বাংলাদেশ বার্তা টুডে
পূর্বানুমানযোগ্য বন্যা, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা অপ্রস্তুত ঢাকা
“সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বড় বড় বন্যার অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের রাজধানীর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশল গড়ে তুলতে পারেনি।” ঢাকা: ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় রেকর্ড ৮৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, মাত্র এক মাসেই রাজধানীতে প্রায় ২৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি নেমে এসেছিল—যা প্রায় এক লক্ষেরও বেশি অলিম্পিক মানের সুইমিং পুল পানিতে পূর্ণ করার সমান। এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ। সড়ক তলিয়ে যায়, অসংখ্য বাড়িঘর প্লাবিত হয়, প্রাণহানি ঘটে এবং নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এই বিপর্যয়ও ঢাকার জন্য কার্যকর ও টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনার কোনো বাস্তবসম্মত কৌশল গড়ে তুলতে পারেনি। সম্প্রতি ১৯৮৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ বছরের মাসভিত্তিক বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে যে বাস্তবতা উঠে এসেছে, তা আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাগত উদাসীনতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। ঢাকার সমস্যা কোনো আকস্মিক বা ব্যতিক্রমী আবহাওয়া নয়; বরং এটি পরিসংখ্যানগতভাবে পূর্বানুমানযোগ্য এবং গাণিতিকভাবে পরিমাপযোগ্য এক জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি, যার জন্য শহরটি কখনোই যথাযথভাবে পরিকল্পিত হয়নি। এই ৪০ বছরে ৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এমন ২৯টি ‘চরম বৃষ্টিপাতের মাস’ শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ১৬ মাসে একবার এমন একটি বড় বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে তীব্র ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সেপ্টেম্বর ২০০৪ (৮৩৯ মিমি), জুলাই ২০০৭ (৭৫৩ মিমি), সেপ্টেম্বর ১৯৯১ (৬৯২ মিমি) এবং সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ (৬৮৭ মিমি)। এগুলো কেবল লাখো মানুষের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের ইতিহাস নয়; নগর পরিকল্পনার ভাষায় এগুলো সেই মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে একটি শহরের সহনশীলতা নির্ধারণ করা উচিত। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার পাম্প স্টেশনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪ ঘণ্টা চালিয়েও প্রতিদিন প্রায় ৮৬ লাখ ঘনমিটার পানি নিষ্কাশন করতে পারে। অথচ ২০০৪ সালের মতো একটি চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনায় শহরে নেমে আসে প্রায় ২৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি। অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবস্থার সক্ষমতা মোট পানির মাত্র ৩.৪ শতাংশ অপসারণ করতে পারে; বাকি ৯৬.৬ শতাংশ পানি রাস্তাঘাট, অলিগলি এবং বসতবাড়িতে জমে থাকে। এই বাস্তবতার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—ঢাকাকে একসময় যে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বন্যা থেকে রক্ষা করত, অর্থাৎ খাল, হাওর, বিল এবং পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক বন্যাভূমি, সেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যায়নি; বরং আমাদের নিজেদের পরিকল্পনাহীন উন্নয়নই সেগুলো ধ্বংস করেছে। ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বৃহত্তর ঢাকা মহানগরে অর্ধেকেরও বেশি জলাভূমি বিলুপ্ত হয়েছে। রিমোট সেন্সিংভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, শুধু ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যেই জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গেছে। একসময় কেন্দ্রীয় ঢাকার বৃষ্টির পানি বালু নদীতে পৌঁছে দেওয়া বেগুনবাড়ী খাল আজ প্রায় কংক্রিটে আবদ্ধ একটি সংকীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। একইভাবে, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বন্যা প্রতিরোধক পূর্বাঞ্চলের নিম্নভূমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে পূর্বাচল ও বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্প। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি হেক্টর জলাভূমি হারালে নগর এলাকার প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা ২,৫০০ থেকে ৬,৫০০ ঘনমিটার কমে যায়। ১৯৮৫ সালের পর থেকে ঢাকা প্রায় ৫,০০০ হেক্টর কার্যকর জলাভূমি হারিয়েছে। ফলে শহরটি আনুমানিক ১২.৫ থেকে ৩২.৫ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক বন্যা ধারণক্ষমতা হারিয়েছে। অর্থাৎ, যে পানি একসময় প্রকৃতি নিজেই ধারণ করতে পারত, তা আজ সরাসরি শহরের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি শহর নিজেই তার প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের নগর পানি ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যেন একটি পূর্বপরিচিত চক্র অনুসরণ করে। প্রথমে ভয়াবহ বন্যা হয়, এরপর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আসে, উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থায়নের ঘোষণা দেয়, কিছু ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু পরবর্তী বড় বৃষ্টিতেই সেই উন্নত ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়ে, এবং একই চক্র আবার শুরু হয়। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু তার অল্প সময় পরই ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও ৬৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যার পর মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা সংশোধন করা হয় এবং বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রকল্প শুরু হয়। এরপর ২০০৪ সালে ৮৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি সেই ব্যবস্থাকেও অপ্রতুল প্রমাণ করে। পরবর্তীতে নতুন ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও ২০০৭ সালে আবার ৭৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অতীতের দুর্যোগকে ভিত্তি করে পরিকল্পনা করলে নগর পরিকল্পনা সব সময়ই এক মৌসুম পিছিয়ে থাকবে। বাস্তবতা হলো, আমরা তথ্য থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না; বরং প্রতিবারই তথ্য আমাদের বিস্মিত করছে। ঢাকা কি ‘স্পঞ্জ সিটি’ হতে পারে? ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা ড্রেন নির্মাণ বন্ধ করার কথা বলে না। বরং এটি মনে করিয়ে দেয় যে, শুধু ড্রেন নির্মাণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রকৃত সমাধান হলো পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং যেখানে বৃষ্টি হয় সেখানেই যতটা সম্ভব পানি ধরে রাখা, ধীরে ধীরে তা নিষ্কাশন করা এবং এই ব্যবস্থাকে ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনার সঙ্গে একীভূত করা। ঢাকার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে— 1. বাধ্যতামূলক অন-সাইট পানি ধারণ ব্যবস্থা: এক হাজার বর্গমিটারের বেশি অপ্রবেশ্য (Impervious) পৃষ্ঠবিশিষ্ট নতুন সব উন্নয়ন প্রকল্পে প্রথম ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি নিজস্ব ব্যবস্থায় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এ জন্য গ্রিন রুফ, বায়োরিটেনশন সেল, পারমিয়েবল পেভমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ রেইনওয়াটার সিস্টার্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। 2. খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: নতুন কংক্রিট অবকাঠামো নির্মাণের তুলনায় একটি কার্যকর খাল পুনরুদ্ধার অনেক বেশি ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নগরের তাপমাত্রা হ্রাস ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু বেগুনবাড়ী খাল পুনরুদ্ধার করলেও কেন্দ্রীয় ঢাকার পানি ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 3. অবশিষ্ট জলাভূমির আইনি সুরক্ষা: ডেমরা–নরসিংদী সড়কের পূর্বাঞ্চলে যে জলাভূমিগুলো এখনও টিকে আছে, সেগুলোকে স্থায়ীভাবে পরিবেশগত সংরক্ষিত অঞ্চল (Ecological Reserve) ঘোষণা করতে হবে এবং ওই এলাকায় চলমান সব উন্নয়ন অনুমোদন বাতিল করতে হবে। 4. ছোট আকারের রিটেনশন বেসিন নির্মাণ: শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অর্ধ হেক্টর থেকে দুই হেক্টর আয়তনের প্রায় ২০০ থেকে ৪০০টি পানি ধারণ বেসিন নির্মাণ করে সেগুলোকে খাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। 5. বাজেট পুনর্বিন্যাস: আগামী ১০ বছরে পানি ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দের বর্তমান ৮৫–৯০ শতাংশ গ্রে ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্ভরতা কমিয়ে গ্রে ও ব্লু-গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য আনতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান পাইপলাইন ও পাম্পিং ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও অব্যাহত রাখতে হবে। শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারক ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সামনে মূল প্রশ্নটি হলো—ঢাকা কি জলাভূমি ও খাল সংরক্ষণে বিনিয়োগ করতে পারবে কি না, সেটি নয়; বরং আরেকটি ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর বা ২০০৭ সালের জুলাইয়ের মতো বিপর্যয়ের মূল্য পরিশোধ করার সামর্থ্য আদৌ ঢাকার আছে কি না। সবশেষ চরম বৃষ্টিপাতের মাস ছিল আগস্ট ২০২৪। পরিসংখ্যান বলছে, গড়ে প্রতি ১৬ মাসে এমন একটি ঘটনা ফিরে আসে। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছে। ২০২৬ সালের বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যদি আবার একটি চরম বৃষ্টিপাতের মাস আসে, তাহলে ঢাকা এখনও তার জন্য প্রস্তুত নয়। গত ৪০ বছর ধরে তথ্য আমাদের একই সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। এখন প্রশ্ন একটাই—ক্ষমতার আসনে যারা আছেন, তারা কি সেই সতর্কবার্তা শুনছেন? লেখক: মাসুদুর রশীদ, নগর পরিকল্পনাবিদ
গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের অভিযানে ফুলছড়ি উপজেলায় উদাখালী ইউনিয়নে ইয়াবা সহ আটক
পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, গাইবান্ধা এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জিডি নং-৯০, ইং-১২/০৭/২০২৬খ্রিঃ মূলে মোটরসাইকেল যোগে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ গাইবান্ধা ফুলছড়ি থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযান করে ইং-১২/০৭/২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা ফুলছড়ি থানাধীন ০৩ নং উদাখালী ইউপির ০৭নং ওয়ার্ডের উদাখালী, কানিপাড়া গ্রামস্থ ধৃত আসামীর বসত বাড়ির ভিতর খোলা বারান্দায় মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়কালে একজন ব্যক্তি কৌশলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় ঘটনাস্থল আসামী ১। মাজহারুল ইসলাম (৪৬), পিং-মৃত গাজিউর রহমান, সাং- উদাখালী, কানিপড়া, থানা- ফুলছড়ি, জেলা- গাইবান্ধাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী ও আশপাশের লোকজনের সামনে বিধি মোতাবেক পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক লাইটের আলোতে ধৃত আসামী মোঃ মাজাহারুল ইসলাম (৪৬) এর দেহ তল্লাশীকালে তাহার পরিহিত প্যান্টের সামনের বাম পকেট হতে নিজ হাতে বের করে দেওয়া একটি নীল রংয়ের জিপার প্যাকেট হইতে কমলা রংয়ের ১০৫ (একশত পাঁচ) পিস মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট, যাহার প্রতিটি ট্যাবলেট ওজন ০.১ গ্রাম, মোট ওজন (০.১দ্ধ১০৫)= ১০.৫(দশ দশমিক পাঁচ) গ্রাম উদ্ধারপূর্বক ইং ১২/০৭/২০২৬ তারিখ ২৩.৩০ ঘটিকায় জব্দ তালিকামূলে জব্দ করিয়া গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার মামলা নং-০৯, তারিখ-১৩/০৭/২০২৬খ্রিঃ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
মঠবাড়িয়ায় টানা বর্ষণে আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ
প্রায় সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কৃষকরা আমন বীজতলা নিয়ে কৃষকরা শংকিত। তৈরী করা বীজতলা অতিবর্ষণের পানিতে তলিয়ে থাকায় বীজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা নতুন ভাবে বীজতলা করতে পারছেনা। তাই আমন আবাদ বিঘœ হওয়ার আশংকা করছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে দেয়া তথ্য মতে আমনের জন্য এখন পর্যন্ত তৈরী করা ৭ শত হেক্টর বীজতলাই আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একই সাথে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় প্রায় ১৯শত হেক্টর আউশ ফসলও ক্ষতির মুখে আছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হলো মিরুখালী, দাউদখালী, টিকিকাটা ও সাপলেজা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। এছাড়া সবজি, কলা ও পেপে ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নাগ্রাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. সোলায়মান ফরাজী জানান, তার প্রায় ৫০শতক বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি দ্রুত না কমলে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তিনি জানান। পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কৃষক মো. হুমায়ুন কবির জানান, বীজতলা করার জন্য ১০ কেজি ধান ভিজিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ক্ষেত পানির নিচে থাকায় বীজতলা করতে না পারায় বীজ ধান পঁচে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ একাধীক কৃষক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত বেরিবাঁধ, স্লুইচগেট না থাকা পানি বদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি জানান, টানা বৃষ্টিতে পানি বদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এখন পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে আছে। পানি বদ্ধতা আরও ২/৩ দিন স্থায়ী হলে ক্ষতি বারবে বলে তিনি জানান। কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের করনীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পাঁচবিবিতে মাদকদ্রব্যসহ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ৩'শ পিস আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন এ্যাম্পুলসহ আবুজার রহমান (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার বিকালে উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা শ্রীমন্তপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের উচনা গ্রামের মোঃ শাহার উদ্দিনের ছেলে। জয়পুরহাট জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ জানান, রবিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ভারত থেকে মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করছে। এমন সংবাদ পেয়ে ডিবি পুলিশের সিনিয়র এসআই মোঃ শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে শ্রীমন্তপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ্যাম্পুলসহ আবুজারকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৩'শ পিস আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন এ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃত আবুজারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জেলা পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম জানায়, সমগ্র জেলাসহ বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান ও কেনাবেচা রোধে ডিবিসহ অন্যান্য ইউনিটের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ধা/রা/লো অ/স্ত্রে/র আ/ঘা/তে স্ত্রীকে হ/ত্যা , স্বামী পলাতক
শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রীকে হত্যা , স্বামী পলাতক মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো স্বামীর অস্ত্রের আঘাতে নাছিমা আক্তার (২৭) নামে গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যার অভিযোগ তার পরিবারের স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পালিয়ে গেছে তার স্বামী সাইদুল ইসলাম। রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার জনৈক মজনু মিয়ার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার পরিদর্শক অপারেশন সঞ্জয় সাহা। নাছিমা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রাজ্জাক। নাছিমা শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। নাছিমা আক্তারের ভাই মাসুম আহমেদ বলেন, বোনের ভাড়া বাসার অদূরে একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে তিনিও গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে নাছিমার বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা খবর দিলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখান বোনকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় ফ্লোরে ছটফট করতে দেখেন। এ সময় ভগ্নিপতি সাইদুল পালিয়ে গেছে। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় নাছিমাকে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাসুম আহমেদ আরও জানান, বিয়ের পর কিছুদিন নাছিমার দাম্পত্য জীবন ভালোই কাটছিল। হঠাৎ করে ভগ্নিপতি সাইদুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়াঝাঁটি হতো। তবে পারিবারিক অশান্তি হলেও দুটি সন্তানের কারণে সংসার ভাঙেনি বোন। শেষ পর্যন্ত স্বামীই নাছিমাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেছে বলে তার দাবি। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, নাছিমা নামের নারীকে মৃত অবস্থায় তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নাছিমাকে হত্যার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক স্বামী পালিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।
সমালোচিত হরিদাস তরনী গ্রেপ্তার সিআইডির অভিযান মানিলন্ডারিং মামলায়
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি স্থাপনের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। এর আগে রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকায় সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলায় সিআইডির বিশেষ দল পলাশবাড়ী পুলিশের সহযোগিতায় হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সিআইডির হেফাজতে নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওসি আরও বলেন, হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্মকে পুঁজি করে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। সেই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে দেশে ফিরে ধর্ম ও মূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক পর্যায়ে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেন এবং সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। গত কয়েক মাস ধরে উন্মুক্ত স্থানে রামমূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধ, হরিদাসকে গ্রেপ্তার এবং তার বিপুল সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি জানানো হয়। এদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন রামমূর্তি অপসারণের দাবিতে পলাশবাড়ী ইমাম-ওলামা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার উদ্যোগে বোয়ালখালী বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
বোয়ালখালীতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আজ (১৩ জুলাই) সোমবার সকালে বোয়ালখালীর সারোয়াতলী, শাকপুরা, পশ্চিম শাকপুরা, পশ্চিম গোমদন্ডী ইমামুল্লার চর এলাকায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সদস্যরা এই ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময়ে সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার তৌহিদুর রহমান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বোয়ালখালী উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক জামশেদুল আলম, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সদস্য এম মনির চৌধুরী রানা, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সুলতান, মোহাম্মদ সবুজ উপস্থিত ছিলেন।
দৌলতপুরে যুবদল নেতার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ হিসনাপাড়া গ্রামে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান মাসুমের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২ জুলাই) মাগরিবের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল দুর্বৃত্ত কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে চেয়ার-টেবিলসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি এবং যুবদল নেতা শরিফ উদ্দীন জুয়েলের রাজনৈতিক ব্যানার পুড়ে যায়। রেজাউর রহমান মাসুম বলেন, তিনি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিষয়টি জানতে পারেন। বাড়িতে পৌঁছে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরবেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। মাসুমের সমর্থকদের দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিভেদ উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এ বিষয়ে এখনো কাউকে দায়ী করেনি। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজাপুরের "বাউল ছালমা" সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট পেরিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক নিরলস নারী
"বাউল ছালমার" মাবনসেবা ও সমাজসেবার অব্যাশ স্কুলজীবন থেকেই। সংগীতশিল্পী হিসেবেই পথচলা শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় ২৭ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। কেউ ক্ষমতার আলোয় এসেছেন, আবার সময়ের সঙ্গে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যাদের পরিচয় ক্ষমতায় নয় নিরব অনুশীলন ও সংগ্রামের, সততায় এবং অসহায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। বাউল "ছালমা" তাঁদেরই একজন।একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি ধাপই সহজ হয় না। অভাব, কষ্ট, অবহেলা আর অসংখ্য বাধা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হয়। ছালমা বেগমের জীবনও ঠিক তেমনই। প্রতিটি ঘাত-প্রতিঘাতকে সঙ্গী করে তিনি আজ একজন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের নিয়মিত সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, "সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী" ক্যাটাগরিতে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ জয়িতা ও রাষ্ট্রিয় দ্বিতীয়, ছালমা যুব সংস্থা ও শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, সাবেক নারী ইউপি সদস্য, সাবেক বাংলাদেশ মেম্বার কল্যাণ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থানীয় সংবাদকর্মী কর্তৃক পরিচালিত "রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাব" নামে একটি সকলজন পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়াও একাধিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি। দেখা যায় এধরণের কোনো সংগঠনের নেতৃত্বে থাকলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দায়িত্বেরই একটি অংশ। তবে এটি ব্যক্তি স্বার্থের নয়, বরং সংগঠন, মানুষের বা সমাজের বিভিন্ন সামাজি ও মানবিক কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনে। কিন্তু দেখা যায় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে ও সভা-সেমিনারে বিভিন্ন মিথ্যে ট্যাগ লাগিয়ে বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালায়, তবে স্থানীয় নেটিজেনরা তাদের এই অপপ্রচারের তিব্র নিন্দাও জানান। এসবনিয়ে ছালমা বেগম প্রতিবেদককে জানান যে, একটি স্থিরচিত্র কখনো একজন মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে মুছে দিতে পারে না। যে মানুষটি দীর্ঘ ২৭ বছর নানা প্রতিকূলতা, সামাজিক নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন—সেই কঠিন সময়ে কজন মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন? কজন আমার কর্মের প্রশংসা করেছিলেন? আজ যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথা সভা-সেমিনারে নানা ব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে হেওপ্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের অনেককেই তখন দেখা গেছে নিয়ম-অনিয়মের মাধ্যমে স্ব-সুবিধা গ্রহনে ব্যাস্ত ছিলেন। জাতি জানেন, দারিদ্র্যের কষ্ট যে মানুষ নিজে অনুভব করেছেন, তিনি অন্যের দুঃখও বুঝতে পারেন। গরিব মানুষের কান্না, অসহায় মানুষের আর্তনাদ এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক শক্তি, তা আসে নিজের জীবনের সংগ্রাম থেকে। বাউল ছালমার জীবন সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। মানুষকে মূল্যায়ন করতে হলে একটি ছবি নয়, একটি পোস্ট নয়, দেখতে হবে তাঁর পুরো জীবন, তাঁর কর্ম, তাঁর ত্যাগ এবং মানুষের জন্য তাঁর অবদান। ইতিহাস সবসময় ক্ষণিকের প্রচারণা দিয়ে লেখা হয় না; ইতিহাস লেখা হয় সংগ্রাম, সততা, সাহস এবং মানবিকতার কালি দিয়ে। সময়-ই শেষ পর্যন্ত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। আর সত্যিকারের সংগ্রামী ও নিরলস মানুষকে সাময়িক অপপ্রচার কখনো পরাজিত করতে পারে না। মানুষের ভালোবাসা, সম্মান এবং আস্থা, এগুলোই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। সেই পরিচয়ই বহন করে চলছি আমি কণ্ঠশিল্পী মোসাঃ ছালমা বেগম (বাউল ছালমা)। আর বাকী জীবনও এভাবেই চালাতে চাই মানবসেবায়।
মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন
গাজীপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জ আসনের এমপি আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন সংসদ সদস্য হিসাবে এক মাসের প্রাপ্য সম্মানী ভাতা/বেতন মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদানের ঘোষণা দিয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। রবিবার (১২ জুলাই) গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুরুল করিম ভ‚ইয়ার সভাপতিত্বে ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে গাজীপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে বন্যার্তদের তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন সংসদ সদস্য হিসাবে এক মাসের প্রাপ্য সম্মানী ভাতা/বেতন মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদানের ঘোষণা দেন। পরে তিনি সভায় উপস্থিত সবাইকে এক দিনের বেতন বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় দান করার জন্য আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বানে উপস্থিত সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়ে মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সম্মতি প্রকাশ করেন এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বন্যার্তদের তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার লক্ষ্যে গাজীপুর জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১ দিনের মূল-বেতনের সমপরিমাণ অর্থ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। জেলার সকল দপ্তর প্রধান আগামী ১৪ জুলাই ২০২৬ অপরাহ্নের মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের ১ দিনের মূল-বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক গাজীপুর, হিসাব নং ০২০৬০০১০০০১৮৩, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, গাজীপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখায় জমা দিয়ে নিজ নিজ দপ্তরের একটি রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করার এবং আগামী ১৫ জুলাই ২০২৬ইং তারিখে সংগৃহীত অর্থ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চেকের মাধ্যমে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলনের মহতী উদ্যোগে সাড়া দিয়ে বন্যার্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চেকের মাধ্যমে অনুদান প্রেরনের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক গ্রহণ করায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অন্যান্যের মাঝে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃশরিফ উদ্দিন, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাহরিয়ার নজির, জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অন্যান্য সদস্য সহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির নামে বেনামে গড়েছে সম্পদের পাহাড়
জেলা পরিষদের একজন সার্ভেয়ার হয়ে নামে বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। নির্মাণ করেন আলিশান বাড়ি। জানা যায়, নাছির নামে এই সার্ভেয়ার একই কর্মস্থলে এক যুগেরও উপরে রয়েছেন। যার ফলে মানুষের সাথে দিন দিন তার সম্পর্ক গভীর হয়ে ওঠে। এ সুযোগে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন।পিতার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিয়ে সার্ভেয়ারের চাকরি নেন। এমনকি এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলে কথা বলতে সাহস পেতো না। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের সরখাল গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে নাছির। নাছিরের পিতার জন্ম একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী রাজাপুর গ্রামে। শিশু বয়সে দত্তক হিসেবে তাঁর পিতা মুজিবুর রহমানকে সরখাল গ্রামের আহমদ উল্লাহ মৌলভী নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি বড় হন।পরে তাঁর পিতা মুজিবুর রহমানকে কুমিল্লায় একটি লাইব্রেরীতে সামান্য বেতনের কর্মচারী হিসেবে চাকরি দেয়া হয়। নাছিরের পিতা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হলেও ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। সার্ভেয়ার নাছির পিতার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিয়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হিসেবে চাকরি নেন। এমনকি নাছিরের পিতার তেমন অর্থ সম্পদ না থাকলেও নাছির জেলা পরিষদের একজন সার্ভেয়ার হয়ে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান। বাড়িতে নির্মাণ করেন আলিশান বাড়ি।ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা বাজারে কয়েকটি দোকান ক্রয় করেন। হাজীগঞ্জ বাজারেও রয়েছে তার দোকান। চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় কোটি টাকার উপরে সম্পত্তি ক্রয় করেন। তার সহায় সম্পত্তি দেখে মানুষ হতবাক হয়ে যায়। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের সকল সদস্য সার্ভেয়ার নাছিরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদান করেন। সরজমিনে সরখাল গ্রামে গিয়ে জানা যায়, সার্ভেয়ার নাছির নামে বেনামে বহু সম্পত্তি ক্রয় করার পাশাপাশি বাড়িতে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছে।এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে। সরকারি জায়গায় অন্য মানুষের নির্মাণকৃত দোকান জোরপূর্বক দখল করে। চান্দ্রা বাজারে কয়েকটি দোকানঘর ভিটিসহ ক্রয় করে। তিনি জেলা পরিষদের সকল লীজকৃত জায়গা মাপ জরিপ করে মানুষকে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। মোটা অংকের টাকা না ফেলে রিপোর্ট দিতে গিয়ে গড়িমসি করে থাকেন। উপায়ন্তর না পেয়ে তার দাবিকৃত টাকা দিয়ে রিপোর্ট বুঝে নিয়ে থাকে। তিনি মানুষকে হয়রানি করার পাশাপাশি চাপ প্রয়োগ করে টাকা হাতিয়ে নেন। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকে বলেন, নাছিরের পিতার তেমন অর্থ সম্পত্তি না থাকলেও নাছির জেলা পরিষদে সার্ভেয়ারের চাকরি করে অবৈধভাবে বহু সম্পদের মালিক বনে গেছে। বিলাশ বহুল বাড়ি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বালিথুবা রাস্তার মাথায় দোকান নির্মাণ করে। সে দলীয় ক্ষমতা দেখিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতো। তার ভয়ে মানুষ মুখ খুলে কথা বলতে সাহস পেতো না। তার পিতা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো। তার সহায় সম্পত্তিসহ সকল কিছুর বিষয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
চেয়ারম্যানঘাট নলচিরার মাঝপথ থেকে ফেরি ঘুরিয়ে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ
নেতাকর্মী নিয়ে মাঝ নদী থেকে ফিরে আসা ফেরিতে উঠছেন এমপি হান্নান মাসউদ নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি মহানন্দা। ফেরিটি ২৩ মিনিট চলার পর আবার পূর্বের ঘাটে ফিরে আসে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে নিতে। এতে দুর্ভোগে পড়েন আগে থেকে ফেরিতে থাকা যাত্রীরা। আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটে এ ঘটনা। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।স্থানীয়রা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ফেরি মহানন্দা। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর ফেরিটি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে আনা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ঘাটে পৌঁছান স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠার পর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।দায় এড়াতে চায় বন্দর, ব্যবহারকারীদের অসন্তোষঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বললেন, ‘ফেরির মাস্টার প্রথমে আমাকে জানান, ফেরি ছাড়বে না। পরে আবার জানান, বিকাল সাড়ে ৩টায় ফেরি ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর ফেরি আবার ফিরে আসে এমপি হান্নান মাসউদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হাতিয়ার ফেরি চলাচলের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে দেখিনি।’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী জানান, ঘাট থেকে ছেড়ে আসার অনেকক্ষণ পর হঠাৎ দেখি ফেরি ঘুরে যাচ্ছে। পরে ঘাটে ফিরে দেখি এমপি হান্নান মাসউদ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। তিনি আরও জানান, এমন বৈরী আবহাওয়ায় একদিকে আমরা ভয়ের মধ্য দিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছি আর এমপি দেখাল তার ক্ষমতা।ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর এমপির জন্য ফেরি ঘাটে ফিরে আসে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।ফেরি মহানন্দার মাস্টার নুরুল আমীনের ভাষ্য, ‘আমি এত কিছু জানি না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানান, ঘাটে এমপি এসেছেন। ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। পরে আমরা ঘাটে ফিরে এমপিকে নিয়ে নলচিরা ঘাটে যাই।’এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ভিআইপির জন্য নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরি মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা কতটা যৌক্তিক?এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
কালীগঞ্জে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক হস্তান্তর
ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওতাধীন কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার আংশিক এলাকার ১০টি মসজিদের সংস্কার কাজের সরকারি বরাদ্দের অনুমোদন পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ( ১২ই জুলাই) রাত ৮টার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পত্র হস্তান্তর করা হয়। ঝিনাইদহ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মাওলানা আবু তালিব সংশ্লিষ্ট মসজিদগুলোর সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্যদের হাতে মোট ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দের এই অনুমোদন পত্র তুলে দেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এই উন্নয়নমূলক বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদগুলোর অবকাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে মাননীয় সংসদ সদস্যের এই আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সবাই সাধুবাদ জানাই।
কালীগঞ্জে ট্রেনের নিচে পড়ে যুবকের দুই পা বিছিন্ন
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রেনের নিচে পড়ে ফরিদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের দুই পা বিছিন্ন হয়ে গিয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) বিকাল ছয়টার দিকে উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের অদূরে পয়েন্ট এলাকায় আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়। ফরিদ হোসেন কালীগঞ্জ শহরের কন্ঠ কর্মী আকবর হোসেনের ছেলে। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রুপসা এক্সপ্রেস ডাউন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এসময় সে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দু পা বিছিন্ন হয়ে যায়। মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহাজান আলী বলেন, ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ ফায়ার ফাইটারের একটি টিম তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুমাইয়া শারমিন সুমি জানান, দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এক যুবককে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াই প্রাথমিক চিকিৎসার শেষে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ রবিবার (১২ জুলাই) জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করে নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত, স্থিতিশীল ও জনবান্ধব রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।