বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: ছোট বোনকে লিভার দিয়ে নতুন জীবন দিলেন বড় বোন
রক্তের অটুট সম্পর্কের কাছে হার মেনেছে মরণব্যাধি লিভার সিরোসিস। মৃত্যুর প্রহর গোনা ছোট বোনকে নিজের লিভারের একাংশ দান করে নতুন জীবন উপহার দিয়েছেন বড় বোন। শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) এক দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই সফল লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দুই বোন আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি ও ইসমত আরা ইতি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা উপজেলার ২ নম্বর খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর তালুকদারের ছোট মেয়ে ইসমত আরা ইতি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। তিনি শরণখোলা সরকারি ডিগ্রী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী। অবর্ণনীয় কষ্টের মাঝে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে লিভার প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলে, পরম মমতায় পাশে দাঁড়ান তার বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আঁখি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছায় ছোট বোনকে লিভারের একটি অংশ দান করার দুঃসাহসিক ও মহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিগত পাঁচ মাস ধরে হাসপাতাল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর রক্তের সন্ধানে এক কঠিন লড়াই চালিয়েছে পরিবারটি। অস্ত্রোপচারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে আঁখি জানান, ছোটবেলায় বোনদের আক্ষেপ ঘোচাতে তিনি সবসময় বলতেন যে তিনিই তাদের ভাই এবং একজন ভাই বোনের জন্য যা করতে পারে, তিনি আজীবন তা-ই করবেন। নিজের লিভার দান প্রসঙ্গে আঁখি লেখেন, ছোট বোন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটিকে কোনো ত্যাগ নয়, বরং নিজের দায়িত্ব ও ভালোবাসা হিসেবেই অবিহিত করেন তিনি। লিভার সিরোসিসের মতো এমন জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা সাধারণ একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হলেও ইতির চিকিৎসায় স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় সংবাদকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো ক্যাম্পেইন চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। দেশ-বিদেশের বহু হৃদয়বান মানুষের আর্থিক সহায়তা ও স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই অস্ত্রোপচারের পটভূমি তৈরি হয়। চূড়ান্ত অস্ত্রোপচারের আগে পিতা আলমগীর তালুকদার এক বোনের এই আত্মত্যাগ যেন অন্যজনের জীবনের আলো হয়ে ওঠে, সেই প্রার্থনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। দীর্ঘ ও জটিল এই অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বোনই বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। উৎকণ্ঠার প্রহর শেষে অপারেশন সফল হওয়ায় ইতির পরিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট টিমের চিকিৎসক, নার্স ও সহায়তাকারী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও রক্ত দিয়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন পিতা আলমগীর তালুকদার। এক বোনের প্রতি আরেক বোনের এই অকৃত্রিম ত্যাগের গল্প এখন দেশজুড়ে প্রশংসায় ভাসছে; সবার একটাই প্রার্থনা—দ্রুত সুস্থ হয়ে আপন নীড়ে ফিরে আসুক এই দুই বোন।
কালীগঞ্জে দুর্নীতির দায়ে গোপালপুর হাইস্কুলর প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন
রবিবার(৫ জুলাই) ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমাহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তার দ্রুত অপসারণ এবং শাস্তির দাবিতে আজ সকাল ৯টায় বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। বার বার সাসপেন্ড, তবুও বহাল তবিয়তে! মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। ইতিপূর্বে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হলেও প্রতিবারই ‘উপরিমহল’ ও প্রভাবশালী চক্রকে ম্যানেজ করে স্বপদে ফিরে আসেন। চেয়ারে ফিরেই তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও দুর্নীতি ও অনিয়মে মগ্ন হন, যা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। চিত্তরঞ্জনের এই লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ঐতিহ্যবাহী গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান: "এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের অধীনে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ এখন ঘরের কাছের স্কুল বাদ দিয়ে দূরবর্তী কালীগঞ্জ ও কোলাবাজার ইউনাইটেড হাইস্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাচ্ছেন।" ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা মানববন্ধন থেকে ফুসে ওঠা জনতা ও অভিভাবকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে অপসারণ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ভাঙা শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা করতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লোকালয়ে বাড়ছে বন্য হাতির বিচরণ; উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা
উপজেলার পাহাড় বেষ্টিত পূর্বাঞ্চলের লোকালয়ে বেড়েছে বন্য হাতির অবাধ বিচরণ। বিগত কয়েকদিন ধরে দলবেঁধে লোকালয়ে বন্য হাতির বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বন্য হাতির অনিয়ন্ত্রিত বিচরণের কারণে ফসলের মাঠে গিয়ে চাষাবাদ করতে আতঙ্ক আর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় চাষিরা। জ্যৈষ্টপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল রাতে বন্য হাতির দল পাকা দেওয়াল ভেঙে আমার বসত ভিটায় প্রবেশ করে কাঠাল বাগান, নানাবিধ ফলজ গাছসহ অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। এছাড়া আগের দিন ওই এলাকার ব্রাহ্মণ বিলে কৃষকের স্কীমের পাইপ ভেঙে চুরমার করে দেয় বলে জানান কৃষক নিমাই দে। আর এই বন্য হাতির দল আবু সুফিয়ান নামের এক ব্যক্তির কাঠাল বাগানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে জানান তিনি। হাতির আক্রমণ থেকে ফসল ও জানমাল রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার জ্যৈষ্টপুরা, আমুচিয়া, গুচ্ছগ্রাম ও করলডেঙ্গার পাহাড়ি এলাকায় হাতির দল প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে। দিনের বেলা পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই হাতির দল লোকালয় ও ফসলি জমিতে নেমে আসছে। এতে সাধারণ মানুষ জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী বলেন, হাতির দল শুধু ফসলের ক্ষতিই করছে না, বরং বসতবাড়ি ফলদ বাগানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। হাতির আক্রমণের ভয়ে অনেক কৃষক ক্ষেতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এভাবে হাতির ভয় থাকলে এলাকায় চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ হাতির কোন রকম ক্ষতি না করে মানুষ ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, পাহাড়ে যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয় তখন বন্যহাতিগুলো লোকালয়ে প্রবেশ করে। নির্বিচারে বন উজাড় করা হচ্ছে যার কারণে প্রতিনিয়ত হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে খাদ্যের অনুসন্ধান করছে। তবে এ বিষয়ে জনগণের জানমালের যাতে ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি বন্য হাতিগুলোও যাতে সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যে সকল কৃষকের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
পূর্ব কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় ও কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়'র সভাপতি নির্বাচিত হলেন মোহাম্মদ আজগর
চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পূর্ব কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় ও কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আজগর। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র (নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭২.১৮.০০৩.২৪.৪১) অনুযায়ী ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা চশিবো/বিদ্যা/চট্ট-দঃ(বোয়াল) ১২১৪/৯৭ (অংশ -১)/১০৮১(২)নং স্মারকমূলে তাঁকে পূর্ব কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটিতে জেলা শিক্ষা অফিসার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে রয়েছেন সৈয়দ ইফতেহা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ দিদার আলম এবং পদাধিকারবলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। মোহাম্মদ আজগর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুনরায় কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অপর দিকে গত ১ জুলাই, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র (নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭২.১৮.০০৩.২৪.৪১) অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা চশিবো/বিদ্যা/চট্ট-দঃ (বোয়াল)/১১৯৮/৯৭ (অংশ-১)/১০৩৪ (২)নং স্মারকমূলে তাঁকে কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়'র সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য অমর নাথ চক্রৰ্ত্তী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীত অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও এবং পদাধিকারবলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। স্বনামধন্য বিদ্যালয় দুটো'তে সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লা আল মামুন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আজিজুল হক চেয়ারম্যান, সদস্য শওকত আলমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বোয়ালখালীতে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলায় ২৮ পিস ইয়াবাসহ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান মফিজ (৪০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল বোয়ালখালী পৌর সদরের বুড়িপুকুর পাড় রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মফিজ বোয়ালখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোমদণ্ডী মুজাহিদ চৌধূরী পাড়ার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। বোয়ালখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিংওয়াই মারমা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মফিজুর রহমান মফিজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে পাওয়া যায় ২৮টি ইয়াবা। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৮ পিস ইয়াবাসহ মফিজুর রহমান মফিজকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে (রবিবার) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, আহ্বায়ক কমিটি গঠন
কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এবং তুষার ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে কালীগঞ্জ সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগেএমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং এ.এইচ.এম. আলিমের সঞ্চালনায় কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ ৪আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ ৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জননেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ। । এছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিভিন্ন ট্রেডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ ব্যবসায়ী সভায় অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সদস্যদের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর অনুমোদনক্রমে প্রধান অতিথি মাওলানা মোঃ আবু তালিব পূর্বের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে -' হামিদুল ইসলাম হামিদ কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের সার্বিক কল্যাণে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে বাজারের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।' পরবর্তীতে সর্বসম্মতিক্রমে তুষার ইলেকট্রিকের স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হককে আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের অন্যতম নেতা শফিকুল ইসলাম নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেবে বলে সভায় জানানো হয়। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ব্যবসায়ী সমাজে নতুন উদ্দীপনা ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যুবসমাজের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
কালীগঞ্জে সুস্থ সমাজ, সুন্দর আগামী'—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগের আয়োজন করে কালীগঞ্জ ছাত্র ও যুব সমাজ, এই আয়োজন করে। শনিবার( ৪ জুলাই)কালীগঞ্জ পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা সেবার ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্যাম্পে এসে সেবা গ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, সমাজের অসহায় ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। এলাকায় উপকারভোগীরা, বলেন, বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তারা এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান।
ধামরাই এ ৭৪ নং সীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুল ভূমি দাতার নাম নথি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ
পীরগঞ্জে সেটেলমেন্ট অফিসে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে, কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না ভূমি মালিকগণ
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ পীরগঞ্জে সার্ভেয়ারের নিচ্ছে গোপনে টাকা, দালাল ছাড়া মিলছে না জমির মাট পর্চা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সেবা নিয়ে নাখোশ স্থানীয়রা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবাই মেলে না। আর এই অনিয়মের সঙ্গে অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। এ ছাড়া রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য।সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, জমির রেকর্ড, মাটপর্চা, মৌজার নকশাসহ জমি-সংক্রান্ত সব সেবার ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত টাকা লাগে। আর এর যোগসূত্র দালাল মোঃ শাহনাজ আলী পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফিরোজ বিন আনছারী দালালদের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন। সেটেলমেন্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ভূমি মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নিয়ে মাটপর্চা নকল, খতিয়ান ও নকশা দেওয়ার কথা সেটেলমেন্ট অফিসগুলোর। আবার ফি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু পীরগঞ্জে বাড়তি টাকা ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক গত মঙ্গলবার পীরগঞ্জ উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ ফিরোজ বিন আনছারী পৌরসভার মিত্রবাটি মৌজার ১ নং ওয়ার্ডের জৈনকে ব্যক্তির সুইমিং পুলের কক্ষে বসে দালাল শাহজাহানের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতে নিয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুরে দেখা গেছে, সিটিজেন চার্টারের সঙ্গে এখানে মিল নেই সেবা প্রদানে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ-সংক্রান্ত সেবায় সরকারনির্ধারিত ফি ছাড়াও বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া মিলছে না জমির মাটপর্চা, আর মৌজার নকশাও। বাড়তি টাকা ছাড়া সেবা নিতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে কাজ না হওয়ার ভয়ে অনেকেই এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। ওই অফিসের সামনে অবস্থানকালে দালালদের আনাগোনাও চোখ পড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দেওয়ার কথা বলে সেবা নিতে আসা মানুষজনের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা । তবে সাংবাদিকের অবস্থানের বিষয়টি টের পেয়ে সার্ভেয়ার ফিরোজ বিন আনছারী ও দালাল শাজাহানসহ দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। এছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে নকশায় জমি পরিমাণ কম করে দেওয়ার বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি দেখিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। মোটা অংকের অর্থের বিনিময় ১থেকে ২ শতক জমি কম থাকলেও সমস্যা বোধ মনে করছেন না সার্ভেয়ার ফিরোজ আনছারী এমনটাই দাবি সেবাগ্রহীতাদের। এই বিষয়ে, পীরগঞ্জ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পলাশ কুমার রায়ের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে। তিনি ফোন রিসিভ করেনি মূলত পীরগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসে তিনি অফিস করেন মাত্র দুই দিন, বৃহস্পতিবার ও রবিবার, তাও আবার সঠিক সময়ে অফিসে আসেন না এই কর্মকর্তা।
রাফাত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কালিগঞ্জে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বারদহা বাজারে কিশোর রাফাত হোসেন (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ জুলাই রোজ শনিবার। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কুদ্দুস গাজী। তিনি বলেন, একটি কিশোরের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে আড়াল করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রাফাতের মা শাহানারা খাতুন, আব্দুল লতিফ সরদার, আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, রফিকুল ইসলাম, রমজান আলী, আলতাফ হোসেন, আবুল কাশেম, মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ। রাফাতের মা শাহানারা খাতুন অভিযোগ করেন, তার ছেলে স্থানীয় আক্তারের ফার্মে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। গত ১৩ জুন তাকে হত্যা করে ফার্মে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে শনিবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ কিশোর যুবক বৃদ্ধরাও অংশ নেন। আব্দুল লতিফ সরদার বলেন, স্থানীয় অর্থবিত্তের মালিক ও প্রভাবশালী আক্তারের মাদকাসক্ত ছেলে অলিদ এই রাফাতকে শুধু না নেশা টাকা যোগাড় করতে নানাজনকে নানা ভাবেই নির্যাতন নিপীড়ন এর আগেও করেছে। তবে এবার একেবারে করুণ শিকার হলো দিনমজুরের ছেলে রাফাত। দিনমজুরের সন্তান হওয়ায় রাফাতের পরিবার বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এমনটি স্বাধীন দেশে হতে পারে না। আব্দুল মালেক বলেন, তদন্তে গাফিলতি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। রমজান আলী বলেন, অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আলতাফ হোসেন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আবুল কাশেম বলেন, রাফাতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মাছুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, একাধিক কর্মসূচি পালন ও পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা অবিলম্বে রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শফিকুল ইসলাম জানান, ১৩ জুন আক্তার হোসেনের মুরগির ফার্মে কর্মরত অবস্থায় সুকৌশলে ফার্ম মালিকের ছেলে অলিদ হোসেন এই হত্যা সংঘটিত করে। এবং ফার্মের নীচু বাঁশে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশের কাছে বারবার জানানো স্বত্ত্বেয় পুলিশ কোনভাবেই নড়াচড়া করছে না। শফিকুল বলেন, গরীব বলে কি আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?
কালিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উন্নতমানের বিভিন্ন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল তিনটায় উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এই বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে উন্নতমানের বীজ ও রাসায়নিক সার তুলে দেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুফতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসীম উদ্দীন এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মানবিকা শীল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি চর্চার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান। উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার উপকারভোগী কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় মাদক ও ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেপ্তার ১
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি কাভার্ড ভ্যানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ ও বিড়ি জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আব্দুল মজিদ শেখ (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় র্যাবের একটি আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল মজিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় মাদক ও বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মথুরাপুর এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে এসব অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়। র্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরকীয়ার জেরে ৩ সন্তানের জননীর চুল কাটলেন স্বামী
প্রতিনিয়ত পরকীয়ার দংশনে ছারখার হয়ে যাচ্ছে একের পর এক সাজানো সংসার। কখনো স্বামী স্ত্রীকে ফেলে, আবার কখনো স্ত্রী স্বামীকে ফেলে, অবুঝ সন্তানের মুখের দিকে না তাকিয়ে অন্ধ সুখের নেশায় ঘর ছাড়ছেন। পরকীয়ার সাময়িক মোহে পড়ে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার, সামাজিক মর্যাদা এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে এক চরম অনিশ্চিত ও অন্ধকার জীবনে পতিত হচ্ছেন তারা। সম্প্রতি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের খেদাপাড়া গ্রামে এমনই এক পারিবারিক কলহের জেরে তিন সন্তানের জননী সিনথিয়া বেগমের মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। পরকীয়ার অভিযোগে তিন সন্তানের জননীর মাথার চুল কাটলেন স্বামী এ দেখা যায়, পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভুক্ত নারী কান্নাভেজা কণ্ঠে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিচ্ছেন। অন্যদিকে তার স্বামী মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পারিবারিক এই চরম অশান্তি ও ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাটি মূলত আমাদের সমাজে চলমান পরকীয়া ও এর ভয়াবহ পরিণতির একটি জ্বলন্ত খণ্ডচিত্র। দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো বিবাহিত নারীর সাথে তার স্বামীর সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তা পরকীয়া বা ব্যভিচার (Adultery) হিসেবে অপরাধ বলে গণ্য হতো। তবে এই আইনে কেবল পুরুষকে দায়ী করার সুযোগ ছিল, নারীকে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই আইনের সংশোধন ও আধুনিকায়নের দাবিতে উচ্চ আদালতে নানা আইনি বিতর্ক ও রিট চলমান রয়েছে, যাতে সমাজ বাস্তবতার সাথে মিল রেখে সমতা আনা যায়।পরকীয়ার অভিযোগ থাকলেই কোনো স্বামী তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন করতে পারেন না বা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। দণ্ডবিধি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) অনুযায়ী, কোনো নারীর চুল কেটে দেওয়া, মারধর করা বা সামাজিক অবমাননা করা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো স্ত্রী যদি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান, তবে স্বামী আইনি উপায়ে বিবাহবিচ্ছেদ (Talaq) বা সন্তানের অভিভাবকত্বের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, কিন্তু নির্যাতন করার কোনো আইনি অধিকার কারও নেই। অভিভাবকত্ব ও দেনমোহর: পরকীয়ার কারণে কোনো নারী ঘর ছাড়লে বা বিবাহবিচ্ছেদ হলে সন্তান কার কাছে থাকবে, তা আদালত নির্ধারণ করে সন্তানের সর্বোচ্চ মঙ্গলের (Welfare of the child) ওপর ভিত্তি করে। তবে অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ থাকলেও স্ত্রীর দেনমোহরের (Dower) অধিকার পুরোপুরি খর্ব হয় না, যা অনেক সময় আইনি জটিলতা তৈরি করে। সচেতনতাই একমাত্র সমাধান ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো: আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছেন, খেদাপাড়া গ্রামের এই ঘটনার বিষয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগদান করেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন— সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ
বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগদান করেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন— সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ মোঃ আশরাফজ্জামান খান তরু বদলির আদেশ জারির আট দিন পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আলোচিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় যোগদান করেননি। বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তিনি এখনো ছাড়পত্র (রিলিজ) গ্রহণ করেননি৷ বরং বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে আরও কিছুদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি বাতিল বা স্থগিত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমেও তদবির করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল কাউনিয়া উপজেলায় বদলি এবং ২৪ মার্চ সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি হলেও তিনি সাদুল্লাপুর ছাড়েননি। একের পর এক বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল ও উপজেলা জুড়ে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরকারের অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সময় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে বিভাগীয় তদন্তের প্রেক্ষাপটে তাকে বোদায় বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বদলির এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও তাকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী এবং বদলি স্থগিতে এখনো সক্রিয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনা ও বদলির আদেশের পর থেকে এসিল্যান্ড মো. জসিম উদ্দিন অনিয়মিতভাবে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে আসছেন। গত ২১ জুন বিভাগীয় তদন্তে উপস্থিত হওয়ার পরদিন ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের কাজে অংশ নেন। এরপর কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার অল্প সময়ের জন্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মস্থল ত্যাগ ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অফিসের কর্মচারীরা জানান, 'দুপুরের পর স্যার অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন। এর আগে দুপুর পর্যন্ত তিনি এসএসসি পরীক্ষার নলডাঙ্গা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা আমাদের জানা নেই।' তবে কর্মস্থল ত্যাগ বা যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে সাংবাদিক হেনস্থা এবং অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদলির আদেশ কার্যকর না করে তদবিরের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করায় প্রশাসনিক মহলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, তার এ আচরণ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। জসিম উদ্দীনের বদলি ও ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় তিনি এখনো রিলিজ নেননি। বদলি স্থগিত করে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চেষ্টাও করছেন তিনি। বদলির আদেশের পরেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'বদলির আদেশ হওয়ার পরও তিনি কেন যোগদান করেননি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক হেনস্থা ও অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলোরও যাচাই-বাছাই চলছে।' অন্যদিকে, বদলির আদেশ অমান্য করার ঘটনাকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে ভূমি মন্ত্রণালয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, 'বদলির আদেশ অমান্য করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং তদবিরের আশ্রয় নেওয়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও জানান, গত ৪ জুন ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনে কোনো ধরনের তদবির না করার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মো. জসিম উদ্দিন সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনার পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদুল্লাপুর ও জামুডাঙ্গা মৌজার সরকারি খাস জমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ, নামজারি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি খাস জমি ও মূল্যবান মেহগনি গাছ রক্ষায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে গত ২৬ জুন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি ও একাধিক বদলির পরও একই কর্মস্থলে বহাল থাকা এবং সর্বশেষ বদলি আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল ও জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি একটি প্রভাববলয় গড়ে তুলছেন, যা ভূমি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বদলি আদেশ কার্যকর করে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করানো না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
কালীগঞ্জে পানের বরজে মিললো ১২ কেজি ওজনের গাঁজা গাছ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি পানের বরজের ভেতর থেকে বিশাল আকৃতির একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা গাছটির ওজন ১২ কেজিরও বেশি। এই ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই গাঁজা গাছটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ফারাশপুর গ্রামের একটি পানের বরজে অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় বরজের ভেতর অত্যন্ত গোপনে চাষ করা বিশাল আকারের ওই গাঁজা গাছটি উপড়ে জব্দ করা হয়। পরে ওজন মেপে দেখা যায় গাছটি ১২ কেজিরও বেশি। মাদক চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকেই সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানের বরজের আড়ালে অভিনব কায়দায় এই গাঁজার চাষ করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজির বেশি ওজনের গাছসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।