পঞ্চগড়। আবেদনে বলা হয়, নয়াদিঘী এলাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার একটি রাস্তা ব্যবহার করে নিয়মিত চলাচল করে আসছেন। ওই রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটার পাশাপাশি ভ্যান ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। অভিযোগকারী মো. শাহীন আলমের দাবি, সম্প্রতি রাস্তার একটি অংশ কেটে দেওয়ায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ১০টি পরিবারের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে রাস্তা দিয়ে অটো ও ভ্যান চলাচল করতে পারছে না। এতে দৈনন্দিন যাতায়াতসহ কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাস্তার পানি নিষ্কাশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আগে দুটি কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী মো. শাহীন আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি কেটে দেওয়ায় প্রায় ১০টি পরিবার চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাস্তাটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ইয়াবা প্রবেশের চেষ্টায় আটক ১
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর মেট্রো থানার আওতাধীন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্ত্রীর কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে রেজাউল করিম (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে কারাগারের প্রধান ফটকে তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ১২৭ পিস ইয়াবা, নগদ ৪৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে কোনাবাড়ি মেট্রো থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, মাদক মামলায় কারাগারে থাকা স্ত্রী আফরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাতের নামে তিনি কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া রেজাউলের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।