বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কলাপাড়ায় "প্রান সংহতি" সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মালিকানাবিহীন কুকুর, বিড়াল ও বন্যপ্রানী অপরাধ দমন ও সংরক্ষনের জন্য অনন্য অবদান রাখায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেককে "প্রান সংহতি" সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিস কার্যালয়ে এ সম্মাননা প্রদান করেন অ্যানিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যরা। এসময় সম্মাননা হিসেবে তাকে একটি ক্রেষ্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। সম্মাননা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেস ইয়াসীন সাদেক। সম্মাননা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী, সদস্য আল মনজির, সদস্য মাসুদ হাসান ও কাউছারসহ আরো অনেকে। অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী বলেন, ইয়াসীন সাদেক কলাপড়ায় যোগদান করার পরেই তিনি বন্যপ্রাণীদের প্রতি অনেক সহানুভূতি দেখিয়েছেন। আমাদের বিপদগ্রস্থ বন্যপ্রাণী উদ্ধারের কাজে তিনি সব সময় আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তার কৃতিত্ব আমাদের আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে ছোট থেকেই আমার পশু পাখি এবং গাছপালার প্রতি একটা টান রয়েছে। তবে আমার কৃতিত্ব আমি এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখা সদস্যদের উৎসর্গ করছি। কারন তারাই আমাকে মোটিভেটেড করেছে। আমি মনে করি আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেলো। বন্যপ্রাণী নিয়ে মানুষের সচেতনতার অনেক অভাব রয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমি বেশ কিছু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। কলাপাড়া ইতিমধ্যে ১৬ টি মহিষের লড়াই বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির বন্য পশু-পাখি উদ্ধার করে বনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি এনিমেল সেড তৈরি করা হয়েছে। কুয়াকাটা একটি এনিমেল মিউজিয়াম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ঝালকাঠি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চায়, বৃষ্টির মধ্যেই ১ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
দুর্যোগের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠলো ঝালকাঠি। মঙ্গলবার বিকেলে রাজপথে নেমে প্রায় ১ ঘণ্টা শহর অচল করে দিল কয়েকশ শিক্ষার্থী। বিকেল ৪টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে জড়ো হয় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা নেমে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে দেয় তারা। ফলে অফিস ছুটির সময়ে যানজটে আটকে পড়ে শহরবাসী। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ ২টা। এক: বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও জোর করে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। দুই: পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য তাদের অপমান করেছে। তাই তারা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে অবরোধের সময় মানবিক দিকটাও ভোলেনি শিক্ষার্থীরা। অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়ি আটকায়নি তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. মাহমুদ হাসান। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত দেখার জন্য আপাতত ২৪ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত। তাদের হুঁশিয়ারি, এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক কোনো পদক্ষেপ না এলে বুধবার পরীক্ষা শেষ করে দুপুর থেকে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।
শিক্ষামন্ত্রীকে নওগাঁয় প্রবেশে বাধার হুঁশিয়ারি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবিতে নওগাঁয় সড়কে নেমে মানববন্ধন করেছেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নওগাঁয় প্রবেশে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শিক্ষা ভবনের সামনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও বর্ষের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন যোগ দিতে এলে তাকে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারশিয়া রহমান, নাইম আহম্মেদ ও রাহিম হোসেন। এছাড়া অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজন এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদমানও বক্তব্য দেন।
মহেশপুরে পুলিশের অভিযানে ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক উদ্ধার, আটক ৪
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক ও তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ও ওসি (তদন্ত) এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের তালসার গ্রামের চিহ্নিত মাদক চোরাচালানি ইসরাফিলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ইসরাফিলসহ চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৪৪ বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাপ, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৫০০ পিস অবৈধ ভারতীয় ইনজেকশন, তিনটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত মাদক ও জব্দকৃত আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, "মাদক, মানবপাচার ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সব ধরনের চোরাচালান রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। এসব অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।" আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চুনপুরী সঃ প্রাঃ বিঃ থেকে রাফিয়া নাহার করুনার বৃত্তিপ্রাপ্তি
২০২৬ ইং সনের প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষায় ঝালকাঠির রাজাপুরের চুনপুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাফিয়া নাহার করুনা বৃত্তিপ্রাপ্তি হয়েছে। "রাফিয়া" চুনপুরী গ্রামের ফকির মার্কেট এলাকার শাহ মোঃ দিদার ও নাজমা বেগমের ছোট মেয়ে। পড়াশোনা নিয়ে শ্রেণী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক জানান রাফিয়া ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্তই পড়া লেখায় ভালো ছিলো, আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাফিয়ার আচরণে মুগ্ধ, ওর ভবিষ্যৎ জীবনের উন্নতি কামনা করি। রাফিয়ার বাবা শাহ মোঃ দিদার ও তার সহ-ধর্মীনি নাজমা বেগম স্কুল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন পুর্বক বলেন যে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার যে অবস্থা তার মধ্যদিয়ে বৃত্তিপ্রাপ্তির বিষয়টি খুবই কষ্ট সাধ্যের ব্যাপার, তবে আমরা অভিবাক ও স্কুল শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ছিলো নিরলস। মেয়কে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের সেবায় নিযুক্ত করার ইচ্ছে প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাফিয়ার বাবা দিদার ও তার মা নাজমা বেগম। ইতোমধ্যে "রাফিয়া" রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে বালিকা শাখার ১ম শিক্ষার্থী হিসাবে পড়া-লেখা করছে।
এমসি কলেজে তরুণীকে গণ/ধ/র্ষ/ণ: ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের মৃ/ত্যু/দ/ণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর বহুল আলোচিত সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আট আসামিকেই আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে বেড়াতে যাওয়া এক নবদম্পতির ওপর হামলা চালিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে একে একে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত উপস্থাপন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শেষ হলো। তবে আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকবে
শ্রীপুরে পারিবারিক ক/ল/হের জেরে স্ত্রী হ/ত্যা: ২৪ ঘন্টায় স্বামীকে গ্রে/প্তা/র করল র্যাব ১
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে প্রধান আসামি ছায়েদুল ইসলামকে (৪০) ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। র্যাব জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১ জানায়, সোমবার (১৩ জুলাই) ভোররাত আড়াইটার দিকে শ্রীপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাসিমা আক্তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বনপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত ছায়েদুল ইসলাম ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গীদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দুই সন্তানকে নিয়ে তারা শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। র্যাবের দাবি, ছায়েদুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীর কাছে নেশার জন্য টাকা চাইতেন। নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, রোববার কারখানা থেকে বেতন পাওয়ার পর রাতে ছায়েদুল স্ত্রীর কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। নাসিমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ছায়েদুল ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নাসিমার মৃত্যু হয়। এ সময় তাদের আট বছরের মেয়ে সামিয়া ও পাঁচ বছরের ছেলে জিসান ঘরে ছিল এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে। হত্যার পর ছায়েদুল পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের করা মামলার পর র্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস ও মিডিয়া) শাহ আলম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র্যাব বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে র্যাবের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি এবং টাকার বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ঘাঘটের ভাঙনে হুমকিতে গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধ, বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধের একটি অংশ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর সঙ্গে বাঁধের দূরত্ব বর্তমানে মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট। ফলে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোঃ মুশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ, জেলা প্রশাসনের নাজির মোঃ আশরাফুজ্জামান নাহিদ, পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে নদীভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, একটি বালুবাহী বোলগেট থেকে এনে শহররক্ষা বাঁধের ওপর বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বাঁধের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওই বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহররক্ষা বাঁধে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঘাঘট নদীর ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী (রহ:) : ইলম ও যুহদের মাকাম-মর্তবায় এ কালের মানুষের জন্যে উপমা হয়ে থাকবেন
প্রথিতযশা ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’র ইন্তেকাল ব্রিটেনবাসী আলেম সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক দ্বীনী অভিভাবক হারানোর মতো। ৯১ বছরের এই বিশেষজ্ঞ আলেম ব্রিটেনের বাঙ্গালী বা বাংলাদেশীদের জন্য ছিলেন গর্বের ধন। একজন প্রবীণ আলেমে দ্বীন যিনি ইলম ও আ’মালের চর্চায় ছিলেন অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। ব্রিটেনে বসবাসকারী উলামা সমাজে যাঁর অবস্থান ছিল শীর্ষে। উস্তাদতুল্য এবং অনেকের সরাসরি উস্তাদও ছিলেন তিনি। ২০০১ সনে ইংল্যান্ডে মাত্র পাড়ি জমিয়েছি, অবস্থানস্থল লুটন শহর। আমার শশুর মহুদয়ের কাছে জানতে চাইলাম ‘লেস্টারের ছাহেব’ সম্পর্কে। তখনও আমি জানতাম না তিনি যে তাঁর উস্তাদ। আমার শশুর মাওলানা ক্বারী আব্দুল কাদির ছাহেব সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসায় লেস্টারের ছাহেবকে উস্তাদ হিসেবে পেয়েছিলেন। তিনি তাঁকে ফোন করলেন। আমি এই প্রথম লেস্টারের ছাহেবের সাথে কথা বলি। এর পর থেকে লেস্টারের ছাহেব আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমি তাঁকে এক সাদা মনের উদার প্রাজ্ঞ আলেমে দ্বীন মুরব্বী রূপে পেয়েছি। বাংলাদেশে আমার কর্মস্থল ঢাকায় মাসিক পরওয়ানা পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা কালীন সময়ে (১৯৯২-২০০১) ইংল্যান্ডের যে সম্মানিত আলেম ছাহেবের নাম আমি খুব বেশী করে জানতাম, বিশেষতঃ পরওয়ানা সম্পাদক ছাহেবজাদা মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী এবং ছাহেব পরিবারের অন্যান্যের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিষয়-আশয়ের সাথে আমার যে যোগসূত্র বা যোগাযোগ গড়ে ওঠে, উনাদের মুখে যে নামটি বেশী করে উচ্চারিত হতো, তিনি হলেন ‘লেস্টারের ছাহেব’। মানুষ তাঁকে ‘লেস্টারের ছাহেব’ নামেই জানতো। ইংল্যান্ডের লেস্টার শহর, বিলেতে তাঁর প্রাথমিক কর্মস্থল ছিল। লেস্টারের দারুস সালাম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও খতীব ছিলেন তিনি। যুগ বরেণ্য ওলীয়ে কামেল হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর শায়খ এবং উস্তাদ ছিলেন। তিনি ‘খলীফায়ে ফুলতলী’ হিসেবে ইংল্যান্ডে তাঁর সম্মানিত শায়খের প্রতিনিধিত্ব করতেন। এই সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে এক বিশিষ্ট অবস্থানে উন্নীত করেছিল। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা তাঁকে ইংল্যান্ডের সকল মাক্তাব-তানযীম বা মাসলাকের উলামা ও বিশিষ্টজনদের মাঝে স্বকীয় বৈশিষ্ট এনে দিয়েছিল। নিজের মাসলাক বা তানযীমভুক্ত মানুষের কাছে তিনি তখন পরিচিত ছিলেন ‘লেস্টারের ছাহেব’ আর সর্বমহলের উলামা-জনতা তাঁকে ‘আল্লামা ছাহেব’ নামে জানতো। ‘আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব ইন্তেকাল করেছেন’, এই সংবাদ শুনে ভাবতে থাকি, আল্লাহ পাক যমীন থেকে তাঁর প্রিয় বান্দাহ আলেমে দ্বীনকে উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যমীনকে যে ইলমশূন্য করে দিবেন, এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ তো আমার চোখের সামনে। আমার সম্পর্কিত বয়স্ক সম্মানিত কেউ কেউকে সংবাদটি জানাবার তাগিদ অনুভব করলাম। শুনে আল্লাহর বান্দাহগণ ব্যথাভরা কন্ঠে বললেন, ‘আহ! আমরা একজন অভিভাবক হারালাম, একজন নির্ভরশীল দ্বীনী অভিভাবক হারিয়েছি আমরা।’ অনেকে তো এমনও বললেন, ‘ইংল্যান্ডে বসবাসকারী আলেমদের মধ্যে তিনিই বেশী কাজ করেছেন।’ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে দেখেছেন এবং তাঁর কর্মতৎপরতার সাক্ষী যাঁরা তাঁদের মূল্যায়নে, ‘তিনি ছিলেন সুন্নীয়তের এক শক্তিশালী স্তম্ভ।’ কয়েক দশক ধরে ইংল্যান্ডের যমীনে তাঁর তা’লিম-তরবিয়তে ধন্য মানুষের সংখ্যা একেবারে কম হবেনা। একজন বিশেষজ্ঞ আলেম যাঁর কর্মশীল জীবন মানুষের কাছে সত্যিকার অর্থেই দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছিল - তিনি তা ছিলেন। তা কর্মস্থল হোক বা নিজের বাড়ি হোক অথবা সফরকালীন সময়ই হোক, তাঁর জীবনাচার এবং ইখলাসপূর্ণ নেক আমলের উদাহরণ সংগতিপূর্ণ গাম্ভীর্যে অত্যুজ্জ্বল ছিল। দরবেশী জীবনবোধ যা তিনি লালন করতেন ও পালন করতেন, তা নিজের পরিবার-পরিজনেরও প্রাত্যহিক আচরণ সৌন্দর্যে পরিণত করেছিলেন। খুবই কাছ থেকে দেখেছেন, এমন মানুষদের অকৃত্রিম - বিশুদ্ধ স্বীকারোক্তি আমাকে বলতে বাধ্য করছে যে, সাধারণ মানুষজনই শুধু নয়, অনেক আলেম ও দায়ী’ হযরাতকেও উপাদান গ্রহণ করার মতো পরহেজগারীর নমুনা তিনি অন্দরে ও বাইরে ধারণ করতেন। অনেক সময় মানুষের জটিল বা প্যাচানো গুণ - বৈশিষ্ট্য বহু সুন্দরতাকে দুর্বোধ্যতায় আচ্ছন্ন করে দেয়। মানুষের অকৃত্রিম - আন্তরিক সারল্য হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম গুণ - আল্লামা দুবাগী ছিলেন এমনই এক গুণসম্পন্ন মানুষ, যিনি ছিলেন জটিলতামুক্ত নিজস্বতায় ভরপুর। তাঁর সম্পর্কে সম্মন্ধিত উক্তিগুলো যা তাঁর গুণগ্রাহীগণ ইতোমধ্যে চর্চা করতে শুরু করেছেন - সরল আল্লাহওয়ালা প্রাজ্ঞ একজন ছিলেন তিনি; মেহমান নেওয়াজ, উদার, স্নেহপরায়ণ এক মুরব্বীকে আমরা হারিয়েছি; অধ্যাবশায়ী এক জ্ঞানপিপাষু গুণী মানুষ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন; নির্ভরযোগ্য আলেমে দ্বীন হিসাবে মানুষের কাছে তাঁর অসামান্য গ্রহণযোগ্যতা ছিল; সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কাছে মকবুলিয়ত বা গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাসীদের এই চর্চা একজন মানুষের জীবনে পরম প্রাপ্তি নয়কি! আমি বা আমরা যে তাঁর পরিপূর্ণ - নিবিড় সান্নিধ্য নিতে পারিনি, আক্ষরিক অর্থেই এটা সত্য। তিনি সকল বয়সের এবং সকল স্তরের আলেমগণকে সঙ্গ দিতে পছন্দ করতেন। বার্ধক্যের ভার আর শারীরিক সুস্থতার অল্পতা তিনি ভুলে যেতেন যখন আমাদের মতো বয়স এবং ইলমে অতিশয় তারতম্যপূর্ণ নবীনদের সাথেও আলোচনায় বসতেন। ব্যথা আর বেদনার ভারে অনেকের মতো আমিও কাতর হয়েছি, বিদ্ধ হয়েছি শোকাবহ খবরটির নিদারুণ আঘাতে। অনেকেই হয়তো বলবেন, তাঁর ইন্তেকাল পরিণত বয়সেই হয়েছে, কিন্তু আফসোস! আমরা একজন উঁচু স্তরের আলিমে দ্বীনকে হারিয়েছি, এক মুত্তাকী আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ - অভিভাবককে হারিয়েছি, হারিয়েছি আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেবকে; যিনি ইলম ও যুহদের মাকাম-মর্তবায় এ কালের মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত-উপমা হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার থানার দুবাগ গ্রামে ১৯২৯ সনে তাঁর জন্ম। সে সময়ের বরেণ্য উলামা, মুহাদ্দিসীন ও ফকীহ মুহাক্কিক উস্তাদগণের কাছে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে একজন মুহাদ্দিস এবং ফকীহ হিসাবে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে নিজের প্রজ্ঞা ও মেধার নজির রাখেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অনেক মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফকীহগণ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে শিক্ষা বিস্তারে এখনও খেদমত করে যাচ্ছেন। ১৯৭৮ সন থেকে লেস্টার শহরের দারুস সালাম মসজিদের খতীব হিসেবে ব্রিটেনে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। তিনি তাঁর মুক্তাদি, মুসাল্লি ও মসজিদ কেন্দ্রিক জনসাধারণকে প্রাত্যহিক বিষয়ের তা’লিম ও তারবিয়ত দিয়ে এতই প্রাজ্ঞ করে তুলেন যে, শুনা যায় এই সকল মানুষের সংস্পর্শে এসে ভিন্নভাষী উলামা কেরামগণও তাঁর সম্পর্কে এক সময় উচ্চ ধারণা পোষণ করতে শুরু করেন। তাঁর ছাত্রজীবনেও কিতাব অধ্যায়নে বিস্ময়কর দক্ষতা তাঁকে তাঁর সময়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে আলোচনার কেন্দ্র করে তুলেছিল। ব্রিটেনের কর্মজীবনে তাঁর অসামান্য কর্মশীলতার নযীর বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিভিন্ন ভাষায় রচিত অনেকগুলো মূল্যবান কিতাব। বাংলাভাষী এই বিশেষজ্ঞ আলেম যিনি তাঁর মূল্যবান লেখনী দ্বারা ব্রিটেনবাসী মুসলমানদের জন্য তো বটেই, সকল শ্রেণীর মানুষের জন্যেই অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। আমরা এ পর্যায়ে তাঁর লিখিত কিতাবাদী থেকে কয়েকটির উল্লেখ এখানে করতে পারি: মানাছুল মুফতী (উর্দু), আল মাসাইলুন্নাদিরাহ, ফাতওয়ায়ে মুজাহিদিয়া, মীলাদে বেনযীর, এক নজরে হজ ও যিয়ারত, এতিম প্রসঙ্গে, পুণ্যের দিশারী, ফাতেহা ও কবর যিয়ারতের মাসাইল, সুন্নাত ও নফল নামাজের জরুরি মাসাইল, দোয়ার মাহাত্ম্য, মানাছুল মুফতীর বঙ্গানুবাদ, বিবিধ মাসাইল, কদম বুছির তথ্য, জানাজার নামাজের পর দোয়া করা মুস্তাহাব, শবে-কদরের তাৎপর্য, ফাদায়েলে শবে-বরাত, শিফায়ে রূহ, প্রশ্নউত্তর প্রভৃতি। বিলেতে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী সমাজের এক প্রতিকৃত আলেম ছিলেন তিনি, যিনি তাঁর লেখনীর খিদমতের মধ্য দিয়ে নিজে জাগরুক থেকেছেন এবং জাগিয়ে রেখেছেন মানুষকেও। পুস্তক প্রকাশ করা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে সহজতর উপস্থাপনায় প্রচারিত তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ফতওয়াবলী ছিল কমিউনিটির জন্য দিকদর্শনের মতো। দ্বীনী নানাবিধ খেদমতে সম্পৃক্ততা সত্বেও কিতাব রচনায় নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে আল্লামা দুবাগী (রহ:) সমাজ ও জাতির প্রতি যেমন কল্যাণকর অবদান রেখেছেন, তেমনি নিজের কর্ম-কুশলতায় একাগ্র অধ্যাবসার নজির রাখতেও সক্ষম হয়েছিলেন। আল্লামা মুহম্মদ ইকবাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কত সুন্দর ও গভীর দর্শনের চোখে একজন লেখক, কবি অথবা মুসান্নিফের কর্মবিশালতার পেছনে তাঁর একাগ্রচিত্ত বৈশিষ্টকে ফুটিয়ে তুলেছেন: “আত্তার হো, রুমী হো, রাযী হো, গাজালী হো; কুছ হাত নেহী আতা বে আহে সাহার গাহী।” (সূফী সম্রাট আত্তার হোন, বিশ্বপ্রেমী রুমী হোন, মহাজ্ঞানী রাযী অথবা গাজালী-ই হোন, এমন কোন সৃষ্টিশীল হাত আসেনি, যে নিদ্রাহীন বিপন্ন রাত যাপন করে ভোর করেনি।) ‘সমাজ ও জাতির জন্যে একজন আলেমে দ্বীন আকাশের তারকার মতো’—রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বাণীতে এমনই বলেছেন। তারকাতুল্য আলেম, সমাজ ও জাতির জন্য আদর্শ হবেন। রাসূলে করীমের এই বাণীতেই বলা হয়েছে—‘রাতের অন্ধকারে সমুদ্রের নাবিকরা যেমনি তারকা দেখে দিক খোঁজে নেয়, তেমনি মানুষ আলেমের কাছে সঠিক দিক দির্দেশনা পেয়ে থাকে।’ রাসূল করীমের বাণীর আলোকে সে আলেম হবেন যোগ্যতর আলেম, বড় আলেম, মানুষ তাকওয়া-পরহেজগারীর দৃষ্টান্ত পরিলক্ষণ করবে যাঁর আমাল ও আ’দাতের অনুশীলনে। আলেমের নিজের জিন্দেগী তো উপস্থাপিত গ্রহণযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তির্ণ হবেই, তাঁর সংশ্লিষ্ট সীমার একান্ত বিষয়-আশয়গুলিও শুদ্ধতার বিচারে পরিহারযোগ্য নয়, তা সুনিশ্চিত হতে হবে। আমাদের এ কালে ‘বড় আলেম’ হিসেবে অভিধেয় ব্যক্তির বৈশিষ্ট-রূপ প্রায়শই খ্যাতির মোড়কের চাকচিক্যের উপর নির্ধারিত হয়ে থাকে। শুদ্ধতা এবং সুস্থতা যখন শীর্ণতার বিবেচনায় নিরূপণ হতে চলেছে, তখন ‘বড়’র সংজ্ঞা ‘ক্ষুদ্রতার’ সাপেক্ষে বিশেষিতকরণ হতে পারবে না কেন! এ প্রসঙ্গে আমাদের এক সম্মানিত উস্তাদের তাৎপর্যপুর্ণ কিছু বক্তব্যের কথা মনে পড়ছে। মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার শায়খুল হাদীস আল্লামা ওয়াজীহ উদ্দীন লক্ষিপুরী আমাদেরকে বুখারী শরীফের প্রথম দিনের ক্লাসে ইলম, উলামা এবং মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার বিশেষত্ব, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে গভীর আলোচনার পেক্ষিতে এমন সব কথামালা বলছিলেন, যা সাতাশ বছর আগের তিন শ’য়ের অধিক ছাত্রদের মধ্যে বসে থেকে শুনা কথাগুলোর তীক্ষ্ণ, গভীর প্রভাব এখনও আমি অনুভব করি। তাঁর কথাগুলো একাধারে একজন শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো শুনাচ্ছিল। অর্থাৎ না শুনে না মেনে তোমাদের উপায় নেই—এমনই নিশ্চিত করে উপস্থাপন করা তাঁর কথাগুলো। প্রথমে বললেন আক্বিদা দুরুস্তের কথা। তাঁর ভাষায়, ‘হাদীস শরীফ পড়তে এসেছ, তো আক্বিদা দুরুস্ত না করে উপায় নেই।’ এর পর বললেন, ইলমের গুরুত্ব ও আলেমের দায়বদ্ধতার বিষয়-আসয় সম্পর্কে। সব শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যের দিকগুলো। এ পর্যায়ে আমাদের ক্লাসরুমের ব্রেঞ্চ, টেবিল, শিক্ষকের চেয়ার এবং ডেস্ক দেখিয়ে বলতে থাকলেন, “এই বেঞ্চে আমিও বসে একদিন ক্লাস করেছি, আর শিক্ষকের আসনে বসা ছিলেন বরেণ্য মুহাদ্দিস মুফতিয়ে আজম হযরত আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বারাকাতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। আমি ভাবিনি তাঁর আসনে বসে একদিন আমার মতই বসে থাকা ছাত্রদের পড়াব। তিনি তখনকার সময়ের বড় আলেম ছিলেন, অনেক বড় আলেম ছিলেন! এখন লোকে আমাদেরকেও বড় আলেম বলে; আর তোমাদেরকেও একদিন বড় আলেম বলবে! আর বেলম গাছের লাকড়িকেও লোকে উত্তম কাঠ হিসেবে ব্যবহার করবে !” শায়খুল হাদীসের কথাগুলো নিয়ে আমি এখনও চিন্তা-ভাবনা করি আর উর্দু এই কবির কবিতার সাথে বাস্তবতার মিল খোঁজি— “ হামারে বা’দ যমানে মে কেউঁ না খাক উড়ে; কেহ কারওয়ান কে পিচ্ছে গুবার রহতা হায়।” (আমাদের পরের যুগ-যামানায় ধুলা উড়তে দেখা যাবে বলে মনে হয়না; কারণ কাফেলা যখন কোন স্থান ত্যাগ করে চলে যায়, তখন তাদের বাহন ঘোড়া বা উটের মল-গোবর পড়ে থাকতেই দেখা যায়।) মনের গহীনে বেদনার সুর সতত অনুরণিত হয় - আমাদের মাথার তাজসকল হারিয়ে যাচ্ছেন। যুগ-যামানার দৃষ্টান্তের মতো ইলম ও আ’মালের খাজানাগুলো মাটির কুটুরিতে সমাহিত হচ্ছেন। আলোগুলো নিভে যাচ্ছে, পেছনের অন্ধকার রুখতে আমাদের যে অনেক আলোর প্রয়োজন। আমরা এই কথায় প্রত্যয়ী যে, মুফতিয়ে যামান আল্লামা দুবাগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কর্মের বিশালতায় বেঁচে থাকবেন। আমাদের নিবেদন, আল্লাহ তাঁর জীবনের নেক আমলগুলো কবুল করুন, আল্লাহ তাঁকে সর্বোচ্চ জান্নাতের বাসিন্দা করুন। আমরা তাঁর ত্যাগ, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায় ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা থেকে যেন আলোকিত হতে পারি। কয়েক লাইন কবিতা দিয়ে শেষ করতে চাই:- এক নিবেদিত জ্ঞানী পুরুষের কথা বলছি, ভোরের বাতাসের সুরের সাথে যাঁর কান্নার আরতি মিশে যেত প্রতিদিন। রাতের তারারা হেলে যায়, আকাশের অবারিত দরোজায় ফেরেশতাদের আসা-যাওয়া চলে; সাধক পুরুষের সেজদার মুসাল্লায় অশ্রুর শিশির কথা বলে; নিশ্চল মগ্নতায় সকল নিস্পন্দ মুহুর্তগুলো শব্দায়মান হয়ে ওঠে - রাব্বানা! রাব্বানা! আমাদের চোখের সামনে যুগের সূর্যগুলো ডুবে যায়! আলোর প্রত্যাশা নিয়ে ভোরের আকাশে খোঁজে ফেরা চোখ সন্ধ্যাকালের শোক মাহফিলে জ্যোতি ছড়ায় - কাফেলা সেই কবে চলে গেছে! আলোর ঝিলিকগুলো বহু দূরের তারার মতো আমাদের পথ দেখায় - মরুর বালু-রাশির মাঝে, আমরা জেগে আছি - জেগে আছি, জ্ঞানী-সাধক পুরুষদের আলো নিয়ে। লেখক: চেয়ারম্যান, ইসলামিক রিসার্স এন্ড দা’ওয়াহ কাউন্সিল ইউকে; চেয়ারম্যান, তানযীমুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ইউকে; সাবেক খতিব শেডওয়েল জামে মসজিদ লন্ডন, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক দারুল হাদিস লতিফিয়া লন্ডন, সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক পরওয়ানা ঢাকা; সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া।
তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও বন্যার আতঙ্ক কাটেনি
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি সোমবার রাতভর পর্যায়ক্রমে ৩, ১০ ও ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পানি প্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের তিস্তাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল, তবে এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে পানি পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার শঙ্কা প্রবল হয়েছে। তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একইসঙ্গে রয়েছে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব। হাতীবান্ধার পারুলিয়া চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। পানির তীব্র চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে অভিযোগ তাদের। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি করেন তারা। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে! পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কুদ্দুস আলী বলেন, “ব্যারাজে পানি বাড়লে তো আমাদের এখানে পানি বাড়বে। রাতের মধ্যেই আমাদের এখানে পানি আসবে। সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম।” একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান হাতীবান্ধা গড্ডিমারী এলাকার জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, সোমবার রাতে পানি বাড়তে শুরু করায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।” তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ টেকসই সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বর্ষাকালে জরুরি ভিত্তিতে নামমাত্র মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, প্রথম দফার বন্যায় দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, "তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।"
ভেলায় ভাসিয়ে কফিন, পাহাড়ের খাস জায়গায় দাফন
পারিবারিক কবরস্থান কোমর পানিতে ডুবে যাওয়ায় বানের পানিতে ভেলা বানিয়ে তার ওপর কফিন রেখে নিয়ে যাওয়া হয় ৩০০ মিটার দূরের উঁচু এলাকায়। তারপর অটোরিকশায় আরও দুই কিলোমিটার।ভেলায় ভাসিয়ে নেওয়া মোহাম্মদ ফোরকানের কফিনটি অতঃপর দাফন। শুক্রবার (১০ জুলাই) জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে এ ঘঠনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালেওে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছও ধরেছিলেন ফোরকান। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন তিনি। এরপর বাড়িতেই মারা যান। কিন্তু পারিবারিক কবরস্থান ডুবে থাকায় দাফন করা সম্ভব হয়নি। ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় রাত ১০টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে সেখানে পাহাড়ের খাস জায়গায় দাফন করা হয় ফোরকানকে। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। মো. ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন জানান, বাড়ির পাশেই পারিবারিক কবরস্থান আছে। আমার দাদা-দাদিসহ পরিবারের মুরুব্বিদের সেখানে কবর দেওয়া হয়েছে। বাবাও বলতেন, তাঁকে দাদা-দাদির পাশেই কবর দিতে। কিন্তু বন্যার কারণে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হলো না বন্যার কারণে।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জুলাই থেকে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম (ইউএসজি) সেবা চালু হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে উপজেলার সাধারণ মানুষ এখন স্বল্প খরচে প্রতিদিন সরকারি হাসপাতাল থেকেই প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর সুযোগ পাচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ চিকিৎসকরা নিয়মিতভাবে এ সেবা প্রদান করছেন। এতে পেটের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়, যেমন—লিভারে চর্বি, জন্ডিস, পিত্তথলিতে পাথর, তলপেটের ব্যথার কারণ শনাক্তকরণসহ গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর অবস্থান, বৃদ্ধি ও সার্বিক সুস্থতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার ৩৯ নম্বর কক্ষে (আল্ট্রাসনোগ্রাফি রুম) প্রতিদিন এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত মাত্র ২২০ টাকা ফি দিয়ে রোগীরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকারের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এতে উপজেলার রোগীদের জেলা শহর বা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা কম খরচে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রয়োজন হবে, তারা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষ থেকে সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন।
ইতিহাসের এক নিরব সাক্ষী নওগাঁর বলিহারের রাজবাড়ী
নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়ি। একসময় যে প্রাসাদ ছিল জমিদারি শাসন, ঐশ্বর্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র, সময়ের পরিক্রমায় সেটিই আজ নীরব ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি এবং পরবর্তী সময়ের লুটপাট ও অবহেলায় হারিয়ে গেছে এর বহু মূল্যবান নিদর্শন। ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে নৃসিংহ চক্রবর্তী নামের এক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এ অঞ্চলের বিশাল এলাকার জায়গির লাভ করেন। তাঁর উত্তরসূরিদের হাত ধরেই কালক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় বলিহার জমিদার বংশ। বলিহারের জমিদাররা শাসনকার্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ বংশের রাজা কৃষ্ণেন্দ্রনাথ রায় বাহাদুর ছিলেন একজন খ্যাতনামা লেখক। তাঁর ‘কৃষ্ণেন্দ্র গ্রন্থাবলী’ তৎকালীন সুধীসমাজে সমাদৃত হয়েছিল। লোকমুখে প্রচলিত আছে, বার ভূঁইয়াদের দমনে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ এ অঞ্চলে যাত্রাবিরতি করেছিলেন। সে সময় সৈন্যদের অলসতা দূর করতে ৩৩০টি দীঘি ও পুকুর খনন করানো হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর বলিহার রাজপরিবারের ভাগ্যেও বড় পরিবর্তন আসে। দেশভাগ-পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার মধ্যে বলিহারের শেষ রাজা বিমলেন্দু রায় সপরিবারে ভারতে চলে যান। এরপর ১৯৫০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে বলিহার জমিদারির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা জমিদারি শাসনেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। রাজপরিবার দেশ ছাড়ার পর বিশাল প্রাসাদের দেখভালের দায়িত্ব পড়ে কর্মচারীদের ওপর। কিন্তু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফায় রাজবাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র, কড়িকাঠ, দরজা-জানালা ও বহু প্রাচীন নিদর্শন লুট হয়ে যায়। ১৮২৩ সালে নির্মিত বিখ্যাত ‘রাজ-রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির’ থেকেও ঐতিহাসিক পিতলের মূর্তি চুরি হয়ে যায় বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ২০২২ সালে সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেটের মাধ্যমে ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ, সংস্কার এবং এর আদি রূপ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যেও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখানকার দেবালয়ে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নড়াই নদীর নামফলক উধাও: রামপুরা থানায় নোঙরের জিডি, নদীখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক: রাজধানীর রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার পরিবেশ ও নদী রক্ষার প্রতীক ঐতিহাসিক ‘নড়াই নদীর নামফলক (সাইনবোর্ড) প্রকাশ্য দিবালোকে উধাও করে দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। পরিবেশের ওপর এমন নগ্ন হামলার প্রতিবাদে এবং নামফলকটি দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবাদী, নদী ও প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় নোঙর বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৮৩) দায়ের করেছেন। জিডি গ্রহণের পর রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। নদী ও পরিবেশের ওপর পরিকল্পিত আঘাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে নড়াই নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশাল মানববন্ধন এবং নৌ-র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও নদীপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই নামফলকটি স্থাপন করা হয়, যা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার নদী রক্ষা ও পরিবেশগত সচেতনতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু গত ২৬ জুন ২০২৬ সকাল ১০টার পর থেকে সাইনবোর্ডটি আর নির্দিষ্ট স্থানে দেখা যাচ্ছে না। পরিবেশবাদীদের ধারণা, নড়াই নদীর অস্তিত্ব মুছে ফেলা এবং নদী দখলের হীন উদ্দেশ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি নদীর নামফলক উপড়ে ফেলার অর্থ হলো—নদীটির নাম ও ইতিহাসকে সমাজ থেকে আড়াল করে দেওয়া, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি জরুরি আহ্বানে নড়াই নদী রক্ষায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নোঙর ট্রাস্ট-এর চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন: "নদীর নামফলক চুরি কেবল একটি সাইনবোর্ড চুরি নয়, এটি আমাদের নদী ও পরিবেশের ওপর এক ধরণের সন্ত্রাসী হামলা। নদীখেকো চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই চুরির নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করা হোক এবং নদীর সীমানা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।" নোঙর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও দেশের সচেতন নাগরিকদের এই নদী রক্ষার লড়াইয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকার বুক থেকে একে একে নদী ও খাল হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নড়াই নদীর মতো একটি ঐতিহাসিক প্রবাহকে বাঁচাতে হলে এখনই প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। জনসাধারণের দাবি, রামপুরা থানা পুলিশ যেন দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে এবং নড়াই নদীর বুকে আবারো সগৌরবে সেই সচেতনতার প্রতীক—নামফলকটি পুনঃস্থাপন করার ব্যবস্থা করে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু, শোকের মাতম ক্যাম্পাসে
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের সাগরদিঘী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, জাহিদ টাঙ্গাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে সাগরদিঘী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সিএনজির সামনের আসনে বসে থাকা জাহিদ এই সংঘর্ষে বুকে গুরুতর আঘাত পান, যাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামে। জাহিদের এই অকালমৃত্যুর সংবাদে তার বিভাগ ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই শোকাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন জাহিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তার নির্দেশনায় জানাজায় অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলও এক শোকবার্তার মাধ্যমে জাহিদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।