বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ঝিনাইদহে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য'র দাবিতে মানববন্ধন
ঝিনাইদহ যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবীতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা । আজ বৃহস্পতিবার (২৫জুন) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিষয়খালী এলাকার ভুক্তভোগীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করে । এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা অংশ নেয় । ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে ভুক্তভোগী ডা.মিজানুর, জিয়া, বিল্লাল, হাবিব, মুসা, চানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন । সেসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ যশোর মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে বিষয়খালী এলাকায় যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার সঠিক মুল্যে দেওয়া হচ্ছে না । জমির দাম ৪ লাখ টাকা শতক হলেও সেই জমির দাম দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার টাকা । এমনভাবে ওই এলাকার ২ শতাধিক জমির মালিক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । তাই জমির সঠিক মুল্যে দেওয়ার দাবী জানান বক্তারা।
বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের গাইবান্ধা জেলা কমিটি গঠন: সভাপতি রাহুল, সাধারন সম্পাদক সোহেল
বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এর গাইবান্ধা জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ ২৫ জুন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বছর মেয়াদি এ কমিটির অনুমোদন প্রদান করে। নতুন কমিটিতে রাহুল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি, সোহেল রানাকে সাধারণ সম্পাদক এবং প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি আগামী দুই বছর জেলা পর্যায়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও পুলিশের সাবেক এআইজি ড. আব্দুল রহিম খান এবং মহাসচিব রবিউল ইসলাম সোহেল আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত জেলা কমিটির অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন জানান এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুমোদনপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ড. আব্দুল রহিম খান বলেন, “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।” নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মহেশপুরে এডিপির অর্থায়নে অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর আওতায় অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার( ২৫ জুন) সকাল ১০টায় মহেশপুর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ মতিয়ার রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের আয়ের পথ তৈরি করতে পারে, একটি হুইল চেয়ার একজন প্রতিবন্ধী মানুষের চলার শক্তি বাড়াতে পারে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “সরকারি সহায়তা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। এই উপকরণগুলো সুবিধাভোগীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।” অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে সেলাই মেশিন ৪৫টি, আলমারি ১২টি, হুইল চেয়ার, হাসপাতালের জন্য আইপিএসসহ অন্যান্য সামগ্রী এবং খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান, মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এটিএম খায়রুজ্জামান, মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ ফারুক আহমেদ, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই, পৌর জামায়াতের আমির মোঃ নওফেল আহমেদ, মহেশপুর আদর্শ প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান, প্রেসক্লাব মহেশপুরের সভাপতি মোঃ সারোয়ার হোসেন, মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীরা সরকারি সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে।
গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের নির্মানাধীন লোহাছোরা ব্রীজের উপর ব্লক তৈরীর অভিযোগ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে অবস্থিত লোহাছোরা ব্রীজ। পুরাতন সরু ব্রীজটি যাতায়াতের সুবিধার্ধে সম্প্রতি নতুন ভাবে সম্প্রসারণ করে নির্মান করা হয়।উক্ত ব্রীজের উপর নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে ব্লক নির্মানের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২৪/৬/২০২৬ ইং সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,এ ব্রীজের উপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এলজিইডির লোকজনের অনুপস্থিতিতে নিম্নমানের দেশীয় বালি,সিমেন্ট, মাটি ও কাদা মিশ্রিত মরা পাথর দিয়ে ব্লক তৈরী করছেন। অভিজ্ঞ সম্পন্ন সচেতন মহল বলেন-নির্মাণাধীন ব্রীজের উপর ভারী ব্লক (যেমন: সিসি ব্লক) তৈরি করা কখনোই উচিত নয়। এটি ব্রীজের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রীজটি চূড়ান্তভাবে চালু হওয়ার আগে তার নিজস্ব ওজন এবং বহনের ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট নকশা থাকে। নির্মাণ সামগ্রী (বালু, সিমেন্ট, পাথর) ও কাঁচা ব্লকের অতিরিক্ত ওজন ব্রীজের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করতে পারে। ব্লক তৈরির সময় বা শুকানোর পর স্থানান্তরের জন্য ভারী মেশিনারিজ (যেমন: ভাইব্রেটর) ব্যবহার করা হয়। এই কম্পনের ফলে সদ্য নির্মিত ব্রীজের কংক্রিটে বড় ধরনের ফাটল বা স্থায়ী ক্ষতি (Structural Damage) হতে পারে। এ ছাড়াও ব্লক তৈরীর পর তা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় (কিউরিং)। ব্রীজের স্ল্যাবের উপর এভাবে পানি জমিয়ে রাখলে ব্রীজের রড ও কংক্রিটের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই ব্রীজের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্লকগুলো ব্রীজের বাইরের কোনো নিরাপদ ও সমতল জায়গায় প্রস্তুত করা উচিত ছিল। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ফোনে যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোবাইল ফোনে বলেন আজই স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু ক্ষতি সাধন হওয়ার পর এ দ্বায়িত্ব কে নিবে বলে জানান এলাকাবাসী। তারা বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন এটাই তাদের প্রত্যাশা।
আদ্ দ্বীনের দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীরা: এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত
রাজধানীর আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জনেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী (অধিকাংশই ভারতীয়) অধ্যয়নরত আছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৩শ'রও বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিলের মতো জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও ইন্টার্নশিপ মারাত্মকভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং মানবসেবার ব্রত নিয়ে সুদূর ভারত ও মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে পড়তে এসেছিলেন তারা। বাবা-মায়ের রক্তঘাম করা উপার্জনে কেনা স্বপ্ন আজ মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বন্ধ লাইসেন্সের বেড়াজালে বন্দি। দীর্ঘ ১১ দিন ধরে বন্ধ একাডেমিক কার্যক্রম। দেশের মাটিতে ডাক্তারি করার স্বপ্ন নিয়ে আসা এই তরুণ প্রাণগুলো এখন শুধুই এক বুক হতাশা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে রাজধানীর রাজপথে ঘুরছে। কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও মিলছে না একটু আশ্বাস, মিলছে না কোনো দেখা। নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ তাদের শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে। দুয়ারে দুয়ারে কড়া নাড়া, কিন্তু কোথাও মেলেনি সাড়া গত সোমবার ও মঙ্গলবার ছিল এই শিক্ষার্থীদের জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণার দুটি দিন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) তপ্ত রোদে সচিবালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর চোখে-মুখে ছিল কেবলই আকুতি। তারা এসেছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সচিব মহোদয় দপ্তরে ছিলেন না। খালি হাতে, ভাঙা মন নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। এর আগের দিন সোমবারও তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয়ে। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা ছুটে যান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে। কিন্তু সেখানকার মহাপরিচালকও কার্যালয়ে ছিলেন না। রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটুখানি সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য এই ভিনদেশি শিক্ষার্থীদের এমন হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো যেন পুরো ব্যবস্থার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। "বিদেশ থেকে এই দেশে পড়তে এসেছি, বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে। আজ আমরা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। আমরা কোনো সমস্যা নিয়ে দেশে ফিরতে চাই না, আমরা আমাদের পড়াশোনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।" আইনের বেড়াজাল ও এক অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর হয়তো অন্য হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের সংযুক্তির নির্দেশ দিয়ে সাময়িক সমাধানের পথ খুঁজেছে, কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল। ভারতের 'ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশন্স, ২০২১'-এর ৪(ক) (২) ধারা অনুযায়ী— যে মেডিকেল কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাস করবেন, ঠিক সেই একই প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল থেকেই তাকে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় নিজ দেশে গিয়ে তারা আর ডাক্তারি করার লাইসেন্স পাবেন না। ফলে, অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর মানেই তাদের এত বছরের পড়াশোনা, লাখ লাখ টাকা খরচ এবং চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করেও এখনো কোনো আশাব্যজক সাড়া পাননি তারা। সাড়ে তিনশো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কি শুধুই অন্ধকার? বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন ভারতীয় এবং ১ জন মালদ্বীপের শিক্ষার্থীসহ সাড়ে তিনশরও বেশি শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কোনো ভুলের বা আইনি জটিলতার দায় কেন এই নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের কাঁধে এসে পড়বে? কেন তাদের স্বপ্নগুলো এভাবে মাঝপথে থমকে যাবে? এত কিছুর পরও বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখনো আশাবাদী। তারা বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের এই মানবিক সংকটটি অনুধাবন করবে। কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন এটি কেবল একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বন্ধের বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার ভাবমূর্তি এবং শত শত শিক্ষার্থীর জীবনের প্রশ্ন। অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই মানবিক সংকটে এগিয়ে আসতে হবে। একটি বিশেষ বিবেচনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এই শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও একাডেমিক কার্যক্রমের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভুল কর্তৃপক্ষের হতে পারে, কিন্তু তার শাস্তি যেন এই স্বপ্নচারী শিক্ষার্থীদের পেতে না হয়। সংশ্লিষ্ট মহল কি এই তরুণদের চোখের জল আর আকুতি প্রতি দৃষ্টি দিবেন এটাই একমাত্র ভরসা।
কালীগঞ্জে মাদক বিরোধী জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে আয়োজনে:গোমরাইল গ্রামবাসীর কর্তৃক আয়োজিত “মাদক প্রতিরোধ সমাবেশ”- অনুষ্ঠিত হয়। মাদকে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি- এই শ্লোগান সামনে রেখে - মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ রক্ষায় - গোমরাইল গ্রামবাসীর কর্তৃক আয়োজিত “মাদক বিরোধী জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সমাবেশ -প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ ৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব হামিদুল ইসলাম, এ সময় তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যেখানেই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী দেখা যাবে, সেখানেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, মাদক বিরোধী জনসচেতনতা সভা অব্যাহত থাকবে, তারই অংশ হিসেবে আজকের এই সভা। তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উক্ত ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ।
কালীগঞ্জে ৩৫শত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যের ধান বীজ ও সার বিতরন
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাড়ে তিন হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যের ধান বীজ ও সার বিতরন কার্ষক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বেলা ১১ টায়উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনির সভাপতিত্বে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ওই কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ , বিশেষ অতিথি ছিলেন,প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ ৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব হামিদুল ইসলাম এ সময়ে খরিপ মৌসুমের রোপা আমন ও গ্রীস্মকালীন সবজি আবাদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে তালিকাভুক্ত চাষীদের মধ্যে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি ধান বীজ, ১০ কেজি ডিওপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরের কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় কালীগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মোট ৩৫ শত কৃষককের মাঝে রোপা আমন ধান বীজ ও সার বিতরন করা হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসার আকতারুজ্জামান মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের উপজেলা শাখার আমীর আব্দুল হক, বিএনপি নেতা ইসরাইল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মিলন, সাংবাদিক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ও জামির হোসেন সহ আরও অনেকে।
পোল্ট্রি ফার্মের কর্মচারী রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কমলাপুরে একটি পোল্ট্রি ফার্মের কর্মচারী রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মৃতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শফিকুল সরদারের ১৯ বছর বয়সী ছেলে রাফাত আশাশুনি উপজেলার শীতলপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামানের মালিকানাধীন কমলাপুর এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ জুন রাতে তিনি প্রতিদিনের মতো ফার্মের ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে পরদিন সকালে হঠাৎ করেই রাফাতের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফার্মের একটি রডের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে রাফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিহতের মরদেহে স্পষ্ট রক্তের দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে তার অণ্ডকোষ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই আত্মহত্যার লক্ষণ নয় বরং এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত। মানববন্ধনে নিহত রাফাতের মা শাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তান হারানোর বিচার চেয়ে বলেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও অভিযোগ করেন, এত বড় একটি ঘটনা ঘটার পরও পুলিশ হত্যা মামলা গ্রহণ করতে গড়িমসি করছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করার দাবি জানান। একই সাথে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। উক্ত মানববন্ধনে নিহত রাফাতের মা শাহানারা বেগম ছাড়াও তাঁর চাচা মো. আব্দুল লতিফ, মো. রুহুল কুদ্দুস, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আজিজুল ইসলাম, মো. আইনুল ইসলাম এবং নুর নাহার, শাইদা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, ফরিদা খাতুন ও শরিফা খাতুনসহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত ডিসির বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন
সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের নিউমার্কেট মোড়ে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রবীণ আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওসমান গণী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরার মানুষ যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বুকে ধারণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে এমন অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ধরনের মন্তব্য জেলার জনগণের প্রতি চরম অসম্মানজনক এবং অনভিপ্রেত। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে উক্ত আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের জোর দাবি জানান। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওলামা মাশায়েখ পরিষদ এই প্রতিবাদী কর্মসূচির ডাক দেয়।k
তালায় মৎস্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ
সাতক্ষীরার তালায় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সুফলভোগী মৎস্যচাষীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন মৎস্য চাষ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের অধীন "ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)"-এর আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বুধবার ২৪ জুন সকাল ১০ টায় উপজেলা মৎস্য অফিসারের নিজস্ব কার্যালয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তারিক ইমামের সভাপতিত্বে উপকরণ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। বিশেষ ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির সাতক্ষীরা জেলার নায়েবে আমির ডাঃ মাহমুদুল হক, ডাঃ আপ্তাব উদ্দিন, তালা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোতাহিরুল হক শাহীন এবং নির্বাহী সদস্য কে এম শাহিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাবৃনথ্দসহ স্থানীয় উপকারভোগী মৎসচাষীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচিত সুফলভোগী চাষীদের মাঝে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ যেমন পোনা মাছ, মাছের খাদ্য, ফলজ ও সবজি চারা সহ অন্যান্য সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চাষীদের আধুনিক মৎস্য চাষ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পারিবারিক পুষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যেই সরকারের এই বিশেষ প্রকল্প দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তালার সুফলভোগীদের মাঝে এই উপকরণ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি এই সহায়তা ও উপকরণ হাতে পেয়ে স্থানীয় মৎস্যচাষীরা গভীর আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সাথে তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদল ও দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
কালীগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ৮ জন আটক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এক মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলায় কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজুসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিজুসহ ৩ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কাবিরুল ইসলাম নান্নু (৪৮), পৌর শ্রমিক লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নওশের (৪১), পৌর শ্রমিক লীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য মো. আশরাফুল শেখ (৩৪), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক শেখ সৌরভ ওরফে সাদ্দাম (৩০), কালীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মাসুদ আলী (৪৬), পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. সবুজ হোসেন (৩৬), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু (৩৮) এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান (৪৯)। মামলার পলাতক আসামিরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান বিজু (৫৭), মো. কালাম (৪০) এবং মো. পারভেজ হোসনে অপু (২৫)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিজুর বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এ সময় বিজুকে আটক করার চেষ্টা করা হলে তার স্বজন ও সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৮ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গতকালের ঘটনায় মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অবশেষে সাদুল্লাপুরের সেই সমালোচিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন এর বদলি, নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আলোচিত অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি অধিগ্রহণে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন এবং তথ্য জানতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের দেখেই এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন। পরে নিজেও দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। গত রোববার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের পরদিন সোমবার হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে জমির দখলদার ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়নি। সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়। তবে অভিযোগ, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও, ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। পরস্পরবিরোধী এই দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। স্থানীয়দের দাবি, সাদুল্লাপুর ও জামুডাঙ্গা মৌজায় সরকারি ১ নম্বর খতিয়ান, ১/১ খতিয়ান এবং ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি ব্যক্তিগত নামে নামজারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে গত ২৪ মার্চ তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০ এপ্রিল তাকে কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থল ছাড়েননি। বদলি স্থগিত করতে তদবিরের অভিযোগও ওঠে। পদোন্নতি ও বদলির পরও দীর্ঘদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
গাইবান্ধা সদর খোলাহাটীতে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
গাইবান্ধা সদর খোলাহাটীতে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গাইবান্ধা প্রতিনিধি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের ভেড়ামারা ব্রীজ সংলগ্ন মিনি জাফলং হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি কতৃক ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে। ভেড়ামার ব্রীজ সংলগ্ন তাজুল ইসলামের মেয়ে তামান্না ৬ বছরের শিশু ভেড়ামারা ব্রীজের পাশে বাধে খেলতে গেলে হোটেল বাবুর্চি আমির হোসেন কৌশলে হোটেলে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় বাচ্চাটি দৌড়ে বাহিরে বের হয়ে প্রতিবেশীদের জানালে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে আমির হোসেন কে হোটেলে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি সার্কেল সেখ মুত্তাজুল ইসলাম এব সদর উপজেলার এসিল্যান্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত ব্যক্তি কে কৌশলে থানায় নিয়ে যান।বিক্ষিপ্ত এলাকাবাসী পরে হোটেল টিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
মহেশপুরে তালাকপ্রাপ্তা রিনা ফিরলেন স্বামীর সংসারে
মধ্যযুগীয় বর্বরতার অবসান ঘটিয়ে মহেশপুরে যমজ কন্যা জন্ম দেওয়ায় তালাকপ্রাপ্তা সেই রিনা ওসির হস্তক্ষেপে ফিরলেন স্বামীর সংসারে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া যেন হয়েছিল এক মহাপাপ! আর এই ‘অপরাধে’ ঝিনাইদহের মহেশপুরে দেড় মাসের দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানসহ রিনা খাতুন নামের এক ভাগ্যবিড়ম্বিত গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার মতো এক মধ্যযুগীয় ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল। তবে সব অন্ধকার ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সেই আলোচিত যমজ কন্যার মা সংসারের টানে আবার স্বামীর ঘরে ফিরেছেন। আজীবন একসাথে থাকার নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন এই দম্পতি। আর এই ভাঙতে যাওয়া সংসারকে জোড়া লাগাতে এবং নিষ্পাপ দুটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে অনন্য ও মানবিক ভূমিকা পালন করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কাজিরবের ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে রিনা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিনগুলো সুখের হলেও বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর। গর্ভধারণের ছয় মাস পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে যখন জানা যায় গর্ভের সন্তান দুটিই ‘কন্যা’, ঠিক তখন থেকেই রিনার ওপর নেমে আসে অন্ধকার। স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা কন্যাসন্তানের খবর মেনে নিতে না পেরে রিনার ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় রিনা, এবং সেখানেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও পাষণ্ড পিতা বা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেনি। উল্টো রিনাকে ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পাঠানো হয় এবং সন্তানদের বিক্রি করে কাবিনের টাকা শোধ করার মতো চরম ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু মিয়াসহ মাতব্বররা দুই দফায় সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করলেও রাকিবুল তা তোয়াক্কা করেনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিষয়টি মহেশপুর থানা পুলিশের নজরে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত রূপ নেয় ইতিবাচকতায়। নিষ্পাপ দুটি শিশু যেন পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং একটি পরিবার যেন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়, সেজন্য মহেশপুরে দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান অত্যন্ত বিচক্ষণ ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন। ওসির অত্যন্ত আন্তরিক ও আইনিCounseling-এর পর স্বামী রাকিবুল নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং কন্যাসন্তানদের প্রতি নিজের দায়িত্ব অনুধাবন করেন। শত ক্ষোভ ভুলে যমজ সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং ওসির আন্তরিক মধ্যস্থতায় রিনা খাতুনও তার স্বামীকে ক্ষমা করে দেন। মায়ের কোলে সন্তান, মুখে হাসি অবশেষে মহেশপুর থানার ওসির টেবিলেই দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটে। মায়ের কোলে ফিরে আসে তার কলিজার টুকরো দুই সন্তান, আর স্বামী ফিরে পান তার স্ত্রীকে। নতুন করে সংসার সাজানোর এবং আজীবন একসাথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে তারা থানা থেকে বিদায় নেন। একটি চরম অমানবিক ও বর্বর ঘটনার এমন সুন্দর, মানবিক ও স্বস্তিদায়ক সমাপ্তি ঘটায় ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কালীগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ: আ.লীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে
দেশব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৫টায় কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর যুবদলের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল থেকেই উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুহুর্মুহু স্লোগানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রদক্ষিণ করে কালীবাড়ী মোড়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ ৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব হামিদুল ইসলাম হামিদ, তিনি বলেন - ফ্যাসিবাদী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ আবারও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের সচেতন জনতা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র নসাৎ করে দেবে। আমরা কালীগঞ্জে এ ধরনের কাজ হতে দেব না " বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান লাল্টু, বাবুল আক্তার, মাহবুবুর রহমান মিলন, মুন্সি কামরুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন রাজু, আজিজুল ইসলাম লস্কর, শাজাহান আলী খোকন এবং জাহাঙ্গীর আলমসহ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, - নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, "জনগণের হারানো গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে লড়াই করছে। স্বৈরাচারের দোসরদের যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সদাসর্বদা সতর্ক প্রহরায় থাকতে হবে।" শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের চূড়ান্ত অধিকার ও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সমাবেশ শেষ হয়। কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।