বাংলাদেশ বার্তা টুডে
মঠবাড়িয়ায় লতীফ ইনস্টিটিউশনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৮০ টি ভুল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় খাসমহল লতিফ ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেনীর ইংরেজী প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে প্রায় ৭০/৮০টি বানান ভুল নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রশ্নপত্রে বিভাবে এতগুলো ভুল থাকে এদিয়ে ক্ষোভ ঈস্খদাশ করেন অভিভাবকরা। জানাগেছে, বুধবার সকালে ষষ্ঠ শ্রেনীর ইংরেজী প্রথমপত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণের পরে ভুল লক্ষ করা যায়। ভুলেভরা প্রশ্নপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দিলে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া প্রশ্নপত্রে দেখা যায়, পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রে প্রায় ৭০/৮০টি বানান ভুল। এছাড়া গতকালের দশম শ্রেণির ২০২৬ সালের প্রাক-নির্বাচনী বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্নপত্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশ্ন আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও অভিভাবকরা। স্থানীয় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নের মান যদি এই হয় তাহলে লেখাপড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কিছু কুচক্রীমহল এমন ভুলে ভরা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিষয়টা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে খাসমহল লতিফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন আমরা নিজেরা প্রণয়ন করি না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষার দিনই তা খোলে। আগে থেকে প্রশ্ন দেখার কোনও সুযোগ থাকে না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুলের প্রশ্ন বাইরে থেকে করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের কাছ থেকেই প্রশ্ন নেওয়ার কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত ছিল। তাছাড়া বানান ভুলের ছড়ছড়ির বিষয়টিও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কমিটির প্রশ্নটি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত রিডিং লেখায় মঠবাড়িয়ায় দুই মিটার রিডারকে আটকে রাখলেন গ্রাহকরা
পল্লী বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তৈরির অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুই মিটার রিডারকে আটকে রাখেন গ্রাহকরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া দুই মিটার রিডার হলেন মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মিটার রিডার জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) ও সাব্বির হোসেন (৩০)। ভুক্তভোগী গ্রাহক মোহাম্মদ রাসেল অভিযোগ করেন, গত জুন মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল ছিল ৮৫ ইউনিট। কিন্তু চলতি মাসে মিটারের প্রকৃত রিডিং ১,৫৮০ ইউনিট থাকা সত্ত্বেও বিল প্রস্তুতের সময় ১,৬৬০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ৮০ ইউনিটের বিল যোগ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, এ ধরনের ভুল রিডিংয়ের কারণে প্রায়ই গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। স্থানীয় গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুল রিডিং ও অতিরিক্ত বিলের কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, মিটার রিডার জাহাঙ্গীর হোসেন অসুস্থ্য থাকায় গত মাসে তার ছেলে রিডিং সংগ্রহ করেছিলেন। সে সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি ভুল হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত সংশোধন করা হবে। গ্রাহকদের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক: পরিবেশ বিপর্যয় রোধে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিশ্ব আজ পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। অতীতে নির্বিচারে গাছ কাটা হলেও সেই অনুপাতে বৃক্ষরোপণ করা হয়নি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বুধবার (১৫ জুলাই) সিলেট নগরীর উপশহরের উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনও নগরজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, "সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই উদ্যোগ সফল করতে শুধু সরকারের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান, তোমরা অন্তত বছরে একটি করে গাছ লাগাবে এবং সেই গাছের যত্ন নেবে।" শিক্ষার্থীদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান, বৃক্ষপ্রেমিক আফতাব চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিসিক প্রশাসক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ অর্জনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। হাছান বক্ত চৌধুরী কাওছার
মঠবাড়িয়ায় দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রশ্ন, জনমনে ক্ষোভ
দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ খাস মহল লতিফ ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণীর ২০২৬ সালের প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও সাধারণ জনমনে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বঙ্গবন্ধুর উপাধি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, মুজিবনগর সরকার এবং যুক্তফ্রন্ট গঠনের কারণসহ কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রশ্নপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে মুহুর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া প্রশ্নপত্রে দেখা যায়, ৭০ নম্বরের পরীক্ষায় দুটি সৃজনশীল প্রশ্ন ছিল। সেখানে বঙ্গবন্ধুর উপাধি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, মুজিবনগর সরকার এবং যুক্তফ্রন্ট গঠনের কারণসহ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশ্নের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর অভিভাবক ও বিএনপি নেতাদের নানা মন্তব্য লক্ষ করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত হওয়া টিক হয়নি। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। খাস মহল লতীফ ইনস্টিটিউশনের এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, শিক্ষকদের প্রশ্ন তৈরির সময় সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিল। এমন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কারনে আগামী সভায় শিক্ষকদের জবাবদিহি করতে হবে। খাস মহল লতীফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খলিলুর রহমান বলেন, প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন আমরা নিজেরা প্রণয়ন করি না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়। প্রশ্নগুলো সিলগালা অবস্থায় থাকে। পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষার দিনই তা খোলে। আগে থেকে প্রশ্ন দেখার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুলের প্রশ্ন বাইরে থেকে করা বা আনার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের কাছ থেকেই প্রশ্ন নেওয়ার কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত ছিল। প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কমিটির প্রশ্নটি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল।
কালীগঞ্জে রাতের আধারে অসহায় কৃষকের পানের বরজ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামে রাতের অন্ধকারে অসহায় কৃষকের ৬ কাঠা পানের বরজ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক আলেক গাজী একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তিনি জানান, অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে কাঠা জমিতে পানের বরজ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বরজের সব পানের গাছ গোড়া থেকে কেটে দিয়ে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলেক গাজী বলেন, “আমি একজন গরিব মানুষ। এই পানের বরজই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আমার স্ত্রী একজন স্ট্রোকের রোগী। এখন আমাদের পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।” স্থানীয়রা জানান, আলেক গাজী একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই পানের বরজ। দুর্বৃত্তদের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় পরিবারটি চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নতুন গ্রাম থেকে নওগাঁ: এক ঐতিহাসিক জনপদের গল্প
নতুন গ্রাম থেকে নওগাঁ: এক ঐতিহাসিক জনপদের গল্প বিস্তীর্ণ সবুজ ধানের মাঠ, বরেন্দ্র ভূমির রুক্ষ প্রকৃতি, নদীবিধৌত জনপদ আর হাজার বছরের ইতিহাস—সব মিলিয়ে নওগাঁ যেন বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত অধ্যায়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী বিভাগের সীমান্তবর্তী এই জেলা কৃষির জন্য যেমন সুপরিচিত, তেমনি প্রাচীন সভ্যতা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও জমিদারি ঐতিহ্যের জন্যও সমানভাবে সমৃদ্ধ। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের অংশ হিসেবে নওগাঁর ইতিহাসের শিকড় বহু গভীরে প্রোথিত। সময়ের পরিক্রমায় রাজবংশের উত্থান-পতন, ধর্ম ও জ্ঞানচর্চার বিস্তার, জমিদারি শাসন, ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জেলা গঠন—সবকিছুর নীরব সাক্ষী হয়ে আছে এই জনপদ। ‘নতুন গ্রাম’ থেকে নওগাঁ: নওগাঁ নামের উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে ঐতিহাসিক কৌতূহল। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ফারসি ‘নও’ অর্থ নতুন এবং বাংলা ‘গাঁ’ অর্থ গ্রাম—এই দুই শব্দের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে ‘নওগাঁ’ নামটি। অর্থাৎ, নওগাঁ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘নতুন গ্রাম’। আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা নতুন জনবসতিকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে এই নামের প্রচলন ঘটে বলে ধারণা করা হয়। সেই ছোট্ট জনপদই সময়ের প্রবাহে বিস্তৃত হয়ে প্রথমে প্রশাসনিক কেন্দ্র, পরে মহকুমা এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপ নেয়। পাহাড়পুর হয়ে উঠেছিল জ্ঞানচর্চার স্থান: নওগাঁর ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি জড়িয়ে আছে পাল রাজবংশের সঙ্গে। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে বাংলায় পাল শাসনামলে শিক্ষা, ধর্ম, শিল্প ও স্থাপত্যের যে বিকাশ ঘটেছিল, তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বর্তমান বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার। পাল সম্রাট ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত এই মহাবিহার একসময় শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান ছিল না; এটি ছিল বৌদ্ধ ধর্ম, দর্শন, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার এক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র। দূরদূরান্ত থেকে জ্ঞানপিপাসুরা এখানে আসতেন শিক্ষা ও সাধনার জন্য। কালের বিবর্তনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও সোমপুর মহাবিহার আজও বহন করছে প্রাচীন বাংলার জ্ঞান, স্থাপত্য ও সভ্যতার গৌরব। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে নওগাঁর এই ঐতিহাসিক নিদর্শন বিশ্বদরবারে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। আজও রাজা-জমিদারদের স্মৃতি বহন করছে প্রাচীন প্রাসাদ গুলো: কৃষি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে নওগাঁ অঞ্চলে একসময় শক্তিশালী জমিদারি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সেই সময়ের ক্ষমতা, আভিজাত্য ও স্থাপত্যশৈলীর স্মৃতি আজও বহন করছে জেলার বিভিন্ন রাজবাড়ি ও জমিদারবাড়ি। নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি রাজবাড়ি জেলার অন্যতম প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা। একসময় এই রাজবাড়িকে ঘিরেই পরিচালিত হতো বিস্তীর্ণ এলাকার প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। অন্যদিকে বলিহার রাজবাড়ি আজও স্মরণ করিয়ে দেয় জমিদারি যুগের রাজকীয় ঐতিহ্য। সময়ের আঘাতে এসব স্থাপনার অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের দেয়াল, ধ্বংসাবশেষ ও স্থাপত্যে এখনও লুকিয়ে আছে বহু অজানা ইতিহাস। মহকুমা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা: ব্রিটিশ শাসনামলে নদীপথনির্ভর যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নওগাঁর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। আত্রাই ও ছোট যমুনাসহ বিভিন্ন নদীপথ এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ১৮৭৭ সালে নওগাঁ মহকুমা গঠিত হয়। দীর্ঘ পথপরিক্রমার পর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৪ সালে নওগাঁ পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও ঐতিহাসিক জেলা। ধানের গোলার আড়ালে ইতিহাসের বিশাল ভাণ্ডার: নওগাঁকে অনেকেই চেনেন ‘ধানের জেলা’ হিসেবে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানের আবাদ এবং দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারণে এই পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তবে ধানের সবুজ মাঠের আড়ালে নওগাঁ ধারণ করে আছে হাজার বছরের সভ্যতা ও ইতিহাসের এক বিশাল ভাণ্ডার। সোমপুর মহাবিহারের বিশ্ব ঐতিহ্য, দুবলহাটি ও বলিহার রাজবাড়ির জমিদারি স্মৃতি এবং বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনা—সব মিলিয়ে নওগাঁ বাংলাদেশের ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্রে এক অনন্য জনপদ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এসব নিদর্শনের যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে নওগাঁ হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র। ধানের শীষে দোলা দেওয়া বাতাসের সঙ্গে এখানে মিশে আছে বহু শতাব্দীর গল্প। প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে রাজপ্রাসাদের নীরব দেয়াল—সবকিছুই যেন বলে যায় একটি জনপদের দীর্ঘ পথচলার কথা। সেই জনপদের নাম-ই হলো নওগাঁ। ___মোঃ রমজান হোসেন লেখক ও গণমাধ্যম কর্মী।
জকিগঞ্জে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় যারা ও এবার চমক হিসেবে রয়েছে নতুন মুখ। চলতি বছরের শেষ প্রান্তরে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের পাশাপাশি ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় সরকার কাঠামোর পুনর্গঠন ও আইন সংস্কারের কাজ চলছে। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও বিস্তারিত তপশিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাচনের সার্বিক কাঠামো এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো- নির্বাচনের সময়সূচি ও রোডম্যাপ এবংপরিকল্পনা: সরকার বর্তমানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু জকিগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন যারা,জকিগঞ্জ পৌরসভার প্রথম ও প্রতিষ্ঠাকালীন পৌর মেয়র এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান,সিলেট জেলা কৃষকদলের আহবায়ক বিএনপি নেতা ইকবাল আহমদ তাপাদার,জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান,বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ,লেখক,গবেষক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ও সালিশি ব্যক্তিত্ব হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সুয়েব লস্কর,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম রোকবানী জাবেদ,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস ছবুর,বিএনপি নেতা মো. শাহীন আহমদ,মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান,ফয়জুল ইসলাম চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রাথী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে গুজ্জন রয়েছে ও আলোচনা চলছে। তবে প্রার্থী হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত কারো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ঘোষণার খবর পাওয়া যায়নি। সময় যত ঘনিয়ে আসবে নির্বাচনী মাঠ তত সরগরম হতে পারে বলে ধারনা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকগণ।তফসিল ঘোষণার পর হয়ত কারা শেষ পর্যন্ত প্রাথী হচ্ছেন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এর বাইরে অনেকের নাম শুনা যাচ্ছে,প্রার্থীরা জোটগত না এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাও এখনো সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।তবে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মখলিছুর রহমানসহ আরো কয়েকজনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১.তপশিল: নির্বাচন কমিশন ও সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা শুরু হতে পারে। নির্বাচন শুরুর পর আগামী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচন সম্পন্ন করার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২. ভোটকেন্দ্র ও ব্যবস্থাপনা:স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র ও বুথ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ২,০০০ ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।ভোট নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বুথে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ৩. নির্বাচন পদ্ধতি ও পদ: উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীরা সাধারণত কোনো দলীয় প্রতীক বা মনোনয়ন ছাড়া (অদলীয়) স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।একজন ভোটার উপজেলা নির্বাচনের দিন তিনটি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর একটি চেয়ারম্যান পদের জন্য, একটি ভাইস চেয়ারম্যান এবং অন্যটি সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য।
সাংগঠনিক দক্ষতার তরুনদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং তারুণ্যের অহংকার হাসনাঈন আল আরাফাত
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের সাংগঠনিক দক্ষতার তরুনদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং তারুণ্যের অহংকার হাসনাঈন আল আরাফাত। সে কুপতলার মরহুম আব্দুল জলিল মাষ্টারের পুত্র।পরিবারের পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে সে তৃতীয় সন্তান। ছোট থেকেই সে লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিষয়ে সে সকল বয়সীদের মধ্যে মিশে খুব সহজেই সাংগঠনিক দক্ষতার প্রসার ঘটায়। যা অত্র ইউনিয়ন সহ আসে পাসের ইউনিয়নে এ প্রসার ঘটায়। নিজ ইউনিয়ন সহ আস পাশের ইউনিয়নে স জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। সেই সঙ্গে সে ছাত্র বয়সে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট হন। যার ফলশ্রুতিতে তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ন্যায় ও নিষ্ঠার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে খুব অল্প বয়সে তাকে নির্বাচনের মাধ্যমে কুপতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে বাংলাদেশের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সবচাইতে কনিষ্ঠ। শুধু তাই নয় সে এ বয়সেই সাংগঠনিক দক্ষতা ও সমাজ সেবার কারনে শেরেবাংলা সৃতি পদক ২০২৫, মহত্তা গান্ধী সম্মাননা ২০২৪ বাংলাদেশ নেপাল মৈত্রী সম্মাননা ২০২৪, দুই বাংলা সাহিত্য সম্মাননা সহ আরো অনেক সম্মননায় অভিষিক্ত হন। তার এই কম বয়সে সাংগঠনিক এবং সামাজিক ভুমিকার জন্য কুপতলা ইউনিয়ন বাসী এবং তরুণরা তাদের মডেল হিসেবে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চান।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মিথ্যা সংবাদের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়া স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও মানহানিকর কার্যকলাপের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ১২ জুলাই (রবিবার) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর এই লিখিত আবেদন জমা দেন তিনি। অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল মিছবাহ মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের এক অংশের সভাপতি বলে জানা গেছে। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের 'পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত' রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। উক্ত প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় এক বছর পর অভিযুক্ত সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ ইউপি সদস্য সুজন মিয়ার কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। উক্ত অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং নিজের প্রভাব ব্যবহার করে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করান। ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়া বলেন, আমি নিয়ম মেনে গ্রামীণ অবকাঠামোর এই রাস্তাটির কাজ শেষ করেছি। কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর আমার কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এতে আমার মানহানি হওয়াসহ আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিজবাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ইউপি সদস্য সুজনের সাথে কয়েক বছর যাবত দেখা সাক্ষাৎ হয়না। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য সুজন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান,অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে পল্লীবন্ধুর প্রতি নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পল্লী নিবাসে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জি এম কাদের বলেন, 'পল্লীবন্ধু এরশাদ শুধু জাতীয় পার্টির নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পল্লীজনপদের রূপকার। তাঁর আদর্শ ও কর্মদর্শন ধারণ করে জাতীয় পার্টিকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। দেশের মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গা হিসেবে জাতীয় পার্টিকে গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।' প্রধান বক্তার বক্তব্যে দলের মহাসচিব বলেন, 'পল্লীবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনই জাতীয় পার্টির সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের মানুষ আজও তাঁর উন্নয়নমুখী রাজনীতিকে স্মরণ করে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের কল্যাণে জাতীয় পার্টিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা বলেন, 'রংপুর পল্লীবন্ধুর রাজনৈতিক জন্মভূমি। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। পল্লীবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় পার্টির প্রতিটি নেতাকর্মীকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।' এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, আনিছুর রহমান আনিস, জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহসভাপতি শফিকুজ্জামান সোহেলসহ জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভা শেষে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার
নগদ টাকার পাশাপাশি সোনার চামচ, নাকফুল, নোলক ও কানের অলঙ্কার। সঙ্গে মালয়েশিয়া, ভারত ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার মিলেছে এমনই নানা দানসামগ্রী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় স্থানীয় প্রশাসন, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। গণনা শেষে দানবাক্সে নগদ ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া মানত হিসেবে দান করা ১৮ ক্যারেটের ১ দশমিক ৭৫৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার চামচ, ছয়টি নাকফুল, একটি নোলক ও দুটি কানের অলঙ্কার পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ার ২৫ রিঙ্গিত, ভারতের ৩০ রুপি ও ওমানের ২০০ বাইসাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। অর্থ গণনার সময় মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল ইসলাম, মসজিদের ইমাম, খাদেম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের জন্য কুসুম্বা শাহী মসজিদ দেশের অন্যতম পরিচিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটেও স্থান পেয়েছে মসজিদটির ছবি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন। তাঁদের অনেকেই মানত পূরণ ও দান-সদকার অংশ হিসেবে দানবাক্সে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে থাকেন। মসজিদের খতিব মাওলানা মোস্তফা আল আমিন জানান, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা মসজিদের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের হিসাব স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করে মসজিদের নামে ব্যাংক হিসাবে জমা করা হবে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই স্থাপনার ঐতিহ্য সংরক্ষণেও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। মসজিদ কমিটির সম্পাদক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দানের অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে হিসাব করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। মসজিদের উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজেও এ অর্থ ব্যয় করা হয়। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর এই ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়।
কালীগঞ্জে দুই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুইটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ নেতৃত্ব এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে মর্ডান সার্জিক্যাল ক্লিনিককে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন ও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে কালীগঞ্জ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় রিএজেন্ট সংরক্ষণ না করা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে তা আদায় করা হয়। অভিযান চলাকালে ঝিনাইদহ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাসির রহমান উপস্থিত থেকে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে পরিবেশ দূষণ রোধ, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং আইন বাস্তবায়নে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মোবাইল কোর্টে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল উচ্ছেদ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ শিকার প্রতিরোধ এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আবরার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন জানায়, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার কিংবা অবৈধভাবে মাছ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আবরার বলেন, “দেশীয় মাছ রক্ষা করি, টেকসই মৎস্য সম্পদ গড়ে তুলি—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইন মেনে মাছ আহরণের বিকল্প নেই।” অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা চত্বরে জব্দ করা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল আনুষ্ঠানিকভাবে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাটে ওয়াজেদ আলী হত্যা মামলা: একজনের যাবজ্জীবন
দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত ওয়াজেদ আলী প্রধান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মামলার প্রধান আসামি মামুনুর রশীদ সুমনকে (২৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অন্য সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় প্রধান আসামি মামুনুর রশীদ সুমনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে এই সাজা প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী, আসামি মামুনুর রশীদ সুমন তদন্ত ও বিচার চলাকালে আগে যতটুকু সময় কারাগারে অতিবাহিত করেছেন, তা তার মূল সাজা (যাবজ্জীবন) থেকে কর্তন করা হবে। এছাড়া মামলার আলামতসমূহ বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত অপর সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন এবং তাদের জামিনদারের মুচলেকা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শাহিন পিচ্চি, ফরিদুল ইসলাম ভুট্টু, নুর আলম, লিটন মিয়া, রবিউল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম (পলাতক) এবং মামলার অপর এক আসামি। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলাকায় ওয়াজেদ আলী প্রধানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করা হলো। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। "দীর্ঘ ১৫ বছর পর হলেও এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। আমরা আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীব— মোঃ গোলাম মোস্তফা।অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীর রায়ের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে মোহাম্মদ মোক্তিয়ার (৪০) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। গত (১৩ জুলাই) সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার কধুরখীলের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু আইন ২০১৩-এর ৭০ ধারার অভিযোগ এনে থানায় এজাহার দায়ের করেন শিক্ষার্থীর পিতা মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল রানা বলেন, মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট খাজা রোডের বোঁচন মিস্ত্রি বাড়ির মোহাম্মদ বখতিয়ারের ছেলে। তিনি উপজেলার কধুরখীল আল কুরআন একাডেমির মুতাফাররিকা বিভাগের হিসাব রক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার বাদী নগরীর উত্তর আগ্রাবাদ রঙ্গিপাড়ার রমনা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। তিনি জানান, তাঁর ছেলে হাফেজ আবদুল্লাহ আল তাওসিফ (১৪) আল কুরআন একাডেমির মুতাফাররিকা বিভাগের শিক্ষার্থী। গত (৮ জুলাই) বুধবার সকাল ৬টার দিকে শিক্ষক মোক্তিয়ার এক সপ্তাহ আগে অবসরে খেলাধুলার অজুহাতে হাফেজ আবদুল্লাহ আল তাওসিফকে গালিগালাজ করেন। গালিগালাজের এক পর্যায়ে হাফেজ আবদুল্লাহ আল তাওসিফকে শিক্ষক মোক্তিয়ার বেত্রাঘাত, কিল, ঘুষি মেরে আহত করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে বিনা চিকিৎসায় রুমে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বন্দি করে রাখা হয়। ওইদিন আছর'র নামাজের সময় সুযোগ পেয়ে সে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে আসার পর আমরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলি। তিনি আরও বলেন, থানায় এজাহার দায়ের করার আগে ঘটনার পরদিন গত (৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে বেশি মাত্রায় মারধর করায় এই শিক্ষককের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তার অভিভাবক। মামলা পরবর্তী আমরা অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করি। তাকে গ্রেপ্তারের পর আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।'