বাংলাদেশ বার্তা টুডে
শ্রীপুরে দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাওয়ায়ে মা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর মা নিজে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন । পরিবারের স্বজনেরা টের পেয়ে দ্রুত মা ও শিশুসন্তানদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুসন্তানের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। (৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার টেপিরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষপানে অসুস্থ মনি আক্তার (৩০) নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার মো. মোবারক হোসেনের স্ত্রী এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তান আব্দুল্লাহ (৪) ও মাইশা (২)। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। শিশুর বাবা মোবারক হোসেন জানান, তিনি টেপিরবাড়ি এলাকার স্মার্ট গার্মেন্টসের সামনে জনৈক রতন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। আজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে এসে দেখতে পান, দুই শিশুসন্তানসহ স্ত্রী বাসার ফ্লোরে গড়াগড়ি করছে। এরপর কীটনাশকের গন্ধ পান। এ সময় দুই শিশুসন্তানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখেন। এরপর দ্রুত তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে দুই শিশুসন্তানের অবস্থার অবনতি হলে মমেক হাসপাতালে রওনা হন। বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিউটি আক্তার জানান, দুই মাস ধরে তাঁরা ভাড়া থাকেন। এক ছেলে প্রতিবন্ধী। তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে দুই শিশুসন্তানকে বিষ পান করানোর পর নিজেও বিষ পান করেন। শিশু দুটির অবস্থা খুবই খারাপ। মায়ের চিকিৎসা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দুই শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ পাঠানো হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলরাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মা ও দুই শিশুসন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনেরা। শিশু দুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুই শিশুকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মায়ের চিকিৎসা চলছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অবহিত করেনি। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে । তাং১০/৭/২৬ইং
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে পদত্যাগ নিয়ে তোলপাড়, ওয়ারিশ ইস্যুতে প্রশ্ন মাসুমা হাদির
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদে থাকা কয়েকজনের পদত্যাগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের পদ ছাড়ার কথা জানান। তার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমাও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা জানান, প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান বিন হাদির ‘ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে’ এমন সিদ্ধান্ত। তবে এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে ফেসবুক পোস্টে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ‘আইন অনুযায়ী আমার ভাইয়ের উত্তরাধিকারী আমার মা, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান। তাহলে এই তিনজনের মধ্যে কে সেন্টার দাবি করছে?’ মাসুমা হাদি লিখেছেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর একের পর এক ইস্যু সামনে এনে তাকে ‘হত্যাযোগ্য’ করে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, সেন্টারের কোনো পদ-পদবি তিনি চাননি। শুধু ভাইয়ের লড়াইয়ের মধ্যে থেকে কবর স্থায়ীকরণ, শহীদ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা সহ কয়েকটি কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। কোরবানির সময় সেন্টার থেকে তিনজন তার কাছে গিয়ে ফিরে আসতে বললেও তিনি রাজি হননি। মাসুমা বলেন, ‘আমার হারানোর আর কিছুই নেই। তোমরা শুধু ওসমান গণির আদর্শ ধরে রাখো।’ হঠাৎ পদত্যাগের ঘটনায় ‘দুরভীসন্ধি’র গন্ধ পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘পরিবারের উপর দায় চাপিয়ে পদত্যাগ কেন? কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে?’ তিনি আরও জানান, সেন্টার কোনো একক ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। এটি জনগণের অর্থায়নে গড়া ‘ডানপন্থীদের একমাত্র প্রতিষ্ঠান’। এটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন মাসুমা। পোস্টের শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ধ্বংসের মিশন কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। আমার ভাই বলেছিলেন জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে সে আপন না। আমি যোগ করছি, আমার ভাইয়ের সঙ্গে যারা গাদ্দারি করবে সে যেই হোক, আমার কাছে সে কিছুই না।’
কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধ ও মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার অপসারন দাবিতে বিক্ষোভ
“করলে জাটকা সংরক্ষণ, বাড়বে ইলিশের উৎপাদন” স্লোগান নিয়ে কলাপাড়া উপজেলার মৎস্যজীবীরা অবৈধ ট্রলিং বন্ধ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন । কলাপাড়া উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির আয়োজনে বৃস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মৃধা, মিজানুর রহমান,জেলে রুহুল আমিন, মো,আলামিন প্রমুখ। এ সময় বক্তরা বলেন, অবৈধ ট্রলিং বোর্ড বন্ধ সহ কলাপাড়ায় কর্মরত উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার অপসারণ দাবি করেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জান বলেন,মৎস্যজিবীদের স্মারকলিপি পেয়েছি।সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করেছি।
মনোহরদীতে অপহরণের অভিযোগে ২ যুবক আটক, থানায় সোপর্দ
আজ বৃহস্পতিবার মনোহরদীতে এক শিশুকে সিএনজিতে তুলে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টার সময় জনতার হাতে দুই যুবক আটক হয়েছে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক যুবকদের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফারহান (৮) নামের এক শিশু মনোহরদীর হেতিমদি বাইপাস সড়কের পাশ দিয়ে একা হাঁটছিল। এ সময় দুই অপহরণকারী তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। শিশুটির আর্তচিৎকারে অদূরে মাছ শিকাররত তার দুই মামাসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ফারহানকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারী দুই যুবককে আটক করে। পরে গণপিটুনি দিয়ে তাদের মনোহরদী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। শিশু ফারহানের বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন। তারা মনোহরদী সরকারি কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। উপজেলার মাছিমপুর গ্রামে মামার বাড়িতে যাওয়ার সময় আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সে অপহরণ চেষ্টার শিকার হয়। আটককৃত অপহরণকারীরা হলো নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের হাশিম উদ্দিনের ছেলে রফিক (২৫) ও একই গ্রামের মোখলেছের ছেলে জজ মিয়া (২৩)। এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, অপহরণের সন্দেহে জনতা দুই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তারা বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বোয়ালখালী থানা পুলিশের অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
বোয়ালখালী থানা পুলিশের অভিযানে চেক প্রতারণা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ফাহিম কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তি উপজেলার জৈষ্ঠপুরা নূর ইসলামের বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ফাহিমের বিরুদ্ধে মামলার বাদী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ২৫ লক্ষ টাকা বকেয়ার দাবিতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদীর পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে বিবাদী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস. এস ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের নামে One Bank Limited-এর হিসাব থেকে ২২ জুন ২০২৫ তারিখে ২৫,০০,০০০ (পঁচিশ লক্ষ) টাকা মূল্যের (চেক নং- ৮৯৬৭০৫৫) একটি চেক ইস্যু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক "Account Closed/Dormant/Blocked" মন্তব্যে চেকটি অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত দেয়। পরে বাদী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন ১৮৮১-এর বিধান অনুযায়ী বিবাদীর কাছে আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার সঙ্গে চেকের অনুলিপি, চেক ডিজঅনার মেমো, আইনি নোটিশ, ডাক রশিদ, প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ফাহিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
কালীগঞ্জ ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সহ ৩ জন গ্রেফতার
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ৪০ (আঠার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ০৪ (চার) বোতল ফেন্সিডিল (কোরেক্স) উদ্ধার এবং ০৩ জন আসামী গ্রেফতার। ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান, পিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ, কালীগঞ্জ থানা মোঃ জেল্লাল হোসেন এর নেতৃতে থানা এলাকায় সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধ, মাদক ও চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার এবং ওয়ারেন্ট তামিলসহ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করিয়া আসিতেছে। বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) কালীগঞ্জ থানা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে (১) কালীগঞ্জ হতে কোঁটচাঁদপুর গামী আঞ্চলিক সড়কের বিহারী মোড়ের উত্তর পাশে তালুকদার হোটেল এন্ড সুইটস এর মধ্যে, ১. মো: রবিউল ইসলাম @ বাবু, বয়স: ২১, পিতার নাম: মো: আজম বিশ্বাস, গ্রাম- দক্ষিন আড়পাড়া (মাঠপাড়া) এবং ২. নাম: মো: রিমন, বয়স: ১৮, পিতার নাম: মো: আজগর আলী, গ্রাম- সানবান্দা (উত্তরপাড়া) , উপজেলা/থানা- কালীগঞ্জ, জেলা -ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ, কে ৪০ (চল্লিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ওজন-০৪ গ্রাম, মূল্য অনুমান-২০,০০০/-টাকা এবং (২) কালীগঞ্জ পৌরসভা, মৌজা-০৩ কালীগঞ্জ পৌরসভা, - কালীগঞ্জ থানাধীন নিমতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কালীগঞ্জ ড্রাগ হাউজের সামনে পাঁকা রাস্তার পাশে হিজল নামক গাছের নিচ থেকে ইমন হোসেন, বয়স: ২৫, পিতার নাম: রেজাউল ইসলাম, গ্রাম- ফুলবাড়ী (মধ্যপাড়া) উপজেলা/থানা- কালীগঞ্জ, জেলা -ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ কে ০৪ বোতল WINCEREX Syrup অবৈধ মাদকদ্রব্য। ওজন-৪০০ গ্রাম, মূল্য ৮,০০০/-টাকাসহ গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় পৃথক পৃথক ০২ টি নিয়মিত মাদক মামলা রুজু হয়।
ভারী বর্ষণে মহালছড়িতে দেয়াল চাপায় বৃদ্ধা আশঙ্কাজনক, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী"
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগে পড়েছে। এরই মধ্যে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুরুতর আহত এক বৃদ্ধাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা হালিমা বেগম (৬৫) নিজ ঘরে বৃষ্টির মধ্যে রান্নার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কাঁচা মাটির ঘরের একটি দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়ালের পাশে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আহত হালিমা বেগমকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সংকটময় মুহূর্তে খবর পেয়ে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে দ্রুত তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে আহত নারীর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা। এদিকে, টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারী বর্ষণে ধসে পড়েছে ঘরের দেওয়াল; অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো দু'শিশু
উপজেলার হাজীরহাট এলাকায় সাংবাদিক সামজাত হোসেন তুহিন'র মাটির ঘরের একটি দেয়ালে বৃষ্টির পানি ছুঁয়ে বিকট শব্দে ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। টানা বর্ষণে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে রুমের দেয়াল ধসে পড়েছে ওইরুমেই পড়তে বসেছিলো বাচ্চারা। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, ধসে পড়ার একটু আগেই বাচ্চারা ওইরুম থেকে বের হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সামজাত হোসেন তুহিন'র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ঘটনার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেন," কিছুক্ষণ আগে আমার পুরাতন মাটির ঘর ও পাকা ঘরের দেওয়াল ভেঙ্গে পরে যায়, সবাই দোয়া করবেন"।
মালবোঝাই ভ্যান ঠেলে চালককে সহায়তা এমপির, ভিডিও ভাইরাল
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভাঙাচোরা কাঁচা সড়কে আটকে পড়া মালবোঝাই একটি প্যাডেলচালিত ভ্যান ঠেলে চালককে সহায়তা করেছেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. মাজেদুর রহমান সরকার। এ ঘটনার ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ভাঙা ও কাদাময় সড়কে মালবোঝাই ভ্যানটি এগিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন চালক। এ সময় এমপি মো. মাজেদুর রহমান সরকার ভ্যানচালকের কষ্ট দেখে নিজেই ভ্যানটি ঠেলে সহায়তা করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মীকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এমপির মানবিক আচরণের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ বললেও এলাকার সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন নেটিজেন ঘটনাটিকে রাজনৈতিক কৌশল বলেও মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান সরকার বলেন, “ঘটনার দিন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে বের হয়েছিলাম। রামজীবন ইউনিয়নের কইকই কাশদহ গ্রামে গিয়ে দেখি ভাঙা কাঁচা সড়কে মালবোঝাই একটি ভ্যান আটকে আছে। চালক কারও সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি ভ্যানটি ঠেলে সহযোগিতা করেছি। এর বেশি কিছু নয়।”
মহালছড়িতে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেনা জোন, উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপি
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে যৌথ উদ্যোগে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই ২০২৬) মহালছড়ি জোন, মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অসহায় ও দুর্গত পরিবারের মাঝে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন মহলছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল-জাবির আসিফ, পিএসসি, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্য প্রতিনিধিগন। উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব। ত্রাণপ্রাপ্ত পরিবারগুলো এই সহায়তার জন্য মহালছড়ি জোন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শ্রীপুরে দুই দিনে ১৪৭ পোশাক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায়, ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
গাজীপুরের শ্রীপুরে টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় টানা দুই দিনে ১৪৭ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে সরেজমিন তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞাকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন বিজন মালাকার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ঈশিতা দাস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) তাসলিমা রহমান, শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) মোসা. আবি ওবাইদা এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া। কমিটিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, কারখানার কর্মপরিবেশ, খাদ্য ও পানীয়ের মান, বায়ু চলাচল এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে কারখানায় কাজ চলাকালে হঠাৎ একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হতে শুরু করেন। প্রথম দিন ৭৭ জন শ্রমিক মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। গুরুতর কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে যান। পরদিন বুধবার একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হন। ফলে দুই দিনে মোট ১৪৭ জন শ্রমিক চিকিৎসা নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সাময়িকভাবে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও সন্ধ্যায় তা পুনরায় চালু করা হয়। অসুস্থ শ্রমিকরা জানান, তারা হঠাৎ বুকে চাপ অনুভব, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানায় ‘অশুভ কিছু’ ঘটেছে বলে দাবি করলে মঙ্গলবার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এনে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রশাসনিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। কারখানার কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার বলেন, ‘শ্রমিকরা কেন অসুস্থ হচ্ছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। অসুস্থ সবাইকে কারখানার ব্যবস্থাপনায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে এটি ‘মাস হিস্টিরিয়া’ বলে মনে হচ্ছে। একজন অসুস্থ হওয়ার পর মানসিক প্রভাবে অন্যরাও একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণ চিকিৎসায় তারা দ্রুত সুস্থও হয়ে উঠছেন। শ্রমিকদের কাউন্সেলিং এবং কর্মস্থলের পরিবেশ বা কর্মস্থল পরিবর্তনের মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে তদন্ত কমিটি বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে।’ এ ঘটনায় শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারখানার কর্মপরিবেশ, খাদ্য, পানীয়, বায়ুর মান কিংবা অন্য কোনো অজানা কারণ দায়ী কি না, তা জানতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীপুরে পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আজ (৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয় শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল উপজেলার বহেরারচালা এলাকার একটি কার্টন ফ্যাক্টরির পাশে আব্দুল করিমের দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সুমন মিয়া (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। তিনি বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলার বহেরারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় রাত ১১টা উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকার একটি ঢালাই পাকা সড়ক থেকে মো. চান মিয়া (৩৮) নামে আরও এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। চান মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। তিনি শ্রীপুরের ভাংনাহাটি এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধেও একই আইনে শ্রীপুর মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বার্তা প্রেরক মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর গাজীপুর সংবাদদাতা ৯/৭/২৬ইং
টানা বর্ষণে পানিবন্দি বোয়ালখালীবাসির পাশে দাঁড়ালেন এমপি এরশাদ উল্লাহ
গত চারদিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া জেলার বোয়ালখালী উপজেলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিনি উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেন। ভারী বর্ষণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও সড়ক, আবার কোথাও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুর্গত এলাকায় যান এমপি এরশাদ উল্লাহ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এমপি এরশাদ উল্লাহ বলেন, টানা বর্ষণে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মস্থলে যেতে না পারায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুর্যোগের এই সময়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নড়াইলের লোহাগড়ায় নারী নির্যাতন মামলা পুলিশের বিরুদ্ধে আসামী না ধরার অভিযোগ
মামলার বাদী কর্তৃক পুলিশকে আসামী সনাক্ত করে দেওয়ার পরও আসামীকে আটক না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজাহার ও মামলার বাদী সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের মিলন মোল্যার স্ত্রী শিউলি বেগমকে গত ২৮ জুন, সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে তার বাড়িতে প্রবেশ করে একই গ্রামের ইকলাজ মোল্যার ছেলে শামীম মোল্যা (মশিয়ার) ও তরিকুল মোল্যার নেতৃত্বে নাঈম, সজিব, শান্ত ও রিফাত মোল্যা বেধড়ক মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে। প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় শিউলি বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় শিউলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিন রাতে লোহাগড়া থানায় মামলা করতে গেলে রহস্যজনক কারনে মামলা রেকর্ডভূক্ত না করে টালবাহানা করে ফিরিয়ে দেয় ওসি। শিউলি বেগম মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করাতে থানায় একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত ১লা জুলাই নড়াইলের বিজ্ঞ আদালতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। বিজ্ঞ আদালত শিউলি বেগমের জবানবন্ধি ও মারপিটের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে লোহাগড়া থানার ওসিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের উক্ত নির্দেশে গত ৩রা জুলাই লোহাগড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করে এসআই কুমারেশ বিশ্বাসকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেন। যার মামলানং ০৪। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৪জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামীদের কাছেই নাম ঠিকানা যাচাই করার সময় শিউলি বেগম আসামী তরিকুল, শামীম (মশিয়ার), রিফাত, সজিব ও শান্ত মোল্যাকে সনাক্ত করে দিলেও তারা ক্ষমতাশীন দলের নেতা-কর্মী ও মামলার প্রধান আসামী শামীম ও তরিকুলের বড় ভাই বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই মিজানুর রহমানের পরিচয় দেওয়া এবং তার প্রভাব থাকায় তাদের গ্রেফতার করেন নাই বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাদী অভিযোগ করেন। বাদী আরও অভিযোগ করে বলেন, এস আই মিজানুর রহমান ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দিচ্ছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারেশ বিশ্বাস বলেন, আসামীদের নামের সঠিকতা না থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই। নাম যাচাই করতে গেলে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুর রহমান’র কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য সরকারী মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই।
ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন
জলবায়ু পরিবর্তন; আজকের পদক্ষেপ’ আগামীর নিরাপত্তা' এই শ্লোগান সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।উদযাপিত হয়েছে বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উব্দোধন করা হয়। পড়ে সেখান থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালী। র্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালী শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা। এতে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা মো.কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোসফেকুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সেসময় বক্তারা, সেসময় বক্তারা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নদী-খাল ও জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।