বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ঠাকুঁরগাও হরিপুরে এক বুক সমান পানি দিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যাচ্ছে মায়ের লাশ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার রনহাট্টা (ফালডাঙ্গী) গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গত(৯/৭/২০২৬) বৃহস্পতিবার বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান মফিজান(৮০) এক বৃদ্ধা। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তাটি বণ্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামবাসী, আত্বীয়স্বজন ও মফিজানের দুই সন্তান বিকল্প কোন পথ না পেয়ে মরদেহ দাফনের উদ্দেশ্যে এক বুক / গলা সমান পানি পেরিয়ে কাঁধে করে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যান এবং দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। প্রতিকূল পরিবেশে প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানানোর এই হৃদয়বিদারক ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসী জানান, বর্ষার মৌসুমে কেউ মারা গেলে লাশ দাফনের জন্য গলা সমান পানি পার হতে হয়, দেশ স্বাধীনের পরে এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন না হওয়ার বাস্তব চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছে এলাকাবাসী । তরুনদের প্রচেষ্টায় নিজ অর্থায়নে এই নোনাখালে রাস্তা নির্মাণ করেছিলো গ্রামবাসী। একটি ব্রীজের অভাবে বণ্যার পানিতে তলিয়ে গ্রামবাসীর স্বপ্নের সেই রাস্তাটিও আজ বিলীনের পথে। নির্বাচনের আগে গ্রামবাসীকে জনপ্রতিনিধিরা এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পরে এই গ্রামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন আর হয়না। যে সরকার ক্ষমতাই আসুক না কেনো কথা দিয়ে কেউ কথা রাখে না বলে মন্তব্য করেন গ্রামবাসী। অথচ ২ কিঃমিঃ রাস্তা পাকাকরণ হলেই উপজেলার প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত হবে এই রাস্তাটির। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে উপকৃত হবে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী। দ্রুত এই গ্রামের যোগাযোগ মাধ্যম রাস্তাগুলোর সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী ।
ঠাকুরগাঁওয়ে একদিনের বেতন বাঁচিয়ে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা পরিষদে কর্মরত ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা নিজেদের একদিনের বেতন বাঁচিয়ে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন。 তারা উপজেলা পরিষদের পতিত জমিতে ৫০০টি গাছের চারা রোপণ করেছেন。 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর কর্মচারীদের এই মহতী উদ্যোগকে গভীরভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সবার জন্য গাছ, গাছের জন্য জীবন” স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারেরর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন হরিপুর উপজেলার সরকারী কর্মচারীগণ। নিজেদের একদিনের বেতন জমিয়ে তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনাচে-কানাচে পরিত্যাক্ত ও পতিত জমিসহ রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদের কর্মচারী শহিদুল হক এর নেত্রীত্বে ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিজ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরের অব্যবহ্নত ও পতিত জায়গা গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির ৫শ’ গাছেন চারা রোপন করেন। উপজেলা পরিষদের কর্মচারী সোহেল রানা, রবিউল ইসলাম, সুদেব, আব্দুল হাকিম, খলিল, পলাশসহ সকল কর্মচারীগণ সকলেই বলেন, আমরা বেতন কম পই তবু দেশের জন্য কিছু করতে চাই। এক দিনের বেতন দিয়ে আমরাদের সংসার চলবে, আবার মাটিও সবুজ হবে। ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণে আমরাও শরিক হলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দন কর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রমংসা করে বলেন, এই কর্মসূচি প্রমান করে দেশ গড়তে পদমর্যদা বড় কথা না, মানসিকতাই আসল। তাদের দেওয়া চারাগুলোই একদিন ছায়া দেবে আগামী প্রজন্মকে।
কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন, ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচন শুক্রবার (১০ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ১৪২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৯০ শতাংশেরও বেশি। সমিতির ১২টি পদের বিপরীতে মোট ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দুইজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকি ১০টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা ৯টি ব্যালটের মাধ্যমে ১০ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে নাজমুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ মোহাম্মদ রাসেল নির্বাচিত হন। এছাড়া নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন— সিনিয়র সহ-সভাপতি রেহান উদ্দিন রেহান, সহ-সভাপতি রহিমুল হক হিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোনাফেক খান, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর, ১ নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য জহিরুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আলমগীর হোসেন। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বন্দর এলাকার উন্নয়ন এবং সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঝিনাইদহে চকলেটের প্রলোভনে শিশুকে যৌন হয়রানি: আটক ১ জন
ঝিনাইদহ পৌর শহরের ভুটিয়ারগাতি গ্রামে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই জঘন্য ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হয়েছেন লিটন বিশ্বাস (৫৫) নামের এক মুদি দোকানদার পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ভুটিয়ারগাতি বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কৌশলে পালায় শিশু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ভুটিয়ারগাতি গ্রামের মুদি দোকানদার লিটন বিশ্বাস ওই শিশুকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। এরপর সে শিশুটিকে যৌন হয়রানি করে। একপর্যায়ে শিশুটি কৌশলে তার হাত থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। ঘটনাটি জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ওই মুদি দোকানে চড়াও হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত লিটন বিশ্বাসকে গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত দোকানদার উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় পুলিশ প্রথমে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। চিকিৎসা শেষে তাকে সরাসরি থানা হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান "শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক মুদি দোকানদার মারধর করে আটকে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হাজতে আটকে রেখেছে। এই ঘটনায় ভিকটিম শিশুর পরিবারকে থানায় ডাকা হয়েছে। লিখিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এলাকাবাসী এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত লম্পট মুদি দোকানির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে ৬ জন আটক
গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিলের থেকে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও উঠেছে। তবে বিস্ফোরণের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর আড়াইটা বিকেল ৩টার মধ্যে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাতখামাইর-দুর্লভপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা থেকে একটি কালো রঙের হাইয়েস ও একটি বাসে করে কয়েকজন যুবক সাতখামাইর এলাকায় আসেন। তাদের কাছে একটি ব্যানার থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। পরে তাদের শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে থাকা বাসটি চলে যেতে সক্ষম হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যানারে লেখা ছিল, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং...’ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের আহ্বান। ব্যানারে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের নামও উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনি আকন্দ বলেন, ‘সাতখামাইর এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।’ বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান শামীম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে দাবি করেন, জুমার নামাজের পর গফরগাঁও থেকে আসা কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪১৮৯ নম্বরের একটি হাইয়েসসহ ছয়জনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। তিনি ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও করেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার রাজু (২৩), তানজিম (১৪), ওয়ালি ইসলাম (৩২), মোবারিজ (২০), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রাব্বি (১৯) এবং ইমন (২০)। শ্রীপুর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘মিছিলের প্রস্তুতির সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা একটি হাইয়েস জব্দ করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উদ্ধার হওয়া ব্যানার ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ১০/৭/২৬ইং
মাদকের প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তারেকের ওপর হামলা
গাইবান্ধা শহরে পলাশপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেকুজ্জামান তারেক-এর ওপর এক মাদক ব্যবসায়ী বার্মিজ ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এবং ভুক্তভোগীর দাবি, সদর থানার ওসি ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসিকে একাধিকবার মাদক ব্যবসার বিষয়ে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, পলাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকা থেকে গাইবান্ধা ক্লিনিক পর্যন্ত প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে। তারেক এর প্রতিবেশী আতিকুর রহমান আল আমিন মুঠোফোনে জানান পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তারেকের ছোট ভাই আরিফ বড় ভাইকে ছুড়িকাঘাত করেছে। তবে ছোট ভাই আরিফ নেশাগ্রস্ত। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পৌরসভার ৬ নাম্বর ওয়ার্ডে ৬০০ পানিবন্দি পরিবার'র মাঝে চাল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতারের উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাউল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুর হক মেম্বার, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ইব্রাহিম সওদাগর, মোঃ বশির আহমদ, মোঃ জহুর মিয়া, মোঃ সেলিম, মো. হারুন, মো. মামুন, জহির সওদাগর, মো. ওসমান, পৌরসভা ছাত্রদল নেতা বাপ্পি, মো. রহিমসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। তারা জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের দুই দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে তদন্তে পুলিশ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলপোতা গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর আব্দুর রহমান নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারি আবাসন প্রকল্পে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ৮ জুলাই থেকে আব্দুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর শুক্রবার সকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বসতঘরের পেছনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিজ বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শরণখোলায় ধানক্ষেত থেকে দশ ফুট লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার,সুন্দরবনে অবমুক্ত
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার লাকুড়তলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে দশ ফুট লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১০জুলাই) সকালে সাপটি উদ্ধার করেন স্থানীয় সাপুড়ে শামছু তালুকদার। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে আটকা পড়েছিল অজগরটি। স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের কৃষক মিলন তালুকদার আগেরদিন বিকালে মাছ ধরার জন্য তার ধানক্ষেতে পেতে রেখেছিলেন চায়না দুয়ারি জাল। সকালে জাল তুলতে গিয়ে দেখেন জালে আটকে আছে অজগরটি। এসময় উদ্ধারকারী শামছু তালুকদারকে খবর দিলে বৃষ্টির মধ্যে তিনি গিয়ে কৌশলে দশ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ধানক্ষেতে পেতে রাখা চায়না দুয়ারি জাল থেকে উদ্ধার করা হয় অজগরটি। উদ্ধারকারীরা নিয়ে আসার পরে অজগরটি শরণখোলা রেঞ্জ অফিসসংলগ্ন সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১০ফুট লম্বা অজগরটির ওজন ৭-৮ কেজি হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।
মুকুর চৌধুরী ও সামসুজ্জামান চৌধুরী খোকার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম মুকুর চৌধুরীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী এবং দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম সামসুজ্জামান চৌধুরী খোকার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে দিনাজপুর শহরের জেল রোডস্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মরহুম মুকুর চৌধুরী ও সামসুজ্জামান চৌধুরী খোকা ছিলেন দলের নিবেদিতপ্রাণ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত সংগঠক। তাঁদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মের নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে। তাঁদের আদর্শ ধারণ করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, আলহাজ মাহবুব আহমেদ, মোঃ আকতারুজ্জামান জুয়েল, নামজা মসির, মোঃ নওশাদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিন সুলতানা বিউটি, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোন্নাফ মুকুল, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজিব, জেলা ড্যাবের সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জিয়া, জেলা মহিলা দলের সভাপতি মিসেস জিনাত আরা, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মোস্তাকিম, সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান, নির্মাণ মিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু, দিনাজপুর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন জেল রোড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মোঃ আশফাক হোসেন। পরে মরহুম দুই নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে নেতাকর্মীরা মরহুম দুই নেতার কর্মময় রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক অবদান এবং আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে দলকে আরও সুসংগঠিত ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
টেকনাফে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের প্রাক্কালে ৩৩ বস্তা সার ও ২টি হস্তচালিত কাঠের নৌকা জব্দ
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের প্রাক্কালে ৩৩ বস্তা সার ও ২টি হস্তচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পাচারকারীরা বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ও নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৩৩ বস্তা সার এবং পাচারে ব্যবহৃত ২টি হস্তচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত সার ও নৌকা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত পাচারকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ পাচার রোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও অভিযান চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শেরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপিত: জলবায়ু মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান
"জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা"—এই সময়োপযোগী স্লোগানকে ধারণ করে শেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। গত ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) জেলা প্রশাসনের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলঙ্কৃত করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ, বি, এম মামুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাকিল আহমেদ এবং শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রেখে সবাইকে স্বাগত জানান পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম। টেকসই পরিবেশ গঠনে জনসচেতনতার গুরুত্ব আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হলে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে— ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ, ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে ‘আজকের তারুণ্য’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম রতনসহ সংগঠনের একঝাঁক তরুণ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পরিবেশকর্মী, সুধীসমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষভাগে, দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
মহালছড়িতে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে পুলিশের তদন্ত শুরু
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ২৪ মাইল এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৪ মাইল এলাকায় কলেজের বিপরীত পাশে, মূড়া পাড়ার আগে জঙ্গল থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি মহালছড়ি থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ধারণা, মরদেহটি একজন পাহাড়ি, সম্ভবত মারমা সম্প্রদায়ের নারীর হতে পারে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এদিকে, জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
জলবায়ু সংকটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণায় নোবিপ্রবি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রসংশা
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা–২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (BCCT)-এর স্টলে প্রদর্শিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালিত “মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন” শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, গবেষণা পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গবেষণাটিতে মেঘনা অববাহিকার জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভবিষ্যৎ জলবায়ুর অনুকরণ, বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় সম্ভাব্য ফসলের অভিযোজন সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন করে ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়ে গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, “আমাদের এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা। এ জন্য আমরা গত ৫০ বছরের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও জলবায়ুগত পরিবর্তনের পূর্বাভাস মূল্যায়ন করছি। বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন ও বার্লির বৃদ্ধি, ফলন এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা এই গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা হবে। গবেষণাটি শুধু ফলনের পরিবর্তন নির্ণয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিস্থিতিতে কোন ধরনের ফসল চাষ অধিক উপযোগী হবে এবং কীভাবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, সে বিষয়েও কার্যকর সুপারিশ প্রদান করবে। তিনি আরও জানান, গবেষণার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনহাউস ও মাঠ—উভয় পরিবেশেই পরীক্ষামূলকভাবে সয়াবিন ও বার্লির চাষাবাদ করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত ফসল নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে। ড. মহিনুজ্জামান আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই গবেষণা উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আমাদের উৎসাহ প্রদান করেছেন।”
নিষিদ্ধ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের টুর্নামেন্টে উপ-উপাচার্য, নোবিপ্রবিতে সমালোচনা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বলে সমালোচিত কয়েকজন শিক্ষকের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন অভিযোগ করেছে, এ ধরনের উপস্থিতি বিতর্কিত শিক্ষক নেতাদের পুনর্বাসনের বার্তা দিতে পারে। তবে উপ-উপাচার্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি অনুষ্ঠানটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন মাইজদী শহরের একটি টার্ফে নোবিপ্রবির একাংশ শিক্ষক এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল বারেক। অনুষ্ঠানে অংশ নেন নীল দল ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের বিভিন্ন সময়ের পদধারী একাধিক শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া (সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নীল দল), ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান (স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের অন্যতম নেতা), পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ পুইয়ান (সাবেক কোষাধ্যক্ষ, নীল দল), অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মজনুর রহমান (সাবেক শিক্ষক সমিতির সদস্য), এমআইএস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম (সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য, নীল দল), সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মমিন সিদ্দিকী (সাবেক সহ-সভাপতি, নীল দল) এবং কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুরুজ্জামান (স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)। ঘটনাটি সামনে আসার পর ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে সমালোচিত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার একই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক পুনর্বাসনের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সাদা দলের শিক্ষকরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নীল দলের সদস্যদের সামনে আনার চেষ্টা করছেন কি না, সে প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। আপনারা একসময় আমাদের আন্দোলনের সঙ্গী ছিলেন। তাই এই ঘটনায় আমরা হতাশ।” নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো শিক্ষক কোথায় যাবেন, সেটি আমাদের বিষয় নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী কোনো সংগঠন সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। এর আগেও আমরা এ ধরনের অভিযোগে মানববন্ধন করেছি এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।” ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোবিপ্রবি শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, “বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। প্রশাসনের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।” তবে অভিযোগ নাকচ করে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “খেলাটি সম্পর্কে বিস্তারিত আমি জানতাম না। আমার সহকর্মী অধ্যাপক আব্দুল মমিন সিদ্দিকী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী আমি সেখানে গিয়ে পুরস্কার বিতরণ করি। উপস্থিত হওয়ার পর জানতে পারি এটি শহরে অবস্থানকারী শিক্ষক ও আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি খেলা। সেখানে আর কারা ছিলেন, সে বিষয়েও আগে আমার জানা ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের আক্ষেপের জায়গাটি আমি বুঝতে পেরেছি। আমি কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করছি না। প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা বিষয়। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। আমি আমার আদর্শে স্থির আছি এবং থাকব।” উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ক্যাম্পাসে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।