বরুড়া থানা পুলিশের বড় সাফল্য: চিতড্ডার আলোচিত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ঘাতক স্বামী সিলেট থেকে গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

রুবেল হোসেন

কুমিল্লার বরুড়ায় সোলেমান সরকারের ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা নারীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর হত্যা রহস্যের জট খুলেছে বরুড়া থানা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিলেটে অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী এরশাদ হোসেন (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত স্বামী বিজ্ঞ আদালতে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখে বরুড়া থানাধীন ৬নং চিতড্ডা ইউনিয়নের উত্তর ওড্ডা এলাকার জাকির মিয়ার বাড়ির পেছনে ধানক্ষেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় না পাওয়ায় মরদেহের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর বরুড়া থানায় ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৬/১৮১) রুজু করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সাঈদ মিয়া নিবিড় তদন্ত ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ঘাতক স্বামীর অবস্থান চিহ্নিত করেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ওড্ডা (মিছির আলী মালের বাড়ি) এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে এরশাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর বরুড়া থানা পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক তথ্য। উদ্ধারকৃত মরদেহটি অন্য কারও নয়, ঘাতক এরশাদের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩২)-এর। গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখে সে নিজ হাতে স্ত্রী রোজিনাকে হত্যা করে এবং আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে লাশ ধানী জমির পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) ধৃত আসামি এরশাদ হোসেনকে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে সে বিচারকের নিকট স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক(ওসি) জানান, "ঘটনাতল থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ক্লু না থাকলেও পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা ও তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তসহ প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। 

আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।"