বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ভোমরা স্থলবন্দরে রপ্তানি বাণিজ্যে ধস: বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ঘাটতি
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। বহুমুখী উদ্যোগের অভাব এবং নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি আয়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যা থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৮৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা। অথচ এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখান থেকে ২৮ লাখ ৬ হাজার ৩০ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আয় হয়েছিল ৩৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৫১৪ কোটি ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৪ টাকা, যা সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ২,৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ঘাটতি নির্দেশ করছে। ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য জ্বালানি সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে প্রধানত দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট কমিয়ে দেওয়ায় এবং রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পেতে নয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি সংকটে ভুগছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বন্দরের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও সংকুচিত করে ফেলেছে। বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ভাষ্যমতে, ভোমরা বন্দর দিয়ে মূলত স্বল্প পরিসরে ওয়েস্ট কটন ও মশারি রপ্তানি হলেও, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের কোনো পণ্য এখানে দেখা যায় না। অথচ দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বর্তমানে এই খাতের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পুরো রপ্তানি বাণিজ্য এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলসি খোলা, মাল খালাসসহ বন্দরের বিভিন্ন স্তরে অস্পষ্ট ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন না হলে এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এখনই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিসহায়তা না পাওয়া গেলে সামনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ আরও সংকীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীপুরে কাভার্ডভ্যান চাপায় স্বামী স্ত্রী নিহত , ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেল নয় মাসের শিশু নুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে কাভার্ডভ্যান চাপায় রাকিব হাসান (৪২) ও বিথী আক্তার (২৭) নামে দুজন স্বামী স্ত্রী মারা গেছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুকন্যা নূর। গুরুতর আহত শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে স্ত্রী বিথী আক্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পর স্বামী রাকিবের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই )দুপুরে উপজেলার গিলারচালা গ্রামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। নিহতরা হলেন পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামের সেকান্দার আলী বেপারীর ছেলে রাকিব হাসান ও তার স্ত্রী বিথী আক্তার । স্বামী স্ত্রী দুইজন ডেনিম্যাক লিমিটেড নামে একটি কারখানায় মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্ত ছিলেন। নিহত রাকিবের খালাতো বোন মরিয়ম বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটি আসেন তিনি। গাড়ি চাপা দেওয়ার সময় শিশুকন্যা মায়ের কোলে ছিল। গাড়ি চাপা দেওয়ার সময় মেয়ে শিশুকে ছুড়ে মারে মা। এজন্য ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। শিশুর অবস্থা বেশি ভালো না। শ্রীপুর থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডেনিম্যাক লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, দুপুরের বিরতিতে রাকিব হাসান তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই রাকিবের স্ত্রী মারা যায়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থা রাকিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়েছে। রাকিব হাসান ডেনিম্যাক লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন। তার স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. সায়নী মজুমদার বলেন, রাকিব বিথী দম্পতিকে মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের শিশুকন্যাকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা রেফার্ড করা হয়েছে। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল হতে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল হতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘাতক চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ২য় দিনের মতো চলছে চাউল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে আজও চলছে চাল বিতরণ। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতার'র উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আজ ২য় দিনে আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সৌহার্দ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের অভিষেক
সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. খিজির উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্ত শামীমের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহা. একরামুল হক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপন, সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান লিপু, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মালেক এবং প্রেসক্লাবের সিনিয়র সভাপতি এম. এ. মাসুদসহ অনেকে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান বলেন, স্বাধীন, সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি সাংবাদিকদের ব্যক্তিস্বার্থ ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গুজব ও অপসাংবাদিকতা পরিহার করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ নির্ভীকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে গণমাধ্যম জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পেশাগত সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রেসক্লাবের লোগোসংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনীতে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা চর্চার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বারহাট্টায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধান ও শাকসবজির আবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে (১১ জুলাই) শনিবার সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাক্তার আনোয়ারুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এবং বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উন্নতমানের উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, বিভিন্ন শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাউদ্দিন মিলকি, জেলা নেতৃবৃন্দ, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক আজাদ, বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই ক্ষুদ্র কৃষকের বীজ বিতরণেও নানান অনিয়ম আমরা দেখেছি।তাই এবার একদম সঠিক কৃষকদের হাতেই এই প্রণোদনা তুলে দেওয়া হয়েছে।আমাদর বিএনপি সরকারের আমলেই কৃষকদের উন্নয়ন হয়েছে।এবারও এই দ্বারা অব্যাহত থাকবে।
বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ক্ষতি বেশি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হাজারো কৃষক ও মৎস্যচাষীর উদ্বেগ। একদিকে পুকুর ও ঘেরের পাড় ভেঙে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজির আবাদ। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়ে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়। সেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লোহাগাড়ায় ১ হাজার ৬২০টি পুকুরে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, কর্ণফুলীতে ৫৫৭টি পুকুরে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা, চন্দনাইশে ৩৮৩টি পুকুরে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, বোয়ালখালীতে ৭৫৬টি পুকুরে ৪ কোটি ৫১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুরে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ফটিকছড়িতে ৫৩৩টি পুকুরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, হাটহাজারীতে ১৭০টি পুকুরে ১ কোটি ৯৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০টি পুকুর ও ১০টি চিংড়ি ঘেরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সন্দ্বীপে ৪১২টি পুকুরে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মিরসরাইয়ে ৯৭টি পুকুরে ৯৮ লাখ টাকা, রাঙ্গুনিয়ায় ২৭০টি পুকুরে ৯৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, রাউজানে ৯০টি পুকুরে ৯৩ লাখ টাকা এবং সীতাকুণ্ডে ১০টি পুকুরে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। আউশ ধানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায়। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সাতকানিয়া, পটিয়া, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি, রাউজান, আনোয়ারা, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, মিরসরাই, কর্ণফুলীসহ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কম-বেশি আউশের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর, পটিয়ায় ৪৫৫ হেক্টর, বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর এবং রাউজানে ৩১০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও মিরসরাইসহ অন্যান্য উপজেলাতেও বিভিন্ন মাত্রায় সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমনের বীজতলাও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ইতিমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ৪০ লাখ টাকা দিয়ে শুকনো খাবার ক্রয় করে তা বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজলায় ২০০ মেট্রিক টন চাউল বিতরণ ইতিমধ্যে করা হয়েছে। সাতকানিয়ায় ভয়াবহতা দেখে, আমি মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে সাতকানিয়া আলাদা বরাদ্দ পাবে। বরাদ্দগুলো পেলে ত্রাণ কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। বন্যার বড় আঘাত পড়েছে কৃষিখাতে। বিশেষ করে আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং পুনরায় আবাদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুপারিশ করা হবে। জেলা মৎস্য কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছ ও মৎস্যসম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
ধরলার ভয়াল ভাঙ্গনে হুমকিতে লালমনিরহাট শহররক্ষা বাঁধ
ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা ও কুরুল এলাকায় শহররক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের প্রায় ৩৫০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে নতুন নতুন জমি। ফলে ফসলি জমি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ধরলাপাড়ের শত শত কৃষক। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর ডান তীরে নির্মিত ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধই মূলত লালমনিরহাট শহররক্ষা বাঁধ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে প্রায় ১০ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাউবো বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়তে পারে পুরো বাঁধ। আর সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে লালমনিরহাট শহরসহ বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ২০১৭ সালের বন্যার স্মৃতি এখনও আতঙ্কের নাম। ওই বছরের ভয়াবহ বন্যায় কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ ধসে যায়। এর ফলে ধরলার পানি দ্রুত লালমনিরহাট শহরে ঢুকে পড়ে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা পর্যন্ত তলিয়ে যায়। সেই বন্যায় শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে পুরো সদর উপজেলা। মোগলহাট ইউনিয়নের কুরুল গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী কৃষক যাত্রামোহন বর্মণের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে ধরলা নদী। এক যুগ আগে নদীভাঙনে তার ১০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর অবশিষ্ট ছিল সাত বিঘা। কিন্তু গত এক সপ্তাহেই আরও তিন বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন বাকি চার বিঘাও ভাঙনের মুখে। নদীর পাড়ে বসে চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ধরলা নদী হামাকগুলাক শ্যাষ করি ফ্যালাইছে। যেইকনা ভুঁই আছলো তাঙ এ্যালা নদীত চলি যাবার নাইকছে। হামরাগুলা ক্যাং করি বাঁইচমো। মরা ছাড়া হামারগুলার কোন পথ খোলা নাই।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নদী বান্ধিতে যে টাকা খরচ হয় তার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি টাকার জমি নদীত চলি যায়। সরকার যায়, সরকার আইসে—কাইও হামার কষ্ট বোঝে না। এ্যালাং নদীটা বান্ধি দিলেও হামারগুলার কিছু ভুঁই বাইচবে।’ বুমকা এলাকার কৃষক পুলিন চন্দ্র বর্মণও নদীভাঙনের নির্মম শিকার। গত এক যুগে তার ১৩ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট ছিল ছয় বিঘা। গত এক সপ্তাহে আরও দুই বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন মাত্র চার বিঘা জমি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আবাদ ছাড়া হামরাগুলা আর কিছুই কইরবার পাই না। অল্প এ্যাকনা জমি আছে, তাকো যদি নদীত যায় তা হইলে হামারগুলার মরণ ছাড়া কোন উপায় নাই। জমিই হলো হামারগুলার জীবন, সেই জমি চলি যাবার নাইকছে।’ ইটাপোতা এলাকার কৃষক মন্টু মিয়া (৫৫) বলেন, শহররক্ষা বাঁধের যে অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে, সেটি দ্রুত রক্ষা করা না গেলে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি এবং কয়েক হাজার বসতভিটা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। তার মতে, এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ধরলার ডান তীরের দীর্ঘদিনের ভাঙনও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, ২০১৭ সালে বাঁধের ছোট একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এখনও মানুষ ভুলতে পারেনি। এবারও যদি শহররক্ষা বাঁধ রক্ষা করা না যায়, তাহলে শুধু লালমনিরহাট শহরই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। এতে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার কোটি টাকার আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ধরলা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি গত ১৫ এপ্রিল প্রি-একনেক (পিইসি) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে এটি একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে শহররক্ষা বাঁধ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং ধরলার ডান তীরের ভাঙনও রোধ করা যাবে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের মধ্যেই কাজ শুরু করা না গেলে ধরলার ডান তীরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ ধরলার অব্যাহত ভাঙন শুধু কৃষকের জমিই গ্রাস করছে না, ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে পুরো লালমনিরহাট শহরকেও। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও স্থায়ী নদীশাসনের কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায় ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
খিলগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর, আদালতে পাঠানো হয়েছে
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে কলেজছাত্রী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি বাসা থেকে ১৮ বছর বয়সী মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই সাইফুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের বড় ভাই মো. চান মিয়া বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা ফুডপান্ডার ডেলিভারিম্যান সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রথমে সাইফুলকে ফোন দেন তিনি। সাইফুল বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় কালো দাগ ছিল। ৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মারিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়। বাবার নাম মো. মহসিন। খিলগাঁও থানার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খবর পাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে প্রচার হলেও তদন্তে হত্যা প্রমাণিত হয়। স্বামীর বাবা-মাকে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় শনিবার ১ জুলাই নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।
ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর জমি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর জমি আত্মসাত, হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন এক ফুফু। তাদের অভিযোগ, মানিক নামের একজন ব্যক্তি ২০১৬ সালে সুফিয়া বেগমের কাছে হাফ কাটা জমি বিক্রি করলে সেই জমি রেজিস্ট্রিও করে নিয়েছেন সুফিয়া বেগম। কিন্তু ২০২৩ সালে সুফিয়ার ভাই আলমের ছেলে সুজনের কাছে পুনরায় একই জমি বিক্রি করেন মানিক। সেই জমি নিয়েই ফুফু ভাতিজার মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। সেই হাফ কাটা জমি দখল নিয়েই সুফিয়া বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্র্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা বানেশ্বর খুটিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগি সুফিয়া বেগমের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার । শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০ টায় বানেশ্বর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া ও তার পুত্রবধু মুক্তি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুফিয়া বেগমের পক্ষে তার পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগম বলেন, তার মা আগেই সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছেন। মায়ের নামে থাকা তিন কাঠা জমিই ছিল তার শেষ ভরসা। কিন্তু অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এবং আমি হাফ কাটা জমি মানিকের কাছ থেকে আগে কিনেছি জানার পরও সুজন সেই জমি আবার কিনে তিনিও রেজিষ্ট্রি করে নেন। এই জমিতে বরই এর কাটা রাখা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি বলেন আমি আমার ক্রয়কৃত জমি ফেরত চাই। একই সঙ্গে আমার ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই। লিখিত বক্তব্যে মুক্তি খাতুন বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। খুটিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী সুফিয়ার ভাইয়ের ছেলে সুজন, তার স্ত্রী নুসরাত জাহান বিউটি ও ভাই আলমদের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ১০ জুন তাদের বাড়িতে প্লাস্টারের কাজ চলছিল। এ সময় মিস্ত্রি জমির পাশের কাঁটা সরাতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মুক্তি খাতুনের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তার শাশুড়ি সুফিয়া বেগমের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুক্তি খাতুনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়। মুক্তি খাতুন বলেন, ঘটনার পর তারা পুঠিয়া থানায় অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা করেন। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে মিসকেস চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তি খাতুন বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিউটিও রয়েছেন। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি করেন হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উভয় পক্ষের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলমের ছেলে সুজন বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শালিশ হলে তারা মানতে নারাজ। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির কোনো অস্তিত্ব হোল্ডিং রেকর্ডে নেই। তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করতে চাইছেন। সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত ও মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, এ বিষয়ে আমাকে আগে কেউ জানায়নি। তবে দুই দিন আগে একটি বাসায় দাওয়াত খেতে গেলে ওই সুফিয়া বেগম আমাকে বিষয়টি জানান। পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ আইনি সহযোগিতা চাইলে আইন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হয়। বিষয়টি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হতে পারে। অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোবিপ্রবিতে বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে সৌমিক-রায়হানা
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)-এ অধ্যয়নরত মাগুরা জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদ, গোবিপ্রবি’-এর ২০২৪-২৫ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনটির অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক বিশ্বাস সভাপতি এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রায়হানা আফরোজ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মো. শফিকুল করিম ফাহিম, মৌমিতা রহমান ও চন্দনা মণ্ডল। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পার্থ বিশ্বাস। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি সৌমিক বিশ্বাস বলেন, "বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদ শুধু একটি জেলা সংগঠন নয়, এটি মাগুরার শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধন ও সম্ভাবনার একটি প্ল্যাটফর্ম। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থীকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মাগুরার শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সংগঠনকে পাশে পাওয়া যাবে।" সাধারণ সম্পাদক রায়হানা আফরোজ বলেন, "সংগঠনের আমার প্রতি যে আস্থা রাখা হয়েছে তার মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি শক্তিশালী ও আদর্শ সংগঠন হিসেবে বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদকে এগিয়ে নিতে চাই।"
মহালছড়ির দুর্গম জনপদে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে ঘরে পৌঁছালো জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জেলার মহালছড়ি উপজেলা সদর ও মাইসছড়ি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন:"বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কেউ যেন খাদ্যসংকটে না ভোগে,সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।" ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এম এন আবছার, সাধারণ সম্পাদক,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপি।প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ।কংজাফ্র মারমা, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।মোঃ মাহবুব আলম সবুজ, সভাপতি, জেলা যুবদল।মোঃ আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপি। বন্যায় সবকিছু হারিয়ে বিপর্যস্ত পরিবারগুলো এই সংকটময় মুহূর্তে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা পেয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার অন্যান্য দুর্গম এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে দিয়ে তিন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার ধবলসূতি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সীমান্তের ৮৩৩/৯-এস নম্বর পিলারের কাছে ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ভারতের ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর খরখড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে তিন নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের পুশইনচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই তিন নারী সীমান্ত পিলার ৮৩৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। ৬১ বিজিবির (তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে। সীমান্তে অবস্থান করা ওই নারীদের দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএসএফকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ও সতর্কতা জারি রয়েছে।
নগরকান্দায় পিআইওর বিরুদ্ধে উৎকোচ, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে উৎকোচ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আমিনুল ইসলাম ২০২৩ সাল থেকে নগরকান্দা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা, জিআরসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ হারে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান অভিযোগ করে বলেন, “পিআইও অফিসে ২০ শতাংশ দিতে হয়। ব্যাংকেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেয়। এছাড়া অফিস সহকারী ইলিয়াস ও সুরুজকে আলাদাভাবে টাকা দিতে হয়। তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা না দিলে কাজ এগোয় না।” ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পেই পারসেন্টেজ নেওয়া হয়। এমনকি নিজের নামে প্রকল্প ভাগ করে কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও শুনেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিস সহকারীরাই প্রকল্প দেখভাল করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের কাছ থেকে ৩৫০ টাকার স্ট্যাম্পের বিপরীতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ের কাবিখা (গম) কর্মসূচির আওতায় ডাঙ্গী ইউনিয়নের গোয়ালপোতা গ্রামের ছরো পাগলার বাড়ি থেকে চোকদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে বাস্তবে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রকল্পের ঠিকানা ও অবস্থান বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। লস্করদিয়া ইউনিয়নের একটি ইটের সলিং প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল, ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণে অনিয়ম এবং প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য সরকারি বিধি অনুযায়ী নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ না করে গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা নিজের নামে চারটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এর মধ্যে উপজেলা পিআইও অফিসে আইপিএস স্থাপনের একটি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন শুরু না হলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া ৩৯টি জিআর প্রকল্পের ডিও ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে কৃষ্ণা দাস নামে এক নারীর কাছ থেকে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি কোনো তথ্য দেব না। আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা লিখুন, আমি পারলে তার জবাব দেব।” অফিস সহকারী ইলিয়াস ও সুরুজ বলেন, “স্যার যা নির্দেশ দেন, আমরা সেটাই পালন করি।” এ বিষয়ে জেলা ত্রান কর্মকর্তা বলেনঃ এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ছয় মাস পর সুস্থ হয়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে বাঘিনীটি
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত বাঘিনীটি দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর সুস্থ হয়ে আবারও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে।আজ রোববার (১২ জুলাই) আহত বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ। বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা একটি ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি গুরুতর আহত হয়। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা, ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়। টানা ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই তাকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে একটি অসুস্থ রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে বাঘিনীটি স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধার বালাসীঘাটে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এ দূর্নীতির অভিযোগ
পাানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও গুণগত মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রমান । নদী তীরবর্তী মানুষ যখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তখন এই চক্রটি সরকারি অর্থ পকেটে ভরতে ব্যস্ত। গাইবান্ধায় নদী ভাঙ্গন রোধে পানী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজে ব্যাপক দুর্নীতি। আকর্ষিক ভাবে এমপির অভিযান।নিষেধ স্বর্তেও দুর্নীতির বুঝা মাথায় নিয়ে জিও ফেললেন ঠিকাদার। ১০/৭/২০২৬ ইং শুক্রবার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের দক্ষিন পাশে পানী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের খবর পেয়ে সরেজমিনে যান জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ। এ সময় তিনি জিও ব্যাগের মান,বালুর এফএম ও নির্ধারিত ওজনে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত করেন। স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, পানী উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম ও এসডি-১ আবু সায়েম মোঃ শাফিউর ইসলাম সহযোগিতায় এ সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এই প্রকল্পে কয়েকদিন আগেও ৫ বস্তা জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে অনিয়মের কথা বললেই ঠিকাদার অফিস মিটায়েছি তোদের কি বলে আমাদেরকে নানা ভয়-ভীতি ও হুমকী দেন। গাইবান্ধা পানী উন্নয়ন বোর্ড ও ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনের ছত্রছয়ায় বুলগেট ও ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন। যেন দেখার কেউ নেই।উক্ত এলাকার ভাঙ্গন রোধে ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ প্রকল্পে নেই কোন সাইনবোর্ড। অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে এসডি-১(উপ-সহকারী প্রকৌশলী) আবু সায়েম মোঃ শাফিউর ইসলামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। ভুক্তভোগী মহল দুর্নীতিবাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ষ্টিমেট ও সিডিউল মোতাবেক কাজ করার দাবী জানান।