বাংলাদেশ বার্তা টুডে
দেশের স্বার্থে বিএনপি আপসহীন : রাশেদ খান
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাশেদ খান বলেন, যারা বিএনপিকে ভারতের দালাল বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন,তারা বাস্তবতার কাছে ভুল প্রমানিত হয়েছেন। বিএনপি যদি ভারতের দালালি করত, তাহলে সরকার প্রধান চীন সফরের আগে ভারত সফর করতেন। বিগত প্রায় ১৮ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিল বলেই চীনের মতো উন্নয়নের পথে এগোতে পারেনি বলেছেন - বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি বলেন -' বিএনপি কখনোই কোনো দেশের দালালি করে না,বরং দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটি সব সময় আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশি ও বন্ধু প্রতিরাষ্ট্র আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তবে সেই সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের আধিপত্য বা দাদাগিরি বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে দেশের স্বার্থ নক্ষায় তারা চোখে চোখ রেখে জবাব দিচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আছে বলেই বিজিবি এত শক্তিশালী অবস্থানে আছে।রাশেদ খান বলেন গত সংসদ নির্বাচলে দলের গ্রুপিং এর কারনে আমরা ঝিনাইদহ ৪ আসনটি হারিয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন,জামায়াত ও এনসিপির কিছু নেতা আজ সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। অথচ গত ১৭ বছর তারা নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে তালাই খুলতে পারেননি। এখন তারা বড় বড় কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। কিন্তু ইউনুস সরকারের সময় সরকারি বরাদ্দের বড় অংশ নিজের এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেটি কি দুর্নীতির মধ্যে পড়েনা? রাশেদ খান বলেন, বিএনপি করতে হলে কোন প্রকার চাদাবাজি করা চলবে না শালিশ করে টাকা নেওয়ায যাবে না,শহরের ভ্যান রিকসা থেকে চাদা তুলা, মটর মালিক সমিতি থেকে ৮/১০ হাজার করে টাকা নেওয়া যাবে না। এভাবে টাকা নিলে বিএনপির রাজনীতি করা যাবে না। এসময় আরও সংবাদ সস্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, লুতফর রহমান লেন্টু,ইসরাইল হোসেন, বাহারুল ইসলাম কাজল প্রমুখ। অপরদিকে তিনি বলে কালীগঞ্জ ওসি জেল্লাল হোসেন বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আমরা এ ওসি কালীগঞ্জ চাই না।
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাথে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ: কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী'র প্রধানসহ আটক ২, নিহত ১
সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু ও ডাকাত দল দমনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সুন্দরবনের গহীনে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র আস্তানায় টানা দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে কোস্ট গার্ডের সাথে ডাকাত দলের তীব্র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাহিনী প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে শওকত সরদার নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। গতকাল শনিবার দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে যে, খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকাল ৫টা থেকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। টানা দুই দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানের একপর্যায়ে দস্যুদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা। সে সময় বোট দুটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে, ডাকাতদল তা অমান্য করে কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। গোলাগুলির একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর বোটটি পানিতে ডুবে যায়। পুরো অভিযানে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ এবং ২১৬ রাউন্ড তাজা গোলা ফায়ার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধ শেষে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) ও ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করে। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আটক রবিউল ও নিহত শওকত উভয়ই খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। এদিকে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু করে। মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরও এক ডাকাতকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা এই ডাকাতকে পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ডাকাত দলের ব্যবহৃত ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃত ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের বিশাল সাইকেল র্যালী
বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশাল সাইকেল র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাতটায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালীতে শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র্যালীটি শহরের পোস্ট অফিস মোড়, নারকেলতলা মোড়, খুলনা রোড মোড়, সার্কিট হাউজ মোড় এবং বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সরকারি কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। র্যালী চলাকালে শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে নানা সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নুরুন্নবীর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি আল মামুন, অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক আফজাল হোসেন, মিডিয়া সম্পাদক মাসুদ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শিবিরের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও সমর্থকরা। র্যালী শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি মাওলানা রুহুল আমিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকের ভয়াবহতা বর্তমানে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষাক্ত থাবা বসিয়েছে। মাদকের করাল গ্রাসে পরিবারে অশান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তরুণদের মাঝে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান এবং ইসলামের শাশ্বত আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজকে আরও বেশি গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের মরণনেশা ও এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই আজকের এই সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। মাদকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থান সবসময় আপসহীন ও পরিষ্কার। আগামী দিনেও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
উপকূলীয় কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল ব্রি ধান ও কৃষি উপকরণ বিতরণ
উপকূলীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'লিডার্স'-এর উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে জলবায়ু সহনশীল ব্রি ধান-১০৩ ও ব্রি ধান-৮৭-এর বীজ, বিভিন্ন ধরনের সবজি বীজ এবং জৈব সার বিতরণ করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উপকরণ কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম শফিউল আলমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নাজমুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিজুর রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বুলকালাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্যামল কুমার, সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কমলা রানী এবং সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা মোছা. শামীম ও সি এম এম আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সনাতন পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জলবায়ু সহনশীল ও লবণ সহিষ্ণু ধানের জাত সম্প্রসারণ অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। ব্রি ধান-১০৩ ও ব্রি ধান-৮৭ উপকূলের কৃষকদের অধিক ফলন নিশ্চিত করতে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও চাষাবাদ টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি সবজি বীজ ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকেরা একদিকে যেমন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় উদ্বুদ্ধ হবেন। লিডার্সের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এই উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বোরো মৌসুমেও সংস্থাটির উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে লবণ সহিষ্ণু ব্রি ধান-৯৯ ও ব্রি ধান-৬৭-এর বীজ বিতরণ করা হয়েছিল। সেই মৌসুমে কৃষকরা সন্তোষজনক ও লাভজনক ফলন পাওয়ায়, এবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমন মৌসুমে ব্রি ধান-১০৩ ও ব্রি ধান-৮৭-এর বীজসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হলো। স্থানীয় কৃষকেরা লিডার্সের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষির সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষির উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: কলারোয়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
কৃষির উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: কলারোয়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: কৃষির উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় কলারোয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ ও দক্ষ করে তুলতে আয়োজিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কলারোয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কংগ্রেস কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর, পুষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। কলারোয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কলারোয়া উপজেলা শাখার মুখপাত্র মো. রইছ উদ্দীন। কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং একটি আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বকশীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার দুই শিক্ষার্থী মোঃ আওলাদ হোসেন(৮) ও মোঃ মাহিম মিয়া(৮)কে বলৎকার করায় মোঃ সানজু বকসীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্ত সানজু বকসী (৫২) রামধন বকসীপাড়ার মৃত জয়নাল বকসীর ছেলে। শনিবার (২৭ জুন) বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া আঞ্চলিক সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন শেষে বলাৎকারকারী মোঃ সাজু বকসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলটি ঐ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থী মাহিম মিয়া, শিক্ষার্থীর পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম,বিএনপি নেতা মোঃ শামীম মিয়া ,এনজিও কর্মী মোঃ শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক কর্মী মোঃ শাহাবুল ইসলাম , শিক্ষক রাসেল মিয়া, পিয়াল হাসান প্রমুখ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মাদ্রাসার পাশেই বাড়ি হওয়ায় ঐ দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে দেড় মাস আগে সানজু বকসী তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একবার বলাৎকার করে এবং ২৪-২৫ দিন আগে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় রাত ১ টায় যখন সবাই ঘুমিয়ে ছিল তখন মাহিম মিয়াকে আরেক বার তার শরীরের কাপড় খুলে তাকে বলাৎকার করে।সে চিল্লাচিল্লি করতে ধরলে প্রথমে তার মুখ চেপে ধরে এবং বিষয়টি কাউকে বললে তাকে মারার হুমকি প্রদান করে। এমনকি বিষয়টি তার পিতা-মাতাকে জানাতেও নিষেধ করে এবং বলে তোর পিতা মাতাকে জানালে তোর পিতা মাতাকে মেরে ফেলবো। তাই মাহিন বিষয়টি ভয়ে কাউকে বলেনি।অপর ভিকটিম আওলাদ হোসেন জানান সেও একই ব্যাক্তি দ্বারা ১ মাস আগে বলাৎকারের শিকার হন।তাকেও একই ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করা হয়।মানসিক ভাবে চাপে থাকা মাহিন বাধ্য হয়ে তার মাকে বললে বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে এলকায় ছড়িয়ে পড়ে।উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদ্রাসার হুজুর নুর আলাম জানান তিনি ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ছিলেন না।তিনি ছুটিতে ছিলেন।অন্য একজনকে দ্বায়িত্ব দিয়ে সে পারিবারিক কাজে ব্যাস্ত ছিলেন।ছুটি শেষে মাদ্রাসায় এসে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং সাথে সাথে সভাপতি সহ কমিটির সকলকে অবহিত করেন।পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে বসে মিমাংসা করার কথা থাকলেও সানজু বকসীর ও তার লোকজন আসেনি। আমিও ধরনের ঘটনার বিচার দাবি করছি।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর : নতুন অধ্যয়ের সুচনা
চীন ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। বাংলাদেশ—চীন সম্পর্ক প্রাচীন ও প্রায় তিন হাজার বৎসরের পুরোনো। বাঙালি সভ্যতা ও চীনা সভ্যতার মাঝে খ্রিষ্টের জন্মেরও হাজার বৎসর আগে থেকে যোগাযোগ আছে। প্রাচীনকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর মাধ্যমে চীন এবং বাংলায় মানুষের যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে চীন বাংলাদেশর আধুনিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নের এক অন্যতম অংশীদার চীন এবং বাংলাদেশ চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক পক্ষ। সম্প্রতি ২০১৭ সালেপ্রধানমন্ত্রীর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের ২ জানুয়ারি প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীনে। ২০০২ সালে জোট সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া চীন সফর করেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির সঙ্গে দেখা করেন এবং এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানান। চীন সফর কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন : প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অতীতে ভারত কেন্দ্রিক প্রাধান্য থেকে সরে এসে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতিতে একে কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করেন তারা। কারণ চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের একটি প্রধান অংশ চীনকেন্দ্রিক। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে চীন সফর জরুরি ছিল বলে মনে করেন কূটনীতিকরা চীন সফর কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অতীতে ভারত কেন্দ্রিক প্রাধান্য থেকে সরে এসে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতিতে একে কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করেন তারা। কারণ চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের একটি প্রধান অংশ চীনকেন্দ্রিক। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে চীন সফর জরুরি ছিল বলে মন হয়। বিএনপি সরকারের সঙ্গে অতীতে চীনের সম্পর্কে কয়েকবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিএনপি কয়েক বছর আগে থেকেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন কিংবা চীনের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার একটা কৌশল নেয়। অতীতে তাইওয়ান ঘিরে ঢাকার অবস্থান বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়। আবার ২০২১ সালে চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ঘিরে বিএনপি বিবৃতি দেয়। সেটি নিয়েও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিরোধ ঘটে। তবে এবার বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে ‘এক চীন নীতি’-কে স্বীকৃতি দেয়। সেটি সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশলগত অবস্থান। যৌথ ঘোষণাতেও দুই দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ‘সরকার ঐ সময় একটা ভুল করে বসেছিল, কিন্তু সেই ভুল থেকে তারা দ্রুত বেরিয়েও এসেছে। আর সেই ভুলটাকে মনে করিয়ে দেওয়াতে চীনেরও কোনও স্বার্থ নেই। চীনের স্বার্থ বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোতে। আর বাংলাদেশ যেহেতু ঐ অবস্থান থেকে সরেই এসেছে, এ বিষয়ে তাদের আর চাওয়ার কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। এখন আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমরা যাতে ভবিষ্যতে আবার একই রকম ভুল না করি। একই ভুল আবার যেন করে না বসি।’ চীন সফরে প্রাপ্তি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের চীন সফরে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপলে’ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তিগুলো সই হয়। মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ সই হয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশ এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের বিভিন্ন গভর্নমেন্টের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি সই হয়েছে। আর তিনটি হয়েছে বাংলাদেশের বিডার সঙ্গে চীনের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের এবং একটা সই হয়েছে পলিটিক্যাল পার্টি টু পলিটিক্যাল পার্টি অর্থাৎ দুটি দেশের বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন বলেন - গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। এছাড়া টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটি পৃথক এমওইউ এবং বাংলাদেশ থেকে জাতীয় ফল কাঁঠাল রফতানি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যৌথ ইশতেহারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ-চীন একটি যৌথ ইশতেহার তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পক্ষ বিশ্বাস করে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ বয়ে আনবে। নতুন যুগে দুই দেশ ও দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে উভয়পক্ষ তাদের ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ বা ‘সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে’ আরও এগিয়ে নিয়ে যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভাগ্যের কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারা বজায় রাখতে, শাসন পরিচালন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি কৌশলগত সংলাপের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। এ ছাড়া কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ ব্যবস্থার পথ খোঁজার বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। শিক্ষা জনশক্তি উন্নয়নে, সামাজিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি গবেষণায় চীনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু মিলিয়ে চীনের সঙ্গে আমাদের বহুদিন ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব; সেই সম্পর্কটাকে আর নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সফরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অনেকে মনে করেন, এই সফরে ১৭টির মতো চুক্তি, প্রটোকল অথবা স্মারক সই হয়েছে এবং সেগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। আমি মনে করি, এই চুক্তিগুলো আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে। সেজন্য আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী এই সফরটা অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের পররাষ্ট্র-সম্পর্কের অগ্রগতির নতুন দুয়ার উন্মোচন হবে, এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা এগিয়ে যাবে।’ এটাই সবার প্রত্যাশা। সহকারী অধ্যাপক, আবুবকর বিশ্বাস মকসেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬
“শিশু শ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| কারিতাস বাংলাদেশ, দিনাজপুর অঞ্চলের লাইট প্রকল্প এ কর্মসূচির আয়োজন করে| নবীগঞ্জহাইস্কুল, প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়| র্যালিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কারিতাস বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন| র্যালি শেষে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়| আলোচনা সভায় নবীনগন&জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ এস এম দবিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রহিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আতিয়ার রহমান, রঘুনাথপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ শাহিনুর আলম, নবীনগন&জ হাই স্কুলের সরকারি শিক্ষক মোঃ নূর ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম আজাদ| আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন “শিশু শ্রম একটি সামাজিক ব্যাধি| শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে| একটি শিশুও যেন অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে|” শিশু শ্রম শিশুদের সাভাবিক শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে| টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জন এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনের জন্য শিশু শ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা জরুরি| এ লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমšি^ত উদ্যোগ প্রয়োজন| এ সময় কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার বাবলু মুরমু বলেন, “প্রত্যেক শিশুরই নিরাপদ ˆশশব, মানসম্মত শিক্ষা ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে| শিশু শ্রম শুধু একটি শিশুর বর্তমানকেই নয়, তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে| তাই শিশু শ্রম প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সকল সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্প শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে|” অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্পের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন| অংশগ্রহণকারীরা শিশু শ্রমমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন| অনুষ্ঠানের শেষে শিশুদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়| শিশু শ্রম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন|
দিনাজপুরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২২১ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুর জেলায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২২১ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আগামী ২৮ জুন (রোববার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ন্যায় জেলার ১৩টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের মিলনায়তনে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে সাংবাদিক অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসূল রাখি জানান, জেলার ২ হাজার ৬১৬টি কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ১৫টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং ২ হাজার ৫৮৯টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ মোট ৫ হাজার ৮৪৪ জন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুদের মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪৩ হাজার ৭৯ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৪২ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলম সিদ্দিকী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এটিএম নাজমুল হুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন মো. নাহিদসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। : দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় আয়োজিত সাংবাদিক অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন, ২৫ জুন ২০২৬; জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সংক্রান্ত তথ্য।
আমরা দেশকে নতুন করে সাজাবো : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
আমরা দেশকে নতুন করে সাজাবো, বিএনপি সরকার ব্যর্থ হওয়ার জন্য আসেনি। এই সরকার সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার| তাই আমরা ব্যার্থ হব না।আমরা দেশকে নতুন করে সাজাবো।ব্যার্থতার জায়গাগুলোকে আমরা চিহ্নিত করে জঞ্জাল পরিস্কার করে নতুন বাংলাদেশ তৈরী করব বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড নিতাই রায় চৌধুরী। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, -' বিগত ১৮ বছরে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠান ধংস করা হয়েছিলো। সেগুলো নতুন জাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সেই জায়গাগুলোতে কাজ করছি।এদেশের সংস্কৃতি রক্ষায় বিশ্বের ৪৮ টা দেশের সাথে সাংস্কৃতিক কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের কাজ চলছে|' জেলার শিল্পকলা একাডেমীতে নতুন করে সুস্থ ধারার যাত্রা আবারো শুরু হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত দিনের অশ্লীল যাত্রা বাদ দিয়ে জীবনমুখী যাত্রা আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জে মেডিকেল কলেজের দাবিতে মানববন্ধন
ঝিনাইদহে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ জেলার মধ্যবর্তী এলাকা কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়ায় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় কালীগঞ্জ শহরের প্রধান বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ঝিনাইদহে বরাদ্দকৃত মেডিকেল কলেজটি জেলার ছয় উপজেলার যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনায় কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংলগ্ন বেজপাড়ায় স্থাপন করা হলে জেলার অধিকাংশ মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পাবেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক সোহেল আহম্মেদ। বক্তব্য দেন কালীগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম ও বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সংগঠক প্রভাষক আনিসুর রহমান, সাংবাদিক জামির হোসেন, সমাজসেবক আশরাফুল ইসলাম, পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম ইনতা, ব্যাংকার আবু জাফর, প্রভাষক খায়রুল ইসলাম, কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ, ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন উষা'র সভাপতি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। বক্তারা বলেন, কালীগঞ্জের বেজপাড়ায় সরকারি পতিত জমি রয়েছে। সেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করলে ভূমি অধিগ্রহণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। একই সঙ্গে কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী এলাকায় হওয়ায় কোটচাঁদপুর, মহেশপুর এবং পাশের চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষেরও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে। তারা দ্রুত বেজপাড়ায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গবেষণা সপ্তাহ–২০২৬ '
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় নতুন গতি আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টার আয়োজন করতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী 'গবেষণা সপ্তাহ ২০২৬'। আগামী ২৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলা, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠু ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো — এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আয়োজনটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ও রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। তাঁর প্রত্যাশা, 'রিসার্চ উইক ২০২৬' বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণমাত্রার গবেষণাসহায়ক প্রতিষ্ঠায় পরিণত করার পথে মাইলফলক হয়ে উঠবে। পাঁচদিনের এই আয়োজনে থাকছে একাধিক কর্মশালা ও সেমিনার। SPSS, Stata, NVivo এবং পাইথনভিত্তিক মেশিন লার্নিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের সহযোগিতায়। এর বাইরে বিদেশি বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, একাডেমিক ও গবেষণা রাইটিং, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার কৌশল এবং গবেষণায় AI-এর প্রয়োগ নিয়েও আলাদা সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তরুণ গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে রাখা হয়েছে 'রিসার্চ আইডিয়া কম্পিটিশন' এবং একটি অনলাইন সেশন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা অর্থায়নে ৯৫৩টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছে এবং সেসব গবেষণার ফলাফল দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ২৪ জুন রাত ৯টা থেকে চালু হওয়া গুগল ফর্মে নিবন্ধন করতে হবে। অফলাইন সেমিনারে আসন মাত্র ৮০টি, তাই প্রথমে আসলে আগে সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই।
সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উদযাপিত: মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
‘মাদককে না বলুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার যৌথ আয়োজনে মানববন্ধন, বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের গেটের মুখে এক বিশাল মানববন্ধনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধন শেষে পার্কের গেট থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে এসে শেষ হয়। র্যালিতে “মাদককে না বলুন” স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরবর্তীতে সরকারি মহিলা কলেজের হলরুমে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এবং সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক বেগ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা তথ্য অফিসের উচ্চমান কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের সহকারী পরিচালক রাজিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, যে মাদক অফার করে সে কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। নেশার ফাঁদে পড়ে মানুষ তার জীবন ও পরিবারসহ সবকিছু হারিয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। মাদক জীবন থেকে জীবন কেড়ে নেয়, তাই সমাজকে বাঁচাতে মাদক থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা একাই যথেষ্ট নয়। তরুণ সমাজকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা জরুরি। তারা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানান। উক্ত মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মহালছড়িতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন ২০২৬) সকাল ১১.৩০ টায় খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ ধনিষ্ঠা চাকমা,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মহালছড়ি থানা প্রতিনিধি(এসআই) মোঃ আব্দুল আউয়াল, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দীপময় তালুকদার, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি দীপক সেন,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর কর্তার প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আসছে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ রোজ রবিবার সকাল ৮.০০টা হতে বিকেল ৪.০০টা পর্যন্ত সারা দেশের ন্যাায় মহালছড়িতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। সভায় জানানো হয়, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার ১ টি স্থায়ী ও ১২০ টি সাব কেন্দ্র সহ মোট ১২১ টি কেন্দ্রে লাল ৭,৭২০টি ও নীল ১৪০০টি ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ শতভাগ সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাশেদ খানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গান ও হত্যার হুমকি, থানায় অভিযোগ
ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা জনাব মো: রাশেদ খানকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর গান তৈরি এবং এর প্রতিবাদ করায় ঝিনাইদহ জেলা যুব অধিকার পরিষদের এক শীর্ষ নেতাকে সপরিবারে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গতকাল (২৪ জুন) ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো: মিশন আলী (২৮)। তিনি ঝিনাইদহ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের মডার্ন মোড় এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন (৩০) নামের এক যুবক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মো: রাশেদ খানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কু-রুচি, সম্মানহানিকর কথাবার্তা ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত একটি গান তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। গতকাল ২৪ জুন সকাল আনুমানিক ১১:৫১ মিনিটে বিষয়টি যুব অধিকার পরিষদ নেতা মিশন আলীর নজরে আসে। মিশন আলী দলের সাবেক শীর্ষ নেতার নামে এমন মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল দিলে, জয়নুল দুঃখপ্রকাশ করার পরিবর্তে উল্টো কৌশলে উক্ত ফোনালাপটি রেকর্ড করে নেন। পরবর্তীতে সেই কথোপকথন বিকৃত ও অবমাননাকর উদ্দেশ্যে পুনরায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মিশন আলীর মান-সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফোনালাপ ছড়ানোর পর থেকেই অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীনের ইন্ধনে বেশ কিছু অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর (প্রায় অর্ধশতাধিক নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে) থেকে মিশন আলীর ব্যক্তিগত নম্বরে অনবরত ফোন করা হচ্ছে। এসব কল থেকে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার সুনির্দিষ্ট ভয়ভীতি ও কড়া হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও গভীর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচার এবং পরবর্তীতে প্রতিবাদ করায় এক যুবনেতাকে সপরিবারে গুম-খুনের হুমকির এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।