বাংলাদেশ বার্তা টুডে
শিশুদের মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা
শিশুদের মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ, সমাজের আগামী দিনের নির্মাতা এবং মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক। একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে সেই দেশের নাগরিকদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের ওপর। শিশুদের মধ্যে যদি ছোটবেলা থেকেই সততা, সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ, পরোপকারিতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের মতো গুণাবলি গড়ে ওঠে, তবে তারা ভবিষ্যতে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভোগবাদ, প্রযুক্তিনির্ভরতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতার কারণে শিশুদের মানবিক বিকাশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রত্যেক শিশু জন্মগতভাবে নানাবিধ মানবিক গুণাবলি নিয়ে দুনিয়াতে ভূমিষ্ঠ হয়। শিশুদের মধ্যে মানবিক গুণাবলিসমূহ সুপ্তাবস্থায় থাকে। সমাজের অনুকূল পরিবেশে শিশুদের সুপ্ত গুণাবলি বিকশিত ও প্রসারিত হয়। কিন্তু অনুকূল পরিবেশের অভাবে শিশুদের মধ্যে সুপ্ত গুণাবলি অনেক সময় জাগ্রত হয়নি। তাই শিশুদের মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যম সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মানবিক গুণাবলি বলতে মানুষের সেইসব নৈতিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়, যা একজন মানুষকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, দয়ালু, ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল ও উদার করে তোলে। সত্যবাদিতা, সততা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, পরোপকার, সহযোগিতা, সম্মানবোধ, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেম মানবিক গুণাবলির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসব গুণ মানুষকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনে সফল করে না, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবিক গুণাবলি অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ। ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায়, সততা, দয়া, সহানুভূতি, ক্ষমাশীলতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। তাই শিশুদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি বিকাশে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় মূল্যবোধ বলতে ধর্মের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসারে গড়ে ওঠা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিকে বোঝায়। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সৎপথে চলতে, অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে, মিথ্যা, হিংসা, অন্যায় ও লোভ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সব ধর্মের মূল শিক্ষা হলো মানবকল্যাণ, শান্তি, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা। ফলে শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে উঠলে তারা মানবিক চরিত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে। ধর্মীয় শিক্ষা শিশুদের নৈতিক চরিত্র গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধর্ম তাদের সত্য কথা বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা দেয়। এতে শিশুরা সততা, দায়িত্ববোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো গুণ অর্জন করে। ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ করতে গিয়ে তারা নিয়ম-শৃঙ্খলার গুরুত্ব উপলব্ধি করে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানবিক গুণাবলির অন্যতম ভিত্তি হলো দয়া ও সহমর্মিতা। ধর্ম শিশুদের শেখায় অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে শিশুরা বুঝতে শেখে যে সকল মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। তারা অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। এই গুণাবলি সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সততা মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। ধর্ম শিশুদের শেখায় যে সত্যের পথই সর্বোত্তম পথ এবং অন্যায় কখনো স্থায়ী সফলতা এনে দেয় না। ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে বেড়ে ওঠা শিশুরা প্রতারণা, দুর্নীতি, মিথ্যাচার ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। ফলে তারা ভবিষ্যতে সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম হয়। শিশুর মন কোমল ও কৌতূহলী। এই সময়ে তারা পরিবার, বিদ্যালয় ও পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের চরিত্র গঠন করে। তাই শৈশবেই যদি তাদের সঠিক মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা যায়, তবে সেই শিক্ষা সারাজীবন তাদের ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে থাকে। অন্যদিকে এই সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব হলে নেতিবাচক অভ্যাস ও অসামাজিক আচরণও সহজে গড়ে উঠতে পারে। পরিবার হলো শিশুর প্রথম বিদ্যালয় এবং বাবা-মা তার প্রথম শিক্ষক। শিশুর মানবিক গুণাবলির ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবার থেকেই। বাবা-মা যদি নিজেরা সততা, শৃঙ্খলা, সৌজন্যবোধ এবং সহানুভূতির পরিচয় দেন, তবে শিশুরাও সেসব গুণ আত্মস্থ করে। পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতামূলক আচরণ শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই সত্য কথা বলা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ শেখানো উচিত। গল্প বলা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং পারিবারিক আলোচনায় শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া তাদের মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয় শিশুর দ্বিতীয় পরিবার। এখানে শিশুরা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করে না, বরং সামাজিকতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধও শিখে। শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক, ন্যায়পরায়ণ ও সহানুভূতিশীল হন, তবে শিক্ষার্থীরাও সেই মূল্যবোধ ধারণ করে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত নৈতিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সমাজসেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা উচিত। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। শিশুর চরিত্র গঠনে সমাজের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মূল্যবোধসম্পন্ন সামাজিক পরিবেশ শিশুদের মানবিক বিকাশে সহায়ক। সমাজে যদি সহিংসতা, দুর্নীতি, বৈষম্য, মাদকাসক্তি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়, তবে শিশুদের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্রীড়া ক্লাব, পাঠাগার এবং সামাজিক সংগঠনগুলো শিশুদের জন্য বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। সমাজের প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তিরা শিশুদের সামনে আদর্শ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলে শিশুরা সঠিক জীবনদর্শন লাভ করতে পারে। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। শিশুদের জীবনে টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। প্রযুক্তি যেমন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু শিশুদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং শিক্ষামূলক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন অনুষ্ঠান দেখার জন্য উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে গণমাধ্যমেরও উচিত শিশুদের উপযোগী শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা। শিশুদের মানবিক গুণাবলি বিকাশে রাষ্ট্রের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষানীতিতে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুশ্রম, নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। ১৫ জুলাই (বুধবার) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রতি শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ করার কারিগর আপনারা’। তাই খেয়াল রাখতে হবে, কোনো শিশু যেন নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে, কারো প্রতি যেন আমরা নির্দয় না হই। শিশুদেরকে মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন আপনারা। তিনি বলেন, ‘দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার’। শিশুদেরকে মানবিক সৈনিক হিসেবে আপনারা গড়ে তুলবেন। শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সমাজসেবামূলক কর্মসূচি এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিকতা বিকশিত হবে। বর্তমানে শিশুদের মানবিক বিকাশের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, প্রতিযোগিতামূলক জীবন, পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, সামাজিক বৈষম্য, সহিংসতা এবং ভোগবাদী সংস্কৃতি শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু তাদের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক বিকাশের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে তারা জ্ঞান অর্জন করলেও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়। শিশুদের মানবিক গুণাবলি বিকাশে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, রাষ্ট্র, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুর সামনে সবাইকে ইতিবাচক আচরণের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। একটি শিশু যদি পরিবারে ভালো শিক্ষা পায়, বিদ্যালয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করে, সমাজে সুন্দর পরিবেশ পায় এবং গণমাধ্যম থেকে ইতিবাচক বার্তা গ্রহণ করে, তবে তার মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ স্বাভাবিকভাবেই ঘটবে। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি নৈতিক, মানবিক ও উন্নত জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপন করবে। শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে এবং একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাই তাদের কেবল শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং মানবিক, নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য। মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন শিশু ভবিষ্যতে একজন সৎ নাগরিক, দক্ষ নেতা এবং সমাজের কল্যাণে নিবেদিত মানুষে পরিণত হয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারব, যারা মানবতা, ন্যায়, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাই শিশুদের মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
নোয়াখালী বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ই/য়া/বা/সহ আ/ট/ক-২,জব্দ করা হয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে একটি জিপ গাড়িতে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়ি। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সে এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) ও একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো.বিপ্লব (৪৮)। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আসামিদের ব্যবহৃত কালো রঙের হার্ডজিপ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজায় বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি কাগজের প্যাকেটের মধ্যে ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলি ব্যাগে এসব ইয়াবা রাখা ছিল। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। মাদক করাবরি পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নয়টি মামলা রয়েছে।
পাঁচবিবিতে তুলসীগঙ্গা নদীর উপর ব্রিজের সংযোগ সড়কে বিশাল গর্ত
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ও কুসুম্বা ইউনিয়নের সংযোগস্থলে তুলসীগঙ্গা নদীর উপরে নির্মিত ঐতিহাসিক পাথরঘাটা ব্রিজের পূর্বপাড়ে বড় গর্তটি ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সংস্কার করা হয়নি। সম্প্রতি টানা বর্ষণে গর্তটি আরও বড় আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ব্রিজটির সংযোগ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। যোগাযোগ বিছিন্ন হলে শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার বিঘ্ন ঘটবে। ব্রিজটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক ব্যক্তি দুই মেসি ট্রাক্টর মাটি দিয়ে গর্তটি ভরাট করলেও বৃষ্টির কারণে মাটি দেবে গিয়ে আবারও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ জুলাই বিষয়টি পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। ফলে ব্রিজটি ব্যবহারকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রথমে কয়েকটি ইট সরে গিয়ে ছোট একটি গর্তের সৃষ্টি হয়। পরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রিজের পূর্বপাড়ের ইট ও মাটি ধসে গিয়ে গর্তটি ক্রমেই বড় হতে থাকে। বর্তমানে গর্তটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভারি বর্ষণ হলে যে কোনো সময় ব্রিজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। ওই ব্রিজ দিয়ে মঠপাড়া, বেলপুকুর, কাশিয়াবাড়ী, খুলুঘাটা ও কদমপুকুর গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী পাথরঘাটা মিশন স্কুল, উচাই জেরকা এসসি উচ্চবিদ্যালয় এবং উচাই বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়া প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ যাতায়াত করে থাকেন এই পথে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন , ইউপি চেয়ারম্যানকে বলে মাটি ফেলে গর্তটি ভরাটের ব্যাবস্থা করবেন। উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। মোস্তাকিন হোসেন পাঁচবিবি জয়পুরহাট মোবা 01919329926
মহালছড়িতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত: জুলাই বীরদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করল উপজেলা প্রশাসন
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত এ সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চোহলাপ্রু চৌধুরী, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান, মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মির্জা জহির, বন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম, প্রেসক্লাব সভাপতি দীপক সেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা মোঃ কামাল হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুবর্না দে শম্পুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ত্রিপিটক পাঠ এবং গীতা পাঠ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জুলাই যোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন। সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জুলাইয়ের শহিদদের অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। তাদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
ঝিনাইদহে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, র্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে ঝিনাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র্যালি এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মনজুর মোর্শেদ, শহিদ রাকিবের বাবা লুৎফর রহমান, মা হাফেজা খাতুন, শহিদ সাব্বিরের বাবা আমোদ আলী, ছাত্র প্রতিনিধি সাইদুর রহমান ও আবু হুরায়রাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্টী চন্দ্র রায়, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ কাজল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক তহুরা খাতুনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাইয়ের শহিদরা আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শহিদদের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশ নেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শাহাজাহান আলী, যুগ্ম সম্পাদক আসিফ ইকবাল মাখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শেখরসহ জেলা, সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অতিবৃষ্টিতে খর্বাকৃতির পাটগাছ, ফলন কমায় লোকসানে কৃষক
গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ভালো দাম পাওয়ার আশায় রংপুর অঞ্চলের অনেক কৃষক আবাদ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে টানা অতিবৃষ্টি সেই আশা অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। বীজ বপন ও চারার বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ জমিতে পাটগাছ স্বাভাবিক উচ্চতা পায়নি। ফলে গাছ খর্বাকৃতির হওয়ায় আঁশের পরিমাণ কমেছে এবং বিঘাপ্রতি ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর রংপুর অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় পাটগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৫ ফুট কম উচ্চতার হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত পাট কম উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফলন কমে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষকের পক্ষে বিনিয়োগের অর্থ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় তিনি এক বিঘা জমি বেশি নিয়ে এবার ছয় বিঘায় পাট চাষ করেছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত ফলন পাননি। তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় এবার প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার টাকা বেশি। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। গত বছর পাঁচ বিঘা জমি থেকে ২৮ মণ পাট পেয়েছিলেন এবং প্রতিমণ ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। এবার ছয় বিঘা জমি থেকে পেয়েছেন মাত্র ২৪ মণ। অথচ উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার টাকা। কালীগঞ্জের শৈলমারী চরের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, গত বছর ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। ভালো দাম পাওয়ায় এবার আবাদ বাড়িয়ে ৮ বিঘা করেছেন। গত বছর প্রতি বিঘায় প্রায় ছয় মণ পাট পেয়েছিলেন। এবার পাঁচ মণেরও কম ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, "বীজ বোনার পর থেকেই জমিতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। গাছ ঠিকমতো বাড়তে পারেনি। ফলন কমেছে। এখন পাটের দাম ভালো না হলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।" একই গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, জীবনে এবারই প্রথম এত খাটো পাটগাছ দেখছেন। অতীতে কখনো এমন হয়নি। দাম ভালো হলেও লাভ হবে না। গাছ ছোট হওয়ায় আঁশও কম হয়েছে।" গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, সাত বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে দুই বিঘার পাট কাটা হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। তিনি বলেন, "এক বছরের বেশি সময় ধরে কৃষকরা প্রায় সব ফসলেই লোকসান করছেন। আলুতে লোকসান হয়েছে, ধানে কোনোমতে খরচ উঠেছে, ভুট্টার দামও কম। এবার পাটেও ফলন কমে গেল। এভাবে কৃষক টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।" কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন। গত বছর ৪৮ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫৬০ টন পাট। এবারও সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিকভাবে একটি পাটগাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১৩ ফুট হয় এবং প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদিত হয়। কিন্তু এ বছর বীজ বপন ও চারার বৃদ্ধির সময় দীর্ঘদিন টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, গাছের উচ্চতা ২ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে। ফলে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন কমেছে। গত বছর কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার ফলন কমে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন।" তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ পাট কাটা হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ জমিতে এখনো পাট রয়েছে। বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে বাজারে নতুন পাট আসতে শুরু করবে। রংপুর আবহাওয়া অফিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, এ বছর রংপুর অঞ্চলে এপ্রিল মাসে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৫০৪ মিলিমিটার যা গেল বছর ছিলে ১৭০ মিলিমিটার আর মে মাসে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৭৮৬ মিলিমিটার যা গেল বছর ছিলো ১৯৫ মিলিমিটার। পাটচাষের জন্য এপ্রিল ও মে মাসে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত যথেষ্ট। বাংলাদেশ পাট অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের মুখ্য পরিদর্শক তারানা আফরোজ সজনী বলেন, এ বছর খর্বাকৃতির পাটগাছের কারণে ফলন কম হওয়ায় কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর কৃষকরা সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিমণ পাট বিক্রি করেছিলেন। এবার এখনো বাজারে নতুন পাটের ব্যাপক সরবরাহ শুরু হয়নি। সরবরাহের ওপরই দাম অনেকটা নির্ভর করবে। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পাট রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু করা গেলে দেশের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়ে পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। তিনি আরও জানান, কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহ দিতে পাট অধিদপ্তর প্রতিবছর উন্নতমানের পাটবীজ ও সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি বাজারে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে অতিরিক্ত মজুতদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে অস্বাভাবিকতা বাড়ছে। বীজ বপন ও চারা বৃদ্ধির মতো সংবেদনশীল সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাটের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই ভবিষ্যতে জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন, সময়োপযোগী চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও কমে যেতে পারে।
কমছে তিস্তার পানি, দুর্ভোগ কমেনি বানভাসী মানুষের
ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতি ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। নদী তীরবর্তী আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন বলেন, “সোমবার হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। বুধবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে ঘরে পানি ঢোকায় আসবাব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি।’ আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াব।’ লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ‘গত মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের (তীর সংরক্ষণ) কাজ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন ঘটেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরও ১০ কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ করা প্রয়োজন। সেটি সম্ভব হলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় প্লাবিত হবে না।’ বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে আগেই চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নেমে গেলে নদীভাঙন শুরু হয়ে বসতভিটা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। কৃষক সাদেক মিয়া বলেন, প্রতি বছরেই ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর ভারি বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং দেখা দেয় তীব্র নদী ভাঙন। আমরা কোন ত্রান চাইনা, এর স্থায়ী সমাধান চাই! এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচাজ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উজানের ঢল কিছুটা কম থাকায় বুধবার সকাল ৯টা থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শরণখোলায় মানসিক যন্ত্রণা ও প্রেসার নিতে না পেরে চিরকুট লিখে স্বামী স্ত্রীর আ/ত্ম/হ/ত্যা
বাগেরহাটের শরণখোলায় চিরকুট লিখে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্ব রাজৈর গ্রামে। মৃত্যুরা ব্যক্তিরা হলেন-মৃত্যু আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে কবির হাওলাদার (৩২) এবং তার স্ত্রী হালিমা বেগম (২৬)।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে শোক বিরাজ করছে ঐ এলাকায়। জানা যায় কবির হালিমা দম্পতির ঘরে ২ মাসের একটি ছেলে এবং ৪ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।কবির পেশায় একজন জেলে। তিনি সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এলাকাবাসী ও কবিরের মায়ের তথ্যমতে সকাল বেলা সন্তানদের আ'র্ত'না'দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সন্তানদের কান্নাকাটি শোনা গেলেও এ দম্পতির কোনো আওয়াজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তারা জানালা খুলে দেখেন কবির ও তার স্ত্রীর নি'থ'র দেহ বিছানায় পড়ে আছে। এরপর দরজা ভে'ঙে ঘরে প্রবেশ করে বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা। জানা যায় কবির এবং হালিমা দম্পতির সংসারে অ'শা'ন্তি এবং পারিবারিক ক'ল'হ বি'বা'দ ছিল সর্বদাই। এছাড়াও ঋণের বোঝা ছিল কবিরের।ধরণা করা হয় পারিবারিক ক'ল'হে'র জেরে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐ দম্পতি। তবে ছোট ফুটফুটে দুটি সন্তানের কথা না ভেবে এমন সিদ্ধান্ত কী তারা নিতে পারে? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। ময়না'তদন্তের মাধ্যমে মৃ'ত্যু'র রহস্য উন্মোচন হবে বলে ধারণা করছেন প্রশাসন ও স্থানীয়রা। মৃ'ত'দেহের পাশেই পাওয়া গেছে একটি চিরকুট যেখানে লেখা ছিল "মানসিক য'ন্ত্র'ণা এবং প্রে'সা'র আর নিতে পারছি না।তাই আমরা এমন কোথাও চলে যাচ্ছি আর ফিরে আসবো না।সবাই শান্তিতে থাকুক। আমাদের মৃ'ত্যু'র জন্য কেউ দায়ী নয়।ইতি, কবির"
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ ই-কার পেল নোবিপ্রবি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুটি ইলেকট্রিক কার (ই-কার) হস্তান্তর করেছে গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শেডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে ই-কার দুটির চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন ফাউন্ডেশনটির প্রতিনিধিরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান, পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান, গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদুল হক, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবাবিল গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব ই-কার সংযোজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। খুব শিগগিরই ই-কারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এর চলাচল, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমান প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।" উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ই-কার সংযোজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। অল্প কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া চালু করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন ও মাননীয় উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।" তিনি আরও বলেন, "ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে এই ই-কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে। ভবিষ্যতে এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ই-কার সংযোজন করা হবে।" বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ই-কারগুলো থেকে কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ হয় না। বর্তমানে এগুলো বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে সৌরশক্তির (সোলার প্যানেল) মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-কার চালু হলে ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনের প্রচেষ্টায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।
নোবিপ্রবির আবাসিক হলে দিন-দুপুরে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি আবাসিক কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে হলের ৩২০ নম্বর কক্ষে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সকালে কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হল প্রশাসন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুত চোরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তারা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজতাবা ফয়সাল নাঈম বলেন, “আজ সকাল ৭টা ৪০ থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে রুম থেকে আমার ল্যাপটপ ও রুমমেটের ফোন চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন ক্যামেরায় দেখা যায়, চোর সকাল ৭টা থেকেই হলের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখে এরপর তৃতীয় তলায় আমাদের রুমে ঢোকে। মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা একজন বহিরাগত ব্যক্তি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে হলে ঘুরে বেড়িয়েছে, অথচ কোনো নিরাপত্তা ছিল না। গেটে আনসার সদস্য ছিল না, সিসিটিভি ক্যামেরাও পর্যাপ্ত নয়।” তিনি আরও বলেন, “গত ৯টি সেমিস্টারের সব একাডেমিক ডকুমেন্ট, চলমান প্রজেক্ট ও গবেষণার বিভিন্ন ফাইল, ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, দুটি ম্যাগাজিনের সম্পাদিত লেখা, অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও রেকর্ড ছিল ল্যাপটপে, যার অনেক কিছুরই কোনো ব্যাকআপ নেই। ল্যাপটপ উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এগুলোর কোনোটিই ফিরে পাওয়া যাবে না। প্রশাসনের কী সীমাবদ্ধতা আছে, তা নিয়ে কথা বলছি না। ল্যাপটপের সঙ্গে এক মাস আগে কেনা একটি অফিসিয়াল ফোনও চুরি হয়েছে। তাই চাইলে ফোন ও ল্যাপটপ—দুটিই উদ্ধার করা সম্ভব। আশা করছি প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।” ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আনসার সদস্যরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না বললেই চলে। দিনের আলোতেই হল থেকে চুরির ঘটনা ঘটে, অথচ নিরাপত্তাকর্মীদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না।” এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, “চুরির ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করেছি। তদন্তের সুবিধার্থে তাদের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছি। প্রক্টর মহোদয় আশা করি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।” এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুরগির খোপে খাবারের সন্ধানে এসে বিপাকে ১২ কেজির ভারতীয় অজগর
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়নের শরণখোলা গ্রামে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আলমগীর মিয়ার বাড়ির মুরগির খোপে একটি বিশাল আকৃতির ভারতীয় অজগর সাপ ঢুকে পড়ে। মুরগি খেতে এসে খোপের ভেতর আটকা পড়লে স্থানীয়দের নজরে আসে সাপটি। হঠাৎ এত বড় অজগর দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১২ কেজি ওজনের অজগরটি নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর বন বিভাগের সদস্যরা সাপটিকে সুন্দরবনের উপযুক্ত আবাসস্থলে অবমুক্ত করেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বা ক্ষতি না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ দিনব্যাপী ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ২০২৬’ শুরু
সাত দিনের জন্য এক নান্দনিক শিল্পযজ্ঞে পরিণত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের আয়োজনে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ২০২৬’। গত ১২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই এই বর্ণিল আয়োজন চলবে ১৮ জুলাই পর্যন্ত। এবারের উৎসবে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি নাট্যদল অংশ নিচ্ছে। নতুন কলা ভবনের নীচ তলায় বিভাগীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে শিল্পকলার প্রতি এক গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উৎসবের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নাট্যকলাকে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘নাট্যকলা ও পরিবেশনা কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি শিল্প যা দেশ ও বিদেশের মঞ্চে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে সক্ষম।’ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতকে ‘নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান। যখন উপাচার্য তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। আবেগাপ্লুত আবুল হায়াত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সম্মাননা কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি দায়বদ্ধতাও বাড়িয়ে দেয়।’ নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, ‘আমি চাই এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেন একেকজন আবুল হায়াত হিসেবে গড়ে ওঠে।’ নাট্যোৎসব মানেই নতুন নতুন গল্পের সাথে পরিচয়। এবারের উৎসবে মঞ্চস্থ হচ্ছে সাতটি ভিন্ন ধারার নাটক। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় জিয়া হায়দার ল্যাবে দর্শক দেখতে পাচ্ছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধ্রুপদী ও সমসাময়িক নাটকের মঞ্চায়ন। উৎসবে মঞ্চায়িত নাটকের তালিকা ও নির্দেশকবৃন্দ: ভাষা অথবা প্রেমের রাজনৈতিক বিপর্যয়: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: সনজিত কুমার দে) রক্তবীজ বধ: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: জাফরিন হক তরু) ইনডিপেন্ডেন্স: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: সামিয়া সুলতানা চারু) একশ বস্তা চাল: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: মো. শাহিন আলম) দেওয়ান গাজীর কিসসা: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: মো. শাকিল আহমেদ) ক্রীতদাসের হাসি: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: হাবিবা আক্তার পিংকি) পঞ্চমীর চাঁদ: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: রাজা দে) নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উৎসবটি নতুনদের দক্ষতা যাচাইয়ের বড় একটি ক্ষেত্র। অভিনয়ের সূক্ষ্ম কৌশল, মঞ্চ সজ্জা আর আলোর খেলায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতির জানান দিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইস্রাফীল, স্থানীয় কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রফেসর ড. আরিফ হায়দারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত এই নাট্যোৎসবের প্রতিটি সন্ধ্যা যেন হয়ে উঠবে শিল্পমনাদের জন্য এক একটি নতুন অভিজ্ঞতার আধার। ত্রিশালের বুক চিরে বয়ে চলা এই নাট্যধারা সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে - এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও দর্শকমহলের।
পীরগঞ্জে দখলকৃত সরকারি রেকর্ডিও রাস্তা উদ্ধার করল উপজেলা প্রশাসন লাল কার্ড ফ্লাগ এর খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ১নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া মোল্লাহার পুকুর এলাকায় প্রায় ৬০/৭০ বছর ধরে দখলকৃত রেকোডিও সরকারি রাস্তায় লাল ফ্লাগ দিয়ে দখল মুক্তের নির্দেশনা উপজেলা প্রশাসনের। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধা অবধি একটানা মোল্লাহার পুকুর এলাকায় সরকারী সার্ভয়ার, স্থানীয় আমিন ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার ১নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া মোল্লাহার পুকুর বাবুল হোসেনের বাড়ির পাশ দিয়ে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য একটি সরকারি রেকর্ড ভুক্ত রাস্তা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই রাস্তাটির জায়গা দখল করেছিলেন এলাকার বিভিন্নজন। অভিযোগ করার পর রাস্তার উপরে বিল্ডিং এর প্রাচীন নির্মাণ করেছিলেন বাবুল হোসেনের ছেলে রফিক হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রেকর্ডিও রাস্তা দখল করে বসবাস করে আসছিলন বাবুল হোসেন এর পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজউদ্দীন এলাকাবাসীর পক্ষে সরকারি রেকর্ডিও রাস্তা৷ জনসাধারণের চলাচলের জন্য ঐ রেকর্ডীয় সরকারি রাস্তা দখল মুক্ত করতে পীরগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি এর বরাবর দুই দুইবার গণস্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগ করেন। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্ভেয়ার দুই দুইবার ঘটনাস্থলে গিয়ে রেকর্ডিং ও রাস্তা উদ্ধার করার প্রচেষ্টা চালান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঐ রেকর্ডিও রাস্তা লাল ফ্লাগ বসিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই রাস্তা জনগণের জন্য চলাচলের সুব্যবস্থা হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এমনটাই আশা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে দখল কি তো রেকর্ডিং ও রাস্তা উদ্ধারের সময় ছাড়বে লাল ফ্লাগের খুঁটি বসাতে গেলে বাবুল হোসেন এর পরিবার ও তার ছেলে তেলে বেগুনে জ্বলে জ্বলে ওঠেন। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে পরিবেশের কিছুটা শান্ত হলে লাল ফলাগ বসাতে সক্ষম হন সার্ভেয়ার আর ফারুক হোসেন। পরে অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর প্রতিনিধি সার্ভেয়ার ফারুক হোসেন বলেন, সরকারি সম্পত্তির ওপর অবৈধ দখল দারিত্ব কোন ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনের মুখে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ রক্ষায় মানববন্ধন
নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ রক্ষার দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বাঁধের ওপর আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। মানববন্ধনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, গঙ্গাচড়া উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রদল নেতা মুনতাসীর মামুনসহ ভাঙনকবলিত এলাকার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করছে। তবে তিস্তার তীব্র স্রোতে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকির মুখে পড়লেও এখনো কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এনসিপির রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে নির্মিত এই বাঁধটি রক্ষায় দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় হাজারো পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। গঙ্গাচড়া উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে অবিলম্বে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ এবং বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সাবেক ছাত্রদল নেতা মুনতাসীর মামুন বলেন, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙনে এ অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই। দ্রুত কাজ শুরু না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। মানববন্ধন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলা, বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ এবং তিস্তা নদীর ভাঙনরোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
সিসিকের উদ্যোগে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ: হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে সিটিকর্পোরেশন
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে নগরীর ১৪টি স্যাটেলাইট স্কুলের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে নগর ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব উপহার তুলে দেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা প্রসারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষাকে সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দরিদ্রতা যেন কোনো শিশুর শিক্ষাজীবনের প্রতিবন্ধক না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগরীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালমুখী করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসিকের বস্তি উন্নয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল খোকন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ। এ সময় সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্যাটেলাইট স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস (ছাত্রদের জন্য শার্ট-প্যান্ট এবং ছাত্রীদের জন্য ফ্রক-প্যান্ট), স্কুল ব্যাগ, জুতা, মোজা ও রিডিং টেবিল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া পড়াশোনার সহায়ক উপকরণ হিসেবে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের খাতা, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, স্কেল, সাধারণ জ্ঞানের বই, ছবি আঁকার বই, রঙ পেন্সিল বক্স এবং ড্রয়িং খাতা বিতরণ করা হয়। স্যাটেলাইট স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হাজিরা খাতা, রেজিস্টার, ডাস্টার, চক বক্স, ব্ল্যাকবোর্ড, জাতীয় পতাকা, দেয়াল ঘড়ি ও স্ট্যাপলারসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা-উপকরণও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়।