প্রজ্ঞাপন নয়, দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

বাজেট সীমাবদ্ধতায় এমপিও শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ৫% নির্ধারণ, প্রত্যাখান করেছে আন্দোলনকারীরা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০১:১০ পিএম

সংগৃহীত

টানা আট দিন ধরে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রোববার (১৯ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মিতু মরিয়ম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা) বাড়িভাড়া পাবেন। এটি আগামী ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বাড়িভাড়া হবে ২০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা। যেমন, চতুর্থ গ্রেডের ৫০ হাজার টাকার মূল বেতনের একজন শিক্ষক ৫ শতাংশ হিসেবে ২৫০০ টাকা ভাড়া পাবেন।

তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ন্যূনতম ২০০০ টাকা হিসেব করলে প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী ১২ শতাংশের বেশি হারে বাড়িভাড়া পাবেন; ৯ শতাংশের বেশি হারে পাবেন ৭৫ শতাংশ এবং ৮.৭ শতাংশের বেশি হারে পাবেন ৮৯ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের বিদ্যমান বাজেট সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাতা প্রদানে কিছু শর্তও যুক্ত করা হয়েছে—

ক. উক্ত বাড়িভাড়া ভাতা পরবর্তী জাতীয় বেতনস্কেল অনুসারে সমন্বয় করতে হবে।

খ. ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এবং ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, কৃষি ডিপ্লোমা ও মৎস ডিপ্লোমা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন/আদেশ/পরিপত্র/নীতিমালা অনুসরণপূর্বক নিয়োগের শর্তাদি পালন করতে হবে।

গ. বর্ণিত ভাতাদি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারীরা কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না।

ঘ. ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সব আর্থিক বিধি-বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।

ঙ. এ ভাতা সংক্রান্ত ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম দেখা দিলে বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত অনিয়মের জন্য দায়ী থাকবেন।

চ. প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জিও জারি করে জিও-এর ৪ (চার) কপি অর্থ বিভাগে পৃষ্ঠাংকনের জন্য পাঠাতে হবে।

 

শিক্ষকদের মূল তিন দাবি ছিল—

  • মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া,

  • ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা,

  • কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষকরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন— “প্রজ্ঞাপন নয়, দাবির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”