বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সালিশের মারধরে আহত যুবকের মৃ/ত্যু, বিচার দাবিতে লা/শ নিয়ে সড়ক অবরোধ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সালিশি বৈঠককের রায় অমান্য করায় মারধরের আহত যুবকের মৃত্যু। মামলা নেয়ার দাবিতে নিহত ফিরোজ হোসেনের (২০) লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে ২ ঘন্টা ব্যাপী লাশ নিয়ে তার বাড়ির সামনে পাটগ্রাম উপজেলা সদরের আন্তঃজেলা মোড়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার (১ আগস্ট) পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত একটি সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে ফিরোজ হোসেনকে তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়। মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে নিহতের পরিবারের সেই অভিযোগ গ্রহন করেনি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। তবে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ উঠে খোদ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলা নিতে ও অপরাধিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তার লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গিয়ে মামলা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে দুই ঘন্টা পরে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাফিউল ইসলাম সামলু, ছাত্রদল নেতা স্বাধীন, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা শাহীন সাই, তার ছেলে তুহীনসহ আরও কয়েকজন একটি শালিস বৈঠক করেন। সেখানে ফিরোজকে দোষি করে জরিমানা করা হয়। সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত শনিবার অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করেন। এ অপমান সহিতে না পেয়ে অসুস্থ্য শরীর নিয়ে কীটনাশক পান করেন ফিরোজ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্নগোপনে থাকায় তাদের মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, আগে অভিযোগ না দিলেও রাত ৯টার দিকে নিহতের পরিবার অভিযোগ দিতে এসেছেন। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে রংপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত করতে পারেন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর অন্তর্বাস থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো ‘গোল্ড পেস্ট’ ও স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সোমবার (৩ আগস্ট) কাস্টমস গোয়েন্দার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। পরে সন্ধ্যায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ বিভাগ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি) একটি টিম বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেয়। সিআইআইডির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিজিএফআই, এনএসআই ও কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা যৌথভাবে ওই যাত্রীর গতিবিধি নজরে রাখেন। আটক যাত্রীর নাম মোহাম্মদ তুষার (৩৩) । তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণের দিঘলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট (দুবাই থেকে আগত। তার কাচে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ‘গোল্ড পেস্ট’ এবং প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের ৫টি চুড়িসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার। অন্যান্য জব্দ সামগ্রী পাসপোর্ট, স্মার্টফোন ও বোর্ডিং পাস। সোমবার সকালে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর কাস্টমস হলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী মোহাম্মদ তুষারের পরিহিত অন্তর্বাসে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার ও সোনার পেস্ট জব্দ করা হয়। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, জব্দ করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বর্ণের সঠিক ওজন ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে স্বর্ণকার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
টেকনাফে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত রোহিঙ্গা নারী আটক, এপিবিএনের অভিযান
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর সি/৫ ব্লকে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান চালায়। অভিযানে ক্যাম্পের মহিলা মাঝির সহযোগিতায় নিজ বসতঘর থেকে ঝিনুক আরা (৩০) নামে ওই নারীকে আটক করা হয়। এপিবিএন জানায়, আটক ঝিনুক আরা উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে টেকনাফ মডেল থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এপিবিএন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মহালছড়িতে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নতুন ভবন উদ্বোধন, জোনের উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণ
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নতুন ভবন শুভ উদ্বোধন করেছেন মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আল জাবির আসিফ, পিএসসি। উদ্বোধন উপলক্ষে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, এতিম শিশু এবং স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন। পাশাপাশি জোনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আল জাবির আসিফ, পিএসসি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সেনাবাহিনী সবসময় জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তার এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, মহালছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠিানে বক্তারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণ এবং মানবিক সহায়তামূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় শিক্ষা ও মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ বছর ধরে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। বর্তমান মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আল জাবির আসিফ, পিএসসি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক তদারকি করেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে স্থবির হয়ে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা ও এতিমখানাটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
নওগাঁর বদলগাছীতে যুবদল নেতার হাতের কব্জি কাটলো আওয়ামীলীগ কর্মী
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় এক যুবদল নেতা। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের ধারালো হাসুয়ার কোপে তাঁর বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত নেতার পাশাপাশি তাঁর মাও আহত হয়েছেন। দুজনই বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাসান রমন (৪২) ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, মিজানুর রহমান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তাঁর স্ত্রী ওই ওয়ার্ডের সভানেত্রী। স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, জমির সীমানার আইল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিজানুর রহমানের হাসুয়ার কোপে হাসান রমনের বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর মা বিউটি বেগমও আহত হন। আহতের বাবা ও মামলার বাদী দুদু মিয়া অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দাবি করেন, জমির আইল কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে হাসান রমনসহ কয়েকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁর হাতে থাকা ঘাস কাটার হাসুয়া ধস্তাধস্তির সময় আঘাত করে, এতে হাসানের হাতের কব্জি কেটে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ঘটনায় মামলা দায়েরের পর প্রধান দুই আসামি মিজানুর রহমান ও আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ব্যানার ঘিরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতার ছবি সংবলিত একটি ব্যানার নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাদের দাবি, একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রদর্শনীস্থলের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানার সঙ্গে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে শিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার জন্য তিনি ছাত্রদলকে দায়ী করেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. ইয়ামিনের দাবি, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার সরানোর দাবি জানানো হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় "বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে বিলুপ্তপ্রায় সৌন্দর্যবর্ধক কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম, সদস্য সচিব সরদার সোহেল, সদস্য মাহাবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মোঃ সোহাগ হাওলাদার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া লিটন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওছার হোসেন রাড়ী, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম আসাদ, সদস্য খলিলুর রহমান, উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ মারফুদুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র কর্মকার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ রেজাউল, নিখিল পাড়, মোঃ রুহুল আমিন। এছাড়াও সাংবাদিক মোস্তফা জামান সুমন, জাহিদ হাসান রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। উজিরপুর প্রেসক্লাবের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।" উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম বলেন, "সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ সংরক্ষণেও সাংবাদিকদের ভূমিকা থাকা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানাই।" দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় মারকাযুল কারিম সালেমা মজিদ কওমি মাদ্রাসা, শিকারপুর জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শোলক এম. এ. রশিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮৫ নম্বর মার্দাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুসলিম পাড়া জামে মসজিদ, আদর্শ গ্রাম জামে মসজিদ, চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদ, ঠাকুরহাট জামে মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষে উজিরপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি সবুজ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা এবং রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ উপহার দিতে।
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির মাগুরা জেলা কমিটি গঠন
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি)-এর মাগুরা জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে স্টার নিউজের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ ইউনুছ আলী-কে সভাপতি এবং সিএনআই এর মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ আলী আশরাফ-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে স্থানীয় সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিকাশ বাছাড়কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও একাধিক সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নবগঠিত জেলা কমিটির সদস্যরা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাগুরায় সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সংগঠনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নোবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ভিড়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ ও ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, "ফটোগ্রাফি শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একজন আলোকচিত্রী একটি ছবির মাধ্যমে মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সমাজের বাস্তবতাকে এমনভাবে তুলে ধরতে পারেন, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।" তিনি আরও বলেন, তরুণ আলোকচিত্রীদের উচিত প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা। এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং নোবিপ্রবি ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল। আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১,১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৬৪টি সেরা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা এবং মানবিক নানা গল্প ফুটে ওঠে নির্বাচিত আলোকচিত্রে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ এবং একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মালামাল ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুনে যোগদানের পর থেকেই কোনো মালামাল ক্রয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তিনি কয়েক লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার, মনিহারি বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার ও ৫০ হাজার, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কারে ৩০ হাজার, আসবাবপত্র মেরামত ও ক্রয়ে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৫৫ হাজার, কম্পিউটার মেরামতে ৪৫ হাজার, স্ট্যাম্প-সিলে ২২ হাজার, অফিস সরঞ্জামে ১৩ হাজার এবং পরিষ্কার সামগ্রীতে ৮ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ বিধি অনুযায়ী ব্যয় করা হয়নি। স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান বিল-ভাউচারের কেনাকাটার কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। সরজমিনে পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডা. মামুন যোগদানের পর প্রশাসনিক ও সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত সময়মতো অফিসে না আসা, অধস্তন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দালাল-ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য রুখতে তিনি উদাসীন। এমনকি চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ কুমার দাস অফিস ফাঁকি দিয়ে বাইরে কাজ করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে তার প্রচার চালানো হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং রোগীদের থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি চেপে যান। হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান, তাকে হিসাবের সব কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে মারধরের ঘটনার পেছনেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, কেনাকাটার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান ফেরাতে দুর্নীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সুধীসমাজ।
অনলাইন জুয়া ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়া ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করলেন বাবা
অনলাইনে জুয়া ও নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে ছেলে অংচিংথোয়াই মার্মাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন তার পিতা চাথোয়াইমং মার্মা। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবান জেলা কোর্ট প্রাঙ্গণে লোটারী পাবলিক কার্যালয়ে আইনজীবী উমংসিং মার্মার মাধ্যমে হলফনামার ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান জেলা কোর্টের আইনজীবী উমংসিং মারমা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, সাবালক হওয়ার পর থেকেই অংচিংথোয়াই মার্মা বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া, খারাপ সঙ্গ গ্রহণ, নেশাগ্রস্ত হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া এবং জুয়া খেলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। হলফকারী পিতা জানান, ছেলেকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে তিনি বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া, চাহিদা পূরণ না করলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা এবং সম্পত্তি বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়েছে হলফনামায়। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামায় আরও বলা হয়, অংচিংথোয়াই মার্মা ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি অজ্ঞাতে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার পিতা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা নেবেন না বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। পিতা চাথোয়াইমং মার্মা জানান, নিজ ও পরিবারের মান-সম্মান এবং অন্য সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বারহাট্টায় মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
নেত্রকোনার বারহাট্টায় মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ আনোয়ারুল হক। আজ (৩ আগস্ট) সোমবার উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ডেমুরা চাপারকোণা উচ্চবিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার, ডেমুরা চাপারকোণা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম.এ আওয়াল, বারহাট্টা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আব্দুল বাতেন। অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদের সভাপতি সালাউদ্দিন মিল্কি, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লালু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মানিক আজাদ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীম, সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হাসেমসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ডেমুড়া গ্রামে মোট ১৫’শ টি বৃক্ষ রোপণ করা হবে।
মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া, হয়রানি ও রেশন কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ক্যাম্প-২২-এর ওন্সি প্রাং এলাকায় মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে অর্থ আদায়, হুমকি-ধমকি এবং রেশন কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. হাসিমের পরিবারের দাবি, তাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে একটি দালাল চক্র মিয়ানমারে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা মো. হোসেন প্রায় ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে দালালদের কাছ থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনেন। পরিবারটির অভিযোগ, এরপরও দালাল চক্রের সদস্য বলে অভিযুক্ত ক্যাম্প-২২-এর হেড মাঝি মোহাম্মদ রফিক এবং হামিদ নামে এক ব্যক্তি আরও টাকার দাবিতে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে পরিবারটিকে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে হবে বলেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া, হেড মাঝি মোহাম্মদ রফিক তাদের খাদ্য রেশন কার্ড আটকে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক ও হামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।প্রকাশের মাধ্যম অনুযায়ী চাইলে এটি আরও সংক্ষিপ্ত, টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট বা পত্রিকার উপযোগী সংস্করণেও সাজিয়ে দিতে পারি।
বীরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ পূর্ণঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহর উল্লাস মোড়ের জামায়াত কার্যালয়ের সামনে ৩ আগস্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় আলোচনা সভা শেষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উত্তর শাখার সভাপতি মোঃ সোহানুর রহমান সুমন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তরের সাবেক সভাপতি মোঃ জাকিরুল ইসলাম, মোঃ আমিনুল ইসলাম ও মোঃ রেজাউল করীম ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ রাশেদুন নবী বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তর শাখার সেক্রেটারি মোঃ মমিনুল ইসলাম। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। আলোচনা সভা শেষে একটি গণমিছিল বীরগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
৬'শ শিক্ষার্থীর শিক্ষক মাত্র একজন!
প্রায় ৬ শত শিক্ষার্থীর পাঠদানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলন করেও সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা এক টুকরো বাংলাদেশ খ্যাত দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা সাবেক ছিটমহল। এটি তিন বিঘা করিডোর নামেও ব্যাপক পরিচিত। ভারতের ভুখন্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাথে যাতায়ত করতে হয় এ জনপদের বাসিন্দাদের। প্রথম দিকে অবরুদ্ধ থাকলেও কালক্রমে প্রথমে এক ঘন্ট এক ঘন্টা করে গেট খুলে রাখত ভারত সরকার। পরে তা সুর্য উঠা ঢুবাকে ঘিরে গেট খোলা বন্ধ করত। পরবর্তিতে তা ইন্দ্রা মুজিব চুক্তিমুলে ২৪ ঘন্টার জন্যই খুলে রাখা হয়। সেই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটলে তৎকালিন সরকার দহগ্রামকে ইউনিয়ন ও সেখানে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল ও একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। সেই একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন শিক্ষক সংকটে ভুগছে। দীর্ঘ বন্দি থাকা এ জনপদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করন করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক জাতীয় করণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে গেলে বর্তমানে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি ক্লাস নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এই পরিস্থিতির অবসান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গেল মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি-অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। চারদিকে ভারতের সীমান্তবেষ্টিত দহগ্রাম ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডর। ফলে উপজেলা শহরে গিয়ে লেখাপড়া করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য। উপজেলা সদর থেকে দহগ্রামের দুরুত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। তাই স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থী শাহারিয়ার বলেন, একসঙ্গে ৫টি ক্লাস চালু হয়। সেখানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। একমাত্র শিক্ষক কোন ক্লাশ নিবেন। এছাড়াও অফিসিয়াল কার্যক্রমও তাকে দৌড়াতে হয়। পাঠদান পুরো বন্ধই বলা যায়। তাই দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি তার। অভিভাবক আজিজুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি উচ্চ বিদ্যালয় কি ভাবে চলে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে না আসলেও কাগজপত্র দেখে তো তাদের বুঝার কথা বিদ্যালয়টির পাঠদান কেমন হচ্ছে। অবহেলিত এ জনপদ অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টির একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম জানান, একাধিকবার শিক্ষক চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক সংকটে পড়ে পাঠদান মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একাই পুরো প্রতিষ্ঠান সামলানো বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি করেন তিনি। শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, নন ক্যাডার থেকে নিয়োগে চেষ্টা চলছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।