বাংলাদেশ বার্তা টুডে
৪০০ বছরের ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক: ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা ২০২৬
বাংলার লোকসংস্কৃতি, ধর্মীয় মহিমা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলা নিয়ে আগামী ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ (বৃহস্পতিবার) থেকে ঢাকার ধামরাইয়ে শুরু হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী অলৌকিক রথযাত্রা উৎসব। চার শতাব্দী ধরে চলে আসা এই উৎসবটি কেবল ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত, দর্শনার্থী ও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক এই জনপদ। আনুমানিক ১৬৭২ খ্রিষ্টাব্দে (প্রায় ৪০০ বছর আগে) ধামরাইয়ের কায়েতপাড়া এলাকায় শ্রী যশোমাধব বিগ্রহকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক রথযাত্রার সূচনা হয়। একসময় ধামরাইয়ের ঐতিহ্য ছিল ৬০ ফুট উঁচু ও তিন তলা বিশিষ্ট সুবিশাল কাঠের রথ, যা টানার জন্য হাজার হাজার মানুষের প্রয়োজন হতো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধামরাইয়ের সেই ঐতিহাসিক কাঠের রথটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উৎসবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হলেও, পরবর্তীতে ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এবং স্থানীয় কারিগরদের দক্ষ শৈল্পিক ছোঁয়ায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে লোহার ফ্রেম ও কাঠের সমন্বয়ে ৩৭ ফুট উঁচু ও তিন তলা বিশিষ্ট আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বর্তমান নতুন রথটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। ধামরাইয়ের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল প্রদর্শনী। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মৃৎশিল্প, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী লোকজ পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। রথটান ও মেলা দেখতে এবারও বিপুল সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজক কমিটি। ১৬ জুলাই ২০২৬ ইং (বৃহস্পতিবার) বিকেলবেলা আনুষ্ঠানিকভাবে টানার মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মাধব জিউ ৯ দিন অবস্থান করবেন তাঁর শ্বশুরবাড়ি অর্থাৎ যশোমাধবের প্রধান মন্দির থেকে কিছু দূরে অবস্থিত পুণ্ডরীকাক্ষ মন্দিরে (গোপাল বাড়ি)। ২৪ জুলাই ২০২৬ ইং (শুক্রবার) উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই ঐতিহাসিক উৎসবের। উৎসবটি সুশৃঙ্খল ও peaceful ভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যশোমাধব মন্দির ও রথযাত্রা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের সকল স্তরের মানুষকে এই ঐতিহাসিক গ্রামীণ লোকজ মেলা ও সম্প্রীতির উৎসবে যোগদানের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। "আসুন, এই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের অংশ হয়ে আমরা সবাই মিলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিই বিশ্বময়।"
গাইবান্ধায় ফুলছড়িতে ভাতিজার হাতে চাচা খু/ন
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকিরহাট মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, গভীর রাতে কৌশলে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে আপন ভাতিজা গোলাম হোসেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচা শাহ জালালের গলা কেটে ফেলে। গোঙানির শব্দ শুনে শাহ পাশের ঘর থেকে উঠে আসলে গোলাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহ জালাল। নিহত শাহ জালালের ছেলে পাঞ্চু মিয়া জানায়, যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে, সেজন্য তার বাবাকে হত্যার আগে বাহির থেকে প্রতিবেশীদের ঘরের দরজা আটকে দেয় গোলাম হোসেন। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পারিবারিক কলহের জের ধরে গোলাম হোসেন তার আপন চাচাকে হত্যা করে বলে দাবি নিহতের পরিবারের। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ভাতিজা গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কলাপাড়ায় ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
কলাপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরিশালের ৭ পদাতিক ডিভিশন এ ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেন। এসময় বরিশাল সেনানিবাসের ৭ পদাতিক ডিভিশনের ২৮ ব্রিগেড কমান্ডার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সুস্বাস্থ্যের জন্য করনীয় বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। মেডিকেল ক্যাম্পে ফ্রী চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধ দেয়া হয়। ফ্রী চিকিৎসা সেবা পেয়ে রোগীরাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে বলেও জানা যায়।
মহালছড়ি বানভাসি মানুষের দোরগোড়ায় সেনাবাহিনী: নদীপথে চলছে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে মহালছড়ি সেনা জোন। এরই অংশ হিসেবে মহালছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে বন্যা কবলিত ও পানিবন্দি মানুষের জন্য পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প এবং বিতরণ করা হচ্ছে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সেবা প্রদান করছে। দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা মহালছড়ি সেনা জোনের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন ডাঃ বোরহান উদ্দিন জানান, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফ, পিএসসি-এর নির্দেশনায় এই ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন:"যেসব এলাকার মানুষ বন্যার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এবং চিকিৎসা নিতে পারছেন না,আমরা সরাসরি তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মহালছড়ি সেনা জোনের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।" স্থানীয়দের কৃতজ্ঞতা সেনাবাহিনীর এমন সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, চারদিকে পানি বন্দি থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এমন সংকটময় মুহূর্তে দুর্গম এলাকায় এসে চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েরা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গাইবান্ধা পুরাতন ব্রীজের নিচ থেকে ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক
পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা মহোদয় এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, গাইবান্ধা এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর থানা এলাকায় মাদক ও জুয়া বিরোধী অভিযান পরিচালনা করিয়া অদ্য ১১/০৭/২৬ খ্রিঃ২১ঃ৩৫ ঘটিকায় গাইবান্ধা সদর থানা পৌরসভাধীন ৮ নং ওয়ার্ড এর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন গাইবান্ধা হতে দারিয়াপুর গামী পুরাতন ব্রীজজের নীচে দক্ষিণ পার্শ্বে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের সময় গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ সোহাগ মিয়া (২৮), পিতা- মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাং-মিতালী বাজার কুটিপাড়া,থানা- গাইবান্ধা, জেলা -গাইবান্ধা এর পরিহিত প্যান্টের সামনের ডান পকেট হইতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ১০(দশ)পিস Tapentadol Teblets এবং ২। শ্রী প্রান্ত বাসফোর (২১), পিতা-শ্রী কালা বাসফোর, সাং- পিকে বিশ্বাস রোড,সুইপার কলোনী, থানা- গাইবান্ধা জেলা- গাইবান্ধা এর পরিহিত হাফ প্যান্টের সামনের ডান পকেট হইতে প্লাস্টিকের কৌটায় অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন (০৭) সাত পুড়িয়া উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। তাহাদের বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক।
কালীগঞ্জে গরু চুরির মহোৎসব
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরু চুরির মহোৎসব শুরু হয়েছে সম্প্রতি একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। এদিকে চোরচক্রের সদস্যরা ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার ইশ্বরবা,মেগুরখির্দা,বেথুলী, মনোহরপুর গ্রাম থেকে অন্তত ৭টি গরু চুরি হয়েছে । স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র গরু চুরি করে ঝিনাইদহ - খুলনা মহাসড়ক ব্যবহার করে পিকআপ ও ট্রাকে করে নির্বিঘ্নে গরু পাচার করছে। গরু চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তাতে মিলছে না কোন সুরাহা। ১১ জুলাই দিবাগত রাতে বলিদা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের গোয়াল ঘর থেকে দুইটি বড় গাভী ও একটি বাছুর সহ মোট তিনটি গরু চোর চক্রের সদস্যরা চুরি করে নিয়ে যায়, একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রামে একজন খামারীর একটি গরু চুরি হয়। ৯ জুলাই ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ১ টি গরুর চুরি করে চোর চক্রের সদস্যরা পিকপে করে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। যা রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। ভুক্তভোগী খামারী রবিউল ইসলাম বলেন, তিনটি গরু ছিল আমার সংসারের একমাত্র ভরসা। দুধ বিক্রি করেই পরিবার চালাতাম। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। খামারি আইয়ুব হোসেন জানান, আমার গরুটি চুরি হওয়ার পর হতাশ হয়ে গরু পালন ছেড়ে দেব ভাবছি। এত কষ্ট করে গরু বড় করি, আর তা এক রাতে চোরের হাতে তুলে দিতে হয়! স্থানীয়দের দাবি, গরু চুরির এই ধারাবাহিকতা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে চাষাবাদ ও গবাদিপশু খামার চরম হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গরু চিরির ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে ধরে ফেলতে পারব বলে আশা করছি।
রাউজান প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জুয়েল বড়ুয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলা
চট্টগ্রাম নগরীর বিবিরহাট কাঁচা বাজারের ২ নম্বর গলিতে দৈনিক নববাণী পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোচীফ, বিজয় টিভির হাটহাজারী প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রিপোর্টারস ফোরামের সদস্য এবং রাউজান প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জুয়েল বড়ুয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলা হয়। অভিযুক্ত একই এলাকার মৃত রহমান ড্রাইভারের ছেলে মো. পিন্টু। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, রাস্তায় ফুটবল খেলতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে পিন্টু অতর্কিতভাবে জুয়েল বড়ুয়ার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী সাংবাদিক পাঁচলাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে: মহালছড়িতে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব এম ইকবাল হোসেইন, এমপি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব পরিতোষ হাজরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নওগাঁয় সমতার গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাত, পলাতক এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শাহিন গ্রেফতার
নওগাঁয় সমতার গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাত, পলাতক এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শাহিন গ্রেফতার
কোটচাঁদপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ দীপা রানী সরকার। তিনি দুর্যোগকালীন সময়ে সকল সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্রসমূহের প্রস্তুত অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো পূর্বঘোষণা দিয়ে আসে না। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম পরিকল্পনা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল কোটচাঁদপুর গড়ে তোলা সম্ভব। সভা শেষে দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
মান্দায় পানি বন্দি ২০০ পবিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রশাসন
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণে পানি বন্দি হয়ে পড়েন ২০০ পরিবার।উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ গ্রামের এ বান্দি হন ওই পরিবার গুলো। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। জলাবদ্ধতার মধ্যে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ ও উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানিতে আশ্রয়ণ পল্লিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও নারীরা। পল্লির বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’ আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি। স্থানীয় দু’একজন নেতা ছাড়া আর কেউ খোঁজখবর করতে আসেনি।’ এ অবস্থায় আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, ‘এটি বন্যা নয়; হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রশাসন'র পাশাপাশি বন্যাদূর্গতের পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী; খোলা হল অস্থায়ী ক্যাম্প
সবুজ অরণ্য / বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা-ঃ গত পাঁচ দিনের বিরামহীন বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহরতলি বোয়ালখালীর নিম্মাঞ্চল। কোথাও হাটুপানি থেকে কোমর সমান পানিতে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। দেখা দিয়েছে নিরাপদ খাবার পানির সংকট। আজ (১১ জুলাই) শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কিছহটা কমে এলেও এখনো জলমগ্ন উপজেলার নিম্মাঞ্চল। কিছু কিছু এলাকায় এখনো বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। টানা বর্ষণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিন্ম আয়ের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় অব্যাহত রয়েছে সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সেবা কার্যক্রম। এদিকে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে সরকারি বরাদ্দের ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। এছাড়া রয়েছে বোতলজাত বিশুদ্ধ খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন। অপরদিকে বানবাসি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয় ১০টি মেডিকেল টিম। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দূর্যোগ মোকাবিলা করার সুবিধার্থে সমন্বয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে দূর্যোগ পরিস্থিতি। কোনো এলাকা থেকে অভিযোগ বা সহায়তার আবেদন পাওয়া মাত্রই উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। উল্লেখ্য যে, দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গত (১০ জুলাই) শুক্রবার জেলার লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এই ৭টি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় বোয়ালখালীর পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেন।
দৌলতপুরে পারি/বারিক সংঘ/র্ষে যুব/কের মৃত্যু, হাসপা/তালে বাবা,আটক ২
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত মামুন মোল্লা (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একই ঘটনায় তার বাবা মোজা মোল্লা (৭৫) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মামুন মোল্লার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে এলাকায় গরু চুরির একটি ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে একটি টর্চলাইট উদ্ধার হয়। সেটি মামুন মোল্লার বলে সন্দেহ করেন তার কয়েকজন চাচাতো ভাই। এ নিয়ে আগে থেকেই চলমান জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর জেরেই শুক্রবার বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, জাব্বার মোল্লাসহ কয়েকজন লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে মামুন মোল্লাকে মারধর করেন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মোজা মোল্লাকেও আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মামুনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাগ্নে সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ এবং গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, হামলায় আহত মামুন মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় উজ্জ্বল মোল্লা (৪৮) ও জাব্বার মোল্লা (৩৫) নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভেলাজানে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
জমজমাটপূর্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সদর উপজেলার ভেলাজানে “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি” ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হয়। শুক্রবার বিকেলে ভেলাজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। “খেলায় শক্তি খেলায় বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল” এই স্লোগানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল চিলারং ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিলারং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো: আসাদুজ্জামান আসাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুল হামিদ, গেস্ট অব অনার জেলা যুবদলের সভাপতি মো: আবু হানিক মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক মো: জাহিদুর রহমান জাহিদ, বিশেষ অতিথি সদর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ডানো, চিলারং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো: আমিনুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক মো: বজলুর রহমান, মো: আইয়ুব আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিলারং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও খেলা পরিচালানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আবু হানিফ মুক্তা ও সাধারণ সম্পাদক মো: জাহিদুর রহমান জাহিদের সার্বিক তত্তাবধানে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী খেলায় রায়পুর ইউনিয়ন যুবদল টিম টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবদল টিমকে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়। খেলা পরিচালননা প্যানেলে ছিলেন জেলা ফুটবল রেফারীজ এসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মো: আসাদুজ্জামান শামিম, সদস্য মো: দারুল ইসলাম ও মো: মনিরুজ্জামান। ধারা বর্ণণা করেন স্বনামধন্য ধারাভাষ্যকার মো: হারুন অর রশিদ। উল্লেখ্য যে, টুর্নামেন্টে সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন যুবদলের টিম অংশগ্রহণ করছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি ২ কিমি সড়ক, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও পাকা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও নিত্যযাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, এটি রাস্তা নয়, যেন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা ক্ষেত! সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কাদা ও জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ চরমে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যাওয়ায় যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কয়েক শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে আহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় সময়মতো ফসল বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাবে আজও কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি। পথচারী রহমান মিয়া বলেন, “বহু বছর ধরে রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি।জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার গেলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি। দেখি এবার নতুন সরকারি উদ্যেগ নেয় কি না! এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়; প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, “রাস্তাটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় রোড আইডির জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গেজেট সম্পন্ন হলে সরকারি বরাদ্দ ও উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”