নওগাঁয় গৃহবধূ হত্যা রহস্য উন্মোচন: অজ্ঞান পার্টির মূল সদস্য হাসিনা গ্রেফতার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন, নওগাঁ সংবাদদাতা:
নওগাঁ শহরের বহুল আলোচিত গৃহবধূ ফাতেমা বেগম হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞান পার্টির মূল সদস্য হাসিনা বেগম (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি লুট করা স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকেও আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা বেগম ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর তার স্বর্ণালংকার লুটের কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (৬৫) কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার স্তুপে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন সকালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নওগাঁ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের ৮৫-৮৭টি সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে চশমা ও মাস্ক পরিহিত এক নারীকে একটি শিশু সন্তানসহ দেখা যায়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে।
পুলিশ আরও জানায়, গত ১৫ জুলাই বিকেলে নওগাঁ শহর থেকে বর্ষাইলগামী একটি ভ্যানে একই কৌশলে আরেক নারী যাত্রীকে টার্গেট করে হাসিনা ও তার এক সহযোগী। যাত্রীকে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুটের পর তারা মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার হাট চকগৌরীতে নামতে গেলে ভ্যানচালক যাত্রীর অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে সন্দেহ করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় হাসিনাকে আটক করার সময় তার আরেক সহযোগী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসিনাকে হেফাজতে নেয়।
ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা জানান, ঘটনার দিন তিনি উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগমের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলেন। পরে একটি ফার্মেসিতে গিয়ে একই রিকশায় ওঠেন। চলন্ত রিকশায় জুসের সঙ্গে 'জিওনিল' নামে ৬ থেকে ৭টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমাকে খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর তার শরীর থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে নদীর ধারের ময়লার স্তূপে ফেলে পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, লুট করা স্বর্ণালংকার শহরের জোয়ারদার জুয়েলার্সে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। হাসিনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকার কেনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া এই সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
আরও পড়ুন
শুহিলপুরে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার।
বিদ্যুৎ গেলেই মুমূর্ষু রোগীর দুর্ভোগ, রিসিপশনে চলে ফ্যান! বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
লালমাইয়ে এক জন্য প্রবাসী বিচার না পেয়ে নিজের কবর নিজেই খুঁড়লেন