অবশেষে সাদুল্লাপুরের সেই সমালোচিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন এর বদলি, নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
গাইবান্ধা সংবাদদাতা:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আলোচিত অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি অধিগ্রহণে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন এবং তথ্য জানতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের দেখেই এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন। পরে নিজেও দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। গত রোববার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তের পরদিন সোমবার হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে জমির দখলদার ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়নি।
সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়।
তবে অভিযোগ, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও, ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। পরস্পরবিরোধী এই দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক।
উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, সাদুল্লাপুর ও জামুডাঙ্গা মৌজায় সরকারি ১ নম্বর খতিয়ান, ১/১ খতিয়ান এবং ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি ব্যক্তিগত নামে নামজারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ মার্চ তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০ এপ্রিল তাকে কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থল ছাড়েননি। বদলি স্থগিত করতে তদবিরের অভিযোগও ওঠে। পদোন্নতি ও বদলির পরও দীর্ঘদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
আরও পড়ুন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অনিদপ্তর, কুমিল্লা ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক মাদকবিরোধী অভিযান ৪ জন গ্রেফতার।
কুমিল্লা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযান ৩ জন গ্রেফতার
*বাকপ্রতিবন্ধী দুই বোনকে ২০ ঘণ্টা হেফাজতে রেখে পরিবারের হাতে তুলে দিলেন কাইয়ুম মুন্সি ও জালাল সরকার*