লালমাইয়ে ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লার আলো
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
মোঃসালামত উল্লাহ
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ছোট ইছাপুরা গ্রামে সরকারি খাস জমি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলাচলের রাস্তা দখল করে জোরপূর্বক সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের মৃত আবদুল গনির ছেলে ইউনুস মিয়া ওই জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এদিকে ওই এলাকায় ঈদগাহের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে পাশে অবস্থিত ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়ে একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে দাবি তাদের।
এ পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের দাবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় ছোট ইছাপুরা গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় গ্রামবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে সালেহ আহমেদ সুমন, হাবিবুর রহমান মজুমদার, মো. মনির হোসেন ও আহসান উল্লাহ মজুমদার বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, ছোট ইছাপুরা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলাচলের রাস্তা এবং ঈদগাহ মাঠের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি ছিল। ওই পথ দিয়েই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করে আসছে। কিন্তু মৃত আবদুল গনির ছেলে ইউনুস মিয়া গ্রামবাসী ও প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে সরকারি খাস জমি দখল করে জোরপূর্বক সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।
গ্রামবাসীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে এর আগেই লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পরও দেয়াল নির্মাণ বন্ধ হয়নি। ফলে এখন ঈদগাহের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে না।
তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই কোমলমতি শিশু। চলাচলের রাস্তা সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়বে। এমনকি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এর আগে ২৪ আগস্ট ২০২৬ লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে ছোট ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দারা সরকারি খাস জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ করেন। আবেদনে সরকারি জমির সঠিক রেকর্ড ও সীমানা নির্ধারণ করে বিষয়টি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সরকারি খাস জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা ও ঈদগাহের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।
এ অবস্থায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আকতার শিফা-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গ্রামবাসী।
তাদের দাবি, প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ করে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আরও পড়ুন
বরুড়ায় দেবরের লাঠির আঘাতে ভাবি-ভাতিজা রক্তাক্ত মাথা ফাটিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ছেলেকেও পেটানোর দাবি
হোমনায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত, প্রয়াত শিক্ষকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান।
দাউদকান্দিতে বিএনপি কার্যালয়ের ভাড়া নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, জাহাঙ্গীর আলমের সংবাদ সম্মেলন।