বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কালীগঞ্জে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ভাতা ও সনদপত্র বিতরণ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে যাতায়াত ভাতা ও প্রশিক্ষণ সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ পৌর মিলনায়তনে দুইটি ট্রেডে ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেককে যাতায়ত ভাতা বাবদ ৩ হাজার টাকা ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রশিক্ষার্থীদের মাঝে ভাতা ও সনদপত্র তুলে দেন কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক এটিএম কামরুল ইসলাম। এসময় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সামসুজ্জামান আকন্দ, পৌর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মন্নুর আহমেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দুলাল মোড়ল, টিকাদান সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন, উচ্চমান সহকারী রিয়াদ হাসান, বাজার পরিদর্শক শিপলু চন্দ্র দাস ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩০ জন যুবক-যুবতী কম্পিউটারে এবং ৩০ জন ড্রাইভিংয়ে এক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যাতায়াত ভাতা হিসেবে নগদ ৩ হাজার টাকা ও সনদপত্র দেয়া হয়েছে।
পাঁচ দফা দাবিতে বাগেরহাটে ১১ দলের বিক্ষোভ
ঘনঘন লোডশেডিং দূরীকরণ, গ্যাস সংকট নিরসন, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার, বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জোটের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস সংকট, তীব্র লোডশেডিং, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন,বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মুফতি রমিজ উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা সহকারী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুস্তাইন বিল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় তিন কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক ৬
চট্টগ্রামের পটিয়ায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ইয়াবাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এসময় মাদক পরিবহনের ব্যবহৃত ৫টি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া সরকারি কলেজ জামে মসজিদের বিপরীতে সুলতান হোটেল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. বশির (৩৮), বেলাল উদ্দিন (৩২), নুরুল মোস্তফা (২৭), মোঃ সাইফুল (২৪), মোঃ হাসান (৩৯) এবং মোঃ হোসেন (৩৭)। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায়। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি বাইকার গ্যাং কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর দিকে আসছে। এরপর সেখানে চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন ওই স্থানে পৌঁছালে তাদের আটক করা হয়। পরে মোটরসাইকেলগুলোর বক্স তল্লাশি করে কাঁধের ব্যাগে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
পাঁচবিবিতে দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ২০ আগস্ট
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে সমিতির সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অফিস প্রাঙ্গণজুড়ে রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এবারের নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। (অমল-বাবুল) পরিষদ এবং (ওয়াজেদ-সোবহান) পরিষদ। উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জোর প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন ও দোয়া কামনা করছেন। পাশাপাশি অফিস চত্বর ও আশপাশের এলাকায় নিজেদের ছবি ও ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করেছেন। সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ৮৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা-এর তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলিল লেখকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ভোটাররা বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং সমিতির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সদস্যদের অধিকার ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক গণসংযোগ। উল্লেখ্য, পাঁচবিবি দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন কমিটি পরবর্তী তিন বছরের জন্য সমিতির নেতৃত্ব গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
তিস্তাপাড়ের মানুষের কষ্ট 'তিস্তার পানি বাড়লেও হামার বিপদ, কমলেও হামার বিপদ'
তিস্তা নদীর পানি বাড়লে দেখা দেয় বন্যা পরিস্থিতি, আর পানি কমে গেলে দেখা দেয় ভাঙন পরিস্থিতি। বন্যা আর ভাঙনের কষাঘাতে চরম কষ্টে বসবাস করছেন রংপুর অঞ্চলের তিস্তাপাড়ের মানুষ। লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী বিপুল সংখ্যক পরিবারের কষ্টের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিনচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকি জানান, বুধবার সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাড়ী-ঘরে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তাদের গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় বুধবার বিকেলে তারা গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন। জমিতে লাগানো রোপা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪-৫ দিনের মধ্যে খেত থেকে নদীর পানি নেমে না গেলে ধান গাছের ক্ষতি হবে। ’হামরাগুলা তিস্তাপাড়োত কষ্ট করি বাঁচি আছি। হামারগুলার কষ্টের শ্যাষ আর নাই। তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার কষ্ট আর পানি নামি গ্যাইলেও হামারগুলার কষ্ট। পানি বাড়লে বান হয় আর পানি নামি গ্যালি নদীভাঙন শুরু হয়। হামারগুলার খালি বিপদ আর বিপদ। গঙ্গাচড়া উপজেলার চর নেহালি গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, বুধবার রাতে তার বাড়িতে হাঁটু পানি ছিলো। তারা বাড়ী-ঘর ছেড়ে নিরাপদে চলে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমছে। আবারো তিস্তায় পানি বাড়তে পারে। গেল দেড় মাসধরে তিস্তা নদীর পানি ওঠানামা করছে। পানি একটু বাড়লেই তিস্তাপাড়ে বন্যা দেখা দেয় আর পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দেখা দেয় ভাঙন। গেল একমাসে তাদের গ্রামে প্রায় ১০০টি বসনতভিটা নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন,’ হামার বাড়ীটাও নদীর কাচারোত পড়ি গ্যাইছে। এইবার ভাঙন শুরু হইলে বাস্তুভিটাটা আর বাঁচা যাবার নয়। ১০ শতক বাস্তুভিটার জমিকোনায় মোর শ্যাষ সম্বল।’ কালীগঞ্জের শৈলমারী চরের কৃষক হযরত আলী বলেন, বুধবার সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত নদীর পানিতে তাদের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রত্যেক বাড়িতে ঘরের ভেতর নদীর পানি। গ্রামের সবগুলো রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। ‘তিস্তাত অল্প এ্যাকনা পানি বাড়লে হামারগুলার বাড়ী-ঘরোত পানি ঢুকি যায়। পানি বাড়লে হামার এত্যি( এদিকে) বান হয় আর পানি কমি গ্যাইলে ভাঙন হয়। বান আর ভাঙনোত পড়ি হামরাগুলা প্রতনিয়িত জমি হারবার নাইকছি। হামারগুলার কপালোত সুখ আর নাই। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ মিটার যা বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে (বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটার)। সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে আরো ২ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পায়। রংপুরের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গতকাল বুধবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বুধবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার সকালে পানি কমে বিপৎসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। উজানে ভারক থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি না আসলে তিস্তার পানি বাড়বে না। ‘এভাবেই গেল দেড় মাসধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। তিস্তাপাড়ে সাধারনত ফ্লাশ ফ্লাড হয়ে থাকে। বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টার মধ্যে পানি নেমে যায়।
সোনারগাঁও বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। পরে মাতৃদুগ্ধ পান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। এ বছরের বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল, “জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উন্নয়ন করি বাস্তবায়ন।” আলোচনায় বক্তারা বলেন, মায়ের দুধ শিশুর জন্য সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির উৎস। এটি শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করে মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জন্মের পরপরই শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অপরিসীম। ছরকারে দু আলম দু জাহানের বাদশাহ সাইয়্যেদুল মুরসালিন খাতামান নাবীয়্যিন শাফিউল মুজনিবীন রাহমাতুল্লিল আলামিন হাবীবে খোদা হযরত মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আগমন এই মাসে। যিনি বিশ্বনবী, শেষ নবী, যার শুভাগমনে ধন্য সমগ্র জগৎ, আলোকিত মক্কার মরুপ্রান্তর, যার কারণে চিরভাস্বর মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ। স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন, সমগ্র জগৎবাসীর জন্য আপনাকে রহমত করেই প্রেরণ করেছি। ওই আয়াত প্রমাণ করছে রসূলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোটা সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত। আরও ইঙ্গিত বহন করছে আল্লাহ জগৎসমূহের রব এবং তার প্রিয়বন্ধু হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন এ জগৎসমূহের রহমত। আল্লাহর রুবুবিয়্যাত তথা মালিকানা যে পর্যন্ত বিস্তৃত, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নবুয়ত সে পর্যন্ত ব্যাপৃত। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন যে বরকতপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত রবিউল আউয়ালে সংঘটিত সঙ্গত কারণেই সে মাসটি উম্মতে মোহাম্মদী তথা জগতবাসীর কাছে সম্মানিত, তাৎপর্যমন্ডিত ও মহিমান্বিত। এমনকি বছরের মাস সমূহের মধ্যে রবিউল আউয়াল মাসের শ্রেষ্ঠত্ব, গুরুত্ব ও মহত্ত্ব সবচেয়ে বেশি ও অতুলনীয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, পবিত্র রমজান ওই সম্মানিত মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। কোরআন নাজিলের মাস নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ, সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ। আরও ইরশাদ হয়েছে- কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। রসূল (সা.)-এর ঐতিহাসিক ও গোটা বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেওয়া এবং আধুনিক যুগের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের হার মানিয়ে দেওয়া এমনকি চাঁদের দেশ ও মঙ্গল গ্রহের রকেট যাত্রীদের চিরপরাস্তকারী ও নতিস্বীকারে বাধ্যকারী মিরাজের ঘটনা, আরশে আজিমে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের ঘটনা যা কোরআনে কারিমে আল্লাহ এভাবে উল্লেখ করেছেন। অন্য আয়াতে- পবিত্রতা আল্লাহর যিনি তার বান্দা মুহাম্মদ (সা.)-কে রাতের কিয়দাংশ মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নিয়ে গেলেন। অনন্তর দুই ধনুক অপেক্ষাও কম ব্যবধান রইল। অতঃপর আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধু (মুহাম্মদ সা.) কাছে প্রত্যাদেশ করলেন। এবারে যে বিষয়টি লক্ষ্যণীয় তা হলো, কোরআনে কারিমে উল্লিখিত এসব আশ্চর্যান্বিত, তাৎপর্য-মন্ডিত, সম্মানিত মাস, রজনী, দিবস, ক্ষণ, ঘটনাবলি এর অর্জন ও প্রাপ্তিতে উম্মতে মুহাম্মদী তথা জগৎবাসী সম্মানিত ও সৌভাগ্যবান হয়েছে একমাত্র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কারণে ও মাধ্যমে। আর নবীকূল শিরোমণির শুভাগমন হয়েছে মাহে রবিউল আউয়ালে। তাই তো এ মাসটির ফজিলত, গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অধিক ও অপরিসীম হওয়াই ইমানের দাবি। এতদ্ভিন্ন এই রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে আরও বহু ঐতিহাসিক, গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে, যা মাহে রবিউল আউয়ালের মর্যাদা ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। যেমন উল্লেখ করা যেতে পারে- মহান আল্লাহ পাক নিজে বলেছেন হে আমার হাবিব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি তোমাকে যদি সৃষ্টি করতাম না তাহলে এই পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না মা খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর সঙ্গে রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পরিণয় হয়েছিল ১০ রবিউল আউয়াল। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের উদ্দেশে রওনা করেছিলেন ১ রবিউল আউয়াল। তিনি মদিনায় পৌঁছেন ১২ রবিউল আউয়াল। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন ১৬ রবিউল আউয়াল। মাহে রবিউল আউয়ালের আগমন ঘটে নবী প্রেমের প্রতীক ও নিদর্শন হিসেবে। যার হৃদয়ে নবীপ্রেম ও নবীর ভালোবাসা থাকবে, রবিউল আউয়াল তার অন্তকরণে আবেগ, উচ্ছাস আর স্পন্দন সৃষ্টি করবে। উৎসাহিত আর প্রত্যয়ী করবে নবী (সা.)-এর আদর্শ ও সুন্নাতের প্রতি। আল্লাহই তো ঘোষণা করেছেন নিশ্চয়ই রসূল (সা.)-এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। রসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ প্রকৃত ইমানদার হবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার কাছে বেশি প্রিয় হব তার পিতা-মাতা, সন্তান এবং অন্যান্য মানবকূলের চেয়ে। অতএব, আমাদের উচিত হবে রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আগমনের এই মাসকে কেন্দ্র করে আমরা বেশি বেশি করে নামাজ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত দরুদ শরীফ ও মিলাদ শরীফ পড়ে তার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তার মহান আদর্শ ও সুন্নতকে আঁকড়িয়ে ধরে ইহকালীন ও পরকালীন অগ্রগতি ও মুক্তিলাভে সাফল্যমন্ডিত হওয়া। মাহে রবিউল আউয়াল মাসের বরকত, রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বত ও পরকালীন নাজাত মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নসিব করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
মাদকের নীরব আগ্রাসন: জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের সংকট
বাংলাদেশের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নানা আলোচনার আড়ালে একটি ভয়ংকর সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে—মাদকের বিস্তার। ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেন্সিডিল, হেরোইন ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা আজ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য এক বহুমাত্রিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য আইরিশ টাইমস বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তির বিস্তার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেখানে একজন আসক্তের বক্তব্য—"ইয়াবা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়"—আসলে কেবল একজন ব্যক্তির হতাশা নয়, বরং একটি সমাজের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি। যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে, তখন সেটি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের জন্যও আত্মসমালোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে ওঠে। ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রণে তৈরি একটি শক্তিশালী সিনথেটিক মাদক। এটি মানুষের মস্তিষ্কের ডোপামিন ব্যবস্থাকে অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত করে সাময়িক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, বিষণ্নতা, সাইকোসিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং স্থায়ী মানসিক বিকারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে আসক্ত ব্যক্তি নিজের আচরণ, আবেগ এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশে মাদকাসক্তির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে কিছু পার্থক্য থাকলেও এটি স্পষ্ট যে সমস্যাটি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিপুলসংখ্যক তরুণ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ এবং এমনকি নারী ও কিশোর-কিশোরীরাও এই মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। এটি দেশের জনমিতিক সুবিধাকে (Demographic Dividend) দুর্বল করে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সিনথেটিক মাদক উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই রুট ব্যবহার করে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়েও বিভিন্ন ধরনের মাদক চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া এই প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। অতীতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং অসংখ্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কেবল অভিযান ও গ্রেপ্তার দিয়ে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। কারণ মাদকের সরবরাহের পাশাপাশি এর চাহিদাও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। আসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক পুনঃএকীভূতকরণ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক তরুণকে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। অথচ দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। ফলে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ পান না। মাদকের অর্থনৈতিক প্রভাবও কম ভয়াবহ নয়। উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত ব্যয়, অপরাধ বৃদ্ধি, বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ এবং পরিবারে অর্থনৈতিক বিপর্যয়—সব মিলিয়ে এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের বোঝা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ অপরাধ, অর্থপাচার এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই বাস্তবতায় প্রয়োজন একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল। সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করতে হবে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। আধুনিক কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে অনেক আসক্তকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রযুক্তিনির্ভর গোপনীয় হেল্পলাইন, অনলাইন কাউন্সেলিং এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাদককে কেবল অপরাধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না; এটিকে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ তরুণ প্রজন্ম। তাদের মাদকাসক্তির অন্ধকার থেকে রক্ষা করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের সম্মিলিত দায়িত্ব। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক পুনর্বাসন, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, জাতীয় নিরাপত্তা এবং একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। এই সংগ্রামে সফল হতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সর্বস্তরের নাগরিক অংশগ্রহণ—এই তিনটির সমন্বয়ই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
বকশীগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামের আশায় কৃষক
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং কৃষকদের পরিচর্যার ফলে এবার পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বাজারদর আরও কিছুটা বাড়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ চলমান রয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি থাকলেও বাজারদর নিয়ে রয়েছে কিছুটা উদ্বেগ। নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, “এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তেমন ছিল না। তবে সার, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।” বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, “পাট চাষে পরিশ্রম অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম আরও কিছুটা বাড়লে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।” বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা ন্যায্য লাভ পাবেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নড়াইলে পুলিশের অভিযানে ডাকাত গ্রেপ্তার
নড়াইলের কালিয়ায় পুলিশের অভিযানে ডাকাত আরোজ আলী শেখ গ্রেপ্তার। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, (৫ আগস্ট) বুধবার রাত ৮ঃ০০ টায় অভিনব কৌশলে পুলিশের দুঃসাহসিক এবং পরিকল্পিত সফল অভিযানে গ্রেপ্তার আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল হোতা কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের আরোজ আলী শেখ। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামে দুঃসাহসিক ও পরিকল্পিত অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল হোতা আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অভিযানের বিশেষত্ব ছিল পুলিশের অভিনব কৌশল। বুধবার দিনভর পুলিশের সদস্যরা কৃষক, ভ্যানচালক, হকার ও মুদিদোকানির ছদ্মবেশে গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকেন। রাত নামতেই শুরু হয় পরিকল্পিত অভিযান। রাত ৮টার দিকে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ দল জোকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে কালিয়া, নড়াইল সদর, খুলনার দিঘলিয়া ও গোপালগঞ্জ সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন নজরদারির পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শাকের দাম দ্বিগুণ, লাভের হাসি চাষিদের মুখে
রংপুর অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধরনের শাকের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের শাকের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন পর প্রত্যাশিত দাম পেয়ে খুশি শাকচাষিরা। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় আঞ্চলিক সবজি ‘মারা শাক’ চাষ করে ভালো লাভ করছেন কৃষকরা। কৃষক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক, পুঁই শাক, লাউ শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের বাণিজ্যিক চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হচ্ছে মারা শাক। এটি মূলত উত্তরাঞ্চলের একটি আঞ্চলিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই নিয়মিত এ শাক রান্না করা হয়। স্থানীয় বাজারগুলোতেও সারা বছর এর চাহিদা থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর এ সময়ে বিভিন্ন শাকের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। যদিও বাজারে মারা শাকের সরবরাহ তুলনামূলক ভালো রয়েছে, তবে অন্যান্য শাকের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে দাম বেড়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু জমির অনেক শাকের খেত নষ্ট হয়েছে। তবে মারা শাক তুলনামূলক দ্রুত উৎপাদনযোগ্য হওয়ায় অনেক কৃষক এই শাকের দিকে ঝুঁকছেন। বীজ বপনের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই এটি বাজারজাত করা যায়। কৃষি বিভাগ জানায়, মূলত পাটের বীজ ঘন করে বপনের পর গাছ এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতা হলে জমি পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে চারা তুলে ফেলা হয়। সেই কচি চারাই স্থানীয়ভাবে 'মারা শাক' নামে পরিচিত। শাক সংগ্রহের পর জমিতে মই দিয়ে মাটি সমান করে পাটের মূল ফসলের পরিচর্যা করা হয়। এই প্রক্রিয়া থেকেই শাকটির নাম হয়েছে 'মারা শাক'। দেশের অন্য অঞ্চলে এটি তেমন পরিচিত না হলেও রংপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এটি জনপ্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এ অঞ্চলে গড়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকের আবাদ হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মারা শাক চাষ করা হয়। স্বল্প সময়ে উৎপাদন, কম খরচ এবং বাজারে স্থায়ী চাহিদা থাকায় কৃষকদের কাছে এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তিনি সারা বছর ২০ শতাংশ জমিতে মারা শাক চাষ করেন। বছরে সাত থেকে আটবার বীজ বপন করে শাক উৎপাদন করেন। একেকবার শাক উৎপাদনে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। ২০ শতাংশ জমি থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ কেজি শাক পাওয়া যায়। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকা।" তিনি আরও বলেন, "এক মাস আগেও পাইকারদের কাছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন একই শাক বিক্রি করছি ১৮ থেকে ২০ টাকায়। বাজারে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এ বছর মারা শাক চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। এ শাক চাষ করে কখনো লোকসান হয়নি। কালীগঞ্জের হরবানীনগর এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের গ্রামের ১৫/২০ টি কৃষক পরিবার প্রায় সবাই শাক-সবজির আবাদ করেন। তবে মারা শাকই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, "আমি এক বিঘা জমিতে সারা বছর বাণিজ্যিকভাবে মারা শাক চাষ করি। অনেক পাইকার আগাম টাকা দিয়ে শাকের অর্ডার দেন। তবে এ শাক চাষে যথেষ্ট যত্ন নিতে হয়। বীজ বপনের পর অতিবৃষ্টি হলে অনেক সময় বীজ নষ্ট হয়ে যায়, তখন আবার নতুন করে বপন করতে হয়। তারপরও লাভ ভালো হওয়ায় আমরা এ শাকের আবাদ বাড়াচ্ছি।" লালমনিরহাটের বড়বাড়ী হাটে কেনাকাটা করতে আসা সাখওয়াত ইসলাম বলেন, "আমাদের পরিবারে সব ধরনের শাক খাওয়া হলেও মারা শাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই শাক রান্না হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবার শাকের দাম অনেক বেড়েছে।" লালমনিরহাটের গোশালা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মিনহাজ হোসেন বলেন, "কৃষকদের কাছ থেকে মারা শাক কিনে বাজারে বিক্রি করি। কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা লাভ থাকে। তবে পরিবহন খরচ ও বিক্রি না হলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এবার মারা শাকের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও অন্য শাকের সরবরাহ কম হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।" রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "গত এক যুগে রংপুর অঞ্চলে মারা শাকের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। আগে এটি এতটা পরিচিত ছিল না। বর্তমানে পাটের বীজ থেকে উৎপাদিত এই শাক স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্য অঞ্চলে এর প্রচলন খুবই সীমিত।" তিনি বলেন, "মারা শাক শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিকরও। অনেকেই রোগীর পথ্য হিসেবেও এটি ব্যবহার করেন। স্বল্প জমি, কম খরচ এবং অল্প সময়ে উৎপাদনের কারণে কৃষকরা এ শাক চাষ করে ভালো আয় করছেন। একই সঙ্গে নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে পারছেন।" ’জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত ফলনশীল ফসল হিসেবে মারা শাকের চাষ আগামী দিনে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে স্থায়ী চাহিদা ও লাভজনক মূল্য কৃষকদের এই আঞ্চলিক শাকের আবাদে আরও উৎসাহিত করছে।
রাজাপুরে আয়রন ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় ত্রিশ বছর কষ্ট করছেন দুই গ্রামের মানুষ
আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:- ঝালকাঠির রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর গ্রামের বেপারীবাড়ি এলাকায় বদনিকাঠি খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি ভেঙে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক এই অবস্থায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন বদনিকাঠি ও সাউথপুর— এই দুই গ্রামের সহস্রাধিক বাসিন্দা। বছরের পর বছর ভোট আসে, নির্বাচন ঘিরে প্রতিশ্রুতির জোয়ার ভাসে, কিন্তু অবহেলিত এই দুই গ্রামবাসীর ভাগ্যে জোটে না একটি টেকসই স্থায়ী ব্রিজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে বদনিকাঠি খালের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের মাত্র ৮ থেকে ৯ বছরের মাথায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির ওপরের সিমেন্টের স্ল্যাব ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ সদস্যদের কাছে অগনতি বার মৌখিক আবেদন জানালেও আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি পুননির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাদাত ব্যাপারি, ইয়াছিন সিকদার ও জাহাঙ্গীর ব্যাপারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন দুই গ্রামের সহস্রাধিক লোক বাধ্য হয়ে এই ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন"। প্রতি বছর আমরা এলাকাবাসী মিলে চাঁদা তুলে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করি। তবে বয়স্ক, নারী ও ছোট শিশুদের জন্য এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।” তারা আরও জানান, বিশেষ করে বর্ষার দিনে খালের দুই পাড়ের কাঁচা মাটির রাস্তা কাদা হয়ে পিচ্ছিল রূপ নেয়। এ সময় নড়বড়ে সাঁকোটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং পার হতে গিয়ে প্রায়ই মানুষ খালের মধ্যে পড়ে আহত হচ্ছেন। গত সপ্তাহেও বদনিকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিশু শিক্ষার্থী পা পিছলে নিচে পড়ে আহত হয় এবং তাদের বই-খাতা খালের পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। ব্রীজটি দিয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুকি নিয়ে প্রতিয়িত পারাপার হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবার ভোটের মৌসুম আসলেই প্রার্থীরা ভোট ভিক্ষা করতে এসে ব্রিজের এই ভঙ্গুর দসা দেখে স্থায়ী সমাধানের মিষ্টি আশ্বাস দিয়ে যান। কিন্তু ভোট শেষ হয়ে গেলে ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা আর কারও মনে থাকে না। সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারেও প্রতিশ্রুতির কথা মিলছে। মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী স্থানীয় মাতোয়ারা বেগম নির্বাচিত হতে পারলে ওই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি নিজ অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারি গাছ কিনে এনে পুরনো আয়রন ব্রিজের বিমের ওপর দিয়ে সাময়িকভাবে মানুষের পারাপারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “উক্ত ব্রিজটির জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে আমার আগে জানা ছিল না। আমি দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে সেখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠাব।”
সিংগাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তে ১জনের মৃ/ত্যু
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাব্বির হোসেন লাভলু (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সাব্বির হোসেন লাভলু উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তাজিম প্রামাণিকের ছেলে। জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে লাভলু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর গত শনিবার তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পরীক্ষা -নিরীক্ষার করলে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান। সাব্বির হোসেন লাভলুর মৃত্যুতে পরিবারে চলছে কান্নার মাতুম।
শ্রীপুরে যুবদল নেতার হামলায় পণ্ড আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনামূলক সভা, থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি
মাগুরার শ্রীপুরে শ্রীকোল ইউনিয়নের খামারপাড়া বাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা যুবদলের এক নেতার নেতৃত্বে হামলার কারণে পণ্ড হয়ে গেছে শ্রীপুর থানা পুলিশের আয়োজিত সচেতনামূলক সভা। মঙ্গলবার ৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খামারপাড়া বাজার কমিটির আয়োজনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তরিকুল ইসলাম নামে একজন আহত হয়েছেন। তিনি বরিশাট গ্রামের হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকরা জানান, খামারপাড়া বাজারের হিন্দু ধর্মের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শ্রীপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রথমে বিকেল ৪টায় সময় নির্ধারণ করা হলেও ব্যস্ততার কারণে সভাটি সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত হয়। সভা শুরুর কিছুক্ষণ আগে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফান সেখানে উপস্থিত হয়ে সভার বিষয়ে জানতে চান। তাকে জানানোর পর তিনি উপস্থিত সবাইকে সভা ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং সভা বন্ধ করার জন্য জোর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার সাথে থাকা কয়েকজন অতর্কিতভাবে উপস্থিতদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় তরিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ বলেন, "ওসি সাহেবই সভাটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সদস্য সচিব তুফান এসে সভা ভণ্ডুল করে দেন এবং মারধরের ঘটনা ঘটান।" এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওলি মিয়া জানান, "বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক সভার জন্য বাজার কমিটিকে বলা হয়েছিল। আমি পৌঁছানোর আগেই যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমরা আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছি। থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান ডিবি হেফাজতে
বুধবার (৫ আগষ্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে হেফাজতে নিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে এই সাবেক সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আখতারুজ্জামানের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়ে গুলশানের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।